গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দের সাথে স্থুলশরীরে থাকাকালীন স্বামী বাউলানন্দজীর ঐ একবারই সাক্ষাৎ হয়েছিল_যে ঘটনাটা এখানে পরপর বলা হচ্ছে ! কিন্তু তাও আবার গুরু মহারাজের স্থুলশরীর সেদিন ছিল রায়নার শ্মশানে_অর্থাৎ পেরেন্টাপল্লীতে উপস্থিত ছিল গুরুজীর আর একটা শরীর_যেটাকে স্বামী বাউলানন্দের সুক্ষশরীর উড়িয়ে নিয়ে গিয়েছিল সেখানে।
গুরু মহারাজ সেদিন গুরু পাদোদক পান করার পর এবং স্বামীজী ওনার মাথায় হাত রাখতেই গুরুজীর শরীরটা একেবারে স্থির হয়ে গেছিল এবং গুরুজীর মধ্যে ভারতীয় শাশ্ত্রাদির যত জ্ঞানরাজি_সব হু হু করে প্রবেশ করে যাচ্ছিল। আর শুধু প্রবেশ করাই নয়_সেই জ্ঞান একেবারে ওনার মস্তিস্কের কোষে print হয়ে যাচ্ছিল।
গুরু মহারাজ বলেছিলেন_স্বামী বাউলানন্দজীর কাছ থেকে সেই একরাতের পাওয়া জ্ঞান ছিল ঋষিদের পরম্পরাগতভাবে প্রাপ্ত জ্ঞানরাজি_এবং যা সারাজীবন গুরুজীকে সবসময় ঠোঁটের ডগায় কথা জুগিয়ে যাচ্ছে !
যাইহোক, সেদিন পৃথিবীর সভ্য জনজীবন থেকে অনেক দূরে- পাহাড় জঙ্গলের কোলে- আদিবাসীদের সহজ সরল জীবনশৈলীর কোল ঘেঁষে_ এক অলৌকিক বা অতিলৌকিক গুরু-শিষ্যের যে নীরব অথচ আধ্যাত্মিক জগতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটে গেল__সেই ইতিহাস বহুকাল রয়ে যাবে লেখায় এবং গুরু-শিষ্য পরম্পরায়!!(ক্রমশঃ)
____________০_____________০______________
*** আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা ***
[ Spiritual Enquiry ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< স্বামী বাউলানন্দ >>
জিজ্ঞাসা :—আধ্যাত্মিক ধারণা বা সিদ্ধান্ত কি ?
উত্তর :—আমি একজন মানুষ। সমগ্র মানবজাতিই আমার মত। আমার এক উৎস আছে। সমস্ত জগতেরই সেই একই উৎস। সেই উৎসের নাম দিয়েছি, ‘ঈশ্বর’। অন্যেরাও বিভিন্ন নাম দিয়ে থাকেন।
মানুষ হিসেবে অন্যান্য প্রাণীর সাথে আমার এক মৌলিক পার্থক্য আছে। আমি এবং আমরা সবাই ধরেই নিয়েছি যে পার্থক্যটা শুধু শারীরিক নয় । আমার আছে কাণ্ডজ্ঞান এবং সেই কাণ্ডজ্ঞানকে সার্থক করে তােলার জন্য উপযুক্ত শরীর। এই মৌলিক বৈশিষ্ট্যটুকু আমার এবং এটা সমগ্র মানবজাতির মধ্যে বিকশিত হওয়া উচিত। একেই বলেআধ্যাত্মিক ধারণা বা সিদ্ধান্ত।
জিজ্ঞাসা :–সংস্কৃতি (Culture ) শব্দটিকে নিয়ে যথেষ্ট বিভ্রান্তি দেখা যায়। যদি একটু ব্যাখ্যা করেন, ভাল হয়।
উত্তর :—যে মুহূর্তে একটি শিশু মাতৃগর্ভে আসে, সেই মুহূর্ত থেকে কিছু নীতি-নিয়ম পালন করা হয় শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত। জন্মলগ্ন থেকে শুরু করে আবার এক বছর অন্যান্য কিছু নীতি-নিয়ম পালন করা হয়। আবার বিবাহের সময় বা মৃত্যুর পর পালনীয় কিছু কর্তব্য আছে। এই সমস্ত আচার-অনুষ্ঠানের পিছনে কিছু গল্প-গাথা আছে, যেগুলাে প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে। এই গল্পগুলাের সাথে ঈশ্বর-ধারণার এক যােগসূত্র আছে। পৃথিবীর যে কোন স্থানেই এই গল্পগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, সেগুলি কোন না কোনভাবে ঈশ্বর সম্বন্ধে ধারণা বা সিদ্ধান্ত-প্রসূত।
ক্ষণ, দিন বা মাসের শুভ-অশুভ, পারিবারিক উৎসব-পার্বণ ইত্যাদির পিছনেও ঐ একই ভিত্তি। অর্থাৎ ঈশ্বর সম্বন্ধে একটা ধারণা বা সিদ্ধান্ত।
যারা এই সমস্ত অনুষ্ঠানে বিশ্বাস রাখেন না, তারা এইগুলােকে বলেন ঐতিহ্য কিংবা লােকাচার কিংবা রীতি ইত্যাদি। কিন্তু জগৎ ও ঈশ্বর সম্বন্ধে তাদেরও একটা সিদ্ধান্ত আছে। মানুষ যেভাবে বসে, খায়, পান করে, থুতু ফেলে, ঘুমােয় —সবকিছুতেই প্রচ্ছন্নভাবে রয়েছে সংস্কৃতির প্রভাব। সুতরাং ‘সংস্কৃতি’ বা ‘Culture’ শব্দটি সর্বাত্মক। মানুষ যা কিছু করে এবং যেভাবে করে অর্থাৎ তার দৃষ্টিভঙ্গী, ব্যবহার, অভ্যাস—সমস্ত কিছুর সাথেই তার সংস্কৃতি ওতপ্রােত। আর ‘সংস্কৃতি’ ঈশ্বর ধারণার সাথে সম্পর্কযুক্ত। মানবজাতির মূল সংস্কৃতি ছিল ‘আধ্যাত্মিক’, যার মধ্যে নিহিত ছিল সমগ্র মানবজাতির উত্তরণের সম্ভাবনা। বর্তমান সংস্কৃতি হল ধর্মীয় দলবাজি, যে জন্য সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে এত ভেদাভেদ। পৃথিবীতে এখন যেমন অনেক ধর্ম সম্প্রদায়, তেমনি অনেক আলাদা সংস্কৃতি।
জিজ্ঞাসা :–সুতরাং বলা যায় যে, আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির বীজ সমগ্র মানবজাতির মধ্যে বপন করতে হবে। তাই তাে?
উত্তর :–হ্যাঁ, ঠিক।
জিজ্ঞাসা :–আমাদের মনে হয় যে, সেটা সম্ভব হবে যখন মানুষের সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়গুলি সঠিকভাবে ক্রিয়াশীল হয়ে উঠবে। তাই কি ?
উত্তর :– না, তা নয়, শুধু কাণ্ডজ্ঞান থাকাটাই যথেষ্ট।
জিজ্ঞাসা :—তাহলে, সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়গুলির কাজ কি?
উত্তর :–মানবজাতিকে আধ্যাত্মিক-সংস্কৃতির অনুকূলে রাখাটাই সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়ের কাজ।
জিজ্ঞাসা :—সুতরাং মানবজাতির মধ্যে আধ্যাত্মিক-সংস্কৃতির ভিত্তি গঠন করার জন্য কাণ্ডজ্ঞানই যথেষ্ট। অধ্যাত্ম সংস্কৃতির পুনর্গঠনের ফলে এমন পরিবেশের সৃষ্টি হবে, যাতে সূক্ষ্ম ইন্দ্রিয়গুলি সুষ্ঠু ভাবে কাজ করতে সক্ষম হবে এবং আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির পরিপূরক হয়ে উঠবে। তাই তাে?
উত্তর :–হ্যাঁ, সঠিক।
জিজ্ঞাসা :—এই কথােপকথনের মাধ্যমে যে সমস্ত সিদ্ধান্তে আমরা আসতে পেরেছি এখনও পৰ্যন্ত তা আমাদের তৃপ্ত করেছে এবং যথেষ্ট বিশ্বাসযােগ্য মনে হয়েছে। আজ পর্যন্ত আমরা যা শুনেছি বা পড়েছি তাতে আমাদের ধারণা হয়েছিল যে, জ্ঞানই সর্বোত্তম। প্রেম ও শক্তির চেয়েও জ্ঞান শ্রেষ্ঠ এবং জ্ঞান হলেই বাকী সবকিছু প্রাপ্ত হওয়া যায়। কিন্তু আপনার মতে প্রেমই শ্রেষ্ঠ। এ সম্বন্ধে আমাদের ধারণা স্পষ্ট নয়। একটু বুঝিয়ে বললে ভাল হয়।
উত্তর :–আত্ম-উপলব্ধি, প্রেম, জ্ঞান, শক্তি, কাল ও স্থান সেই নিত্য, সনাতন সত্তারই এক-একটি প্রকাশ। এই সমস্ত মহাকালের গর্ভে চিরবিদ্যমান । সমস্ত বস্তু, শরীর ও ব্যক্তির মধ্যে এই সমস্ত প্রকাশের বীজ সর্বকালে নিহিত। তবে প্রকাশের তারতম্য রয়েছে। একমাত্র মানবশরীরেই সম্পূর্ণ প্রকাশের সম্ভাবনা বিদ্যমান।
প্রাণী-জগতের ( বনস্পতি, মনুষ্যেতর প্রাণী এবং মানুষের ) মূল অনুপ্রেরণা হল ভালবাসা। সুখের জন্য ভালবাসা, নিরাপত্তার জন্য ভালবাসা এবং প্রগতির জন্য ভালবাসা।
বনস্পতির মধ্যে ভালবাসা সুখের নিমিত্তে। যে কারণে তারা একসময়ে বিবর্তনের মাধ্যমে মনুষ্যেতর প্রাণী হয়, যেখানে সুখপৃহা ছাড়াও আছে নিরাপত্তার প্রতি ভালবাসা। এর ফলশ্রুতি মানবশরীর ধারণ—যেখানে আছে প্রগতির প্রতি ভালবাসা। মানুষের মধ্যে তাই সুখ, নিরাপত্তা এবং প্রগতির প্রতি দুর্বার ভালবাসা দেখা যায়।
সুতরাং এক অর্থে উত্তরণের পিছনে রয়েছে ভালবাসা।
অর্থাৎ, ‘কী ভালবাসি’, ‘কেন ভালবাসি’ অথবা সেই ভালবাসা স্বার্থযুক্ত না স্বার্থমুক্ত—এই সমস্ত জ্ঞান হবার অনেক আগেই জীবের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত ভালবাসার বিকাশ দেখা যায়।
প্রেরণার সূত্র না থাকলে জীবনে কার্যের গতি থাকে না, জগতের সাথে, অন্যের সাথে সম্পর্কও তৈরী হয় না। এই কার্য ও সম্পর্ক তৈরী হলেই সেগুলি সম্বন্ধে ধারণা ও জ্ঞান হয়, ভুল বা ঠিক যাই হােক। সুতরাং প্রেমই হল মূল কেন্দ্র। মানুষ বা প্রাণী যাই হােক, স্বার্থ থাক বা না থাক, ভাল-মন্দ যাই হোক ; জগতের সাথে কার্যের সম্পর্ক তৈরী হলেই, সে সম্বন্ধে এক ধরনের ধারণা ও জ্ঞান হতে শুরু করে। অতএব আদিতে প্রেম, পরে শক্তি দিয়ে সেই প্রেমকে প্রয়ােগে আনতে হয় এবং শেষে সে বিষয়ে জ্ঞান হয়। সকলের ক্ষেত্রেই এই কথা প্রযােজ্য, মানুষের ক্ষেত্রে বিশেষ করে।
জিজ্ঞাসা :—যেহেতু জ্ঞানই শেষ পরিণতি, সুতরাং এতেই কি প্রমাণিত হয় না যে জ্ঞান, প্রেমের চেয়েও শ্রেষ্ঠ ?
উত্তর :–না, এতে তা প্রমাণ হয় না। কারণ ভালবাসা ছাড়া যে কোন কার্যই অসম্ভব ও অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ে। কার্য বা সম্পর্ক না থাকলে জ্ঞানের কোন প্রশ্নই নেই। অতএব দেখা যাচ্ছে জ্ঞানের স্থান নীচে তাে বটেই, তদুপরি সম্পূর্ণভাবে প্রেমের ওপর নির্ভরশীল।
জিজ্ঞাসা :—এখানে কিন্তু আপনি জগতজ্ঞানের কথা বলছেন, ঈশ্বরজ্ঞানের কথা বলছেন না। এই জগতজ্ঞান কি মানুষকে ঈশ্বরজ্ঞান-এর দিকে নিয়ে যেতে সাহায্য করে ?
উত্তর :—অবশ্যই করে এবং এর গুরুত্বও অপরিসীম । সমস্ত বস্তু, প্রাণী, ব্যক্তি ও সম্পর্ক এই সব পৃথিবীর অন্তর্গত এবং এই পৃথিবী সমস্ত বিশ্বচরাচরের একটি অংশ। এই মহাব্ৰহ্মাণ্ড, সেই নিত্য সত্তার শরীর। সেই সত্তা ঈশ্বরে ওতপ্রােত। জগৎ সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান ব্ৰহ্মাণ্ড সম্বন্ধেও মানুষকে জ্ঞানী করে। ব্রহ্মাণ্ডকে জানলে ঈশ্বর সম্বন্ধেও সম্যক জ্ঞান হয়।
সুতরাং মানুষকে জাগতিকভাবে প্রথমে মানবিক হতেই হবে, অর্থাৎ নিঃস্বার্থ হতেই হবে এবং সেই উদ্দেশ্যে মানুষকে নিঃস্বার্থভাবে ভালবাসতে হবে। জগৎ সম্বন্ধে সঠিক জ্ঞান (যা নিঃস্বার্থ প্রেমপ্রসূত ) নিঃসন্দেহে আত্মজ্ঞানের সহযােগী তাে বটেই, অপরিহার্য।
জিজ্ঞাসা :–তবু, এই মীমাংসা আমাদের এখনও সম্পূর্ণ বিশ্বাসযােগ্য মনে হচ্ছে না। কারণ কোন একটা বস্তুর অস্তিত্ব সম্বন্ধে জ্ঞান না হলে, সেটাকে ভালবাসবাে কি করে ? যতক্ষণ না জানতে পারছি কি আছে, ততক্ষণ ভালবাসা আসবে কেমন করে ? ‘জান।’ অর্থে সেই বস্তু সম্বন্ধে জ্ঞান। সেই অর্থে জ্ঞান আগে, প্রেম পরে। প্রেমের ভাল-মন্দ যাই হােক, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল।
উত্তর :—কোন এক বস্তুর অস্তিত্ব বা প্রকৃতি সম্বন্ধে এই যে ‘জানার’ ইচ্ছা, এই স্পৃহাটুকু কিন্তু প্রেম ছাড়া অসম্ভব। কোন এক বিশেষের প্রতি তােমার হয়ত ভালবাসা নেই, কিন্তু বৈশিষ্ট্যের প্রতি তােমার আকর্ষণ থাকতে বাধ্য। তােমার ভালবাসাই জ্ঞানের দিকে তােমায় উদ্বুদ্ধ করে ! স্পৃহা না থাকলে জ্ঞান হয় না এবং এই স্পৃহা আসে ‘প্রেম’ থেকে।
অতএব প্রেম, ভাল বা মন্দ রূপে, তােমার মধ্যে অন্তর্নিহিত এবং জ্ঞান তােমার মধ্যে প্রকাশিত হবে। সুতরাং প্রেম আগে, জ্ঞান পরে।
জিজ্ঞাসা :–প্রেম তাহলে আদি ও শ্রেষ্ঠ। মানবজাতির মধ্যে দু-ধরনের ভালবাসা দেখা যায়, নিঃস্বার্থ—যা মানবিক এবং স্বার্থযুক্ত—যা অমানবিক। স্বার্থযুক্ত ভালবাসা পশুজগতের পক্ষে স্বাভাবিক, কিন্তু মানুষের পক্ষে নয়। কিন্তু সার্বিক চিত্রটা উল্টো, মানুষের ভালবাসায় স্বার্থের কলুষ অধিক। ভালবাসার সঠিক রূপান্তরের জন্য প্রয়ােজন কাণ্ডজ্ঞানের। কাণ্ডজ্ঞান ঠিক পথে চালিত হলেই মানুষের সূক্ষ্ম ও শুভবৃত্তিগুলি ক্রিয়াশীল হয়ে উঠবে। আমরা কি ঠিক বুঝেছি ?
উত্তর :– হ্যাঁ, ঠিকই বুঝেছ।
জিজ্ঞাসা :–কাণ্ডজ্ঞানের সঠিক প্রয়ােগ কিভাবে করা সম্ভব ?
উত্তর :–শক্তির গুণগত রূপান্তর ঘটাতে হবে । যে খাদ্যটা পাচ্ছাে, ভালবেসে খেতে হবে এবং মনে স্বার্থচিন্তা রাখলে চলবে না। যাঁরা মহান, অর্থাৎ যাঁদের কার্যের পিছনে কাণ্ডজ্ঞান আছে এবং যাঁদের সূক্ষ্মবৃত্তিগুলি সদা জাগ্রত, তাঁদের সংস্পর্শে আসতে হবে। তাঁদের সাহচর্যে তােমার সমস্ত কাজই হবে কাণ্ডজ্ঞান-প্রসূত এবং অচিরে তোমার অন্তরে সূক্ষ্মবৃত্তিগুলি সক্রিয় হয়ে উঠবে। তখনই দেখবে শক্তির গুণগত এবং সংখ্যাগত রূপান্তর সাধিত হয়েছে। … [ক্রমশঃ]