হেমেনডরফ
—————–
ক্রিসটোফ ভন হেমেনডরফ ছিলেন একজন জার্মানদেশীয়। ভারতে নিজাম সরকারের অধীনে নৃতত্ত্ববিদ হিসাবে কাজ করছিলেন। উপজাতিদের দৈনন্দিন জীবনধারণ সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ঘুরতে লাগলেন। নিজাম সরকারের একজন এগজিকিউটিভ কাউন্সিলারের ভগ্নীকে তিনি বিবাহ করেন। এই সূত্রে সরকারী উপরমহলে তার বেশ প্রভাব ছিল।
পপি পাহাড় অঞ্চলের রেড্ডিদের অবস্থা গবেষণার জন্য তিনি সস্ত্রীক ঐ অঞ্চলে এসে প্রায় ছয়মাস পেরেন্টাপল্লীতে ছিলেন। উপজাতিদের অবস্থা দেখেশুনে তিনি স্বামীজীর সঙ্গে আলোচনা করতেন। কখনো কখনো স্বামীজী প্রাথমিক গবেষণার সুবিধার জন্য তাঁকে কতকগুলি আকর্ষণীয় জায়গায় নিয়ে যেতেন। ঐসময়ে স্বামীজী উপজাতিদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিকল্পে যে প্রস্তাব নিয়েছিলেন তা রূপায়িত করার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি উপজাতিদের দুঃখ-কষ্ট এবং সেই সঙ্গে বণিকের অত্যাচার হেমেনডরফকে অবহিত করালেন। উপর মহলে বেশ প্রভাব থাকায় হেমেনডরফ সমস্ত বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন এবং তাদের সহযোগিতা পেতেন।
“বাইসন পাহাড়ের রেড্ডি জাতি’–এই শিরোনামে একখানি বই ছাপিয়ে তিনি প্রকাশ করলেন । ঐ পুস্তকে স্বামীজী এবং তাঁর কাজকর্ম সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণা ছিল। এর সারাংশ নিম্নরূপ :–
“সবচেয়ে ছােট শিশুটিকে কোলে নিয়ে এবং তার বড়টিকে অন্য হাতে ধরে এবং ঐ দুজনের চেয়ে বড় ২/১ টি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রেড্ডিদের মেয়েরা ঝর্ণা পার হয়ে আশ্রমে আসে। চার ধাপ সিঁড়ি বেয়ে তারা কাঠের গেটের নিকট পৌঁছায়। এই গেট পার হয়ে তারা আশ্রমের ভিতর ঢোকে। আশ্রমের ভিতরে বড় গাছের নীচে খড়ের ছাউনি দেওয়া ছোট কুটীর। কলাগাছের মাঝে পাথরের শিবলিঙ্গ। শিবলিঙ্গটি হেবিসকাস ফুলে সাজানো থাকে। আশ্রমের বাইরে কয়েকজন লোক শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে ঝুড়িতে ভরছে। আশ্রম প্রাঙ্গণটিকে সমান করার জন্য তাদেরকে আনা হয়েছে। আশ্রম প্রাঙ্গণটি সমান হোলে তার উপর প্যাণ্ডেল তৈরী করা হবে। যারা শিবরাত্রি উৎসবে আসবে, তাদের ঐ প্যাণ্ডেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শিবরাত্রি উৎসবে সমভূমি থেকে বিভিন্ন জাতির ভক্তরা আশ্রমে এসে শিবলিঙ্গকে পূজা করে।
যে স্বামীজী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা _সেই স্বামীজী নিজেও মেয়েদের সঙ্গে কাজ করেন। আকারে নাতিদীর্ঘ হলেও স্বামীজী বেশ কর্মঠ। তাঁর কপাল চন্দন চর্চিত। কাঁধ পর্বস্ত তাঁর চুলের জটা। তিনি নীরবে কাজ করেন। যেভাবে তিনি শাবল নিয়ে কাজ করেন তাতে বোঝা যায় দীর্ঘদিনের তপশ্চর্যাতেও তার শরীর ক্ষীণ হয় নাই। খেলাধুলারত শিশুদের মাঝখানে তিনি যে হাসি হাসেন তা অতি মনােরম। এই সদাপ্রসন্ন হাসির বলে তিনি গোদাবরীর উভয় অঞ্চলের লােকের উপর প্রভাবশালী হয়েছেন এবং তাদের শ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন। দীর্ঘদিন সাধনা করার ফলে অন্তরে যে শান্তি তিনি লাভ করেছেন এই মনােরম মৃদু হাসি সেই শান্তিরই প্রকাশ।
দুপুর পর্যন্ত মেয়েরা কাজ করে। তারপর তারা আশ্রমে খায়। আশ্রমে রুচিসম্মত খাবার রান্না হয়। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীজী এই খাবার রান্না করেন। ভক্তদের প্রেরিত ভোজ্যবস্তুর উপর নির্ভর করে খাদ্য তালিকা প্রস্তুত হয়। শুধুমাত্র গােদাবরী অঞ্চলেই নয় সমগ্র তেলেগু ভাষাভাষি অঞ্চলে স্বামীজীর নাম-যশ ছড়িয়ে পড়েছে। আশ্রমে এখন খাবার অভাব নাই। [ক্রমশঃ]
—————–
ক্রিসটোফ ভন হেমেনডরফ ছিলেন একজন জার্মানদেশীয়। ভারতে নিজাম সরকারের অধীনে নৃতত্ত্ববিদ হিসাবে কাজ করছিলেন। উপজাতিদের দৈনন্দিন জীবনধারণ সম্বন্ধে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তিনি উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ঘুরতে লাগলেন। নিজাম সরকারের একজন এগজিকিউটিভ কাউন্সিলারের ভগ্নীকে তিনি বিবাহ করেন। এই সূত্রে সরকারী উপরমহলে তার বেশ প্রভাব ছিল।
পপি পাহাড় অঞ্চলের রেড্ডিদের অবস্থা গবেষণার জন্য তিনি সস্ত্রীক ঐ অঞ্চলে এসে প্রায় ছয়মাস পেরেন্টাপল্লীতে ছিলেন। উপজাতিদের অবস্থা দেখেশুনে তিনি স্বামীজীর সঙ্গে আলোচনা করতেন। কখনো কখনো স্বামীজী প্রাথমিক গবেষণার সুবিধার জন্য তাঁকে কতকগুলি আকর্ষণীয় জায়গায় নিয়ে যেতেন। ঐসময়ে স্বামীজী উপজাতিদের আর্থিক অবস্থার উন্নতিকল্পে যে প্রস্তাব নিয়েছিলেন তা রূপায়িত করার জন্য কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি উপজাতিদের দুঃখ-কষ্ট এবং সেই সঙ্গে বণিকের অত্যাচার হেমেনডরফকে অবহিত করালেন। উপর মহলে বেশ প্রভাব থাকায় হেমেনডরফ সমস্ত বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন এবং তাদের সহযোগিতা পেতেন।
“বাইসন পাহাড়ের রেড্ডি জাতি’–এই শিরোনামে একখানি বই ছাপিয়ে তিনি প্রকাশ করলেন । ঐ পুস্তকে স্বামীজী এবং তাঁর কাজকর্ম সম্বন্ধে একটা স্পষ্ট ধারণা ছিল। এর সারাংশ নিম্নরূপ :–
“সবচেয়ে ছােট শিশুটিকে কোলে নিয়ে এবং তার বড়টিকে অন্য হাতে ধরে এবং ঐ দুজনের চেয়ে বড় ২/১ টি ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে রেড্ডিদের মেয়েরা ঝর্ণা পার হয়ে আশ্রমে আসে। চার ধাপ সিঁড়ি বেয়ে তারা কাঠের গেটের নিকট পৌঁছায়। এই গেট পার হয়ে তারা আশ্রমের ভিতর ঢোকে। আশ্রমের ভিতরে বড় গাছের নীচে খড়ের ছাউনি দেওয়া ছোট কুটীর। কলাগাছের মাঝে পাথরের শিবলিঙ্গ। শিবলিঙ্গটি হেবিসকাস ফুলে সাজানো থাকে। আশ্রমের বাইরে কয়েকজন লোক শাবল দিয়ে মাটি খুঁড়ে ঝুড়িতে ভরছে। আশ্রম প্রাঙ্গণটিকে সমান করার জন্য তাদেরকে আনা হয়েছে। আশ্রম প্রাঙ্গণটি সমান হোলে তার উপর প্যাণ্ডেল তৈরী করা হবে। যারা শিবরাত্রি উৎসবে আসবে, তাদের ঐ প্যাণ্ডেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। শিবরাত্রি উৎসবে সমভূমি থেকে বিভিন্ন জাতির ভক্তরা আশ্রমে এসে শিবলিঙ্গকে পূজা করে।
যে স্বামীজী আশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা _সেই স্বামীজী নিজেও মেয়েদের সঙ্গে কাজ করেন। আকারে নাতিদীর্ঘ হলেও স্বামীজী বেশ কর্মঠ। তাঁর কপাল চন্দন চর্চিত। কাঁধ পর্বস্ত তাঁর চুলের জটা। তিনি নীরবে কাজ করেন। যেভাবে তিনি শাবল নিয়ে কাজ করেন তাতে বোঝা যায় দীর্ঘদিনের তপশ্চর্যাতেও তার শরীর ক্ষীণ হয় নাই। খেলাধুলারত শিশুদের মাঝখানে তিনি যে হাসি হাসেন তা অতি মনােরম। এই সদাপ্রসন্ন হাসির বলে তিনি গোদাবরীর উভয় অঞ্চলের লােকের উপর প্রভাবশালী হয়েছেন এবং তাদের শ্রদ্ধাভাজন হয়েছেন। দীর্ঘদিন সাধনা করার ফলে অন্তরে যে শান্তি তিনি লাভ করেছেন এই মনােরম মৃদু হাসি সেই শান্তিরই প্রকাশ।
দুপুর পর্যন্ত মেয়েরা কাজ করে। তারপর তারা আশ্রমে খায়। আশ্রমে রুচিসম্মত খাবার রান্না হয়। কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে স্বামীজী এই খাবার রান্না করেন। ভক্তদের প্রেরিত ভোজ্যবস্তুর উপর নির্ভর করে খাদ্য তালিকা প্রস্তুত হয়। শুধুমাত্র গােদাবরী অঞ্চলেই নয় সমগ্র তেলেগু ভাষাভাষি অঞ্চলে স্বামীজীর নাম-যশ ছড়িয়ে পড়েছে। আশ্রমে এখন খাবার অভাব নাই। [ক্রমশঃ]
