স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনা সমূহ এখানে বর্ণনা করা হচ্ছিল। স্বামীজি গোদাবরী নদী পথে নৌকাযোগে ভদ্রাচলম্ যাবার সময় জোৎস্না আলোকিত রাত্রির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে একটি চড়ায় নেমে পড়েছিলেন এবং সেখানেই একদল শৃগালের জলপান এবং ক্রীড়া পরিলক্ষিত করে খুবই আনন্দ লাভ করেছিলেন। শৃগালের দল চলে যাবার পর স্বামীজি যখন একেবারে একা হয়ে গেলেন, তখন তিনি সেই প্রকৃতির অপার্থিব সৌন্দর্যের ভিতর ধীরে ধীরে মগ্ন হয়ে একেবারে একীভূত হয়ে গেলেন! এমন সময় হঠাৎ করে তাঁর সামনে এক দীর্ঘকায়া নারী আবির্ভূত হলেন! সেই নারীর গায়ের রং ছিল কালো চোখ দুটি উজ্জ্বল এবং পিঠ পর্যন্ত বিছানো এলোচুল!
স্বামীজি সেই বিশালকায় মূর্তি দেখেও ভীত হলেন না, কারণ সেই সময় তিনি নিজের সত্তাকে হারিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্ম অনুভব করছিলেন। ওই মায়ের আবির্ভাব তাঁর সেই একাত্মতায় কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করলো না। সেই নারী স্বামীজীর দিকে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে এলেন এবং সেই জ্যোৎস্নালোকিত বালির চড়ায় স্বামীজীর পাশেই শুয়ে পড়লেন। স্বামীজি তাঁর শরীরের স্পর্শ অনুভব করলেন কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। তিনি ভাবলেন_তিনি যেন সদ্যোজাত শিশুর মত মায়ের পাশে শুয়ে আছেন! এমন সময় স্বামীজীর মনে হোল __সেই মা যেন মল ত্যাগ করছেন এবং সেই মল যেন সমগ্র বালুচর এবং স্বামীজীকেও ঢেকে ফেলল! তাতেও স্বামীজি বিচলিত হলেন না কারণ তখন তিনি যে অবস্থায় ছিলেন সেই অবস্থায় তার মধ্যে কোনরূপ গন্ধ অনুভূতি বা খারাপ লাগার বোধ কাজ করছিল না! অর্থাৎ এক কথায় তার সেই মুহূর্তে ভালো-মন্দের ভেদ জ্ঞানই ছিল না! তার মধ্যে কোন শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধার ভাবও কাজ করছিল না। তাঁর মধ্যে তখন শুধু শিশুসূলভ একটা ভাব কাজ করছিল। মগ্নতা উপলব্ধি এবং আনন্দের বোধ ছাড়া _তার মধ্যে আর কিছুই কাজ করছিল না!
এরপর স্বামীজি দেখলেন সেই মা উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং স্বামীজীকে ওঠবার জন্য সংকেত করলেন। স্বামীজি মায়ের আহ্বান শুনে উঠে পড়লেন। মা নদীর তীর ধরে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং স্বামীজিকে সংকেতে জানালেন তাকে অনুসরণ করার জন্য। স্বামীজী সেই মায়ের পশ্চাদগামী হলেন। মা হেঁটে হেঁটে নদী পার হতে লাগলেন, স্বামীজীও তাঁকে অনুসরণ করে নদীর অপর পারে পৌঁছালেন । মা আগে আগে চলেছেন, সন্তান তার পশ্চাতে। পাহাড়, উপত্যকা, মাঠ অতিক্রম করে তাঁরা চলেছেন_ অথচ উভয়ের মধ্যে কোন কথাবার্তা নাই ! মায়ের মুখ দিয়েও কোন কথা বের হচ্ছিল না এবং সন্তানেরও কোন জিজ্ঞাসা ছিল না।
এক স্থানে আসার পর স্বামীজী দেখলেন একটা গোখরো সাপ এবং যার মাথায় ছিল উজ্জ্বল মানিক।
মা এবং সন্তান সেই সাপের পাশ দিয়েই চলে গেলেন কিন্তু সাপ তাদেরকে কোন বাধার সৃষ্টি করলো না। চলার পথে স্বামীজি এক জায়গায় একটি অপূর্ব সুন্দর দেখতে পাথরের নুড়ি কুড়িয়ে পেলেন_ সেটি ছিল একটি শালগ্রাম শিলা ! সেই শিলাটিকে খুব ভক্তিভরে নিজের বুকের কাছে রেখে স্বামীজি মা-কে অনুসরণ করতে লাগলেন। বেশ কয়েক মাইল পথ হেঁটে চলেছেন কিন্তু থামাথামির কোন বালাই নাই। চলতে চলতে সামনে একটা ঝর্ণা পড়লো, সেইটা পার হয়ে মা এক জায়গায় থামলেন। স্বামীজীও তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন। হঠাৎ করে মা সেখানেই অদৃশ্য হয়ে গেলেন। স্বামীজী তখনও এক অদ্ভুত অসাধারন আনন্দাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন। তিনি সেখানেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।।(ক্রমশঃ)
============©=========
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যক্তিসত্তা রূপে ব্যক্তি মনের অস্তিত্বের এই হোল পদ্ধতি । এইভাবে ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব । এইভাবে ব্যক্তিসত্তার দ্বারা ব্যক্তি বৈশিষ্ট্য রূপ পায় । এই ব্যক্তিসত্তা গুলিই মানুষ-সহ সমস্ত শ্রেণীর শরীর ধারণ করে। এইরূপে সমস্ত শ্রেণীর শরীরী সত্তার আবির্ভাব হয় । সত্তার এবং ব্যক্তিসত্তার শরীরী অস্তিত্বে স্বাভাবিকভাবে সুখী হওয়ার প্রবণতা থাকে। এই প্রবনতার সঙ্গে একই সময়ে নিজ নিজ সত্তায় ব্যক্তি অহং-এর সৃষ্টি হয় । তদনুসারে, (ঊর্ধ্বপ্রগতির) একটা পর্যায়ে পৃথিবীতে নিজের লক্ষ্য সাধন করতে গিয়ে ব্যক্তি-অহং তার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং নিজ নিজ সত্তায় বিশ্ব অহং-এর সাথে মিশে যায়।
বিশ্ব অহং-এ ব্যক্তি অহং-এর এই মিশ্রণ ব্যক্তিসত্তার কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। তারা বিনা শরীর ধারণে এই বিশ্বে শরীরীদের ন্যায় নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।
এই অশরীরী অবস্থায় বিশ্ব সত্তার সঙ্গে না মেশা পর্যন্ত তারা ঊর্ধ্ব প্রগতি চালিয়ে যাবে । ইত্যবসরে (অর্থাৎ এই মধ্যবর্তী সময়ে) বিশ্ব প্রয়োজনের তাগিদের উপর _এই শরীর ধারণ নির্ভর করে। সুতরাং যখনই প্রয়োজন দেখা যায় তখনই তারা শরীর ধারণ করে।
ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্বের (অর্থাৎ ব্যক্তিমনের সঙ্গে বিশ্ব অহং-এর সংযোগ) ন্যায় পাত্রের অস্তিত্ব এবং মৃত্তিকা ও জলের সংযোগ। পাত্রের সঙ্গে জলের সংযোগ না হলে যেমন পাত্রের অস্তিত্ব দেখা যায় না ঠিক তেমনি ব্যক্তি মনে বিশ্ব অহং-এর অনুপস্থিতির ফলে ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব দেখা যায় না । পাত্রের মধ্যে জলের অবস্থানের ন্যায় ব্যক্তিসত্তার রূপ ধারণ এবং শরীরী সত্তা রূপে তার অস্তিত্ব। শরীরের মৃত্যুর পর অশরীরি অবস্থায় ব্যক্তি বিশ্বে থাকে _কিন্তু জগতে থাকে না। কারণ তাদের কোন শরীর থাকে না । পাত্রে জলশুন্য অবস্থা ! বিশ্বসত্তার সঙ্গে না মেশা পর্যন্ত ব্যক্তিসত্তা বর্তমান থাকবে। ইত্যবসরে(পাত্রে জলের অনুপস্থিতি এবং পাত্রের সঙ্গে জলের অসংযোগ অর্থাৎ শরীরের মৃত্যু এবং বিশ্বসত্তায় ব্যক্তিসত্তার মিশ্রণ_এই সময়ের মধ্যে) তারা যদি পুনরায় শরীর ধারণের তাগিদ জয় করতে না পারে তাহলে তাদেরকে পুনরায় শরীর ধারণ করতে হবে এই বাধ্যবাধকতাকে জয় করার সম্ভাবনা নির্ভর করে শরীর অবস্থায় তাদের অবস্থার ধারার উপর।
পাত্রের সঙ্গে জলের সংযোগ হলো বিশ্ব অহং। যে মৃত্তিকা দিয়ে পাত্র তৈরি হচ্ছে তা হলো ব্যক্তি মন। পাত্রে জলের অবস্থান_ ব্যক্তিসত্তার শরীরী অবস্থা । পাত্রে জলের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির কারণ অনেক অর্থাৎ সত্তার শরীরের জন্ম এবং মৃত্যুর কারণ অসংখ্য। বিশ্ব সত্তার সঙ্গে ব্যক্তিসত্তার মিলনের ঘটনা একটাই।
ব্যক্তি অহং লোপ পাওয়ার পর মানুষ ব্যক্তি অহং হতে মুক্ত হয় । চিন্তা ভাবনা এবং কার্য হতে যে অহং-এর সৃষ্টি হয় তা থেকে সে মুক্ত হয় । এখন তার মধ্যে থাকে ব্যক্তি বিশ্ব অহং (_যা তার মধ্যে ব্যক্তিসত্তা রূপে, বিশ্ব সত্তার দ্বারা ব্যক্তিসত্তার ব্যক্তিসত্তা রূপে আধ্যাত্মিক নীতিতে বিশ্বসত্তার বিশ্বসত্তার স্বতন্ত্রীকরনরূপে আকার ধারণ করে)।
এই অবস্থায় মানুষ তার সার্বিকতা অনুভব করে । সে তার অধিষ্ঠান (বিশ্ব সত্তা)-এর সঙ্গে নিজের একত্ব অনুভব করে। অহং তার অধিষ্ঠান বিশ্ব অহং (যা বিশ্ব মনে থাকে)-এর সাথে নিজের একত্ব অনুভব করে। এই পরিস্থিতিতে মানবের প্রবণতা এবং প্রচেষ্টা হয় সার্বিকতা অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হতে, তার অধিষ্ঠান বিশ্বসত্তার সঙ্গে একত্ব হওয়ার অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হতে।
সর্বেসর্বা বা ঈশ্বর কারো অধীন নন। তিনি বিশ্বে সর্বময় কর্তা রূপে বিরাজ করেন মানুষ তার শোচনীয় অবস্থা জয় করতে সৃষ্ট হয়, সেজন্য সে সর্বেসর্বা ছাড়া আর কারও অধীন হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তার ব্যক্তি অহং-এর বিলোপ সাধন করতে না পারবে এবং অহং-কে বহির্মুখী প্রবণতা থেকে ঊর্ধমুখী প্রবনতার দিকে চালিত করতে না পারবে ততক্ষণ সে অমানবীয় প্রবনতার দাস হয়ে থাকবে।
সুতরাং মানুষ প্রথমে তার অহংকে ঊর্ধ্বমুখী করুক। পরে তার অহং-এর বিলোপ সাধন করুক। মানুষ তার সার্বিকতা অনুভব করুক। মানুষ তার সার্বিকতা অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হোক।। … [ক্রমশঃ]
স্বামীজি সেই বিশালকায় মূর্তি দেখেও ভীত হলেন না, কারণ সেই সময় তিনি নিজের সত্তাকে হারিয়ে প্রকৃতির সাথে একাত্ম অনুভব করছিলেন। ওই মায়ের আবির্ভাব তাঁর সেই একাত্মতায় কোনরূপ বাধার সৃষ্টি করলো না। সেই নারী স্বামীজীর দিকে ধীর পদক্ষেপে এগিয়ে এলেন এবং সেই জ্যোৎস্নালোকিত বালির চড়ায় স্বামীজীর পাশেই শুয়ে পড়লেন। স্বামীজি তাঁর শরীরের স্পর্শ অনুভব করলেন কিন্তু বিন্দুমাত্র বিচলিত হলেন না। তিনি ভাবলেন_তিনি যেন সদ্যোজাত শিশুর মত মায়ের পাশে শুয়ে আছেন! এমন সময় স্বামীজীর মনে হোল __সেই মা যেন মল ত্যাগ করছেন এবং সেই মল যেন সমগ্র বালুচর এবং স্বামীজীকেও ঢেকে ফেলল! তাতেও স্বামীজি বিচলিত হলেন না কারণ তখন তিনি যে অবস্থায় ছিলেন সেই অবস্থায় তার মধ্যে কোনরূপ গন্ধ অনুভূতি বা খারাপ লাগার বোধ কাজ করছিল না! অর্থাৎ এক কথায় তার সেই মুহূর্তে ভালো-মন্দের ভেদ জ্ঞানই ছিল না! তার মধ্যে কোন শ্রদ্ধা-অশ্রদ্ধার ভাবও কাজ করছিল না। তাঁর মধ্যে তখন শুধু শিশুসূলভ একটা ভাব কাজ করছিল। মগ্নতা উপলব্ধি এবং আনন্দের বোধ ছাড়া _তার মধ্যে আর কিছুই কাজ করছিল না!
এরপর স্বামীজি দেখলেন সেই মা উঠে দাঁড়িয়ে পড়লেন এবং স্বামীজীকে ওঠবার জন্য সংকেত করলেন। স্বামীজি মায়ের আহ্বান শুনে উঠে পড়লেন। মা নদীর তীর ধরে অগ্রসর হতে লাগলেন এবং স্বামীজিকে সংকেতে জানালেন তাকে অনুসরণ করার জন্য। স্বামীজী সেই মায়ের পশ্চাদগামী হলেন। মা হেঁটে হেঁটে নদী পার হতে লাগলেন, স্বামীজীও তাঁকে অনুসরণ করে নদীর অপর পারে পৌঁছালেন । মা আগে আগে চলেছেন, সন্তান তার পশ্চাতে। পাহাড়, উপত্যকা, মাঠ অতিক্রম করে তাঁরা চলেছেন_ অথচ উভয়ের মধ্যে কোন কথাবার্তা নাই ! মায়ের মুখ দিয়েও কোন কথা বের হচ্ছিল না এবং সন্তানেরও কোন জিজ্ঞাসা ছিল না।
এক স্থানে আসার পর স্বামীজী দেখলেন একটা গোখরো সাপ এবং যার মাথায় ছিল উজ্জ্বল মানিক।
মা এবং সন্তান সেই সাপের পাশ দিয়েই চলে গেলেন কিন্তু সাপ তাদেরকে কোন বাধার সৃষ্টি করলো না। চলার পথে স্বামীজি এক জায়গায় একটি অপূর্ব সুন্দর দেখতে পাথরের নুড়ি কুড়িয়ে পেলেন_ সেটি ছিল একটি শালগ্রাম শিলা ! সেই শিলাটিকে খুব ভক্তিভরে নিজের বুকের কাছে রেখে স্বামীজি মা-কে অনুসরণ করতে লাগলেন। বেশ কয়েক মাইল পথ হেঁটে চলেছেন কিন্তু থামাথামির কোন বালাই নাই। চলতে চলতে সামনে একটা ঝর্ণা পড়লো, সেইটা পার হয়ে মা এক জায়গায় থামলেন। স্বামীজীও তাঁর পাশে এসে দাঁড়ালেন। হঠাৎ করে মা সেখানেই অদৃশ্য হয়ে গেলেন। স্বামীজী তখনও এক অদ্ভুত অসাধারন আনন্দাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলেন। তিনি সেখানেই শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লেন।।(ক্রমশঃ)
============©=========
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
ব্যক্তিসত্তা রূপে ব্যক্তি মনের অস্তিত্বের এই হোল পদ্ধতি । এইভাবে ব্যক্তির জন্য ব্যক্তিত্বের অস্তিত্ব । এইভাবে ব্যক্তিসত্তার দ্বারা ব্যক্তি বৈশিষ্ট্য রূপ পায় । এই ব্যক্তিসত্তা গুলিই মানুষ-সহ সমস্ত শ্রেণীর শরীর ধারণ করে। এইরূপে সমস্ত শ্রেণীর শরীরী সত্তার আবির্ভাব হয় । সত্তার এবং ব্যক্তিসত্তার শরীরী অস্তিত্বে স্বাভাবিকভাবে সুখী হওয়ার প্রবণতা থাকে। এই প্রবনতার সঙ্গে একই সময়ে নিজ নিজ সত্তায় ব্যক্তি অহং-এর সৃষ্টি হয় । তদনুসারে, (ঊর্ধ্বপ্রগতির) একটা পর্যায়ে পৃথিবীতে নিজের লক্ষ্য সাধন করতে গিয়ে ব্যক্তি-অহং তার বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলে এবং নিজ নিজ সত্তায় বিশ্ব অহং-এর সাথে মিশে যায়।
বিশ্ব অহং-এ ব্যক্তি অহং-এর এই মিশ্রণ ব্যক্তিসত্তার কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি করে না। তারা বিনা শরীর ধারণে এই বিশ্বে শরীরীদের ন্যায় নিজেদের লক্ষ্য পূরণের জন্য নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে।
এই অশরীরী অবস্থায় বিশ্ব সত্তার সঙ্গে না মেশা পর্যন্ত তারা ঊর্ধ্ব প্রগতি চালিয়ে যাবে । ইত্যবসরে (অর্থাৎ এই মধ্যবর্তী সময়ে) বিশ্ব প্রয়োজনের তাগিদের উপর _এই শরীর ধারণ নির্ভর করে। সুতরাং যখনই প্রয়োজন দেখা যায় তখনই তারা শরীর ধারণ করে।
ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্বের (অর্থাৎ ব্যক্তিমনের সঙ্গে বিশ্ব অহং-এর সংযোগ) ন্যায় পাত্রের অস্তিত্ব এবং মৃত্তিকা ও জলের সংযোগ। পাত্রের সঙ্গে জলের সংযোগ না হলে যেমন পাত্রের অস্তিত্ব দেখা যায় না ঠিক তেমনি ব্যক্তি মনে বিশ্ব অহং-এর অনুপস্থিতির ফলে ব্যক্তি বৈশিষ্ট্যের অস্তিত্ব দেখা যায় না । পাত্রের মধ্যে জলের অবস্থানের ন্যায় ব্যক্তিসত্তার রূপ ধারণ এবং শরীরী সত্তা রূপে তার অস্তিত্ব। শরীরের মৃত্যুর পর অশরীরি অবস্থায় ব্যক্তি বিশ্বে থাকে _কিন্তু জগতে থাকে না। কারণ তাদের কোন শরীর থাকে না । পাত্রে জলশুন্য অবস্থা ! বিশ্বসত্তার সঙ্গে না মেশা পর্যন্ত ব্যক্তিসত্তা বর্তমান থাকবে। ইত্যবসরে(পাত্রে জলের অনুপস্থিতি এবং পাত্রের সঙ্গে জলের অসংযোগ অর্থাৎ শরীরের মৃত্যু এবং বিশ্বসত্তায় ব্যক্তিসত্তার মিশ্রণ_এই সময়ের মধ্যে) তারা যদি পুনরায় শরীর ধারণের তাগিদ জয় করতে না পারে তাহলে তাদেরকে পুনরায় শরীর ধারণ করতে হবে এই বাধ্যবাধকতাকে জয় করার সম্ভাবনা নির্ভর করে শরীর অবস্থায় তাদের অবস্থার ধারার উপর।
পাত্রের সঙ্গে জলের সংযোগ হলো বিশ্ব অহং। যে মৃত্তিকা দিয়ে পাত্র তৈরি হচ্ছে তা হলো ব্যক্তি মন। পাত্রে জলের অবস্থান_ ব্যক্তিসত্তার শরীরী অবস্থা । পাত্রে জলের উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতির কারণ অনেক অর্থাৎ সত্তার শরীরের জন্ম এবং মৃত্যুর কারণ অসংখ্য। বিশ্ব সত্তার সঙ্গে ব্যক্তিসত্তার মিলনের ঘটনা একটাই।
ব্যক্তি অহং লোপ পাওয়ার পর মানুষ ব্যক্তি অহং হতে মুক্ত হয় । চিন্তা ভাবনা এবং কার্য হতে যে অহং-এর সৃষ্টি হয় তা থেকে সে মুক্ত হয় । এখন তার মধ্যে থাকে ব্যক্তি বিশ্ব অহং (_যা তার মধ্যে ব্যক্তিসত্তা রূপে, বিশ্ব সত্তার দ্বারা ব্যক্তিসত্তার ব্যক্তিসত্তা রূপে আধ্যাত্মিক নীতিতে বিশ্বসত্তার বিশ্বসত্তার স্বতন্ত্রীকরনরূপে আকার ধারণ করে)।
এই অবস্থায় মানুষ তার সার্বিকতা অনুভব করে । সে তার অধিষ্ঠান (বিশ্ব সত্তা)-এর সঙ্গে নিজের একত্ব অনুভব করে। অহং তার অধিষ্ঠান বিশ্ব অহং (যা বিশ্ব মনে থাকে)-এর সাথে নিজের একত্ব অনুভব করে। এই পরিস্থিতিতে মানবের প্রবণতা এবং প্রচেষ্টা হয় সার্বিকতা অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হতে, তার অধিষ্ঠান বিশ্বসত্তার সঙ্গে একত্ব হওয়ার অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হতে।
সর্বেসর্বা বা ঈশ্বর কারো অধীন নন। তিনি বিশ্বে সর্বময় কর্তা রূপে বিরাজ করেন মানুষ তার শোচনীয় অবস্থা জয় করতে সৃষ্ট হয়, সেজন্য সে সর্বেসর্বা ছাড়া আর কারও অধীন হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ তার ব্যক্তি অহং-এর বিলোপ সাধন করতে না পারবে এবং অহং-কে বহির্মুখী প্রবণতা থেকে ঊর্ধমুখী প্রবনতার দিকে চালিত করতে না পারবে ততক্ষণ সে অমানবীয় প্রবনতার দাস হয়ে থাকবে।
সুতরাং মানুষ প্রথমে তার অহংকে ঊর্ধ্বমুখী করুক। পরে তার অহং-এর বিলোপ সাধন করুক। মানুষ তার সার্বিকতা অনুভব করুক। মানুষ তার সার্বিকতা অনুভবে প্রতিষ্ঠিত হোক।। … [ক্রমশঃ]
