[রম্মা মা পেরেন্টাপল্লী আশ্রমেই থাকতেন। ওনার বৃদ্ধা মা অর্থাৎ সুব্বাম্মা যখন একাকী প্রথমবার আশ্রমে এসেছিলেন, তখনকার কথা হচ্ছিলো। গভীর রাতে লঞ্চঘাটে লন্ঠন নিয়ে দু-একজন দাঁড়িয়ে ছিল। লঞ্চচালক মাতাজীকে এই কথা জানিয়েছিল। সেই সব কথা মাতাজী বলছিলেন…]
” চালকের এই কথাগুলো শুনে আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম! আমার দু চোখ থেকে অশ্রু বইতে লাগলো। সত্যিই বাঁধে দুজন লোক অপেক্ষা করছিল । তারা আমাকে ধরে বাঁধের উপর নিয়ে এল । আশ্রমে পৌঁছে স্বামীজীর মৃদু হাসিই সমস্ত কথার জবাব দিয়ে দিয়েছিল।”
যে ব্যক্তি আশ্রমের গরু দেখাশোনা করতো, সেই ব্যক্তি দেখল একটা বাছুর পাওয়া যাচ্ছে না । সেজন্য সে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাছুর খুঁজছিল । হটাৎ করে লঞ্চের শব্দ শুনতে পেয়ে তারা ঘাটে অপেক্ষা করছিল_ যদি কেউ লঞ্চ হতে নামে !
ঈশ্বরের কৃপায় দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটেছিলো । হতবুদ্ধি মহিলা তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন । ঈশ্বরের কৃপায় তার সন্দেহ দূর হলো । তিনি দু-তিন সপ্তাহ আশ্রম থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমস্ত কিছু দেখলেন । স্বামীজীর সঙ্গে অনেক কথাই আলোচনা করলেন। স্বামীজীকে বললেন নিজে সবকিছু জানার জন্য আমি এখানে এসেছিলাম। এখানকার সমস্ত কিছু সন্তোষজনক না হলে আমার মেয়েকে আমি নিয়ে চলে যাবো ভেবেছিলাম । এখন দেখছি এই স্থান তার থাকার পক্ষে উপযুক্ত। আমার নিজেরও এখানে থাকার ইচ্ছা ছিল কিন্তু শরীর বইবে না । তাই আমি ফিরে যেতে চাই। আমি শরীর ছাড়ার আগে, আমার মেয়েকে একবার আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন _এই অনুরোধ করছি ! স্বামীজী উত্তরে বললেন _”আচ্ছা”! মাতাজী বললেন _”কখন পাঠাবেন?” স্বামীজী উত্তর দিলেন _”যখন তোমার খুব দরকার হবে!”
এরপর বৃদ্ধা চলে গেলেন । দু-তিন সপ্তাহ পরে স্বামীজী রম্মামাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন । তিনি এর কারণ কিছু বললেন না । কিন্তু রমাম্মা বাড়ি পৌঁছে দেখলেন তার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন । মা জিজ্ঞাসা করলেন_ “তুই কেন এসেছিস? আমার সম্বন্ধে স্বামীজি কি বলেছেন?” মেয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলো না । কারণ সে বিষয়ে সে কিছুই জানতো না ।
বৃদ্ধা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন । তিনি তার সব ছেলেমেয়েকে তার পাশে ডেকে বললেন _”রম্মা সদ্গুরুর হাতে পড়েছে এবং সে দ্রুত গতিতে আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হচ্ছে !” অন্য মেয়েকে বললেন _”আমার মৃত্যুর পর তুইও পেরেন্টাপল্লী গিয়ে স্বামীজীকে সেবা করবি! স্বামীজী একজন বড় মহাত্মা!”
তাঁর ওই মেয়েটি তাঁর এই উপদেশ পালন করেছিল । মায়ের মৃত্যুর পর সে আশ্রমে এসে বাস করতে লাগলো । স্বামীজী তাকে ‘রেপল্লী মা’ বলে ডাকতেন ! সে স্বামীজীর খুব ভক্ত ছিল কিন্তু গোঁড়া মনোভাবের জন্য আশ্রম পরিবেশের সঙ্গে সে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিল না । সে নিজে রান্না করে খেতে লাগলো। ক্রমে ক্রমে এক মাসের মধ্যে তার বিরাট পরিবর্তন দেখা দিল। সে নিজের জন্য রান্না করা বন্ধ করলো। অন্য সকলের সঙ্গে একই রান্না করা খাবার খেতে লাগলো। আশ্রমের মধ্যে যে অধ্যাত্ম চিন্তা-ভাবনার তরঙ্গ বইছিল, তাতেই সে মগ্ন হয়ে গেল । মনুষ্য জীবনের লক্ষ্য কি_ তা সে বুঝতে পারলো এবং এও বুঝলো যে ঈশ্বরের সঙ্গে একীভূত হয়ে আছে গুরুরূপী নারায়ন !
আশ্রমে আসার পর সে বুঝতে পারলো _এই নারায়ন কেবলমাত্র গোঁড়া মানুষদের হৃদয়ে বিরাজ করছেন তা নয়, তিনি সর্বত্র এবং সকল জীবের মধ্যেই বিরাজ করছেন। সে উপলব্ধি করলো যে, এই গোঁড়ামি অন্য মানব হতে তাকে পৃথক করে রেখেছিল । এই পৃথকীকরণের জন্য তার জীবনের অনেকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে । নারায়ণকে সে উপলব্ধি করতে পারে নাই । অতীব অনুশোচনায় সে জীবনের গতি পাল্টে দিলো এবং বিশ্বের ঈশ্বর নারায়ণকে চিন্তা করতে লাগলো । সে উপলব্ধি করলো স্বামীজীই বিশ্ব চেতনার প্রতিমূর্ত্তি এবং উৎস _যা থেকে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তি নিঃসৃত হচ্ছে এবং এই প্রেম, জ্ঞান ও শক্তি জগৎ পরিব্যাপ্ত করছে ।
কয়েকদিন পর সে অসুস্থ হয়ে পড়লো। স্বামীজী তাঁর ছেলেদের খবর দিলেন । তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলেরা এক বিশেষ লঞ্চ ভাড়া করে পেরেন্টাপল্লী এসে হাজির হলো । তারা মায়ের কাছে তাদের ইচ্ছার কথা জানালো। মা তাতে রাজি হলেন না । তিনি বললেন _”আমি সদ্ গুরুর নিকট এসেছি! আমি নারায়ণকে পেয়েছি! তাতেই আমি লীন হতে চাই ! আমাকে অধঃপাতিত করো না! আমাকে শৃংখলাবদ্ধ করো না!” বিশেষ লঞ্চ ছেড়ে দিয়ে ছেলেরা কয়েকদিন আশ্রমের রয়ে গেলো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় রেপল্লী মা শুয়ে ছিল! চোখে তার শূন্য দৃষ্টি ! সে যেন কাউকে খুঁজছে। আশ্রমের এক মা তাকে জিজ্ঞাসা করল _” তুমি কি তোমার ছেলেকে এখানে আসতে বলছো?” সে উত্তর দিল না । কিছুক্ষণ পর সে _”স্বামীজী” “স্বামীজী” _ বলে ডাকতে লাগলো।
” চালকের এই কথাগুলো শুনে আমি আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম! আমার দু চোখ থেকে অশ্রু বইতে লাগলো। সত্যিই বাঁধে দুজন লোক অপেক্ষা করছিল । তারা আমাকে ধরে বাঁধের উপর নিয়ে এল । আশ্রমে পৌঁছে স্বামীজীর মৃদু হাসিই সমস্ত কথার জবাব দিয়ে দিয়েছিল।”
যে ব্যক্তি আশ্রমের গরু দেখাশোনা করতো, সেই ব্যক্তি দেখল একটা বাছুর পাওয়া যাচ্ছে না । সেজন্য সে একজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাছুর খুঁজছিল । হটাৎ করে লঞ্চের শব্দ শুনতে পেয়ে তারা ঘাটে অপেক্ষা করছিল_ যদি কেউ লঞ্চ হতে নামে !
ঈশ্বরের কৃপায় দুটি ঘটনা একই সময়ে ঘটেছিলো । হতবুদ্ধি মহিলা তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলেন । ঈশ্বরের কৃপায় তার সন্দেহ দূর হলো । তিনি দু-তিন সপ্তাহ আশ্রম থেকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে সমস্ত কিছু দেখলেন । স্বামীজীর সঙ্গে অনেক কথাই আলোচনা করলেন। স্বামীজীকে বললেন নিজে সবকিছু জানার জন্য আমি এখানে এসেছিলাম। এখানকার সমস্ত কিছু সন্তোষজনক না হলে আমার মেয়েকে আমি নিয়ে চলে যাবো ভেবেছিলাম । এখন দেখছি এই স্থান তার থাকার পক্ষে উপযুক্ত। আমার নিজেরও এখানে থাকার ইচ্ছা ছিল কিন্তু শরীর বইবে না । তাই আমি ফিরে যেতে চাই। আমি শরীর ছাড়ার আগে, আমার মেয়েকে একবার আমার কাছে পাঠিয়ে দেবেন _এই অনুরোধ করছি ! স্বামীজী উত্তরে বললেন _”আচ্ছা”! মাতাজী বললেন _”কখন পাঠাবেন?” স্বামীজী উত্তর দিলেন _”যখন তোমার খুব দরকার হবে!”
এরপর বৃদ্ধা চলে গেলেন । দু-তিন সপ্তাহ পরে স্বামীজী রম্মামাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিলেন । তিনি এর কারণ কিছু বললেন না । কিন্তু রমাম্মা বাড়ি পৌঁছে দেখলেন তার মা অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন । মা জিজ্ঞাসা করলেন_ “তুই কেন এসেছিস? আমার সম্বন্ধে স্বামীজি কি বলেছেন?” মেয়ে কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারলো না । কারণ সে বিষয়ে সে কিছুই জানতো না ।
বৃদ্ধা খুবই অসুস্থ হয়ে পড়লেন । তিনি তার সব ছেলেমেয়েকে তার পাশে ডেকে বললেন _”রম্মা সদ্গুরুর হাতে পড়েছে এবং সে দ্রুত গতিতে আধ্যাত্মিক পথে অগ্রসর হচ্ছে !” অন্য মেয়েকে বললেন _”আমার মৃত্যুর পর তুইও পেরেন্টাপল্লী গিয়ে স্বামীজীকে সেবা করবি! স্বামীজী একজন বড় মহাত্মা!”
তাঁর ওই মেয়েটি তাঁর এই উপদেশ পালন করেছিল । মায়ের মৃত্যুর পর সে আশ্রমে এসে বাস করতে লাগলো । স্বামীজী তাকে ‘রেপল্লী মা’ বলে ডাকতেন ! সে স্বামীজীর খুব ভক্ত ছিল কিন্তু গোঁড়া মনোভাবের জন্য আশ্রম পরিবেশের সঙ্গে সে নিজেকে খাপ খাওয়াতে পারছিল না । সে নিজে রান্না করে খেতে লাগলো। ক্রমে ক্রমে এক মাসের মধ্যে তার বিরাট পরিবর্তন দেখা দিল। সে নিজের জন্য রান্না করা বন্ধ করলো। অন্য সকলের সঙ্গে একই রান্না করা খাবার খেতে লাগলো। আশ্রমের মধ্যে যে অধ্যাত্ম চিন্তা-ভাবনার তরঙ্গ বইছিল, তাতেই সে মগ্ন হয়ে গেল । মনুষ্য জীবনের লক্ষ্য কি_ তা সে বুঝতে পারলো এবং এও বুঝলো যে ঈশ্বরের সঙ্গে একীভূত হয়ে আছে গুরুরূপী নারায়ন !
আশ্রমে আসার পর সে বুঝতে পারলো _এই নারায়ন কেবলমাত্র গোঁড়া মানুষদের হৃদয়ে বিরাজ করছেন তা নয়, তিনি সর্বত্র এবং সকল জীবের মধ্যেই বিরাজ করছেন। সে উপলব্ধি করলো যে, এই গোঁড়ামি অন্য মানব হতে তাকে পৃথক করে রেখেছিল । এই পৃথকীকরণের জন্য তার জীবনের অনেকাংশ নষ্ট হয়ে গিয়েছে । নারায়ণকে সে উপলব্ধি করতে পারে নাই । অতীব অনুশোচনায় সে জীবনের গতি পাল্টে দিলো এবং বিশ্বের ঈশ্বর নারায়ণকে চিন্তা করতে লাগলো । সে উপলব্ধি করলো স্বামীজীই বিশ্ব চেতনার প্রতিমূর্ত্তি এবং উৎস _যা থেকে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তি নিঃসৃত হচ্ছে এবং এই প্রেম, জ্ঞান ও শক্তি জগৎ পরিব্যাপ্ত করছে ।
কয়েকদিন পর সে অসুস্থ হয়ে পড়লো। স্বামীজী তাঁর ছেলেদের খবর দিলেন । তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য ছেলেরা এক বিশেষ লঞ্চ ভাড়া করে পেরেন্টাপল্লী এসে হাজির হলো । তারা মায়ের কাছে তাদের ইচ্ছার কথা জানালো। মা তাতে রাজি হলেন না । তিনি বললেন _”আমি সদ্ গুরুর নিকট এসেছি! আমি নারায়ণকে পেয়েছি! তাতেই আমি লীন হতে চাই ! আমাকে অধঃপাতিত করো না! আমাকে শৃংখলাবদ্ধ করো না!” বিশেষ লঞ্চ ছেড়ে দিয়ে ছেলেরা কয়েকদিন আশ্রমের রয়ে গেলো। একদিন সন্ধ্যাবেলায় রেপল্লী মা শুয়ে ছিল! চোখে তার শূন্য দৃষ্টি ! সে যেন কাউকে খুঁজছে। আশ্রমের এক মা তাকে জিজ্ঞাসা করল _” তুমি কি তোমার ছেলেকে এখানে আসতে বলছো?” সে উত্তর দিল না । কিছুক্ষণ পর সে _”স্বামীজী” “স্বামীজী” _ বলে ডাকতে লাগলো।
