স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো।শিবরাত্রি উৎসবের পর স্বামী বাউলানন্দজী অভিজ্ঞতালব্ধ আনন্দ উপভোগ করতে করতে আরো কয়েক সপ্তাহ ভদ্রাচলমে থেকে গেলেন। তারপর তিনি ভদ্রাচলম ছেড়ে রাজমন্দ্রির দিকে অগ্রসর হোলেন। বিভিন্ন গ্রাম অতিক্রম করে তিনি কুনাভরমে এসে পৌঁছালেন এবং সেখানকার রাম মন্দিরে কয়েকদিন অবস্থান করলেন।
স্বামীজী যেভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, এক তীর্থ থেকে অন্য তীর্থে পরিভ্রমণ করছিলেন__ এই ধরনের সন্ন্যাসীদের পরিব্রাজক সন্ন্যাসী বলা হয় ।পরিব্রাজক সন্ন্যাসীদের মানসিক অবস্থা খুবই আশ্চর্য ধরনের হয় । তাঁদের মন সবসময় ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন, প্রতি মুহূর্তে তাঁরা ঈশ্বরের দর্শন আকাঙ্ক্ষা করেন সব সময় অভিজ্ঞতা লাভ ও আনন্দ উপভোগ করতে চান । ঈশ্বরে মন রেখে তাঁরা বাহ্যিক সবকিছু ভুলে থাকেন, সমস্ত কষ্ট উপেক্ষা করে অন্তরে এই তাগিদে স্থান হতে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়ান! এঁদের শরীরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ থাকে না। নদী, পাহাড়, পর্বত পার হয়ে এঁরা এগিয়ে চলেন। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে তাঁরা বেশিদিন থাকেন না। শুধু এগিয়েই চলেন । পরবর্তী গন্তব্যস্থলে কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে মুহূর্তের জন্যও তাঁরা চিন্তা করেন না।
স্বামীজীরও এইরকমই পরিব্রাজকীয় মনের অবস্থা ছিল । কুনাভরমে কয়েকদিন থাকার পর স্বামীজী পরবর্তী গ্রাম গুয়াডিগুডেমের দিকে যাত্রা শুরু করলেন ।
গ্রীষ্মের সন্ধ্যাবেলা! গুয়াডিগুডেম যেতে হোলে গোদাবরীর উপনদী শবরী নদী পার হতে হয়। শবরীও খুব বড় নদী _কুনাভরমে এটি এক ফার্লং-এর চেয়েও প্রশস্থ। এই নদীতে বারো মাস জল থাকে। তবে গ্রীষ্মকালে এর জল খুব কমে যায়, ফলে নদীটি অগভীর হয়ে পড়ে।
কুনাভরমে এই নদী পার হবার জন্য খেয়াঘাট আছে । লোকে সাধারণতঃ নৌকা করেই এই নদী পার হয় কিন্তু গ্রীষ্মকালে এতো সামান্য জল থাকে যে, কয়েকটা পরিচিত স্থান দিয়ে হেঁটেও পার হওয়া যায়।
স্বামীজী নদীর তীরে এসে সেই স্থান খুঁজতে লাগলেন, যেখান থেকে তিনি হেঁটে পার হোতে পারবেন । একটি ছেলে নদীতে খাবার জল নিতে এসেছিল, তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করে একটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানতে পেরেছিলেন। তিনি এ নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সেই স্থান দিয়ে নদী পার হবার চেষ্টা করতে লাগলেন।
স্বামীজী নদীতে নেমে হাঁটা শুরু করলেন কিন্তু জল গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগল! প্রায় এক গলা জল হয়ে যাওয়ার পর _অপর পাড় হতে একজন চিৎকার করে বলতে লাগলেন _”এইটা পথ নয় _ঐদিকে পথ! আর যেওনা!” এভাবে তিনি স্বামীজীকে আর অগ্রসর না হওয়ার জন্য সাবধান করে দিলেন! কিন্তু স্বামীজী সেই লোকটির কথা খেয়াল করলেন না! হয় তিনি শুনতে পাননি, নয় ভাবস্থ অবস্থায় থাকায় তিনি ওই লোকটির হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করলেন। তিনি এগিয়েই চললেন । পরের ধাপেই ছিল ডুবোজল ! কিন্তু না __তিনি দেখলেন গভীরতা কমে আসছে! আর কয়েক পা গিয়েই তিনি অপর পাড়ে পৌঁছে গেলেন।
অপর পাড়ে থাকা ব্যক্তিটি (যে ব্যক্তি স্বামীজীকে সাবধান করছিলেন) এটা দেখে অবাক হয়ে গেল! সে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলো_” কেন ভুল পথে পার হতে গেলেন? ওখানে জল তো গভীর!” স্বামীজী বললেন _”একটি ছেলে তাঁকে ঐ পথ দেখিয়ে দিয়েছে!”
শবরী নদীর অপর পাড়ে যে অপরিচিত ব্যক্তি এসব কথা জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন, তিনি হোলেন বন বিভাগের একজন কর্মচারী, নাম মিস্টার কেশরী সিং। কিছুক্ষণ কথা বলতে বলতেই তিনি স্বামীজীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন স্বামীজী গুয়াডিডেম গ্রামের দিকে যাচ্ছেন । মিঃ সিং-এর বাড়ি এর পাশের গ্রামে _বড়রামচন্দ্রপুরম! তিনি তার কাছে যাওয়ার জন্য স্বামীজীকে আমন্ত্রণ জানালেন । স্বামীজী হাসিমুখে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন এবং পরের দিন সকালে তার সঙ্গে দেখা করবেন বলে কথা দিলেন। রাত্রে ওই গ্রামের মন্দিরে থাকবেন বলে স্বামীজী সামনের দিকে এগিয়ে চললেন।।(ক্রমশঃ)
=====================
[বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের চরৈবেতি পত্রিকায় প্রকাশিত _আপ্পা বেঙ্কট রাও রচিত স্বামী বাউলানন্দজীর জীবনী থেকে শুধুমাত্র selective জিজ্ঞাসা এবং উত্তরগুলি এখানে সংকলন করা হয়েছে।।]
**********************
জিজ্ঞাসা:– (একবার স্বামী বাউলানন্দজী, শিকারের নেশায় উন্মত্ত দুজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে দুটি বাইসনকে হত্যা করা থেকে নিবৃত্ত করেন। তিনি সশরীরে সেই বনের মধ্যে বাইসন দুটির একেবারে মাঝখানে প্রকট হয়ে যান এবং শিকারী দুজন বন্দুক থেকে গুলি করার পূর্বমুহূর্তে দেখে যে, স্বামীজী সস্নেহে ঐ প্রানীদুটির গায়ে হাত বোলাচ্ছেন। শিকারী দুজন স্বামীজী কে চিনতো_তাই তারা শিকার না করে _স্বামীজীর আশ্রমে এসে দেখে সেখানে তিনি নিশ্চিন্তে বসে আছেন। এই ঘটনায় ঐ দুজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি নিশ্চিত হয় যে, স্বামীজী আলাদা শরীর ধারণ করে ঐ বনে উপস্থিত ছিলেন। এই ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য ভক্তরা স্বামীজী কে জিজ্ঞাসা করলে স্বামীজী উত্তর দিয়েছিলেন যে, এটা ছিল ঈশ্বরেরই লীলা। তিনি স্বামীজীর রূপ ধারণ করেছিলেন মাত্র!)
___ঈশ্বর আপনার রূপ-ই বা নিলেন কেনো_অন্য কোনো রূপ নিলেন না কেনো?
মীমাংসা (স্বামী বাউলানন্দজী):— যারা সেদিন ওখানে গুলি করতে উদ্যত হয়েছিল_ তাঁরা ছিল উচ্চপদস্থ কর্মচারী! কেউ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতেই পারে না। বস্তুত গুলি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে তা থেকে বিরত হওয়া তাদের পক্ষে খুবই অসম্মানজনক একটা ব্যাপার! তাদেরকে গুলি করা থেকে বিরত করা তার পক্ষেই সম্ভব_ যাকে তারা শ্রদ্ধা করে। তারা যেহেতু স্বামীজীকে খুব শ্রদ্ধা করতো, তাই তাদের মনে একটা ছাপ পড়েছিল যে_ স্বামীজী অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকারী ! এইজন্যই ঈশ্বর স্বামীজীর রূপ ধরে সেদিন রক্ষা করেছিলেন।
(এই প্রসঙ্গে সেদিন স্বামীজী আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন)—একদিন তুকারাম বাবার(মহারাষ্ট্রের একজন উল্লেখযোগ্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব) আশ্রমে খুব ভক্তিভরে ভজন গাওয়া হচ্ছিল। তুকারাম বাবা এবং তাঁর ভক্তরা ভজনে এমন নিবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁদের চতুষ্পার্শ্বে কি ঘটনা ঘটছে সে বিষয়ে তাঁদের হুঁশ ছিলোনা। কিন্তু পিছনে কয়েকজন ভক্ত ছিল_ যারা সব লক্ষ্য রাখছিল । তারা দেখলো হঠাৎ কিছু মুসলমান সৈন্য চারিদিক থেকে আশ্রম আক্রমণ করছে! যাঁরা ভজন গাইছিলেন তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারলেন না ফলে বিনা বাধায় ভজন চলছিল। কিন্তু পিছন থেকে যারা সবকিছু লক্ষ্য রাখছিল, তারা আতঙ্কিত হলো। হঠাৎ তারা দেখলো শিবাজী মহারাজ তার সিংহ সদৃশ্য ঘোড়ায় চেপে এবং খাপ হতে তরবারি বের করে আশ্রমের সামনে এসে দাঁড়ালো এবং মুসলমান সৈন্যরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। সাথে সাথে শিবাজী মহারাজ ও অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আশ্রমের ভক্তরা এ ব্যাপারে কিছুই টের পেল না। কিন্তু যেটা দরকার ছিল_ তা হলো ভক্তদের রক্ষা করা এবং সেটা হয়ে গেল । এভাবে সর্বেসর্বা ঈশ্বর ওই রূপ ধারণ করে ভক্তদের কে রক্ষা করলেন।__(৯১/১)
স্বামীজী যেভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, এক তীর্থ থেকে অন্য তীর্থে পরিভ্রমণ করছিলেন__ এই ধরনের সন্ন্যাসীদের পরিব্রাজক সন্ন্যাসী বলা হয় ।পরিব্রাজক সন্ন্যাসীদের মানসিক অবস্থা খুবই আশ্চর্য ধরনের হয় । তাঁদের মন সবসময় ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন, প্রতি মুহূর্তে তাঁরা ঈশ্বরের দর্শন আকাঙ্ক্ষা করেন সব সময় অভিজ্ঞতা লাভ ও আনন্দ উপভোগ করতে চান । ঈশ্বরে মন রেখে তাঁরা বাহ্যিক সবকিছু ভুলে থাকেন, সমস্ত কষ্ট উপেক্ষা করে অন্তরে এই তাগিদে স্থান হতে স্থানান্তরে ঘুরে বেড়ান! এঁদের শরীরের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি ভ্রুক্ষেপ থাকে না। নদী, পাহাড়, পর্বত পার হয়ে এঁরা এগিয়ে চলেন। কোনো নির্দিষ্ট স্থানে তাঁরা বেশিদিন থাকেন না। শুধু এগিয়েই চলেন । পরবর্তী গন্তব্যস্থলে কি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে মুহূর্তের জন্যও তাঁরা চিন্তা করেন না।
স্বামীজীরও এইরকমই পরিব্রাজকীয় মনের অবস্থা ছিল । কুনাভরমে কয়েকদিন থাকার পর স্বামীজী পরবর্তী গ্রাম গুয়াডিগুডেমের দিকে যাত্রা শুরু করলেন ।
গ্রীষ্মের সন্ধ্যাবেলা! গুয়াডিগুডেম যেতে হোলে গোদাবরীর উপনদী শবরী নদী পার হতে হয়। শবরীও খুব বড় নদী _কুনাভরমে এটি এক ফার্লং-এর চেয়েও প্রশস্থ। এই নদীতে বারো মাস জল থাকে। তবে গ্রীষ্মকালে এর জল খুব কমে যায়, ফলে নদীটি অগভীর হয়ে পড়ে।
কুনাভরমে এই নদী পার হবার জন্য খেয়াঘাট আছে । লোকে সাধারণতঃ নৌকা করেই এই নদী পার হয় কিন্তু গ্রীষ্মকালে এতো সামান্য জল থাকে যে, কয়েকটা পরিচিত স্থান দিয়ে হেঁটেও পার হওয়া যায়।
স্বামীজী নদীর তীরে এসে সেই স্থান খুঁজতে লাগলেন, যেখান থেকে তিনি হেঁটে পার হোতে পারবেন । একটি ছেলে নদীতে খাবার জল নিতে এসেছিল, তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করে একটি নির্দিষ্ট স্থানের কথা জানতে পেরেছিলেন। তিনি এ নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে সেই স্থান দিয়ে নদী পার হবার চেষ্টা করতে লাগলেন।
স্বামীজী নদীতে নেমে হাঁটা শুরু করলেন কিন্তু জল গভীর থেকে গভীরতর হতে লাগল! প্রায় এক গলা জল হয়ে যাওয়ার পর _অপর পাড় হতে একজন চিৎকার করে বলতে লাগলেন _”এইটা পথ নয় _ঐদিকে পথ! আর যেওনা!” এভাবে তিনি স্বামীজীকে আর অগ্রসর না হওয়ার জন্য সাবধান করে দিলেন! কিন্তু স্বামীজী সেই লোকটির কথা খেয়াল করলেন না! হয় তিনি শুনতে পাননি, নয় ভাবস্থ অবস্থায় থাকায় তিনি ওই লোকটির হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করলেন। তিনি এগিয়েই চললেন । পরের ধাপেই ছিল ডুবোজল ! কিন্তু না __তিনি দেখলেন গভীরতা কমে আসছে! আর কয়েক পা গিয়েই তিনি অপর পাড়ে পৌঁছে গেলেন।
অপর পাড়ে থাকা ব্যক্তিটি (যে ব্যক্তি স্বামীজীকে সাবধান করছিলেন) এটা দেখে অবাক হয়ে গেল! সে স্বামীকে জিজ্ঞাসা করলো_” কেন ভুল পথে পার হতে গেলেন? ওখানে জল তো গভীর!” স্বামীজী বললেন _”একটি ছেলে তাঁকে ঐ পথ দেখিয়ে দিয়েছে!”
শবরী নদীর অপর পাড়ে যে অপরিচিত ব্যক্তি এসব কথা জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন, তিনি হোলেন বন বিভাগের একজন কর্মচারী, নাম মিস্টার কেশরী সিং। কিছুক্ষণ কথা বলতে বলতেই তিনি স্বামীজীর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলেন। তিনি লক্ষ্য করলেন স্বামীজী গুয়াডিডেম গ্রামের দিকে যাচ্ছেন । মিঃ সিং-এর বাড়ি এর পাশের গ্রামে _বড়রামচন্দ্রপুরম! তিনি তার কাছে যাওয়ার জন্য স্বামীজীকে আমন্ত্রণ জানালেন । স্বামীজী হাসিমুখে সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন এবং পরের দিন সকালে তার সঙ্গে দেখা করবেন বলে কথা দিলেন। রাত্রে ওই গ্রামের মন্দিরে থাকবেন বলে স্বামীজী সামনের দিকে এগিয়ে চললেন।।(ক্রমশঃ)
=====================
[বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনের চরৈবেতি পত্রিকায় প্রকাশিত _আপ্পা বেঙ্কট রাও রচিত স্বামী বাউলানন্দজীর জীবনী থেকে শুধুমাত্র selective জিজ্ঞাসা এবং উত্তরগুলি এখানে সংকলন করা হয়েছে।।]
**********************
জিজ্ঞাসা:– (একবার স্বামী বাউলানন্দজী, শিকারের নেশায় উন্মত্ত দুজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তিকে দুটি বাইসনকে হত্যা করা থেকে নিবৃত্ত করেন। তিনি সশরীরে সেই বনের মধ্যে বাইসন দুটির একেবারে মাঝখানে প্রকট হয়ে যান এবং শিকারী দুজন বন্দুক থেকে গুলি করার পূর্বমুহূর্তে দেখে যে, স্বামীজী সস্নেহে ঐ প্রানীদুটির গায়ে হাত বোলাচ্ছেন। শিকারী দুজন স্বামীজী কে চিনতো_তাই তারা শিকার না করে _স্বামীজীর আশ্রমে এসে দেখে সেখানে তিনি নিশ্চিন্তে বসে আছেন। এই ঘটনায় ঐ দুজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি নিশ্চিত হয় যে, স্বামীজী আলাদা শরীর ধারণ করে ঐ বনে উপস্থিত ছিলেন। এই ব্যাপারে নিশ্চিত হবার জন্য ভক্তরা স্বামীজী কে জিজ্ঞাসা করলে স্বামীজী উত্তর দিয়েছিলেন যে, এটা ছিল ঈশ্বরেরই লীলা। তিনি স্বামীজীর রূপ ধারণ করেছিলেন মাত্র!)
___ঈশ্বর আপনার রূপ-ই বা নিলেন কেনো_অন্য কোনো রূপ নিলেন না কেনো?
মীমাংসা (স্বামী বাউলানন্দজী):— যারা সেদিন ওখানে গুলি করতে উদ্যত হয়েছিল_ তাঁরা ছিল উচ্চপদস্থ কর্মচারী! কেউ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কথা বলতেই পারে না। বস্তুত গুলি করার জন্য প্রস্তুত হয়ে তা থেকে বিরত হওয়া তাদের পক্ষে খুবই অসম্মানজনক একটা ব্যাপার! তাদেরকে গুলি করা থেকে বিরত করা তার পক্ষেই সম্ভব_ যাকে তারা শ্রদ্ধা করে। তারা যেহেতু স্বামীজীকে খুব শ্রদ্ধা করতো, তাই তাদের মনে একটা ছাপ পড়েছিল যে_ স্বামীজী অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী এবং শ্রদ্ধা পাওয়ার অধিকারী ! এইজন্যই ঈশ্বর স্বামীজীর রূপ ধরে সেদিন রক্ষা করেছিলেন।
(এই প্রসঙ্গে সেদিন স্বামীজী আরেকটি ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন)—একদিন তুকারাম বাবার(মহারাষ্ট্রের একজন উল্লেখযোগ্য আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব) আশ্রমে খুব ভক্তিভরে ভজন গাওয়া হচ্ছিল। তুকারাম বাবা এবং তাঁর ভক্তরা ভজনে এমন নিবিষ্ট হয়ে গিয়েছিলেন যে তাঁদের চতুষ্পার্শ্বে কি ঘটনা ঘটছে সে বিষয়ে তাঁদের হুঁশ ছিলোনা। কিন্তু পিছনে কয়েকজন ভক্ত ছিল_ যারা সব লক্ষ্য রাখছিল । তারা দেখলো হঠাৎ কিছু মুসলমান সৈন্য চারিদিক থেকে আশ্রম আক্রমণ করছে! যাঁরা ভজন গাইছিলেন তাঁরা এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারলেন না ফলে বিনা বাধায় ভজন চলছিল। কিন্তু পিছন থেকে যারা সবকিছু লক্ষ্য রাখছিল, তারা আতঙ্কিত হলো। হঠাৎ তারা দেখলো শিবাজী মহারাজ তার সিংহ সদৃশ্য ঘোড়ায় চেপে এবং খাপ হতে তরবারি বের করে আশ্রমের সামনে এসে দাঁড়ালো এবং মুসলমান সৈন্যরা ভয় পেয়ে পালিয়ে গেল। সাথে সাথে শিবাজী মহারাজ ও অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আশ্রমের ভক্তরা এ ব্যাপারে কিছুই টের পেল না। কিন্তু যেটা দরকার ছিল_ তা হলো ভক্তদের রক্ষা করা এবং সেটা হয়ে গেল । এভাবে সর্বেসর্বা ঈশ্বর ওই রূপ ধারণ করে ভক্তদের কে রক্ষা করলেন।__(৯১/১)
