পেরেন্টাপল্লী গ্রামের লোকদেরকে যে তিনি পেট পুরে খাওয়ান তা নয়, দূরবর্তী গ্রাম হতে এসে যারা তাদের দুঃখ কষ্টের কথা জানায় তাদেরকেও স্বামীজী পেট পুরে খাওয়ান। তাদের সঙ্গে স্বামীজী বেশীক্ষণ কথা বলেন না। স্বামীজী বিশ্বাস করেন যে তারা সত্য এবং ঈশ্বরীয় কথা বুঝতে পারবে না । তাদের শরীর রক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার সরবরাহ করতে হবে।
ঐ অঞ্চলের পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে জেনে হেমেনডরফ এই বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ সরকারের নিকট পেশ করেছিলেন। সহুকার যে কয়টি খুন করেছিল তার মধ্যে কয়েকটা এরমধ্যে লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। এই রিপাের্টে উপজাতিদের দাসত্ব মোচনের প্রয়োজনীয়তার কথাও স্থান পেয়েছিল।
এই রিপাের্টের পরিপ্রেক্ষিতে নিজাম সরকার নিজাম রাজ্যে সহুকারের প্রবেশ নিষেধ করে দিলেন। এরই সঙ্গে অবসান হল সহুকরের অত্যাচার। উপজাতিরা সহুকারের নিকট যে ঋণ করেছিল তা মােকুব হয়ে গেল। তারা ঋণমুক্ত হল। তারা বন্ধনমুক্ত হল। কিন্তু বাঁচার জন্য কোন লােকের সহায়তা তাদের প্রয়োজন। স্বামীজী নিজেই হলেন সেই সাহায্যকারী ব্যক্তি। জপের মালা ছেড়ে দিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নির্দেশিত পথে জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে কর্মভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন। স্বামীজীর নির্দেশমত পপি পাহাড়ের বনাঞ্চলকে কয়েকটি কুপে ভাগ করা হল এবং এগুলো নীলাম ডাকের ব্যবস্থা করা হল। সুব্রহ্মমনীয়াম এবং বিশ্বাসমের সঙ্গে পরামর্শ করে স্বামীজী তাঁর কয়েকজন শিষ্যের সঙ্গে পেরেন্টাপল্লীর প্যাটেলকে নীলামঘরে ( auction hall ) পাঠালেন।
হেমেনডরফ নিম্নলিখিতভাবে এর বর্ণনা দিয়েছেন –
“ঐ বৎসর যখন বাঁশ এবং কাঠের কুপের নীলমের ব্যবস্থা করা হল তখন পেরেন্টাপল্লীর প্যাটেল কোপালা কান্নায়া রেড্ডি নতুন ধুতি এবং নতুন কোট পড়ে এবং মাথায় সিল্কের পাগড়ী বেঁধে পালয়ানচায় নীলাম ঘরে গিয়ে হাজির হল। সঙ্গে স্বামীজীর কয়েকজন শিষ্য ছিল। কান্নায়া রেড্ডি নীলাম সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অজ্ঞ। সে জানে না ঐ ঘরে কি হচ্ছে। কিন্তু সে জানে তাকে কি করতে হবে। যখন স্বামীজীর একজন শিষ্য তাকে চিমটি কাটছিল তখন সে চিৎকার করে বলছিল ‘আরও দশ’৷ কান্নায়া রেড্ডি কুড়ির বেশী গুণতে জানত না। কিন্তু হলঘরে হাজারের বেশী ডাক দেওয়া হচ্ছিল। প্রত্যেকের চিমটী খেয়ে সে ‘আরও দশ, আরও দশ’ – বলে পেরেন্টাপল্লী এলাকার কুপের ডাক দুই হাজার দুশাে টাকায় ডেকে নিল। স্বামীজীর শিষ্য টাকা মিটিয়ে দিল। কান্নায় রেড্ডি পেরেন্টাপল্লীর কুপের কন্ট্রাকটার হয়ে বাড়ী ফিরল।” কুপ শেয়ারের লভ্যাংশ পেরেন্টাপল্লীর সকল গ্রামবাসী সমান ভাগে ভাগ করে নিত। স্বামীজী এক হাজার বাঁশের জন্য মজুরী দশ টাকা থেকে বাড়িয়ে পঁয়ত্রিশ টাকা করলেন। এছাড়াও তিনি তাদেরকে চোলাম, মুন, তেল প্রভৃতি দিতে লাগলেন। বিবাহ খরচ এবং শ্রাদ্ধাদি খরচও তিনি যোগাতেন। হেমেনডরফ বিশেষ বিচার শক্তি দিয়ে স্বামীর কাজ পর্যবেক্ষণ করে
নিম্নলিখিতভাবে লিখলেন :–
“যে সমস্ত রেড্ডির কয়েক মাস আগে কৌপীন ছাড়া অন্য কোন পরিধেয় ছিল না সেই সমস্ত রেড্ডি এখন গােটা কাপড় এবং জামা পড়ছে। বাড়িতে গোটা শাড়ী এবং জ্যাকেট পড়ছে। রেড্ডিদের খাবার এখন অনেক উন্নত ধরণের। জিল্লুগুঁড়াের পরিবর্তে এখন তারা চোলাম খাচ্ছে। এখন পেরেন্টাপল্লীতে চর্মরােগ নাই।
আর্থিক উন্নতি ছাড়াও তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা দিল তা হল মানসিক অবস্থার পরিবর্তন। ঋণের চুক্তি এবং শয়তানির কবল হতে রেহাই পেয়ে তাদের মধ্যে এখন আত্মবিশ্বাস গড়ে উঠেছে। তারা সুখে আছে । এখন তারা বুঝতে পারছে যে তারা শ্রমের ফল পাচ্ছে।” হেমেনডরফের বইটি ১৯৪৬ সালে Illustrated London Newsএ রিভিউ করা হয়েছিল। তাতে স্বামীজীর সম্বন্ধে নিম্নলিখিত মন্তব্য করা হয়েছিল :-
“এই লােকগুলির পিছনে রয়েছেন স্বামীজী। তার নাম এবং ইতিবৃত্ত জানা যায় না। ইনি হলেন এক জন বড় যােগী। নিজেকে রেড্ডিদের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। যে জায়গাটিতে তিনি বাস করেন সেটি তীর্থস্থানতুল্য। তাঁর একমাত্র কাজ হল উপজাতিদের রক্ষা করা এবং সাহায্য করা।”