স্বামী বাউলানন্দ মহারাজের জীবনীমূলক গ্রন্থ লিখেছিলেন_আপ্পা বেঙ্কট রাও। স্বামী বাউলানন্দ নিজে খুব সম্ভবত তিনটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। Message To Humanity, Spiritual Enquiry, Man । গুরু মহারাজের কাছে একটা ঘটনা শুনেছিলাম_এগুলি ছাড়াও উনি অবসর সময়ে আরো কিছু লিখছিলেন! একটা কথা বলাই হয়নি_যেটা আগেই বলা উচিত ছিল,তা হোল স্বামীজি আশ্রমে থাকলে দিন-রাতের অধিকক্ষন সময় ওনার আশ্রমের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া যে ঝরনাটি গোদাবরীতে মিশেছে_সেই ছোট ঝর্নার উপরে অবস্থিত একটা বিশাল প্রস্তরখন্ডে কাটাতেন। এইটার উপরেই উনি ধ্যান করতেন, বিশ্রাম নিতেন,আবার লেখালেখিও করতেন_এটার উপরে বসেই! পরবর্তীতে গুরুমহারাজের‌ও বহু সময় এই প্রস্তরখন্ডে বসে প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য দেখতে দেখতে কেটেছিল__কিন্তু সেইসব কথা পরে হবে।এখন পূর্বের জায়গায় ফিরে আসি।
তখন স্বামী বাউলানন্দজী যে গ্রন্থটি লিখছিলেন_সেটি অনেক দিন ধরে প্রচুর খেটে-খুটে , অন্যান্য সব কাজ ফেলে, সমস্ত মনপ্রাণ এক করে লেখাটি শেষ করে খুশি মনে গোদাবরীতে প্রধান করতে নেমেছিলেন। পান্ডুলিপির সমস্ত খোলা পাতাগুলি একটা ছোট পাথর খন্ড দিয়ে চাপা ছিল হঠাৎ সেই সময় কোথা থেকে একটা দমকা হাওয়া এসে ওই পান্ডুলিপির সমস্ত পাতা কোথায় উড়িয়ে নিয়ে চলে গেল! কিছু পাতা গোদাবরীর জলে ভেসে চলেও গেল! বাউলানন্দজী সবই দেখলেন কিন্তু করার কিছুই ছিল না! প্রথমটায় উনি মনে খুব‌ই কষ্ট পেয়েছিলেন_কিন্তু পরে বুঝেছিলেন যে মা জগদম্বার ইচ্ছা নয় যে _তিনি নতুন কোন গ্রন্থ রচনা করেন! তাই আর এই কাজে উনি কোনদিন হাত দেন নি!
____________০_________________
*** আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা ***
[ Spritual Enquiry ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< স্বামী বাউলানন্দ >>
[ পূর্ব সংখ্যায় স্বামী বাউলানন্দজী কিভাবে। মানবীয় এবং অমানবীয় শরীরের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল সে সম্বন্ধে আলােচনা করেছেন । ]
জিজ্ঞাসা :– ঐ মানবীয় এবং অমানবীয় শরীরগুলি খাবার খেত?
মীমাংসা :– মানবীয় শরীর খাবার খেত না।
জিজ্ঞাসা :– তাহলে তাদের পুষ্টি হত কেমন করে ?
মীমাংসা :– ঐ শরীরগুলি সরাসরি আকাশ (ব্রহ্মাণ্ড) হতে পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করত।
জিজ্ঞাসা :– কিভাবে তারা সরাসরি আকাশ হতে পুষ্টিকর খাবার সংগ্রহ করত?
মীমাংসা :– কোন প্রচেষ্টা ছাড়াই এরকম হত।
জিজ্ঞাসা :– কেমন করে হত?
মীমাংসা :– শরীরের জন্য পুষ্টিকর খাবার আকাশে রয়েছে ।ব্রহ্মাণ্ড ও মানবীয় সত্তার শরীরের উপাদান গাঠনিক দিক থেকে একই। উপাদান, তাদের সংযােগ এবং গঠনের আনুপাতিক পার্থক্য আছে। ব্ৰহ্মাণ্ড ( আকাশ ) এবং মানবীয় শরীরের গুণগত সাদৃশ্য থাকায় এ শরীরগুলি অজ্ঞাতসারে প্রয়ােজনমত পুষ্টিকর খাবার স্বাভাবিকভাবেই পেত। এর জন্য কোন প্রচেষ্টার প্রয়ােজন হত না।
জিজ্ঞাসা :– নিজেদের মধ্যে কেমন করে যোগাযোগ করত ?
মীমাংসা :– তাদের চিন্তা এবং অনুভবের মধ্যে কোন তারতম্য ছিল না। ওগুলি একই রকম ছিল। নিজেদেরকে ব্যষ্টি থেকে সমষ্টিতে নিয়ে যাবার জন্য এ রকমটি ছিল। সুতরাং তাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করার জন্য অন্য কোন বিষয় বা ব্যাপার ছিল না।
জিজ্ঞাসা :– মানবীয় এই অবস্থা কতদিন চলেছিল ?
মীমাংসা :– দীর্ঘকাল চলল। তারপর মৌলিকতা নষ্ট হয়ে গেল ।
জিজ্ঞাসা :– এরফলে কি হল ?
মীমাংসা :– নিজেদের শরীর পুষ্টি করার জন্য, নিজেদের মধ্যে যােগাযােগ করার জন্য এবং অশরীরী সত্তার শরীর গঠনের জন্য মানবীয় সত্তার মনােযােগী হওয়ার প্রয়োজন দেখা দিল।
জিজ্ঞাসা :– কেমন করে হচ্ছিল ?
মীমাংসা :– মানবীয় সত্তার ইচ্ছানুযায়ী। তাদের ইচ্ছাতেই তাদের শরীর পুষ্টি হতে লাগল। আকাশ হতে খাবার সংগ্রহ করতে লাগল। অপরকে কোন বিষয় জানাতে লাগল। অপরে সেগুলো জানতে পারত। ইচ্ছামাত্রই তারা অশরীরী সত্তার শরীর গঠন করতে পারত তাদের ইচ্ছাতে প্রয়ােজনীয় অণু, পরমাণু একত্রিত হয়ে শরীরের আকৃতি নিত। মানবীয় সত্তার মৌলিকতা নষ্ট হওয়ার আগে এই আকৃতি যেমন ছিল এখনও সেইরূপ হতে লাগল।
জিজ্ঞাসা :– তারপর কি হল?
মীমাংসা :– মানবীয় সত্তার এই অবস্থা বহুকাল চলল ৷ ভবিষ্যতে বলা এবং বােঝার সুবিধার জন্য মানবীয় সত্তার এই অবস্থাকে মানবীয় সত্তার অবরোহের দ্বিতীয়ধাপ বলে বর্ণনা করব। অতঃপর মানবীয় সত্তার এই অবস্থা নষ্ট হয়ে গেল।
জিজ্ঞাসা :– এর ফল কি হল?
মীমাংসা :– এরফলে ইচ্ছানুযায়ী আর তাদের শরীরের পুষ্টি হল না। অপরকে কোন বিষয় আর জানাতে পারত না এবং অশরীরী সত্তার শরীর গঠন করতে সক্ষম হল না।
জিজ্ঞাসা :– তারপর কি হল?
মীমাংসা :– এরপর বহুকাল ধরে এই পদ্ধতি ( ইচ্ছাশক্তির প্রয়ােগ ) অকেজো হয়ে রইল ।
জিজ্ঞাসা :– এরফলে কি হল ?
মীমাংসা :– ঐ তিন রকমের কাজ করার জন্য বহুদিন ধরে প্রগাঢ় ইচ্ছা করতে হত। এই অবস্থা হলল মানবীয় সত্তার অবরােহের চতুর্থ ধাপ।
জিজ্ঞাসা :– এরপর কি হল?
মীমাংসা :– ঐ তিন প্রকার কাজ সম্পাদন করতে প্রগাঢ় ইচ্ছাও ব্যর্থ হল।
জিজ্ঞাসা :– তাহলে ঐ কাজগুলি কেমন করে হত ?
মীমাংসা :– প্রগাঢ় ইচ্ছার সঙ্গে দৈহিক প্রচেষ্টা মিলিয়ে শরীরের পুষ্টির জন্য ফলমূল সংগ্রহ করা, সঙ্কেত দিয়ে অপরের সঙ্গে যােগাযােগ করা এবং অশরীরী সত্তার শরীর গঠন প্রভৃতি কাজ করত। ইহা হল মানবীয় সত্তার অবরােহের পঞ্চম ধাপ। এই ধাপ থেকে মানবীয় শরীর ফলমূল প্রভৃতি খাদ্য। হিসেবে গ্রহণ করতে লাগল। এই ধাপে খাদ্যের মধ্য দিয়ে মানব শরীরে অসার খাবার ঢুকতে লাগল এবং অসার অংশ বার করে দেওয়ার অভ্যাসও মানবের গড়ে উঠল।
জিজ্ঞাসা :– এর আগে পর্যন্ত বার করে দেওয়ার পদ্ধতি ছিল না কেন?
মীমাংসা :– এর কারণ এর আগে আকাশ হতে পুষ্টিকর খাবার সরাসরি মানব শরীরে আসত। কিন্তু পঞ্চমধাপে পরোক্ষভাবে জগৎ হতে খাদ্যের মধ্য দিয়ে পুষ্টিকর অংশ আসতে থাকে।
জিজ্ঞাসা :– এরপর আর অবরোহণ হয়েছিল ?
মীমাংসা :– হ্যাঁ, এরপর ষষ্ঠ এবং সপ্তম ধাপ ।
জিজ্ঞাসা :- ষষ্ঠ ধাপের অবস্থা কেমন ?
মীমাংসা :– পঞ্চম ধাপের ধারাবাহিকতা চলতে লাগল। নিজেদের শরীরের পুষ্টির জন্য খাদ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষমতা আরও নষ্ট হতে লাগল । এখান থেকে শুরু হল খাদ্যদ্রব্য সিদ্ধ করে খাওয়ার অভ্যাস ।
জিজ্ঞাসা :– সপ্তম ধাপে কেমন হত ?
মীমাংসা :– এই ধাপে মাঝে মাঝে প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ আরম্ভ হল । এই অবস্থায় অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করার ক্ষমতার আরও অবনতি হল । মানবশরীরের সংখ্যা বৃদ্ধি করার স্বভাবের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিল । সাধারণত আকৃতি ছাড়া মানবীয় ও অমানবীয় সত্তার কার্যকলাপ এবং আচরণের দিক থেকে কোন পার্থক্য ছিল না ।
জিজ্ঞাসা :– পৃথিবীতে এই অবস্থা কতদিন চলল ?
মীমাংসা :– এখনও পর্যন্ত এই অবস্থাই চলছে । সামান্য পরিবর্তন হয়েছে । … [ক্রমশঃ]