স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণ কাহিনীর কথা এখানে আলোচনা করা হচ্ছিল। ভ্রমণকালে স্বামীজি যে সমস্ত অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করেছিলেন তা ছিল বিভিন্ন ধরনের। ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে তিনি সেগুলির মোকাবিলা প্রচণ্ড শক্তিমত্তা, বুদ্ধিমত্তা এবং সাহসের সঙ্গে করেছিলেন। এইসব অভিজ্ঞতা তাকে নির্ভীক করে তুলেছিল এবং সকলের প্রতি নিষ্কাম প্রেমপূর্ণ করে তুলেছিল। প্রকৃতপক্ষে, সমস্ত বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হয়েও তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে সেগুলির মোকাবিলা করেছিলেন _শুধুমাত্র ভয়-কে জয় করার জন্য।
একবার ঘুরতে ঘুরতে স্বামীজী কোন এক গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছেন, যে গ্রামটিতে বহু ধনী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস ছিল। গ্রামটির এক প্রান্তে একটি বড় পুকুর ছিল এবং সেই পুকুরের এক দিকে একটি সুন্দর মন্দির ছিল। তিনদিক জল পরিবেষ্টিত হওয়ায় মন্দিরটি দূর থেকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগতো! মন্দিরে ওঠার জন্য কতগুলো সিঁড়ি ছিল এবং মন্দিরের চারিদিকেই বারান্দা ছিল । ভক্তরা এই বারান্দা বরাবর মন্দিরটি প্রদক্ষিণ করতে পারতো। এই মন্দিরটির অন্যান্য পাড়ে মূল মন্দিরটি ছাড়া আরো কয়েকটি মন্দির ছিল ।
সাধারনত স্বামীজি কোন গ্রামে গেলে কোন গৃহস্থ বাড়িতে রাত্রে থাকতেন না, তিনি কোনো না কোনো মন্দির বা ধর্মশালায় রাত্রিযাপন করতেন। তবে নিমন্ত্রিত হলে তিনি কোন গৃহস্থ বাড়িতে গিয়ে ভোজন করতেন। স্বামীজি সেই গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হবার পর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা তাঁকে ঘিরে বসলেন_ তাঁর মুখ থেকে কিছু কথা শোনার জন্য! তাঁর কাছে অধ্যাত্ম বিষয়ক কথা শুনে তারা বড়ই প্রীত হলেন এবং তাদের একজন স্বামীকে নৈশ-আহারের জন্য নিমন্ত্রণ করে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। স্বামীজি সেখানে গিয়ে অন্ন গ্রহণ করলেন এবং ভোজনান্তে বিশ্রামের জন্য মন্দিরের দিকে যাওয়ার জন্য উদ্যত হোলেন।
তা দেখেই গৃহস্থ ঘোর আপত্তি জানিয়ে বলল_ “স্বামীজি! ওই মন্দিরে ঘুমানো খুবই বিপজ্জনক! এর আগে যারাই ওই মন্দিরে সারারাত্রি কাটিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে সকালবেলায় পুষ্করিণীর জলে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখা গিয়েছে! এর কোন কারন গ্রামের কেউ জানে না_ তবে গ্রামের সমস্ত মানুষ এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, যদি কেউ রাত্রে মন্দিরের বারান্দায় শুয়ে থাকে_ তাহলে ওই একই রকম ঘটনা আবার ঘটতে পারে! সম্ভবত ভুত-প্রেতেরাই এরূপ কাণ্ড করে থাকে। কেউ কেউ বলে ওই অঞ্চলে একটি ব্রহ্মরাক্ষস থাকে_এই সকল অপকর্ম তার দ্বারাই সম্পন্ন হয়ে থাকে”।
এইসব কথা বলে ওই গৃহস্থ স্বামীজীকে তার গৃহে থাকার জন্য একান্ত অনুরোধ করলেন এবং তার থাকার একটা ভালো বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থাও করতে চাইলেন।
কিন্তু স্বামীজীকে অন্যরকম যুক্তি দেখিয়েই নিরস্ত করা গেল না। তিনি জানতেন যে এসবের মূলে হল অন্ধবিশ্বাস (কুসংস্কার) এবং ভয়! তিনি এ গৃহস্থকে উদ্দেশ্য করে বললেন _”মন্দিরে ঈশ্বর সর্বশক্তি নিয়ে মূর্তিরূপে বিরাজ করেন! সেখানে ভূত-প্রেত, দানব, মানবকৃত যে কোনো অনিষ্ট কর্ম _তিনি(ঈশ্বর) নিয়ন্ত্রণ করেন! তাছাড়া যেহেতু তিনি সন্ন্যাসী _তাই ঈশ্বরের উপর পরিপূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা তাঁর আছে। এইসব যুক্তি দেখিয়ে স্বামীজি ওই গৃহস্থ এবং তার আত্মীয়দের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে মন্দিরের দিকে চলে গেলেন। গ্রামবাসীদের এই বিষয়ে এতো ভয় কাজ কোরতো যে, তারা তাঁকে অনুসরণ করারও সাহস পেলো না!
স্বামীজি মন্দিরে গিয়ে মন্দিরের চারপাশ ঘুরে বারান্দায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁর ঘুমাবার জন্য স্থান নির্বাচন করলেন। সেখান থেকে পুকুরের পাড়ে অন্য সমস্ত মন্দির দেখা যাচ্ছিল এবং সেখান থেকে মন্দিরের (যে মন্দিরে তিনি ছিলেন) প্রবেশ পথও দেখা যাচ্ছিল। অর্থাৎ তিনি এমন একটি স্থান নির্বাচন করেছিলেন_যেখান থেকে মন্দিরে বহিরাগত কেউ এলে স্পষ্ট দেখা যায়।
কিছু বিছিয়ে শোবার মতো অতিরিক্ত কাপড় তাঁর নিকট ছিল না_ সেজন্য তিনি হাতে মাথা রেখে মেঝেতে শুয়ে পড়লেন। কোন রকমের ভয় তাঁর মনে জাগলো না। তাঁর নিকট কোনো টাকা পয়সা ছিল না__ যে চোরে চুরি করবে ! তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যদি কোনো ভুত-প্রেত বা ব্রহ্মরাক্ষস সেখান থেকে থাকে – তাহলে তারা মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকতে সাহস করবে না! তবু তিনি জেগেই শুয়ে রইলেন এবং শুয়ে শুয়ে চারপাশে সমস্ত কিছু নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
একইভাবে, ‘সর্বেসর্বা ঈশ্বর’ শব্দ হল প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির অখণ্ড নাম ৷ জীবের মধ্যে যে প্রকাশ তা সর্বেসর্বা ঈশ্বরেরই । সর্বেসর্বার প্রকাশ সর্বেসর্বার রূপ। এমন কোন বিষয়, বস্তু, বা জীব নাই যা সর্বেসর্বার প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে না। সমস্ত সত্তার মধ্যে একমাত্র মানুষই এক বা সমস্ত গুণের সবচেয়ে বেশী প্রকাশের সহায়ক হতে পারে।
একমাত্র মানুষই সর্বেসর্বার পূর্ণ প্রকাশ রূপ পরিগ্রহ করার মাধ্যম হতে পারে। মানুষের মধ্য দিয়ে যে জ্ঞান এবং শক্তির প্রকাশ হয় তা যদিও সর্বেসর্বার রূপ, তথাপি এই প্রকাশের ফল হয় অমানবিক। সে হয় অমানবিক স্তরের জীব। আর তার এই প্রকাশ হয়ে উঠে মানুষ বা অন্য যে কোন জীবের বাধা স্বরূপ। এই কারণেই জ্ঞান এবং শক্তির উপর প্রেমের প্রাধান্য। এমন লােক আছে যে তার প্রচণ্ড শক্তি এবং যথার্থ জ্ঞান দিয়ে একশো জনের সন্মিলিত শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে প্রেম নাই। ব্যক্তিটি নিজের সুখ এবং নিরাপত্তার অন্বেষণে জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দিতে ইচ্ছুক হয়। ঐ ব্যক্তির চারিদিকে এমন বহু লােক আছে যাদের বিষয়, বস্তু এবং জীব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই। এবং কোন বিষয়, বস্তু এবং জীবের শক্তির মােকাবিলা করার ক্ষমতাও নাই । এই সমস্ত লােক অল্প জ্ঞান এবং অল্প শক্তিকারী ব্যক্তির দ্বারা হয়রান হচ্ছে এবং নানা অসুবিধা ভোগ করছে। যার প্রচণ্ড জ্ঞান এবং শক্তি অাছে অথচ প্রেম নাই তার লোক সেবার প্রবৃত্তি জাগে না। এই সমস্ত নিপীড়িত লোকের দুঃখ দুর্দশা দূর করে জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দেওয়াটা সে অনুভব করে না । বরং যারা নিপীড়ন করছে তাদের সে সাহায্য করবে এবং নিপীডিত লোকদের সম্পূর্ণরূপে দমন করার প্রবৃত্তি তার জাগবে । এবং পরিশেষে যারা পীড়ন করছিল সেই অল্প জ্ঞান এবং শক্তির অধিকারী লােকদের বিরােধিতা করবে। তাদেরকে দমনও করবে। অনুকূল পরিস্থিতিতে এই চিন্তাধারার বশবর্তী হয়ে হয়রান এবং দমন দ্বারা ব্যক্তিটি তার শক্তি এবং জ্ঞানকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই ধরনের লোককেই অসুর, পিশাচ বা এই জাতীয় নামে অভিহিত করা হয়। প্রেমের প্রাবল্য থাকলে লোকে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে নিপীড়িতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে । নিপীড়ন বন্ধ করবে। এইরূপ কার্যের ফলে নিপীড়িতদের মধ্যে শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম জেগে উঠবে । হৃদয়বান লোকের সংস্পর্শে আসায় নিপীড়িতদের মনেও প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দেওয়ার প্রয়াস দেখা যাবে। এইরূপ হৃদয়বান লােকদের ধার্মিক, আধ্যাত্মিক মনােভাবাপন্ন বা এই জাতীয় নামে অভিহিত করা হয়। সুতরাং মানবজীবনে জ্ঞান এবং শক্তিকে প্রেমের বশে আনা একান্ত প্রয়োজন।
আদি পিতা মাতা এটাই আশা করেছিলেন যে প্রত্যেকের উর্ধ্ব প্রগতির জন্য মানবজীবনে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির যথাযথ সদ্ব্যবহার হোক । বিরাটের প্রয়োজনে এবং মানবের লক্ষ্যপূরণে এই তিনগুণের সদ্ব্যবহার প্রয়োজন হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে । … (ক্রমশঃ)
একবার ঘুরতে ঘুরতে স্বামীজী কোন এক গ্রামে গিয়ে পৌঁছেছেন, যে গ্রামটিতে বহু ধনী এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস ছিল। গ্রামটির এক প্রান্তে একটি বড় পুকুর ছিল এবং সেই পুকুরের এক দিকে একটি সুন্দর মন্দির ছিল। তিনদিক জল পরিবেষ্টিত হওয়ায় মন্দিরটি দূর থেকে দেখতে খুবই সুন্দর লাগতো! মন্দিরে ওঠার জন্য কতগুলো সিঁড়ি ছিল এবং মন্দিরের চারিদিকেই বারান্দা ছিল । ভক্তরা এই বারান্দা বরাবর মন্দিরটি প্রদক্ষিণ করতে পারতো। এই মন্দিরটির অন্যান্য পাড়ে মূল মন্দিরটি ছাড়া আরো কয়েকটি মন্দির ছিল ।
সাধারনত স্বামীজি কোন গ্রামে গেলে কোন গৃহস্থ বাড়িতে রাত্রে থাকতেন না, তিনি কোনো না কোনো মন্দির বা ধর্মশালায় রাত্রিযাপন করতেন। তবে নিমন্ত্রিত হলে তিনি কোন গৃহস্থ বাড়িতে গিয়ে ভোজন করতেন। স্বামীজি সেই গ্রামে গিয়ে উপস্থিত হবার পর গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা তাঁকে ঘিরে বসলেন_ তাঁর মুখ থেকে কিছু কথা শোনার জন্য! তাঁর কাছে অধ্যাত্ম বিষয়ক কথা শুনে তারা বড়ই প্রীত হলেন এবং তাদের একজন স্বামীকে নৈশ-আহারের জন্য নিমন্ত্রণ করে তার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। স্বামীজি সেখানে গিয়ে অন্ন গ্রহণ করলেন এবং ভোজনান্তে বিশ্রামের জন্য মন্দিরের দিকে যাওয়ার জন্য উদ্যত হোলেন।
তা দেখেই গৃহস্থ ঘোর আপত্তি জানিয়ে বলল_ “স্বামীজি! ওই মন্দিরে ঘুমানো খুবই বিপজ্জনক! এর আগে যারাই ওই মন্দিরে সারারাত্রি কাটিয়েছে, তাদের প্রত্যেককে সকালবেলায় পুষ্করিণীর জলে মৃত অবস্থায় ভাসতে দেখা গিয়েছে! এর কোন কারন গ্রামের কেউ জানে না_ তবে গ্রামের সমস্ত মানুষ এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে, যদি কেউ রাত্রে মন্দিরের বারান্দায় শুয়ে থাকে_ তাহলে ওই একই রকম ঘটনা আবার ঘটতে পারে! সম্ভবত ভুত-প্রেতেরাই এরূপ কাণ্ড করে থাকে। কেউ কেউ বলে ওই অঞ্চলে একটি ব্রহ্মরাক্ষস থাকে_এই সকল অপকর্ম তার দ্বারাই সম্পন্ন হয়ে থাকে”।
এইসব কথা বলে ওই গৃহস্থ স্বামীজীকে তার গৃহে থাকার জন্য একান্ত অনুরোধ করলেন এবং তার থাকার একটা ভালো বন্দোবস্ত করার ব্যবস্থাও করতে চাইলেন।
কিন্তু স্বামীজীকে অন্যরকম যুক্তি দেখিয়েই নিরস্ত করা গেল না। তিনি জানতেন যে এসবের মূলে হল অন্ধবিশ্বাস (কুসংস্কার) এবং ভয়! তিনি এ গৃহস্থকে উদ্দেশ্য করে বললেন _”মন্দিরে ঈশ্বর সর্বশক্তি নিয়ে মূর্তিরূপে বিরাজ করেন! সেখানে ভূত-প্রেত, দানব, মানবকৃত যে কোনো অনিষ্ট কর্ম _তিনি(ঈশ্বর) নিয়ন্ত্রণ করেন! তাছাড়া যেহেতু তিনি সন্ন্যাসী _তাই ঈশ্বরের উপর পরিপূর্ণ আস্থা ও নির্ভরতা তাঁর আছে। এইসব যুক্তি দেখিয়ে স্বামীজি ওই গৃহস্থ এবং তার আত্মীয়দের কাছে থেকে বিদায় নিয়ে মন্দিরের দিকে চলে গেলেন। গ্রামবাসীদের এই বিষয়ে এতো ভয় কাজ কোরতো যে, তারা তাঁকে অনুসরণ করারও সাহস পেলো না!
স্বামীজি মন্দিরে গিয়ে মন্দিরের চারপাশ ঘুরে বারান্দায় একটি নির্দিষ্ট জায়গায় তাঁর ঘুমাবার জন্য স্থান নির্বাচন করলেন। সেখান থেকে পুকুরের পাড়ে অন্য সমস্ত মন্দির দেখা যাচ্ছিল এবং সেখান থেকে মন্দিরের (যে মন্দিরে তিনি ছিলেন) প্রবেশ পথও দেখা যাচ্ছিল। অর্থাৎ তিনি এমন একটি স্থান নির্বাচন করেছিলেন_যেখান থেকে মন্দিরে বহিরাগত কেউ এলে স্পষ্ট দেখা যায়।
কিছু বিছিয়ে শোবার মতো অতিরিক্ত কাপড় তাঁর নিকট ছিল না_ সেজন্য তিনি হাতে মাথা রেখে মেঝেতে শুয়ে পড়লেন। কোন রকমের ভয় তাঁর মনে জাগলো না। তাঁর নিকট কোনো টাকা পয়সা ছিল না__ যে চোরে চুরি করবে ! তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যদি কোনো ভুত-প্রেত বা ব্রহ্মরাক্ষস সেখান থেকে থাকে – তাহলে তারা মন্দির প্রাঙ্গণে ঢুকতে সাহস করবে না! তবু তিনি জেগেই শুয়ে রইলেন এবং শুয়ে শুয়ে চারপাশে সমস্ত কিছু নিরীক্ষণ করতে লাগলেন।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
একইভাবে, ‘সর্বেসর্বা ঈশ্বর’ শব্দ হল প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির অখণ্ড নাম ৷ জীবের মধ্যে যে প্রকাশ তা সর্বেসর্বা ঈশ্বরেরই । সর্বেসর্বার প্রকাশ সর্বেসর্বার রূপ। এমন কোন বিষয়, বস্তু, বা জীব নাই যা সর্বেসর্বার প্রকাশের মাধ্যম হতে পারে না। সমস্ত সত্তার মধ্যে একমাত্র মানুষই এক বা সমস্ত গুণের সবচেয়ে বেশী প্রকাশের সহায়ক হতে পারে।
একমাত্র মানুষই সর্বেসর্বার পূর্ণ প্রকাশ রূপ পরিগ্রহ করার মাধ্যম হতে পারে। মানুষের মধ্য দিয়ে যে জ্ঞান এবং শক্তির প্রকাশ হয় তা যদিও সর্বেসর্বার রূপ, তথাপি এই প্রকাশের ফল হয় অমানবিক। সে হয় অমানবিক স্তরের জীব। আর তার এই প্রকাশ হয়ে উঠে মানুষ বা অন্য যে কোন জীবের বাধা স্বরূপ। এই কারণেই জ্ঞান এবং শক্তির উপর প্রেমের প্রাধান্য। এমন লােক আছে যে তার প্রচণ্ড শক্তি এবং যথার্থ জ্ঞান দিয়ে একশো জনের সন্মিলিত শক্তিকে প্রতিহত করতে পারে, কিন্তু তার মধ্যে প্রেম নাই। ব্যক্তিটি নিজের সুখ এবং নিরাপত্তার অন্বেষণে জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দিতে ইচ্ছুক হয়। ঐ ব্যক্তির চারিদিকে এমন বহু লােক আছে যাদের বিষয়, বস্তু এবং জীব সম্বন্ধে কোন জ্ঞান নাই। এবং কোন বিষয়, বস্তু এবং জীবের শক্তির মােকাবিলা করার ক্ষমতাও নাই । এই সমস্ত লােক অল্প জ্ঞান এবং অল্প শক্তিকারী ব্যক্তির দ্বারা হয়রান হচ্ছে এবং নানা অসুবিধা ভোগ করছে। যার প্রচণ্ড জ্ঞান এবং শক্তি অাছে অথচ প্রেম নাই তার লোক সেবার প্রবৃত্তি জাগে না। এই সমস্ত নিপীড়িত লোকের দুঃখ দুর্দশা দূর করে জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দেওয়াটা সে অনুভব করে না । বরং যারা নিপীড়ন করছে তাদের সে সাহায্য করবে এবং নিপীডিত লোকদের সম্পূর্ণরূপে দমন করার প্রবৃত্তি তার জাগবে । এবং পরিশেষে যারা পীড়ন করছিল সেই অল্প জ্ঞান এবং শক্তির অধিকারী লােকদের বিরােধিতা করবে। তাদেরকে দমনও করবে। অনুকূল পরিস্থিতিতে এই চিন্তাধারার বশবর্তী হয়ে হয়রান এবং দমন দ্বারা ব্যক্তিটি তার শক্তি এবং জ্ঞানকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এই ধরনের লোককেই অসুর, পিশাচ বা এই জাতীয় নামে অভিহিত করা হয়। প্রেমের প্রাবল্য থাকলে লোকে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে নিপীড়িতদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে । নিপীড়ন বন্ধ করবে। এইরূপ কার্যের ফলে নিপীড়িতদের মধ্যে শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম জেগে উঠবে । হৃদয়বান লোকের সংস্পর্শে আসায় নিপীড়িতদের মনেও প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির রূপ দেওয়ার প্রয়াস দেখা যাবে। এইরূপ হৃদয়বান লােকদের ধার্মিক, আধ্যাত্মিক মনােভাবাপন্ন বা এই জাতীয় নামে অভিহিত করা হয়। সুতরাং মানবজীবনে জ্ঞান এবং শক্তিকে প্রেমের বশে আনা একান্ত প্রয়োজন।
আদি পিতা মাতা এটাই আশা করেছিলেন যে প্রত্যেকের উর্ধ্ব প্রগতির জন্য মানবজীবনে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তির যথাযথ সদ্ব্যবহার হোক । বিরাটের প্রয়োজনে এবং মানবের লক্ষ্যপূরণে এই তিনগুণের সদ্ব্যবহার প্রয়োজন হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে । … (ক্রমশঃ)
