[স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রাম্যমান জীবনের কাহিনী এখানে এখন আলোচনা করা হচ্ছিল। চলার পথে একটি গ্রামের মন্দিরে যখন স্বামীজী বিশ্রাম নিতে উদ্যোগী হয়েছিলেন_তখন গ্রামবাসীরা ওনাকে তা থেকে বিরত করার চেষ্টা করেছিলেন_কারণ ওখানে যে রাত কাটায় তার নাকি মৃত্যু হয়! স্বামীজী গ্রামের মানুষের সেই ভয় এবং কুসংস্কার দূর করার জন্য জোর করে মন্দিরে থেকে গেলেন।এরপর…]
কতকগুলি সাধারণ ব্যাপারে স্বামী বাউলানন্দজীর ধারণা ছোট বয়স থেকেই পাকা ছিল_ তিনি জানতেন যে, ভয় সাধারণত ভ্রান্তি থেকে আসে! কোন কিছু বস্তুকে সেটা যা, তা না ভেবে_ অন্যকিছু ভেবে মানুষ ভয় পায়! কেমন রজ্জুকে সর্পভ্রম করে ভীত হয় মানুষ! স্বামী বাউলানন্দজীর দৃঢ় ধারণা ছিল যে, ভুল ধারণার ফলে মানুষ ভয় পায়_ তাই মন্দিরে রাত্রিতে নির্বিঘ্নে থাকার ব্যাপারে তাঁর কোনো সংশয় ছিল না ।
সেইদিন ওই মন্দিরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি চন্দ্র, বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র এইসব দেখছিলেন। রাত্রিকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন তিনি। গভীর রাত্রিতে মাঝে মাঝে দু একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছিল _তাছাড়া চারিদিক নীরব নিস্তব্ধই ছিল।
স্বামীজি সেই শব্দগুলির উৎস অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ওগুলো নিশ্চয়ই কোন নিশাচর জন্তু-জানোয়ার বা পাখিদের আওয়াজ হবে! এইজন্য এটি তাঁর কাছে কোনো বাধা বলে মনে হলো না এক একবার তাঁর মনে হচ্ছিল যে পুকুর পাড়ে কিছু কাল্পনিক মূর্তি হয়তো দোল খাচ্ছে কিন্তু স্বামীজি জানতেন এসব কাল্পনিক, বাস্তব নয়! এসব কল্পনার উৎস হল মন! দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি কল্পনার জাল মন থেকে মুছে ফেললেন। ফলে, সারা রাত্রি তাঁর শান্তিপূর্ণভাবেই কেটে গেল। ভোরের দিকে স্বামীজি তার নিত্যদিনের অভ্যাসমতো ধ্যানে মগ্ন হয়ে গেলেন। গ্রামবাসীদের মধ্যেও অনেকের সেই রাত্রিতে ভালো ঘুম হয়নি!অতি প্রত্যুষে তারাও_ স্বামীজি জীবিত আছে কিনা তা দেখার জন্য মন্দিরে চলে এসেছিল। তারা এসে দেখল যে, স্বামীজি ধ্যানস্থ হয়ে বসে আছেন। ধ্যান ভাঙার পর স্বামীজি চোখ খুলে সবাইকে দেখে আনন্দ পেলেন। স্বামীজীকে জীবিত দেখে গ্রামবাসীরা অবাক হোল এবং আনন্দিতও হোল। তবে কয়েকজন গ্রামবাসী মন্তব্য করলো যে, যেহেতু তখন পুরোপুরি অন্ধকার রাত্রি ছিল না অর্থাৎ আকাশে চাঁদ ছিল তাই হয়তো তেমন দুর্ঘটনা ঘটেনি! অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত্রি হোলে হয়তো কোন দূর্ঘটনা ঘটতো। স্বামীজি তাদের সকলকে ডেকে বলার চেষ্টা করতে লাগলেন _” এই সমস্ত ভয়ের উৎস হচ্ছে কুসংস্কার, বাস্তবের সঙ্গে যার কোন মিল নাই”।
স্বামীজি তাদেরকে আরো বললেন_”আগে আগে এই মন্দিরের পুকুরে যে সমস্ত মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেগুলির নিশ্চয়ই অন্য কোনো কারণ ছিল_ভূত-প্রেতের কারণে নয় । মন্দির হল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবাসস্থল, তিনি করুণাময়_ আপনারা যদি আন্তরিকভাবে মন্দিরের দেবতার উপাসনা করেন এবং ব্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানান_ তাহলে আপনারা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারবেন ! আর আপনারা এটাও জানবেন যে, আপনাদের এই গ্রাম্যদেবতা খুবই জাগ্রত এবং তাঁর কৃপা ও করুনায় আপনাদের গ্রামটি এতটা সমৃদ্ধি লাভ করেছে”!
এইভাবে স্বামীজি সমস্ত গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করলেন এবং সকলকে সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে উপস্থিত হোতে এবং নির্ভয়ে ও নিঃসন্দেহে প্রার্থনা জানাতে বললেন। যে সমস্ত ব্যক্তিরা বলেছিল _’অমাবস্যার রাত্রি হলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো’ _ তাদের সন্দেহ দূর করার জন্য স্বামীজি ওই মন্দিরে অমাবস্যা তিথি অবধি থেকে গেলেন। যদিও স্বামীজি রাতের পর রাত সেখানেই একাকী কাটিয়েছিলেন কিন্তু কোনো অঘটন ঘটেনি। এইভাবে গ্রামবাসীদের মন থেকে কুসংস্কার এবং ভয় দূর হয়ে গেলে, অমাবস্যার পরেরদিন স্বামীজী সেই গ্রাম ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে চললেন।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[4]
মানবীয় সত্তা, অমানবীয় সত্তা এবং গাছ-গাছড়া এই তিন ধরনের সত্তার (যেগুলি বর্তমানে আছে এবং সময়ে সময়ে এই পৃথিবীতে অবিভূত হবার সম্ভাবনা আছে) জন্য পৃথিবীতে নিয়মিত প্রয়োজন মাফিক খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হচ্ছে ৷ নানা রকম অসুবিধার জন্য মানব জাতির এক অংশ তাদের নিজেদের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে অক্ষম। অন্য অংশ তাদের স্বাভাবিক প্রয়োজনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করছে এবং আর এক অংশ তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করছে। আর কতক লোক আছে তারা কেবলমাত্র প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত নয়, অন্য সকলকে তাদের প্রয়ােজনের নিমিত্ত খাদ্য সংগ্রহ করতেও বাধা দিচ্ছে।
খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য যে সমস্ত জিনিস সাহায্য করে সেগুলি প্রত্যেকেই খাদ্য-সামগ্রী’র অন্তভুক্ত। যেমন, সোনা, রূপা, শক্তি, জ্ঞান, প্রেম প্রভৃতি। হতে পারে ঐ উৎপাদন কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে অন্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক পরিমাণে হচ্ছে। ঠিক যেমন সত্তাগুলি (যাদের জীবন এবং প্রগতির জন্য খাদ্য উৎপন্ন হচ্ছে) কোন নিদিষ্ট সময়ে পৃথিবীর কোন নিদিষ্ট স্থানে অধিক সংখ্যায় বর্তমান। লোকের খাদ্য সংগ্রহ করার অক্ষমতাবশতঃ বা খাদ্য সংগ্রহ করার ব্যাপারে অন্য কোন ব্যক্তির বাধাপ্রদানবশতঃ যাই হোক না কেন দায়িত্বহীন লোকের হস্তক্ষেপই জনগণের বিশাল অংশের খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভাবের জন্য দায়ী। এর ফলে পৃথিবীর কোন কোন স্থান খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম ভাণ্ডারের পরিবর্তে জেলখানায় পরিণত হয়েছে।
খাদ্য হোল প্রগতির বুনিয়াদ। মানব জাতির বিশাল অংশ খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভাবে ভুগছে। ঐ অংশের মানব জাতি সবসময় তার এই শোচনীয় অবস্থার কথা অনুভব করছে। যাদের প্রচুর খাদ্য আছে তাদের প্রতি এই জাতি ঈর্ষাপরায়ণ। শুধু প্রয়োজনের নিমিত্ত খাদ্য আছে বলে নয়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য আছে বলে ও এদের প্রতি তারা ঈর্ষাপরায়ণ ।
এই দুঃখের অনুভূতি ক্রমাগত তীব্র হয়েছে। এই অবিরাম তীব্র দুঃখে তাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হচ্ছে। এই শক্তি সর্বোচ্চমাত্রায় ঘৃণা এবং ঈর্ষায় পরিপুষ্ট । তারা এই শক্তি সবসময় ছড়াচ্ছে। এই শক্তির মধ্যে অনুভূতি নিহিত আছে। এই অনুভূতি রূপায়িত এবং প্রকাশিত হওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে সংগ্রাম করছে । এই বিশ্বে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তি বিদ্যমান। প্রেমিক, জ্ঞানী এবং শক্তিমান যেগুলি সবসময় ছড়াচ্ছে । খাদ্যের অভাবহেতু যাদের শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমাভাব আছে এগুলি সেই অভাবগ্রস্ত মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে ফলপ্রদভাবেই সাহায্য করছে।
ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষ দ্বারা উত্তেজিত হলেও তাদের এই ভাব-ভাবনা সার্বিক প্রয়ােজনের সঙ্গে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং উর্ধ্ব প্রগতির ক্ষেত্রে সহায়ক। ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষের এই রূপ—যা ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী লক্ষ্যে ঠিক আছে—পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানে অগ্রসর হয়—যে স্থানে খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের মধ্যে এক বা একাধিক স্বাভাবিক প্রয়ােজনের তুলনায় অধিক। পৃথিবীর যেখানে খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম আবদ্ধ বা কারারুদ্ধ সেখানে এগুলি অভিশাপের পরােয়ানার ন্যায় অগ্রসর হচ্ছে। এই অভিশাপের পরােয়ানা কারাগার ভাঙ্গার জন্য সংগ্রাম করছে। তারা কারাগার ভেঙ্গে চুরমার করার জন্য লড়ছে এবং খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের যে কোন একটি বা সবগুলিকেই রুদ্ধ কারাগার হতে মুক্তি করতে চাইছে। এই বিশ্বে যে বল আছে সেই বলে বলীয়ান হয়ে, জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত হয়ে, প্রেমের দ্বারা নিঃস্বার্থ হয়ে এই অভিশাপের পরােয়ানা শক্তি অনমনীয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লক্ষ্যে ঠিক থেকে, সার্বিক প্রয়োজন এবং সার্বিক উর্ধ্ব প্রগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই সার্বজনীন অভিশাপের পরােয়ানা-শক্তি অলঙ্ঘ্য হয়ে দাঁড়ায়। … [ক্রমশঃ]
কতকগুলি সাধারণ ব্যাপারে স্বামী বাউলানন্দজীর ধারণা ছোট বয়স থেকেই পাকা ছিল_ তিনি জানতেন যে, ভয় সাধারণত ভ্রান্তি থেকে আসে! কোন কিছু বস্তুকে সেটা যা, তা না ভেবে_ অন্যকিছু ভেবে মানুষ ভয় পায়! কেমন রজ্জুকে সর্পভ্রম করে ভীত হয় মানুষ! স্বামী বাউলানন্দজীর দৃঢ় ধারণা ছিল যে, ভুল ধারণার ফলে মানুষ ভয় পায়_ তাই মন্দিরে রাত্রিতে নির্বিঘ্নে থাকার ব্যাপারে তাঁর কোনো সংশয় ছিল না ।
সেইদিন ওই মন্দিরের বারান্দায় শুয়ে শুয়ে তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তিনি চন্দ্র, বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্র এইসব দেখছিলেন। রাত্রিকালীন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করছিলেন তিনি। গভীর রাত্রিতে মাঝে মাঝে দু একটা অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছিল _তাছাড়া চারিদিক নীরব নিস্তব্ধই ছিল।
স্বামীজি সেই শব্দগুলির উৎস অনুসন্ধান করার চেষ্টা করলেন এবং বুঝতে পারলেন যে ওগুলো নিশ্চয়ই কোন নিশাচর জন্তু-জানোয়ার বা পাখিদের আওয়াজ হবে! এইজন্য এটি তাঁর কাছে কোনো বাধা বলে মনে হলো না এক একবার তাঁর মনে হচ্ছিল যে পুকুর পাড়ে কিছু কাল্পনিক মূর্তি হয়তো দোল খাচ্ছে কিন্তু স্বামীজি জানতেন এসব কাল্পনিক, বাস্তব নয়! এসব কল্পনার উৎস হল মন! দৃঢ় সংকল্প নিয়ে তিনি কল্পনার জাল মন থেকে মুছে ফেললেন। ফলে, সারা রাত্রি তাঁর শান্তিপূর্ণভাবেই কেটে গেল। ভোরের দিকে স্বামীজি তার নিত্যদিনের অভ্যাসমতো ধ্যানে মগ্ন হয়ে গেলেন। গ্রামবাসীদের মধ্যেও অনেকের সেই রাত্রিতে ভালো ঘুম হয়নি!অতি প্রত্যুষে তারাও_ স্বামীজি জীবিত আছে কিনা তা দেখার জন্য মন্দিরে চলে এসেছিল। তারা এসে দেখল যে, স্বামীজি ধ্যানস্থ হয়ে বসে আছেন। ধ্যান ভাঙার পর স্বামীজি চোখ খুলে সবাইকে দেখে আনন্দ পেলেন। স্বামীজীকে জীবিত দেখে গ্রামবাসীরা অবাক হোল এবং আনন্দিতও হোল। তবে কয়েকজন গ্রামবাসী মন্তব্য করলো যে, যেহেতু তখন পুরোপুরি অন্ধকার রাত্রি ছিল না অর্থাৎ আকাশে চাঁদ ছিল তাই হয়তো তেমন দুর্ঘটনা ঘটেনি! অমাবস্যার ঘুটঘুটে অন্ধকার রাত্রি হোলে হয়তো কোন দূর্ঘটনা ঘটতো। স্বামীজি তাদের সকলকে ডেকে বলার চেষ্টা করতে লাগলেন _” এই সমস্ত ভয়ের উৎস হচ্ছে কুসংস্কার, বাস্তবের সঙ্গে যার কোন মিল নাই”।
স্বামীজি তাদেরকে আরো বললেন_”আগে আগে এই মন্দিরের পুকুরে যে সমস্ত মৃতদেহ পাওয়া গেছে, সেগুলির নিশ্চয়ই অন্য কোনো কারণ ছিল_ভূত-প্রেতের কারণে নয় । মন্দির হল সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের আবাসস্থল, তিনি করুণাময়_ আপনারা যদি আন্তরিকভাবে মন্দিরের দেবতার উপাসনা করেন এবং ব্যাকুল হয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানান_ তাহলে আপনারা জাগতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করতে পারবেন ! আর আপনারা এটাও জানবেন যে, আপনাদের এই গ্রাম্যদেবতা খুবই জাগ্রত এবং তাঁর কৃপা ও করুনায় আপনাদের গ্রামটি এতটা সমৃদ্ধি লাভ করেছে”!
এইভাবে স্বামীজি সমস্ত গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করলেন এবং সকলকে সকাল-সন্ধ্যায় মন্দিরে উপস্থিত হোতে এবং নির্ভয়ে ও নিঃসন্দেহে প্রার্থনা জানাতে বললেন। যে সমস্ত ব্যক্তিরা বলেছিল _’অমাবস্যার রাত্রি হলে হয়তো দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো’ _ তাদের সন্দেহ দূর করার জন্য স্বামীজি ওই মন্দিরে অমাবস্যা তিথি অবধি থেকে গেলেন। যদিও স্বামীজি রাতের পর রাত সেখানেই একাকী কাটিয়েছিলেন কিন্তু কোনো অঘটন ঘটেনি। এইভাবে গ্রামবাসীদের মন থেকে কুসংস্কার এবং ভয় দূর হয়ে গেলে, অমাবস্যার পরেরদিন স্বামীজী সেই গ্রাম ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে চললেন।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[4]
মানবীয় সত্তা, অমানবীয় সত্তা এবং গাছ-গাছড়া এই তিন ধরনের সত্তার (যেগুলি বর্তমানে আছে এবং সময়ে সময়ে এই পৃথিবীতে অবিভূত হবার সম্ভাবনা আছে) জন্য পৃথিবীতে নিয়মিত প্রয়োজন মাফিক খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হচ্ছে ৷ নানা রকম অসুবিধার জন্য মানব জাতির এক অংশ তাদের নিজেদের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করতে অক্ষম। অন্য অংশ তাদের স্বাভাবিক প্রয়োজনের জন্য খাদ্য সংগ্রহ করছে এবং আর এক অংশ তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করছে। আর কতক লোক আছে তারা কেবলমাত্র প্রয়োজনের অতিরিক্ত সংগ্রহ করেই ক্ষান্ত নয়, অন্য সকলকে তাদের প্রয়ােজনের নিমিত্ত খাদ্য সংগ্রহ করতেও বাধা দিচ্ছে।
খাদ্য সংগ্রহ করার জন্য যে সমস্ত জিনিস সাহায্য করে সেগুলি প্রত্যেকেই খাদ্য-সামগ্রী’র অন্তভুক্ত। যেমন, সোনা, রূপা, শক্তি, জ্ঞান, প্রেম প্রভৃতি। হতে পারে ঐ উৎপাদন কোন নির্দিষ্ট সময়ে কোন নির্দিষ্ট অঞ্চলে অন্য অঞ্চলের তুলনায় অধিক পরিমাণে হচ্ছে। ঠিক যেমন সত্তাগুলি (যাদের জীবন এবং প্রগতির জন্য খাদ্য উৎপন্ন হচ্ছে) কোন নিদিষ্ট সময়ে পৃথিবীর কোন নিদিষ্ট স্থানে অধিক সংখ্যায় বর্তমান। লোকের খাদ্য সংগ্রহ করার অক্ষমতাবশতঃ বা খাদ্য সংগ্রহ করার ব্যাপারে অন্য কোন ব্যক্তির বাধাপ্রদানবশতঃ যাই হোক না কেন দায়িত্বহীন লোকের হস্তক্ষেপই জনগণের বিশাল অংশের খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভাবের জন্য দায়ী। এর ফলে পৃথিবীর কোন কোন স্থান খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম ভাণ্ডারের পরিবর্তে জেলখানায় পরিণত হয়েছে।
খাদ্য হোল প্রগতির বুনিয়াদ। মানব জাতির বিশাল অংশ খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভাবে ভুগছে। ঐ অংশের মানব জাতি সবসময় তার এই শোচনীয় অবস্থার কথা অনুভব করছে। যাদের প্রচুর খাদ্য আছে তাদের প্রতি এই জাতি ঈর্ষাপরায়ণ। শুধু প্রয়োজনের নিমিত্ত খাদ্য আছে বলে নয়, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্য আছে বলে ও এদের প্রতি তারা ঈর্ষাপরায়ণ ।
এই দুঃখের অনুভূতি ক্রমাগত তীব্র হয়েছে। এই অবিরাম তীব্র দুঃখে তাদের মধ্যে বহুল পরিমাণে শক্তি উৎপন্ন হচ্ছে। এই শক্তি সর্বোচ্চমাত্রায় ঘৃণা এবং ঈর্ষায় পরিপুষ্ট । তারা এই শক্তি সবসময় ছড়াচ্ছে। এই শক্তির মধ্যে অনুভূতি নিহিত আছে। এই অনুভূতি রূপায়িত এবং প্রকাশিত হওয়ার জন্য সক্রিয়ভাবে সংগ্রাম করছে । এই বিশ্বে প্রেম, জ্ঞান এবং শক্তি বিদ্যমান। প্রেমিক, জ্ঞানী এবং শক্তিমান যেগুলি সবসময় ছড়াচ্ছে । খাদ্যের অভাবহেতু যাদের শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমাভাব আছে এগুলি সেই অভাবগ্রস্ত মানুষের চিন্তা-ভাবনাকে ফলপ্রদভাবেই সাহায্য করছে।
ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষ দ্বারা উত্তেজিত হলেও তাদের এই ভাব-ভাবনা সার্বিক প্রয়ােজনের সঙ্গে সুসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং উর্ধ্ব প্রগতির ক্ষেত্রে সহায়ক। ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষের এই রূপ—যা ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী লক্ষ্যে ঠিক আছে—পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানে অগ্রসর হয়—যে স্থানে খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের মধ্যে এক বা একাধিক স্বাভাবিক প্রয়ােজনের তুলনায় অধিক। পৃথিবীর যেখানে খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম আবদ্ধ বা কারারুদ্ধ সেখানে এগুলি অভিশাপের পরােয়ানার ন্যায় অগ্রসর হচ্ছে। এই অভিশাপের পরােয়ানা কারাগার ভাঙ্গার জন্য সংগ্রাম করছে। তারা কারাগার ভেঙ্গে চুরমার করার জন্য লড়ছে এবং খাদ্য, শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের যে কোন একটি বা সবগুলিকেই রুদ্ধ কারাগার হতে মুক্তি করতে চাইছে। এই বিশ্বে যে বল আছে সেই বলে বলীয়ান হয়ে, জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত হয়ে, প্রেমের দ্বারা নিঃস্বার্থ হয়ে এই অভিশাপের পরােয়ানা শক্তি অনমনীয় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। লক্ষ্যে ঠিক থেকে, সার্বিক প্রয়োজন এবং সার্বিক উর্ধ্ব প্রগতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এই সার্বজনীন অভিশাপের পরােয়ানা-শক্তি অলঙ্ঘ্য হয়ে দাঁড়ায়। … [ক্রমশঃ]
