[ লেখক আঃ বেঙ্কট রাও-এর চতুর্থ দর্শন!]
একবার হরি, সুব্বা রাও, নীলাদ্রি রাও, আমি এবং আরো অনেকে পেরেন্টাপল্লী আশ্রমে গিয়েছিলাম । সকালবেলায় প্রাতরাশ সেরে সকলে কুটিরেই বসে আছি । স্বামী বাউলানন্দজী উৎসবের জন্য ব্যস্ত । আমাদের মধ্যে হালকা ধরনের কথাবার্তা চলছিল। গণপতি কথা, রামকথা, বিষ্ণু কথা, হরিকথা, ভবানী কথা প্রভৃতি কয়েকখানা গ্রন্থ আমাদের সামনে পড়েছিল । ভক্তরা যে যার খুশিমতো বইগুলি পড়ছিল । আশ্রম দেবতার নাম কি _কোন্ বই আমাদের পড়া উচিত প্রভৃতি আলোচনা হচ্ছিলো। এইসব হালকা আলোচনার পরে তা গভীরতায় রূপ নিল । এমন সময় স্বামীজী কুটীরে প্রবেশ করে জিজ্ঞাসা করলেন তোমাদের কি আলোচনা চলছে ? তারপর তিনি নিজেই নানারকম আলোচনা করতে লাগলেন।
সেই সময় নীলাদ্রি রাও স্বামীজীকে বললেন যে, সেখানে শ্রীরামকৃষ্ণের একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করলে কেমন হয় ? স্বামীজী তার উত্তরে বললেন _”লোকের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মন্দির নির্মাণ করা খুবই কঠিন কাজ !” এই কথা শুনে নিলাদ্রী রাও বুঝতে পারলেন যে স্বামীজীর ইচ্ছানুযায়ী তার কাজ করা উচিত _নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী নয় ! তাই মন্দিরের জন্য 25 একর জমি দান হিসেবে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হোলো। স্বামীজি বললেন _”তোমরা অবশ্যই সরকারি নজরানা দিয়ে এই 25 একর জমি গ্রহণ করবে । দরকার হোলে Poverty Relief Service এই টাকা দেবে ।” স্বামীজি একথাও বললেন যে, মূর্তি নির্মাণ করতে যে টাকা খরচা হবে সেটাও এই Poverty Relief Service-ই দেবে।
এই ভাবেই পেরেন্টাপল্লীতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মন্দির নির্মাণ হয়েছিল, যেখানে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের মূর্তি অন্যান্য মন্দিরের সমস্ত মূর্তির থেকে একটু আলাদা ! ওখানে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ছোট্ট পাথরের মূর্তি হংসের ওপর প্রতিষ্ঠিত এবং শ্বেতপদ্ম রয়েছে।
[ সেদিন স্বামী বাউলানন্দজীর কাছে আমি (লেখক __আপা ভেঙ্কট রাও )একাই ছিলাম। আমার সঙ্গে যে বন্ধুরা এসেছিল তারা পাহাড় এবং বন দেখতে গিয়েছিল।]
এই অবস্থায় স্বামীজি আমাকে বললেন _”তোমার খুব শিগগির অন্যত্র বদলি হবে এবং তোমার চাকরিতে পদোন্নতি ঘটবে ।”
আমি বললাম _ “বদলি হোলে পদোন্নতি হয় ঠিকই কিন্তু এতে আমার অনুরাগ নাই! বর্তমানে যেখানে কাজ করছি, সেখানে থাকলে আপনার সঙ্গ পাবো কিন্তু বদলি হোলে সে সুযোগ হতে বঞ্চিত হবো!”
আমার এই কথার উত্তরে স্বামীজী বললেন _” আমাদের আদর্শ ভুললে চলবেনা । আমাদের দৃষ্টিতে সেটা যেন সবসময় শুদ্ধ, পবিত্র থাকে । আদর্শ যত শুদ্ধ, পবিত্র হবে _ ততই তোমার পথ পরিষ্কার হবে।।”
1945 সালের জানুয়ারি মাসে গুন্টুর জেলা থেকে য
কেশব রাও নামে একজন যুবক পেরেন্টাপল্লী আশ্রমে এসেছিল । সে পূর্বে Poverty Relief Service-এর অর্থ সাহায্যের জন্য স্বামী রামতীর্থের কয়েকটা আলোচনা অনুবাদ করেছিল । সে ছিল রামতীর্থ গত প্রাণ । স্বামী রামতীর্থের বাণীতে সে অনুপ্রাণিত হয়েছিল ।
ওই যুবক পেরেন্টাপল্লী আশ্রমে এসেছিল ঠিক মহাশিবরাত্রির আগে । তার চোখ দেখে স্বামী বাউলানন্দজী তার ভাবের তীব্রতা, ভক্তির গভীরতা এবং ব্যাকুলতা বুঝতে পারলেন । স্বামীজী চাইলেন _সে শান্ত চিত্তে আশ্রমে বাস করুক ! তাই তিনি কেশব রাওকে বললেন _”রাম ও কৃষ্ণের শহস্রনাম এবং অষ্টোত্তর শতনাম আমাদের কাছে নাই । তুমি মন্দিরে বসে ঐগুলি লিখে দাও।” কেশব রাও এই কাজ হাতে নিলো এবং এক সপ্তাহের মধ্যে ওই কাজ শেষ কোরলো । স্বামীজী এগুলি দেখে খুবই খুশি হোলেন এবং তিনি ঐগুলি নিজের মাথায় ঠেকিয়ে ঘোষণা করলেন যে, শিবরাত্রির দিন ভক্তরা ঐগুলি পাঠ করবে।
কেশব রাও-এর মত এই ভাল ছেলেটি কিন্তু খুব বেশিদিন বাঁচে নি । পরে সে নিজে নিজেই গেরুয়া নিয়েছিল এবং ‘কেশবতীর্থ’ নাম ধারণ করেছিল! কেশব রাও গুন্টুর জেলায় পিদুগুরাল্লায় আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছিল । সে রামতীর্থের অনেক রচনা প্রকাশ করেছিল কিন্তু কয়েক বছরের মধ্যেই সে শরীর ত্যাগ করে পরম ধামে চলে গিয়েছিল।