তাঁর (সীতাম্মা) পোলভরম যাওয়ার ২/৩ দিন পর হায়দ্রাবাদ হতে কয়েক জন উচ্চপদস্থ কর্মচারী আশ্রম দর্শন করতে এলেন। জরিপ বিভাগের কমিশনার, জাহাঙ্গির মেটা ছিলেন ঐ কর্মচারী দলের প্রধান। তাঁরা আশ্রমে ২/৩ দিন থেকে কতিপয় বিষয় নিয়ে স্বামীজীর সঙ্গে আলােচনা করলেন। তাঁরা খুব খুশী হলেন এবং আশ্রমের কাজ কর্মে নিজেরা যুক্ত হতে চাইলেন। তাঁরা স্বামীজীকে অনুরোধ করলেন, “আমরা অাশ্রমের জন্য কিছু টাকা দিতে চাই। দয়া করে গ্রহণ করুন ।” কিন্তু স্বামীজী তা নিতে অস্বীকার করলেন। তাঁরা অনুনয় করে বললেন, “আমরা বড়লােকী মনোভাব নিয়ে অর্থ দান করছি না। এই আশ্রম এবং এর কাজকর্ম দেখে আমরা অভিভূত হয়েছি। অামরা অাপনার অনুরক্ত। এই অর্থ গ্রহণ করে আমাদেরকে আশ্রমের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে সাহায্য করুন।”
স্বামীজী তাদের ভক্তিভাব এবং কথায় মুগ্ধ হলেন। তিনি অনুভব করলেন, তাদের এই দান প্রত্যাখ্যান করা ঠিক হচ্ছে না। স্বামীজী বললেন “মুকোটি একাদশী উৎসবে দরিদ্রদের দান করার জন্য কিছু শাড়ি আমাদের দরকার। তাহলে যে টাকা আপনারা দিতে চাচ্ছেন সেই টাকা দিয়ে যতগুলো শাড়ী কেনা যায় তা কিনে আমাদের এখানে পাঠিয়ে দিন।”
অর্থের প্রতি স্বামীজীর অনাসক্তি তাঁদের এই কাজে সহায়তা করার ইচ্ছাকে দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল। তাঁরা বললেন, “হ্যাঁ, আমরা ভদ্রাচলম হোতে শাড়ি কিনে লঞ্চযোগে ওগুলি এখানে পাঠিয়ে দেবার ব্যবস্থা কোরবো।” এই বলে তাঁরা চলে গেলেন।
তাঁরা যখন ভদ্রাচলম যাওয়ার জন্য আপ-লঞ্চের অপেক্ষা করছিলেন তখন রাজমুন্দ্রী যাওয়ার ডাউন লঞ্চ, ঘাটে এসে উপস্থিত হোল। তাঁরা সেই লঞ্চেই উঠে বসলেন। ঐ লঞ্চে পােলাভরমের একজন এ্যাডভোকেট ছিলেন। তাঁরা ঐ এ্যাডভোকেটের সঙ্গে কথা বলতে লাগলেন। পোলাভরম বড় গ্রাম কি _না, সেখানে কাপড়চোপর কিনতে পাওয়া যায় কি_না, ইত্যাদি কথা তাকে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন।
তাঁরা পােলাভরমে নেমে এ্যাডভােকেটের সঙ্গে দোকানে গেলেন। দোকানে গিয়ে পঁয়তাল্লিশটা শাড়ি এবং ব্লাউজ কিনলেন। ভাল করে প্যাকিং করিয়ে তাঁরা এ্যাডভােকেটকে অনুরােধ করলেন, তিনি যেন ঐ প্যাকিংটা পেরেন্টাপল্লী পৌঁছিয়ে দেন। তারপর তাঁরা তাঁদের গন্তব্যস্থানের দিকে অগ্রসর হোলেন। পরের দিন খুব সকালে ঐ এ্যাডভােকেট সীতাম্মার বাড়ীর সামনে এসে দরজায় ধাক্কা দিতে লাগলেন। দরজা খুলে সীতাম্মা এ্যাডভােকেটকে প্যাকেট করা শাড়িগুলি দেখে বিস্মিত হোলেন । ঐ প্যাকেট উৎসবের সময় পেরেন্টাপল্লী নিয়ে যাওয়ার জন্য এ্যাডভােকেট সীতাম্মাকে অনুরােধ জানালেন !
এর বেশী তিনি কি করতে পারেন ? সীতাম্মা তৎক্ষণাৎ ঐ প্যাকেট গ্রহণ করলেন। এ্যাডভোকেট চলে গেলেন। সীতাম্মা যখন আশ্রমের জন্য কিছু করার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে পড়েছিলেন, তখন স্বামীজী তাঁকে যেসব কথা বলেছিলেন এখন গভীরভাবে সে কথাগুলি তাঁর মনে পড়ে গেল। স্বামীজীর কথা সত্য হোল। তিনি (সীতাম্মা) শাড়ি পেলেন। সীতাম্মা উল্লাসের সঙ্গে শাড়ির প্যাকিং হাতে নিয়ে উৎসবের আগে আশ্রমে এসে উপস্থিত হোলেন। [ক্রমশঃ]