“বন্দে গুরুনীশভক্তানীশমীশাবতারকান্। তৎপ্রকাশাংশ্চ তচ্ছক্তীঃ কৃষ্ণচৈতন্যসংজ্ঞকম্।।”__আমি দীক্ষাগুরু- শিক্ষাগুরু প্রভৃতিকে, শ্রীবাসাদি ঈশ্বর ভক্তবৃন্দকে, অদ্বৈত প্রভুর প্রভৃতি ঈশাবতারদিগকে, ঈশ্বরের প্রকাশমূর্তি নিত্যানন্দ প্রভুকে, গদাধরাদি ঈশ্বরের শক্তিসমূহকে এবং শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যাখ্য ভগবানকে বন্দনা করি।” গৌরপ্রেমে প্রেমিক বাসুদেব ঘোষ গোবিন্দ ঘোষ ও মাধব ঘোষ এই তিন ভাই সদাসর্বদা বিভোর হয়ে থাকেন। এই তিন ভাইয়ের সকলেই সুগায়ক পদকর্তা ও প্রেমিক । এদের মধ্যে বাসুদেব ঘোষের চৈতন্য বিষয়ক প্রচুর পদ পাওয়া যায় _সম্ভবত তাঁর রচিত চৈতন্য বিষয়ক কোন জীবনীগ্রন্থ ছিল ‘চৈতন্যলীলা’ বা ‘চৈতন্য করচা’_এই ধরণের কোনো নামে, যা বর্তমানে আর পাওয়া যায়না । পরবর্তী কালে লিখিত চৈতন্য বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে মাধব ঘোষের কিছু পদ পাওয়া যায় । যাই হোক, আমাদের আজকের আলোচনার মুখ্য চরিত্র এই তিন ভাইয়ের অন্যতম _ভক্তপ্রবর গোবিন্দ ঘোষ। মহাপ্রভু তখন নীলাচলে চলে গেলেন অগণিত গৌরবঙ্গের ভক্তদের মধ্যে, এই তিন ভাইও প্রভুর বিয়োগব্যথায় আকুল হয়ে সদাসর্বদা গৌর চিন্তায়, গৌর কথায় নিজেদের নিয়োজিত রাখতেন। আর রথযাত্রার প্রাক্কালে গৌরভক্তদের সাথে নীলাচলে যেতেন প্রভুর দর্শনের আশায় ! এই মহাপুণ্যবান ভক্ত ভ্রাতাগণ মহাপ্রভুর সাথে রথযাত্রায় নৃত্য করতেন। মহাপ্রভুর ভাবোন্মাদ অবস্থায় নৃত্যের সঙ্গে সংকীর্তনও করতেন । ‘শ্রী মাধব ঘোষ, মুখ্যকীর্তনীয়াগণে। নিত্যানন্দ প্রভু নৃত্য করে যাঁর গানে।/ বাসুদেব গীতের করে প্রভুর বর্ণনে ।।/” _চৈতন্যচরিতামৃত আদিলীলা, 11 পরিচ্ছেদ। মহাপ্রভু গান শুনে সন্তুষ্ট হয়ে বাসুদেবের মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন । এইরূপ মহা গৌরভক্ত,তিন ভ্রাতার অগ্রগণ্য গোবিন্দর সাথে মহাপ্রভুর যে লীলা হয়েছিল, সেই কাহিনী আজ এখানে বর্ণনা করার চেষ্টা করা হবে । পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়ার অনতিদূরে কুলাইগ্রামে বাসুদেব, গোবিন্দ ও মাধব ঘোষের জন্ম হয়। ধন্য তাঁদের পিতা-মাতা! যাঁদের তিন-তিনটি সন্তানই গৌর পাদ-পদ্মে নিজেদের সমর্পণ করতে পেরেছিলেন! ‘কুলপঞ্জিকা’_গ্রন্থে রয়েছে_ গোবিন্দের পিতামহের নাম ছিল গোপাল ঘোষ, পিতা বল্লভচন্দ্র ঘোষ। গোপাল ঘোষ পরমবৈষ্ণব ছিলেন। __”ধন্য রে গোপাল ঘোষ সকলি বৈষ্ণব,/ যে কুলে জন্মিলা বাসু, গোবিন্দ, মাধব ।”/ গৌর পার্ষদ হিসাবে একই বাড়ির আর‌ও তিন ভ্রাতা ছিলেন যড়গোঁসাই-এর অন্যতম শ্রীরূপ, সনাতন ও বল্লভ (অনুপম)! এছাড়াও অনেকের মধ্যে বর্ধমান জেলার শ্রীপাট শ্রীখন্ডের পদকর্তা নরহরি ঠাকুরেরাও তিন ভ্রাতাই চৈতন্যপার্ষদ হবার করুণা লাভ করেছিলেন। যাই হোক, আমাদের আলোচনার ওই তিনভ্রাতার মধ্যে গোবিন্দ আবার মহাপ্রভুর কাছে কাছে থাকার বা তার সেবা করার দুর্লভ সুযোগ লাভ করেছিলেন । “রামাই নন্দাই দোঁহে প্রভুর কিঙ্কর/ গোবিন্দের সঙ্গে সেবা করে নিরন্তর।। (চৈ.চ._১০ পরিঃ)