স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। দেরাদুনে ভ্রমনকালীন ওনার সাথী শাশ্ত্রীজী দুরারোগ্য কলেরা ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন এবং স্বামীজী সাধ্যমতো তার সেবা করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু সেই সময় দেরাদুন শহরের বহু স্থানে কলেরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিল । এই রোগ সংক্রমণ বন্ধ করার জন্য সরকারীভাবে রোগীদের আইসোলেশন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হোতে লাগলো । সেই ক্যাম্পে রোগীদের সুস্থ করার লোকের বড়ই অভাব ছিল। সেইজন্য এই অবস্থায় স্বামীজি, শাস্ত্রীজীকে আইসোলেশন ক্যাম্পে পাঠাতে চাইলেন না । কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা যে কোনো সময় সেখানে এসে যেতে পারেন_ এই জন্য স্বামীজী শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট প্রার্থনা জানাতে লাগলেন, যাতে একটা কিছু সুরাহা হয়।
স্বামীজী প্রথমেই তাঁর সাথীকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে একটি স্থানীয় দোকানদারের ঘর ভাড়া করে_ সেখানে রেখে দিলেন। লোকটি ওষুধের দোকানদার হওয়ায় সে নানা রকমের ওষুধ প্রয়োগ করতে লাগলো এবং অচিরেই শাস্ত্রীজী সুস্থ হয়ে উঠলেন। সেই সময় দোকানদারের কোন একটি আত্মীয়_ “পুষ্কর” নামের একটি ছেলে স্বামীজীকে খুবই সাহায্য করেছিল।
শাস্ত্রীজী একটু সুস্থ হওয়ার পর ওঁরা সেই স্থান ত্যাগ করে স্টেশনে গিয়ে মথুরা-বৃন্দাবনের দিকে যাওয়ার টিকিট ক্রয় করলেন। স্টেশন চত্বরে স্বামীজি সাধক রামতীর্থের একটি ফটো পাওয়া যায় কিনা _তার খোঁজ করার জন্য অনেক দোকানে গেলেন। রামতীর্থ দীর্ঘদিন দেরাদুন অঞ্চলে সাধন-ভজন করেছেন এবং সাধনার শিখরে পৌঁছেছেন কিন্তু তবু স্থানীয় দোকানগুলোর কোনটাতেই স্বামী রামতীর্থের কোনো ছবি ছিল না । মানুষের দুর্বল স্মৃতিশক্তি এবং মহাপুরুষগণের প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দেখে তিনি খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন! পরে অবশ্য স্বামী বাউলানন্দজী অনেক খোঁজ করে রামতীর্থের একটি ফোটো পেয়েছিলেন।
এরপর ওই স্টেশন চত্বরেই একটি বিভ্রাট ঘটে গিয়েছিল । তিনি যখন শাশ্ত্রীজীর জন্য ফল কিনছিলেন, তখন এক মহিলা স্বামীজীর হাত ধরে চেঁচামেচি করতে লাগলো যে, তিনি স্বামীজী কে চেনেন কারণ তাদের কোন আত্মীয় বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তাকে অনেকটা স্বামীজীর মত দেখতে! তাই মহিলাটি_উভয়ের সাদৃশ্যজনিত ভুলের কারণে এমন কান্ড ঘটিয়েছিল।
যাইহোক, বহুকষ্টে স্বামীজী সেই মহিলার হাত থেকে ছাড়া পেয়ে ছিলেন। এরপর তিনি এক জোড়া জুতো কিনে “পুষ্কর” নামের সেই ছেলেটিকে উপহার দিয়েছিলেন_ যে ছেলেটি শাস্ত্রীজীর সেবা কার্যে তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।
এরপর ওনারা ট্রেনে উঠে বসলেন বৃন্দাবনের দিকে যাবার জন্য । কিন্তু সেই সময় যেহেতু দেরাদুন অঞ্চলে প্রচুর মানুষের কলেরা হচ্ছিল_ তাই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ট্রেনে সফররত রোগীদের জন্যও আইসোলেশন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিল। যে কম্পার্টমেন্টে স্বামীজি উঠেছিলেন সেই কম্পার্টমেন্টে দেখা গেল_ ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই দু-একটি লোকের কলেরা রোগ শুরু হয়ে গেল । এমনকি তাদের দেখাদেখি শাস্ত্রীজীর শরীরেও রোগ লক্ষণ দেখা গেল। রোগের প্রাবল্যে শাস্ত্রীজী অন্য কিছু দেখছিলেন _তিনি গিরি-গোবর্ধনধারী শ্রীকৃষ্ণকে বারবার দর্শন করছিলেন।ধাতস্থ হবার পর শাস্ত্রীজী কাঁদতে কাঁদতে স্বামীজির কাছে _’যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে বৃন্দাবনে নিয়ে যাবার’ _ জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা শাস্ত্রীজীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করতে লাগলো। কিন্তু স্বামীজি যে কোন ভাবে তাদেরকে নিরস্ত করে __ শাস্ত্রীজীকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনের দিকে যাত্রা শুরু করলেন।(ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~©~~~~~~~~~~
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
_ [লক্ষ্য সাধন]_
মানবের লক্ষ্য সাধন হলো শরীরী এবং অশরীরী অস্তিত্বে অধিষ্ঠানের সঙ্গে সবসময় একত্ব থাকার অনুভূতি, উৎসের সঙ্গে একত্ব থাকার অনুভূতি এবং সেই অনুভূতিতে স্থিতি লাভ করা । বিশ্ব-অহং এবং কান্ডজ্ঞান সহ মানব ব্যক্তি মন হয়েছে। স্বাভাবিক গতিতে, বিশ্ব জাগতিক নিয়মে এবং আধ্যাত্মিক সূত্রে সে নিজেকে নির্বিশেষ করে তার অধিষ্ঠান বিশ্ব সত্তার সঙ্গে একত্ব হওয়ার অনুভূতি লাভ করে কিন্তু সে তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হারায় না। কান্ডজ্ঞান নিজের মধ্যে লীন হওয়ায় যখন ব্যক্তি সত্তা, উৎস বিশ্ব সত্তার সঙ্গে এক হওয়ার অনুভূতি লাভ করে এবং সেই অনুভূতিতে স্থিতি লাভ করে, ব্যক্তি মন বিশ্ব মনের সঙ্গে, ব্যক্তি অহং বিশ্ব অহং-এর সঙ্গে এক বা অভেদ হওয়ার ফলে (মানব) বিশ্ব জাগতিক নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হারিয়ে নির্বিশেষ হয় __তখন ব্যক্তিসত্তা পুনরায় বিশ্বসত্তায় পরিণত হয়।
পৃথিবী, সমুদ্র, নক্ষত্র, চন্দ্র এবং সূর্য সমগ্র বিশ্বের অন্তর্গত। বিশ্ব সত্তা সমগ্র বিশ্ব ব্যাপিয়া বিরাজ করছে। ইহা ব্যক্তি সত্তা, পৃথিবী,সমুদ্র, নক্ষত্র, চন্দ্র এবং সূর্যের অধিষ্ঠান রূপে বিরাজিত। বিশ্ব সত্তা তার অধিষ্ঠান সর্বব্যাপী এবং সর্বত্র বিরাজমান সেই সর্বেসর্বা বা ঈশ্বরে অধিষ্ঠিত। বিশ্ব সত্তা সর্বেসর্বায প্রকাশ। সমস্ত সত্তা এবং বস্তু বিশ্বসত্তায় বিরাজ করে। সকল সত্তা এবং বস্তু বিশ্ব সত্তারই প্রকাশ। পঞ্চভূত এবং তাদের নিজ নিজ উপাদান, ত্রিশক্তি এবং তাদের নিজ নিজ উপাদান, পঞ্চভূত এবং ত্রিশক্তির চেতনা ও আত্মচেতনা নিয়ে মহাশূন্য পরিপূর্ণ। নিজ নিজ উপাদানসহ পঞ্চ ভূত,নিজ নিজ উপাদানসহ ত্রিশক্তি, পঞ্চভূত ও ত্রিশক্তির চেতনা, আত্মজ্ঞান, অহং, মন এবং সর্বেসর্বা__ সকল বস্তু ও সত্তার মধ্যে ব্যাপ্ত। সমস্ত বস্তু এবং সত্তা, পঞ্চভূত, ত্রিশক্তি,আত্মজ্ঞান, অহং, মন এগুলি সর্বেসর্বায় বর্তমান। বিশ্বের সমস্ত বস্তু এবং সত্তা,মন,অহং,আত্মজ্ঞান, চেতনা, শক্তি, শক্তি- উপাদান, পঞ্চ ভূত এবং পঞ্চভৌতিক পদার্থ রূপে সর্বেসর্বার প্রকাশ।
পাথর, শুকনো গাছ, মৃতদেহ(মানবের বা অমানবের) প্রভৃতি সত্তা নয়_ বস্তু ! এগুলি বিশ্বসত্তা এবং সর্বেসর্বার মধ্যে অবস্থান করছে এদের মধ্যে সর্বেসর্বা(ঈশ্বর), আত্মচেতনা, চেতনা, শক্তি এবং তার উপাদান, পঞ্চভূত এবং পঞ্চভৌতিক উপাদান রয়েছে। তথাপি তারা বস্তু, সত্তা নয়। এদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য সত্তা রয়েছে। এতদসত্ত্বেও তারা সত্তা নয়_ বস্তু ! এর কারণ কি? কারণ, এদের মধ্যে কোন ব্যক্তি-মন নাই। সুতরাং বস্তুসত্তা হয় কেবলমাত্র যখন তাদের মধ্যে ব্যক্তিসত্তা বিরাজ করে অন্যথায় নয়।
এই কারণে সকল বস্তু এবং সত্তা মহাশূন্যে বা বিশ্বে সকল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আকার যুক্ত বা আকারহীন অবস্থায় অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত শরীর নিয়ে(বিশ্ব সত্তা এবং সর্বেসর্বার পরিব্যপ্তির জন্য) অবস্থান এবং বিচরণ করে । এই সত্তা এবং বস্তু যখন তখন তাদের শরীরকে সরিয়ে এবং যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে সামান্যতম পরিবর্তন না ঘটিয়ে বিশ্ব সত্তা এবং সর্বেসর্বায় অবস্থান ও বিচরণ করে । তারা মহাশূন্যে অর্থাৎ বিশ্ব-অহং (বিশ্ব সত্তা যুক্ত বিশ্বমন) সমুদ্রে অবস্থান এবং বিচরণ করে। চেতনা শক্তি ও পঞ্চভূতে পূর্ণ সর্বেসর্বার সমুদ্রে এই বিশ্বমন অবস্থান করছে।
সর্বেসর্বা এবং বিশ্ব সত্তা মহাশূন্যের সেই অংশে অবস্থান করে যেখানে সত্তা ও বস্তু অবস্থান এবং বিচরণ করে (অর্থাৎ ব্যক্তিসত্তা, শরীর এবং বস্তুর দ্বারা অধিকৃত স্থানে সর্বেসর্বা এবং সত্তা বিরাজ করে)। এই স্থানেও একই সত্তা এবং সর্বেসর্বা রয়েছে। সমগ্র মহাশূন্যের মধ্যেও একই সত্তা এবং সর্বেসর্বা একই অবস্থায় বর্তমান। সুতরাং ঐ মহাশূন্যে এবং ঘটাকাশে, আকাশ ও ঘটাকাশের মধ্যবর্তী স্থানেও বিশ্বসত্তা এবং সর্বেসর্বা সাম্য অবস্থায় বর্তমান। নিজ নিজ উপাদান সহ ভূত এবং শক্তি, চেতনা, আত্মজ্ঞান একইভাবে অবস্থান করছে । কিন্তু এদের মধ্যে কোন সংগতি এবং সাম্য অবস্থা নাই। মানবকে লক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ভৌতিক ও শক্তির উপাদান এবং বিশ্বচেতনার সংগতি এবং সাম্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। … [ক্রমশঃ]
স্বামীজী প্রথমেই তাঁর সাথীকে ওই স্থান থেকে সরিয়ে একটি স্থানীয় দোকানদারের ঘর ভাড়া করে_ সেখানে রেখে দিলেন। লোকটি ওষুধের দোকানদার হওয়ায় সে নানা রকমের ওষুধ প্রয়োগ করতে লাগলো এবং অচিরেই শাস্ত্রীজী সুস্থ হয়ে উঠলেন। সেই সময় দোকানদারের কোন একটি আত্মীয়_ “পুষ্কর” নামের একটি ছেলে স্বামীজীকে খুবই সাহায্য করেছিল।
শাস্ত্রীজী একটু সুস্থ হওয়ার পর ওঁরা সেই স্থান ত্যাগ করে স্টেশনে গিয়ে মথুরা-বৃন্দাবনের দিকে যাওয়ার টিকিট ক্রয় করলেন। স্টেশন চত্বরে স্বামীজি সাধক রামতীর্থের একটি ফটো পাওয়া যায় কিনা _তার খোঁজ করার জন্য অনেক দোকানে গেলেন। রামতীর্থ দীর্ঘদিন দেরাদুন অঞ্চলে সাধন-ভজন করেছেন এবং সাধনার শিখরে পৌঁছেছেন কিন্তু তবু স্থানীয় দোকানগুলোর কোনটাতেই স্বামী রামতীর্থের কোনো ছবি ছিল না । মানুষের দুর্বল স্মৃতিশক্তি এবং মহাপুরুষগণের প্রতি সাধারণ মানুষের অনীহা দেখে তিনি খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন! পরে অবশ্য স্বামী বাউলানন্দজী অনেক খোঁজ করে রামতীর্থের একটি ফোটো পেয়েছিলেন।
এরপর ওই স্টেশন চত্বরেই একটি বিভ্রাট ঘটে গিয়েছিল । তিনি যখন শাশ্ত্রীজীর জন্য ফল কিনছিলেন, তখন এক মহিলা স্বামীজীর হাত ধরে চেঁচামেচি করতে লাগলো যে, তিনি স্বামীজী কে চেনেন কারণ তাদের কোন আত্মীয় বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তাকে অনেকটা স্বামীজীর মত দেখতে! তাই মহিলাটি_উভয়ের সাদৃশ্যজনিত ভুলের কারণে এমন কান্ড ঘটিয়েছিল।
যাইহোক, বহুকষ্টে স্বামীজী সেই মহিলার হাত থেকে ছাড়া পেয়ে ছিলেন। এরপর তিনি এক জোড়া জুতো কিনে “পুষ্কর” নামের সেই ছেলেটিকে উপহার দিয়েছিলেন_ যে ছেলেটি শাস্ত্রীজীর সেবা কার্যে তাঁকে যথেষ্ট সাহায্য করেছিল।
এরপর ওনারা ট্রেনে উঠে বসলেন বৃন্দাবনের দিকে যাবার জন্য । কিন্তু সেই সময় যেহেতু দেরাদুন অঞ্চলে প্রচুর মানুষের কলেরা হচ্ছিল_ তাই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা ট্রেনে সফররত রোগীদের জন্যও আইসোলেশন ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেছিল। যে কম্পার্টমেন্টে স্বামীজি উঠেছিলেন সেই কম্পার্টমেন্টে দেখা গেল_ ট্রেন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই দু-একটি লোকের কলেরা রোগ শুরু হয়ে গেল । এমনকি তাদের দেখাদেখি শাস্ত্রীজীর শরীরেও রোগ লক্ষণ দেখা গেল। রোগের প্রাবল্যে শাস্ত্রীজী অন্য কিছু দেখছিলেন _তিনি গিরি-গোবর্ধনধারী শ্রীকৃষ্ণকে বারবার দর্শন করছিলেন।ধাতস্থ হবার পর শাস্ত্রীজী কাঁদতে কাঁদতে স্বামীজির কাছে _’যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাকে বৃন্দাবনে নিয়ে যাবার’ _ জন্য পীড়াপীড়ি করতে লাগলো। কিন্তু স্বাস্থ্যকর্মীরা শাস্ত্রীজীকে ট্রেন থেকে নামিয়ে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়ার জন্য জোর করতে লাগলো। কিন্তু স্বামীজি যে কোন ভাবে তাদেরকে নিরস্ত করে __ শাস্ত্রীজীকে সঙ্গে নিয়ে বৃন্দাবনের দিকে যাত্রা শুরু করলেন।(ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~©~~~~~~~~~~
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
_ [লক্ষ্য সাধন]_
মানবের লক্ষ্য সাধন হলো শরীরী এবং অশরীরী অস্তিত্বে অধিষ্ঠানের সঙ্গে সবসময় একত্ব থাকার অনুভূতি, উৎসের সঙ্গে একত্ব থাকার অনুভূতি এবং সেই অনুভূতিতে স্থিতি লাভ করা । বিশ্ব-অহং এবং কান্ডজ্ঞান সহ মানব ব্যক্তি মন হয়েছে। স্বাভাবিক গতিতে, বিশ্ব জাগতিক নিয়মে এবং আধ্যাত্মিক সূত্রে সে নিজেকে নির্বিশেষ করে তার অধিষ্ঠান বিশ্ব সত্তার সঙ্গে একত্ব হওয়ার অনুভূতি লাভ করে কিন্তু সে তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হারায় না। কান্ডজ্ঞান নিজের মধ্যে লীন হওয়ায় যখন ব্যক্তি সত্তা, উৎস বিশ্ব সত্তার সঙ্গে এক হওয়ার অনুভূতি লাভ করে এবং সেই অনুভূতিতে স্থিতি লাভ করে, ব্যক্তি মন বিশ্ব মনের সঙ্গে, ব্যক্তি অহং বিশ্ব অহং-এর সঙ্গে এক বা অভেদ হওয়ার ফলে (মানব) বিশ্ব জাগতিক নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য হারিয়ে নির্বিশেষ হয় __তখন ব্যক্তিসত্তা পুনরায় বিশ্বসত্তায় পরিণত হয়।
পৃথিবী, সমুদ্র, নক্ষত্র, চন্দ্র এবং সূর্য সমগ্র বিশ্বের অন্তর্গত। বিশ্ব সত্তা সমগ্র বিশ্ব ব্যাপিয়া বিরাজ করছে। ইহা ব্যক্তি সত্তা, পৃথিবী,সমুদ্র, নক্ষত্র, চন্দ্র এবং সূর্যের অধিষ্ঠান রূপে বিরাজিত। বিশ্ব সত্তা তার অধিষ্ঠান সর্বব্যাপী এবং সর্বত্র বিরাজমান সেই সর্বেসর্বা বা ঈশ্বরে অধিষ্ঠিত। বিশ্ব সত্তা সর্বেসর্বায প্রকাশ। সমস্ত সত্তা এবং বস্তু বিশ্বসত্তায় বিরাজ করে। সকল সত্তা এবং বস্তু বিশ্ব সত্তারই প্রকাশ। পঞ্চভূত এবং তাদের নিজ নিজ উপাদান, ত্রিশক্তি এবং তাদের নিজ নিজ উপাদান, পঞ্চভূত এবং ত্রিশক্তির চেতনা ও আত্মচেতনা নিয়ে মহাশূন্য পরিপূর্ণ। নিজ নিজ উপাদানসহ পঞ্চ ভূত,নিজ নিজ উপাদানসহ ত্রিশক্তি, পঞ্চভূত ও ত্রিশক্তির চেতনা, আত্মজ্ঞান, অহং, মন এবং সর্বেসর্বা__ সকল বস্তু ও সত্তার মধ্যে ব্যাপ্ত। সমস্ত বস্তু এবং সত্তা, পঞ্চভূত, ত্রিশক্তি,আত্মজ্ঞান, অহং, মন এগুলি সর্বেসর্বায় বর্তমান। বিশ্বের সমস্ত বস্তু এবং সত্তা,মন,অহং,আত্মজ্ঞান, চেতনা, শক্তি, শক্তি- উপাদান, পঞ্চ ভূত এবং পঞ্চভৌতিক পদার্থ রূপে সর্বেসর্বার প্রকাশ।
পাথর, শুকনো গাছ, মৃতদেহ(মানবের বা অমানবের) প্রভৃতি সত্তা নয়_ বস্তু ! এগুলি বিশ্বসত্তা এবং সর্বেসর্বার মধ্যে অবস্থান করছে এদের মধ্যে সর্বেসর্বা(ঈশ্বর), আত্মচেতনা, চেতনা, শক্তি এবং তার উপাদান, পঞ্চভূত এবং পঞ্চভৌতিক উপাদান রয়েছে। তথাপি তারা বস্তু, সত্তা নয়। এদের মধ্যেও বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য সত্তা রয়েছে। এতদসত্ত্বেও তারা সত্তা নয়_ বস্তু ! এর কারণ কি? কারণ, এদের মধ্যে কোন ব্যক্তি-মন নাই। সুতরাং বস্তুসত্তা হয় কেবলমাত্র যখন তাদের মধ্যে ব্যক্তিসত্তা বিরাজ করে অন্যথায় নয়।
এই কারণে সকল বস্তু এবং সত্তা মহাশূন্যে বা বিশ্বে সকল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন আকার যুক্ত বা আকারহীন অবস্থায় অসংখ্য ছিদ্রযুক্ত শরীর নিয়ে(বিশ্ব সত্তা এবং সর্বেসর্বার পরিব্যপ্তির জন্য) অবস্থান এবং বিচরণ করে । এই সত্তা এবং বস্তু যখন তখন তাদের শরীরকে সরিয়ে এবং যে কোনো সময় যে কোনো পরিস্থিতিতে সামান্যতম পরিবর্তন না ঘটিয়ে বিশ্ব সত্তা এবং সর্বেসর্বায় অবস্থান ও বিচরণ করে । তারা মহাশূন্যে অর্থাৎ বিশ্ব-অহং (বিশ্ব সত্তা যুক্ত বিশ্বমন) সমুদ্রে অবস্থান এবং বিচরণ করে। চেতনা শক্তি ও পঞ্চভূতে পূর্ণ সর্বেসর্বার সমুদ্রে এই বিশ্বমন অবস্থান করছে।
সর্বেসর্বা এবং বিশ্ব সত্তা মহাশূন্যের সেই অংশে অবস্থান করে যেখানে সত্তা ও বস্তু অবস্থান এবং বিচরণ করে (অর্থাৎ ব্যক্তিসত্তা, শরীর এবং বস্তুর দ্বারা অধিকৃত স্থানে সর্বেসর্বা এবং সত্তা বিরাজ করে)। এই স্থানেও একই সত্তা এবং সর্বেসর্বা রয়েছে। সমগ্র মহাশূন্যের মধ্যেও একই সত্তা এবং সর্বেসর্বা একই অবস্থায় বর্তমান। সুতরাং ঐ মহাশূন্যে এবং ঘটাকাশে, আকাশ ও ঘটাকাশের মধ্যবর্তী স্থানেও বিশ্বসত্তা এবং সর্বেসর্বা সাম্য অবস্থায় বর্তমান। নিজ নিজ উপাদান সহ ভূত এবং শক্তি, চেতনা, আত্মজ্ঞান একইভাবে অবস্থান করছে । কিন্তু এদের মধ্যে কোন সংগতি এবং সাম্য অবস্থা নাই। মানবকে লক্ষ্যের মধ্য দিয়ে ভৌতিক ও শক্তির উপাদান এবং বিশ্বচেতনার সংগতি এবং সাম্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। … [ক্রমশঃ]
