[ লেখক আঃ বেঙ্কট রাও-এর তৃতীয় দর্শন!]
কয়েক মাস পরে আমরা(আঃ বেঙ্কট রাও-য়েরা) আবার পেরেন্টাপল্লী আশ্রম দর্শন করতে গিয়েছিলাম । এই সময় আমাদের অফিসের কয়েকজন লোকও আমাদের সঙ্গে গিয়েছিল। সুব্বা রাও নামে আমার এক সহকর্মীও সেবার আমাদের সঙ্গে ছিলেন। স্বামী বাউলানন্দজীর সঙ্গে তিনি পরিচিত হতে চেয়ে ছিলেন _তাই গিয়েছিলেন। আশ্রমে পৌঁছে আমরা সকলে একটা গাছের নিচে বসলাম । নীলাদ্রি রাও স্বামীজীর সঙ্গে সুব্বার পরিচয় করিয়ে দিলেন। স্বামীজী হেসে সুব্বার প্রতি কটাক্ষ করে বললেন _”ও এখানে নতুন ব্যক্তি নয়, দশ বছর আগে একটা দল নিয়ে ও এখানে এসেছিল, সঙ্গে রাজমুন্দ্রির এক যোগী ছিলেন । ওই গাছের নিচে বসে ও কয়েকটা সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণ করেছিল। সুব্বারাও সহ আমরা সকলেই খুব বিস্মিত হলাম ।
সত্যিই সুব্বার পিতা পরিবার নিয়ে একটা দল করে এখানে এসেছিলেন এবং ওই দলে রাজমুন্দ্রির রাধাকৃষ্ণ আশ্রমের একজন যোগীও ছিলেন। তারা ভদ্রাচলম যাচ্ছিলেন। পথে এখানে আধঘন্টার জন্য থেমে ছিলেন । যোগীটি যখন স্বামীজীর সঙ্গে কথা বলছিলেন _তখন সুব্বারাও শ্রীমদ্ভগবদগীতা হতে কয়েকটা সংস্কৃত শ্লোক উচ্চারণ করেছিলেন। এটা খুবই আশ্চর্যের বিষয় যে, স্বামীজী এই তুচ্ছ ঘটনাকেও মনে রেখেছেন!
সুব্বা বলল_” আমাদের সঙ্গে মে যোগী ছিল, আমরা তাকে আমাদের “গুরু” বলে মনে করতাম। ভদ্রাচলম যাবার পথে আমরা তাকে সঙ্গে নিয়ে ছিলাম । পরে অবশ্য ঐ যোগীর সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়, কারন আমরা জানতে পেরেছিলাম যে কয়েকজন মহিলার সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ! সেজন্য আমরা তার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখিনি । সুব্বা রাও-এর কথা শুনে হঠাৎ করে স্বামীজীর ভাবের পরিবর্তন হোলো! তিনি বললেন _”থামো!”
স্বামীজীর তিরস্কারে সুব্বারাও চুপ করলেন। আমরা সকলে উদগ্রীব হয়ে স্বামীজীর দিকে তাকিয়ে রইলাম _উনি কি বলেন তা শোনার জন্য ! উনি বললেন _”তুমি যা বলছো, তার কোনো অর্থই হয় না ! যখন খুশি গুরু গ্রহণ করছো, আবার যখন খুশি গুরু ত্যাগ করছো _ গুরু এরকম কোনো জিনিস নয় ! গায়ের জামা পরিবর্তন করার মত গুরু পরিবর্তন করা যায় না ! একবার কোনো ব্যক্তিকে গুরুরূপে গ্রহণ করলে _গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক স্থায়ী হয়ে যায় ! এমনকি গুরু ও শিষ্য উভয়ের মৃত্যুর পরেও সম্পর্ক থাকে! এই সম্পর্ক আত্মিক ! গুরু বা শিষ্যের ইচ্ছামত এই সম্পর্কের ইতি ঘটানো যায় না !! … (ক্রমশঃ)
