গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দের সাথে স্বামী বাউলানন্দজীর সাক্ষাৎ-এর কথা হচ্ছিল। গুরু মহারাজকে আকাশমার্গ অবলম্বন করে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে বাউলানন্দজী উপর দিকে উঠে নিজের কুঠিরে চলে গিয়েছিলেন, কিন্তু এই ব্যাপারটা বাইরের বারান্দায় বসে থাকা তিনজন বয়স্কা মা কিছুই জানতেন না। গুরু মহারাজ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে উপরে উঠে গেলেন এবং ঐ তিনজন মায়ের অনুমতি নিয়ে ঘরের ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলেন। সেখানে বৃদ্ধ সন্ন্যাসী ওনাকে জ্ঞানমার্গে দীক্ষা দিতে চাইলেন_কিন্তু দীক্ষার আগে গুরু মহারাজ জল খেতে গিয়ে গুরুর পায়ে ঠেকিয়ে তিনবার “গুরু পাদোদকং” বলে সমস্ত জল ঢকঢক্ করে খেয়ে নিলেন।
এর ফলে ওনার শরীরে একটা অদ্ভুত আবেশ সৃষ্টি হয়েছিল_আর ঠিক সেই মুহূর্তে গুরুদেব বাউলানন্দ, স্বামী পরমানন্দের মাথায় হস্ত স্থাপন করে একেবারে স্থির হয়ে গিয়েছিলেন। গুরুও স্থির_শিষ্য‌ও স্থির! কিন্তু একটা প্রচন্ড dynamic force উভয়ের মধ্যে ক্রিয়াশীল হতে থাকলো! গুরু মহারাজ পরবর্তীতে আমাদের কাছে এই ঘটনাটা বিস্তারিত আলোচনা করেছিলেন! উনি বললেন_যে মুহূর্তে উনি আমার মাথায় হস্ত স্থাপন করলেন _অমনি আমার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলি যেন lock হয়ে গেল।আর দেখলাম বিদ্যুৎ তরঙ্গের মতো একটা শক্তির প্রবাহ হু-হু করে আমার মস্তিষ্কের কোষে কোষে ছড়িয়ে পড়ে_যেন print হয়ে যেতে লাগলো! আমি দু-একবার ওইগুলি ভিতরে না ঢুকতে দেবার চেষ্টা করলাম_কিন্তু তার এমন power, যে আমি আটকাতে পারছিলাম না !(ক্রমশঃ)
______০_______০_________০______
*** আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা ***
[ Spiritual Enquiry ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< স্বামী বাউলানন্দ >>
জিজ্ঞাসা :– আপনার কথামতে, পৃথিবীর প্রধান ধর্মমতগুলির মধ্যে, একটিই ব্যতিক্রমী ধর্ম আছে যেখানে কোনদিন বলপূর্বক নিজেদের প্রভাব বাড়ানাের চেষ্টা হয়নি। আপনি কি হিন্দুধর্মের কথা ইঙ্গিত করেছিলেন ?
উত্তর :—না, একেবারেই নয়। ‘হিন্দুত্ব’ কোন ধর্ম বা সম্প্রদায় নয়। ‘হিন্দুত্ব’ অর্থে অধ্যাত্মবিজ্ঞান, যা শাশ্বত, সনাতন ।
জিজ্ঞাসা :–তাহলে সেটি কোন ধর্মমত ?
উত্তর :—হিন্দুরাও একসময় মনে করতে আরম্ভ করেছিলেন যে তারা একটি বিশেষ ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ । তখন হিন্দুত্বের শাশ্বত সনাতন আধ্যাত্মিকতাকে নতুন করে সংস্থাপনের চেষ্টা কয়েকবার হয়েছে ইতিহাসে । এই প্রচেষ্টাই পরবর্তীকালে একটি প্রধান ধর্মমতের স্বীকৃতি পেয়ে যায়, কিন্তু সেই সাফল্য ও স্বীকৃতির পেছনে কোন বলপূর্বক ধর্মান্তকরণ বা অত্যাচারের নজীর পাওয়া যায় না। সাধারণভাবে কোন ব্যক্তিবিশেষের প্রতিনিধি হয়ে বা ঈশ্বরের নামে সেই আন্দোলন গড়ে ওঠেনি, সেই আন্দোলন হয়েছিল জীবনদর্শনের নামে, সকল প্রাণীর উর্ধ্ব অগ্রগতির সপক্ষে–। জীবনের উদ্দেশ্য, মানুষের দায়িত্ব, উদ্দেশ্য সাধনের প্রতি মানুষের ভূমিকা এবং মূল সূত্রগুলির সার্বজনীনতা—এগুলােই ছিল সেই শিক্ষার উপজীব্য ।
এই প্রচেষ্টাকে কোন নতুন ধর্ম বা প্রধান ধর্মমত না বলাই শ্রেয়। বলতে পারাে শাশ্বত হিন্দুত্বের পুনঃ সংস্থাপন।
জিজ্ঞাসা :–ঐ একইভাবে পুনঃসংস্থাপন এখন আর নতুন করে কি সম্ভব নয় ?
উত্তর :–না, সে সম্ভাবনার কোন অবকাশ নেই । কারণ সেই আন্দোলনের বাহকেরা নিজেরাই এখন মনে করছেন যে, তারা একটি পৃথক ও বিশেষ ধর্মমত বা গােষ্ঠীর প্রতিনিধি।
জিজ্ঞাসা :—তার মানে এই সাম্প্রদায়িক ধর্মমতগুলির গ্লানি শােধনের কোন সম্ভাবনার ইঙ্গিত ভবিষ্যতে নেই, তাই কি ?
উত্তর :—হ্যাঁ তাই এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোন প্রয়ােজনও নেই।
জিজ্ঞাসা :—আশ্চর্য ! কেন প্রয়ােজন নেই, যেখানে চারপাশে এত অধঃপতন ?
উত্তর :—কারণ সাম্প্রদায়িক ধর্মমতগুলির উদ্দেশ্য হচ্ছে সাহায্য করা, মানুষ যাতে তার অমানুষ প্রবৃত্তিকে অতিক্রম করে আগে মানুষ হয়ে উঠতে পারে, জন্মান্তরের মধ্যে দিয়ে প্রাপ্ত পশুপ্রবৃত্তিগুলিকে যাতে সে জয় করতে পারে। ধর্মীয় মতবাদের গুরুত্ব এইটুকু সামাজিক দায়িত্ব পালন করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। তারপর সেই মানুষ অধ্যাত্মশক্তির.জোরে আরও উন্নত হয়ে ওঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে। কিন্তু বাস্তবে ধর্মীয় মতবাদ মানুষকে সাম্প্রদায়িক করেছে এবং দলীয় স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে দেয়নি। একমাত্র আধ্যাত্মিক মহাপুরুষেরই সে শক্তি থাকে, ধর্মীয় মতবাদ এই দিক দিয়ে ব্যর্থ। গােষ্ঠীস্বার্থ সৃষ্টি করা এক ধরণের উন্নত পশুবৃত্তিরই নামান্তর।
ধর্মীয় মতবাদগুলির ক্রমাগত অগ্রগতি-বিরােধী কার্যকলাপ সত্ত্বেও, তাদের যে মূল সৎ-উদ্দেশ্য, তা কিছুটা সিদ্ধ হয়েছে। সব ধর্মমতেই অধিকাংশ মানুষ ব্যক্তি স্বার্থ ও গােষ্ঠীস্বার্থের উর্ধ্বে উঠেছেন আধ্যাত্মিক মহাপুরুষের প্রচেষ্টা ও শুভ সংকল্পের ফলে। প্রতি ধর্মমতেই কিছু মানুষ এখনও আছেন যারা **সাম্প্রদায়িক। এই কারণেই নতুন করে ধর্মমত সংস্কারের প্রয়ােজন নেই।
জিজ্ঞাসা :—আমরা বােধহয় এই আলােচনার মূল কেন্দ্রে পৌছে গেছি। এমতাবস্থায় উপায় কি ? কিভাবে পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ সম্ভব ?
উত্তর :—একমাত্র আধ্যাত্মিক জাগরণের দ্বারাই সম্ভব। আধ্যাত্মিকতার একটাই ভূমিকা–মনুষ্যত্বের জাগরণ। এই ভূমিকা পালন করতেই অতীত এবং বর্তমানের মহাপুরুষেরা সদা সক্রিয়। সমস্ত শাস্ত্রের এটাই অন্তর্নিহিত মূল ভাব। মানব সভ্যতার প্রাথমিক পদক্ষেপ হ’ল দলীয় ঐক্য অর্জন করা এবং অন্তিম উদ্দেশ্য হ’ল সবার মধ্যে এক তত্ত্বকে প্রত্যক্ষ করা। প্রাথমিক উদ্দেশ্য সিদ্ধ হলেই অন্তিম উদ্দেশ্যের প্রতি মানব সভ্যতা এগিয়ে যাবে । এই বিশ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্যও তাই।
জিজ্ঞাসা :—আরও বিশদভাবে জানতে আমরা উদগ্রীব। বাস্তবে কীভাবে এর প্রয়ােগ সম্ভব ।
উত্তর :—মানুষের দৃষ্টিভঙ্গী, ব্যবহার ও অভ্যাসের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে তার প্রবণতার ওপরে। আর তার প্রবণতা নির্ভর তার গতির ওপর—সেই গতি উর্ধ্বমুখী না নিম্নমুখী ? গতি স্বার্থমুখী না বিস্তারমুখী ?
সভ্যতার অগ্রগতি আধার করে আছে মূলতঃ মানুষের মধ্যে শক্তির রূপান্তরের ওপর এবং কিছুটা তার কাণ্ডজ্ঞানের ওপর। এই রূপান্তর নির্ভর করে ঈশ্বর, সৃষ্টি, জগৎ, মানুষ, মানুষের দায়িত্ব, জীবনের উদ্দেশ্য, উদ্দেশ্য সাধনের উপায়, সম্পর্ক এবং এই সমস্ত কিছুর অন্তর্নিহিত মূল ভাব সম্বন্ধে মানুষের সিদ্ধান্তের ওপর। ধারণা থেকে আসে সিদ্ধান্ত। সুতরাং মানব সভ্যতার মূল ভিত্তি হল ধারণা।
পৃথিবীতে এমন মানুষ একজনও পাওয়া যাবে না, যার ঈশ্বর সম্বন্ধে কোন না কোন ধারণা তৈরী হয়নি, ভুল বা ঠিক, স্পষ্ট বা অস্পষ্ট সে যাই হােক। সুতরাং পূর্বেই উল্লিখিত মৌলিক সূত্রগুলি সম্বন্ধে সকলেরই কমবেশী ধারণা আছে ।
অনেকেই বলেন যে, পৃথিবীতে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা ঈশ্বরের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। এই ধারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তথাকথিত নাস্তিকেরা বলে থাকেন যে, এই দৃশ্যমান জগতের পিছনে একটা কারণ অবশ্যই আছে। যেহেতু কারণ না থাকলে কার্য হতে পারে না। তাঁরা স্বীকার করেন যে, সৃষ্টির একটা নিয়ম যেহেতু আছে, সেই নিয়মের নিয়ন্তা-শক্তিও কিছু আছে। আস্তিকের ‘ঈশ্বর’ ও নাস্তিকের নিয়ামক ‘কারণ’ শব্দভেদে একই ধারণাপ্রসূত।
সুতরাং এমন কোন ব্যক্তি পৃথিবীতে নেই, যাকে ‘ঈশ্বর আছেন’ এ কথা বলার প্রয়ােজন আছে। যেহেতু ঈশ্বরের উপস্থিতি সম্বন্ধে সকলেই সচেতন, সেহেতু ‘ঈশ্বর এমন’ এবং ‘তেমন নন’, অথবা ‘ঈশ্বর এই’ এবং ‘এই নন’–ইত্যাদি প্রবচনের কোন প্রয়ােজন নেই। ঈশ্বর যেমনই হােন, যাই হােন, তাতে কিছুই এসে যায় না। যেহেতু নামভেদে ঈশ্বরের অস্তিত্ব সর্বত্র স্বীকৃত।
ঈশ্বরের অস্তিত্ব সম্বন্ধে ধারণা থাকলেও সেই ধারণা অনুযায়ী নিজেকে চালিত করবার প্রবণতা অধিকাংশের মধ্যে দেখা যায় না। যাদের মধ্যে দেখা যায়, তাদের পরিস্থিতি বা অবস্থা সেই সদিচ্ছার অনুকূল নয়। কারণ তাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় সূক্ষ্ম শক্তির গুণগত অভাব এবং কান্ডজ্ঞানহীনতা। অতএব, যদিও সমগ্র মানবজাতি ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ বা পরােক্ষভাবে স্বীকার করে এবং একাংশ যদিও সেই মীমাংসা অনুযায়ী পথ চলতে ইচ্ছুক, কেউই শেষ পর্যন্ত সফল হয় না । বর্তমান যুগে এটারই প্রয়ােজন সর্বাধিক। অর্থাৎ মানুষ যাতে নিজেকে ঈশ্বরপথে চালিত করবার শক্তি, সামর্থ্য ও উপায়টা পায়। একমাত্র আধ্যাত্মিক প্রেরণাতেই তা সম্ভব ।
এই উদ্দেশ্যে সমাজের সর্বস্তরে নিম্নলিখিত গুণগুলির বিকাশ ঘটাতে হবে। বিদ্যা এবং শক্তিকে অতিক্রম করে প্রেমের জাগরণ ঘটাতে হবে ; সমদর্শিতা, মনুষ্যত্ব, মানবিক সম্পর্ক, পরস্পর-নির্ভরতা, মানবিক দায়িত্ব, উদ্দেশ্য ও দায়িত্বের মার্গদর্শন সম্বন্ধে সুস্পষ্ট এবং সঠিক ধারণা গঠন হওয়া প্রয়ােজন। ধারণা তৈরী হওয়া মানেই জীবনে আধ্যাত্মিক অভিযান শুরু হওয়া।
এই আধ্যাত্মিক ধারণা থেকে সিদ্ধান্তে উপনীত হয় মানুষ। ধারণা ও সিদ্ধান্তের যুগপৎ শক্তিতে মানবজাতির মধ্যে অধ্যাত্ম-সংস্কৃতির বিকাশ হয় । অধ্যাত্ম-সংস্কৃতির আলােয় মানুষ অনুপ্রাণিত হবে মানুষের মত আচরণ করতে। মনুষ্যোচিত আচরণের ফলে তাদের সূক্ষ্ম শক্তির যথােচিত ব্যবহার হবে এবং সৃজনমুখী শক্তিকে নিজের মধ্যে ধারণ করার সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে। আর তাতেই মানুষ সার্বিকভাবে সভ্যতার পথে এগিয়ে যাবে।
পৃথিবীর সমস্ত মানুষকে এই শিক্ষা পৌঁছে দিতে হবে। যাঁরা দলীয় বা গােষ্ঠী স্বার্থের উর্ধ্বে উঠতে পেরেছেন তাঁরা এই শিক্ষাগ্রহণ করার অধিকারী, এঁদের প্রস্তুতি আগের যুগের মানুষের থেকেও কয়েক ধাপ এগিয়ে। তাদের গতি আধ্যাত্মিক প্রেরণায় ও সহযােগিতায় আরও উর্ধ্বমুখী করে দেওয়া উচিত। যেহেতু এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ, আশা করা যায় দুই দশকের মধ্যে, যারা সংখ্যালঘু, অর্থাৎ যারা আজও সংকীর্ণ সাম্প্রদায়িক স্বার্থে বন্দী, তারাও ততদিনে এই সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করতে পারবেন। এইভাবে সরাসরি একদিন ব্যক্তিস্বার্থ থেকে সমষ্টিস্বার্থে এবং শেষে সার্বজনীন সত্তায় উপনীত হওয়া অবশ্যই সম্ভব।
জিজ্ঞাসা :—কার দ্বারা এটা সম্ভব হবে ? রাজনীতি ? ধর্ম, না সমাজ ?
উত্তর :—তথাকথিত ধর্ম-আন্দোলন দ্বারা সম্ভব নয়, যেহেতু ধর্মীয় স্বার্থ আধ্যাত্মিক-বিরােধী হয়ে গেছে। রাজনীতিও অত্যন্ত ধর্ম-সংগঠন-নির্ভর হয়ে উঠেছে। তাই একমাত্র সমাজের মধ্যে থেকেই পরিবর্তন সম্ভব।
জিজ্ঞাসা :—সারা পৃথিবীতে সমাজ-সংস্কার করতে গেলে কী ধরণের পদ্ধতি গ্রহণ করা সম্ভব ?
উত্তর :–আধ্যাত্মিক ধারণা এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধান্তের ভিত তৈরী হলেই মানুষের (বিশেষ করে যারা গােষ্ঠী স্বার্থের উর্ধ্বে উঠেছেন) মধ্যে অধ্যাত্ম-সংস্কৃতির বিকাশ হবে এবং অচিরেই সমস্ত স্তরের মানুষের মধ্যে মনুষ্যত্বের বিকাশ দেখা যাবে।
জিজ্ঞাসা :–’সংস্কৃতি’ শব্দটির সংজ্ঞা কি ?
উত্তর—‘সংস্কৃতি’ শব্দটির মূল ভাবটি সমস্ত জগতকে যেন আলিঙ্গন করে আছে। সংস্কৃতি থেকেই আসে অনুভূতি, বিচার, চিন্তা, মীমাংসা, বাক্য এবং মানবতার মিলন। সংস্কৃতির মূলে আছে সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্তের মূলে রয়েছে ধারণা। … [ক্রমশঃ]