কবিশেখর কালিদাস রায় লিখেছিলেন :–
“রূপ-সনাতন রহেন দু’জন সাধন-ভজন রত,
কে আসে কে যায় ব্ৰজে তার খোঁজ রাখেন না অতশত।
পাণ্ডিত্যের খ্যাতি তাঁহাদের রটিয়াছে সারা দেশে,
বিচারমল্ল তাই শুনে আজ অভিযান করে শেষে।
দুইভাই ব্ৰজে প্রেমাবেশে মজে বিভাের আছেন সুখে,
যুদ্ধং দেহি হাঁকিয়া দাঁড়াল সে তাঁদের সম্মুখে।
পরমাগ্রহে মৃদু হাসি দোঁহে বসাইয়া সমাদরে,
বিজয়পত্র লিখিয়া দিলেন জয়-ভিখারির করে।৷”
পণ্ডিত বল্লভভট্ট এসেছেন বৃন্দাবনে। শুনেছেন রূপ-সনাতনের পাণ্ডিত্যের কথা। তাই মনে একটু অহঙ্কার যে, তাঁদেরকে তর্কযুদ্ধে পরাস্ত করে নিজের পাণ্ডিত্য জাহির করা। সেইসময় রূপ গােস্বামী তাঁর বিখ্যাত পুঁথি ‘ভক্তিরসামৃত সিন্ধু’ রচনায় ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তিনি পণ্ডিতপ্রবরকে অভ্যর্থনা করে বসতে দেবার পর আবার নিজের রচনার কাজে নিমগ্ন হয়ে গেলেন। কিন্তু পণ্ডিত ছাড়বেন কেন? ‘ঐটা কি লিখছেন’– ‘মঙ্গলাচরণটা একটু পড়ে শােনান’–ইত্যাদি নানান আব্দার তাঁর। শেষে পুঁথি বন্ধ করে রূপ মঙ্গলাচরণের অংশবিশেষ পণ্ডিতকে শােনালেন। শুনে পণ্ডিতপ্রবর বললেন যে, ব্যাকরণের নানা ত্রুটি রয়েছে এতে। পরমবৈষ্ণব রূপ গােস্বামী সাথে সাথে পুঁথিটি পণ্ডিতকে দিয়ে বিনয়ের সঙ্গে অনুরােধ করলেন যাতে তিনি ত্রুটিগুলি সংশোধন করে দেন। এরপর রূপ গােস্বামী স্নানাদিকর্মে চলে গেলেন। পণ্ডিত বসে গেলেন ভুল সংশােধন করতে। তরুণ শ্রীজীব গােস্বামী একপাশে চুপচাপ বসেছিলেন—পণ্ডিতবর যেই একটা শব্দ সংশােধন করার জন্য উদ্যত হয়েছেন, অমনি শ্রীজীব হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন – “আপনার এত স্পর্ধা রূপ গােস্বামীর লেখায় কলম চালান !” পণ্ডিত ঐটুকু ছেলের হুঙ্কার শুনে চমকে উঠলেন। তারপর কি ভুল রয়েছে তা বলতেই শ্রীজীব সাথে সাথে ঐ শব্দের প্রয়ােগ কেন ঠিক তার তিন-চার রকম ব্যাখ্যা দিয়ে দিলেন। পণ্ডিত অবাক হয়ে এবং অপমানিত বােধ করে ঘেমে নেয়ে শ্রীজীবকে জিজ্ঞাসা করলেন—”এই অসাধারণ জ্ঞানশিক্ষা কোথা থেকে পেয়েছেন ?” শ্রীজীব জোড়হাতে বললেন– “যাঁর লেখায় আপনি কলম চালাতে চেয়েছিলেন আমি তাঁদেরই শিষ্য ও সন্তান।” পণ্ডিত তাঁর পাণ্ডিত্যের ঝুলি নিয়ে চম্পট দিলেন। অন্যান্য আশ্রমিকরা বা স্থানীয় মানুষেরা ঘটনাটি দেখে তরুণ শ্রীজীবের কৃতিত্ব বাড়ানাের জন্য জয়ধ্বনি করতে লাগল। রূপ গােস্বামী ফিরে এসে সব জানলেন, আর নতমস্তকে দাঁড়িয়ে থাকা শ্রীজীবকে বললেন, ”তুমি কি জানতে না যে, পণ্ডিতবর ভ্রান্ত, তা জেনেও আমি তাঁকে আহত করতে চাইনি, তাঁর কাছে নতিস্বীকার করেছি।” মহাপ্রভুর পবিত্র শিক্ষা–“তৃণাদপি সুনীচেন তরােরপি সহিষ্ণুনা। অমানিনা মানদেন কীর্তনীয়ঃ সদা হরিঃ॥” –(যার বাংলারূপ কালিদাস করেছেন- “তরু হতে যেবা হয় সহিষ্ণু তৃণহতে দীনতর, সেই বৈষ্ণব জয়গৌরব ভাবে না সে কভু বড়।”) এই বৈষ্ণবধর্ম পালন থেকে বিচ্যুত হওয়ায় প্রাণাধিক ভ্রাতুপুত্র এবং নিজের হাতে গড়া দিকপাল শিষ্য শ্রীজীবকে– বৃন্দাবনের ভক্তিসাম্রাজ্যের ভাবী অধ্যক্ষকে বিতাড়িত করতে শ্রীরূপ গোস্বামীর একমুহূর্তও সময় লাগল না। বললেন, “যশপ্রতিষ্ঠা শুকরীবিষ্ঠা মেখে এলে সারা গায়।” বৈষ্ণবীয় নীতি-নিষ্ঠ বিষয়ে তিনি এমনি কঠোর ছিলেন।
এই ঘটনার পর অনুতাপে দগ্ধ শ্রীজীব গুরুকে প্রণাম করে যমুনার তীরে জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নিলেন। সেখানে এক পর্ণকুটীরে অনাহারে, অনিদ্রায়, তপঃক্লিষ্ট জীবনযাপন করতে লাগলেন। তিনি সংকল্প করলেন যে, যতদিন না তাঁর গুরুর তিরস্কারের হেতু সংশোধন করতে না পারছেন ততদিন তিনি এইভাবেই জীবন কাটাবেন, তাতে যদি জীবন চলে যায় তাতেও কোন ক্ষতি নেই। এত ঘটনা যখন ঘটে চলেছে তখন কিন্তু সনাতন গােস্বামী বৃন্দাবনে ছিলেন না। শ্রীজীব গােস্বামী জঙ্গলের মধ্যে কুটীর নির্মাণ করে প্রায়ােপবেশন থেকে সাধনভজন করতেন, স্থানীয় মানুষজনেরা কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর সন্ধান পেয়ে তাঁকে পীড়াপীড়ি করে যৎসামান্য আহার্য গ্রহণ করতে বাধ্য করতেন, এইভাবেই অনশনক্লিষ্ট দেহে প্রায় ছয়মাস শ্রীজীব বেঁচেছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে সনাতন গােস্বামী বৃন্দাবনে ফিরে আসছেন। বৃন্দাবনে ঢােকার মুখে জঙ্গলের রাস্তা, লােকজনেরা বৃন্দাবনের অন্যতম রত্নকে বহুদিন পরে পেয়ে আনন্দে অভিনন্দন করছেন, কেউ বসিয়ে জলসেবা করাচ্ছেন, কেউবা পাখার বাতাস। কথায় কথায় উঠল এক নবীন ব্রহ্মচারী বৈষ্ণবের কথা যিনি এই ছয়মাসব্যাপী জঙ্গলের মধ্যে অনাহারে সদাসর্বদা নয়নজলে ভাসতে ভাসতে কৃষ্ণনাম জপ করে চলেছেন। চমকে উঠলেন সনাতন—কে এই তরুণ ব্রহ্মচারী ! যিনি বৃন্দাবনের রজঃকে এইভাবে ধন্য করছেন তপঃপ্রভাবের দ্বারা। ছুটে গিয়ে পৌঁছালেন তিনি সাধকের কুটীরে। কি দেখলেন তিনি ! ‘চর্মাবৃত যেন একটি কঙ্কাল কোটরাগত চক্ষু থেকে শুকিয়ে যাওয়া জলের ধারা ফেলে ফেলে ক্ষীণকণ্ঠে কৃষ্ণনাম জপ করছে। আবেগ চেপে রাখতে পারলেন না সনাতন। ঝাঁপিয়ে পড়ে বুকে তুলে নিলেন শ্রীজীবকে। “রূপ-সনাতন যাঁর গুরু পিতৃব্য সেই তাের এত কৃচ্ছসাধনের কি প্রয়ােজন ? আমাদের সেবা করেই তাে তুই মহাপ্রভুর কৃপালাভ করেছিস আর তাে তাের এইরূপ সাধনার প্রয়ােজন নেই”–সনাতন সস্নেহে বললেন। তারপর শ্রীজীবকে যৎপরােনাস্তি সান্ত্বনা বাক্য দিয়ে সনাতন ফিরে গেলেন আশ্রমে। শ্রীরূপ তখনও ‘ভক্তিরসামৃত সিন্ধু’ রচনা সাঙ্গ করতে পারেননি। সনাতন তাঁর কারণ জিজ্ঞাসা করায় শ্রীরূপ বলে ফেললেন শ্রীজীব আশ্রমে না থাকার কথাটা। শ্রীজীব থাকলে এই কাজে ‘তাঁকে অনেকটাই সাহায্য করত’, না থাকায় পুঁথি লেখার কাজটা পিছিয়ে গেছে। সুযােগ পেলেন সনাতন, জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তাকে ত্যাগ করার কারণ’। সবিস্তারে বললেন রূপ গােস্বামী দাদা সনাতনকে। সনাতন শুধু জ্যেষ্ঠ ভ্রাতাই নন গুরুদেবও, তাঁর অন্তরে দেবতার স্থানে বিরাজিত সনাতন। তাই তিনি ঘটনার বিস্তারই শুধু করলেন না কোথাও কোন ভুল হয়েছে কিনা তাও জানতে চাইলেন। সনাতন বললেন তাঁর অভিজ্ঞতার কথা, শ্রীজীবের সাথে সাক্ষাতের কথা, জীর্ণ-শীর্ণ কঙ্কালসার দেহে, শুষ্কপ্রায় নয়নের অশ্রুপাতের কথা, সদাসর্বদা ক্ষীণকণ্ঠের হরিনাম-কৃষ্ণনামের কথা। সব শুনে যন্ত্রণায় দুমড়ে মুচড়ে উঠল শ্রীরূপের বুক। হায়-হায় করে উঠলেন তিনি, একি ভুল তিনি করেছেন। তাঁর উন্মাদের মত আচরণ দেখে ছুটে এল আশ্রমস্থ বৈষ্ণব-ব্রহ্মচারীর দল। তিনি আদেশ করলেন, “যত তাড়াতাড়ি পারাে আবার শ্রীজীবকে আমার কোলে ফিরিয়ে নিয়ে এস।” লােকজন ছুটল সেখানে, ফিরিয়ে নিয়ে এল শ্রীজীবকে। অর্ধমৃত কঙ্কালসার শ্রীজীবকে দেখে রূপের আর কান্না থামে না । তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেবলই কাঁদতে লাগলেন, আর মহাপ্রভুর কাছে নিজকৃত অপরাধের জন্য ক্ষমা- প্রার্থনা সহ প্রিয় শিষ্যের দ্রুত আরােগ্যের জন্য প্রার্থনা করতে লাগলেন।
বৃন্দাবনের বৈষ্ণবসমাজেও এই ছাড়াছাড়ির ঘটনা নিয়ে নানান সমালােচনার বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল। সনাতনের মধ্যস্থতায় আবার ত্রিরত্নের পুনর্মিলনে বৈষ্ণবসমাজও আশ্বস্ত হ’ল। শ্রীরূপের সাথে শ্রীজীবের মিলনদৃশ্য কবি কালিদাস রায় বর্ণনা করেছেন–
“সনাতন সাথে শ্রীজীব চলেন, কঙ্কালসার দেহ,
অরুণ নয়ন ছিন্ন বসন, চিনিতে পারে না কেহ।
জীবে বুকে ধরি কাঁদিলেন রূপ অবুঝ শিশুর মতাে,
বারবার তাঁর ললাট চুমিয়া জুড়ায়ে দিলেন ক্ষত।
চারিচক্ষুর ধারায় তিতিল বৃন্দাবনের রজ,
শুচি হল তায় দিগবিজয়ীর পরশে অশুচি ব্রজ।”
শ্রীজীব গােস্বামী অপরাধক্ষালনের জন্য শুধু কৃষ্ণনাম জপ করেছিলেন—কেন তা করলেন ? চৈতন্যচরিতামৃতকার লিখেছেন :– “কৃষ্ণনাম হৈতে হবে সংসারমােচন, কৃষ্ণনাম হৈতে পাবে কৃষ্ণের চরণ।
নাম বিনা কলিকালে নাহি আর ধর্ম, সর্বমন্ত্র সার নাম এই শাস্ত্রমর্ম।৷
হরের্নাম হরের্নাম হরের্নামৈব কেবল।
কলৌ নাস্তেব নাস্তেব নাস্তের গতিরন্যথা।৷”
তাই এখনও সারা বাংলার গ্রামে গ্রামে চৈত্র-বৈশাখ মাসে সন্ধ্যা হলেই মৃদঙ্গ ও করতালের শব্দে মুখরিত হয় আকাশ বাতাস, আর সঙ্গীতের মধুর মূৰ্ছনায় ভেসে আসে – “হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে।
হরে রাম হরে রাম রাম রাম হরে হরে।”
চৈতন্যমহাপ্রভুর লীলাসহচরদের জীবনেই যদি এত লীলা সংঘটিত হয়, তাহলে স্বয়ং মহাপ্রভু যে লীলাময় তা বলাই বাহুল্য।
বন্দে চৈতন্যদেবং তং / ভগবন্তং যদিচ্ছয়া।
প্রসভং নৃত্যতে চিত্ৰং / লেখরঙ্গে জড়হপ্যয়ম্। (“যাঁর ইচ্ছায় এই জড়ব্যক্তিও লিখনকার্যরূপ ভূমিতে উৎসাহের সহিত আশ্চর্যরূপে নৃত্য করতে সমর্থ হয়, সেই ভগবান শ্রীচৈতন্যদেবকে আমি বন্দনা করি।”)
“জয় জয় শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য গৌরচন্দ্র, জয় জয় পরমানন্দ, জয় নিত্যানন্দ।
জয় জয় অদ্বৈত আচাৰ্য্য কৃপাময়, জয় জয় গদাধর পণ্ডিত মহাশয়।
জয় জয় শ্রীবাসাদি যত ভক্তগণ, প্রণত হইয়া বন্দো সবার চরণ।”

  • * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * * *
    এরপর থেকে বৃন্দাবনে প্রভু শ্রীকৃষ্ণচৈতন্যের আদিষ্ট কর্মে নিজেদেরকে নিয়ােজিত করলেন এই ত্রিরত্ন–রূপ গােস্বামী, সনাতন গােস্বামী ও শ্রীজীব গােস্বামী। এই তিনজনের উপস্থিতিতে তৎকালীন ব্রজমণ্ডলে (মথুরা, বৃন্দাবন ইত্যাদি স্থানে) বৈষ্ণবদের সাধনায় চরম উৎকর্ষতা লাভ হয়েছিল। তৎকালীন বৈষ্ণবসমাজের গুহ্য সাধনপ্রণালীর কথা ও সাধকদের কথা লিখিত আকারে বহু বৈষ্ণবসাধক বহু গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। যা থাকলে এ যুগে বৈষ্ণবসমাজে তথা সকল মানুষের কাছেই তা পরম সম্পদ হয়ে থাকতাে। কিন্তু কথিত আছে মুঘল আক্রমণের সময় অনেকগুলি গােরুর গাড়ি বােঝাই পুঁথি সমূহকে নিরাপদে সরিয়ে রাখার জন্য যখন ঐ সমস্ত অঞ্চল থেকে বাংলার দিকে নিয়ে আসা হচ্ছিল, তখন পথিমধ্যে মুসলমান সৈন্যরা আক্রমণ করে সেগুলি কেড়ে নেয় এবং তা পুড়িয়ে সৈন্যদের রান্নার কাজ করে।
    এইভাবেই একটা বিরাট অধ্যায়ের অপমৃত্যু ঘটে। খ্রীষ্টানরাও বহু দেশ দখল করেছে কিন্তু কখনও তারা কোন সংস্কৃতিকে নষ্ট করে দেয়নি, অপরপক্ষে রূপান্তর ঘটিয়েছে। মুসলমান আক্রমণের ইতিহাসে দেখা যায় ওরা বিজিত জাতির সংস্কৃতি, সাহিত্য, স্থাপত্য এগুলাে নষ্ট করে দিয়েছে। এরফলে ইতিহাস বিকৃত হয়েছে ; উত্তরকালের মানুষ সঠিক তথ্য সঠিকভাবে পায়নি, বিদেশীদের ইতিহাস পড়ে দেশের ইতিহাস জানতে গিয়ে ভুল শিক্ষা গ্রহণ করেছে। তবে আশার কথা এই যে, জগতে তাে কিছুই হারিয়ে যায় না। মহাপুরুষগণ পারেন কালের গর্ভে লুকিয়ে থাকা সত্যকে উদঘাটিত করে মানুষের দরবারে পৌঁছে দিতে। তা তাঁরা করছেনও, স্বামী বিবেকানন্দ অনেক অজানা ইতিহাসের সত্য উদঘাটন করেছেন, আধুনিককালে স্বামী পরমানন্দ পুরাণ ও মহাকাব্যের ঐতিহাসিক ও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন প্রকৃত সত্য কি ! তিনি আরও বলে গেলেন সত্য স্বয়ংপ্রকাশ কাল প্রসন্ন হলেই সত্য আপনা আপনি প্রকাশিত হয়ে যাবে।
    যাইহােক বৃন্দাবনকে অন্ধকার করে এক আষাঢ়ী পূর্ণিমায় বৃদ্ধ বয়সে সনাতন গােস্বামী ইহলােক ত্যাগ করে চৈতন্যলােকে গমন করেন। দেবপ্রতিম জ্যেষ্ঠভ্রাতা, শিক্ষাগুরু এবং জীবনের সকল কর্মের উদ্যোক্তা ছিলেন সনাতন গােস্বামী, তাই তাঁর বিচ্ছেদ রূপের পক্ষে অসহনীয় হয়ে উঠল। কেঁদে কেঁদে সনাতনের শেষকৃত্য ও ভাণ্ডারা সম্পন্ন করলেন। তারপর প্রবেশ করলেন নিজ ভজন কুটিরে। জীবনের অবশিষ্ট কয়েকটি দিন এই ভজন কুটির থেকে তিনি আর বের হননি, ইষ্টধ্যানে ও ইষ্টনামে নিরন্তর আত্মনিমগ্ন থাকতেন। শােনা যায় সনাতনের অপ্রকটের মাত্র ২৭ দিনের মধ্যেই রাধাদামােদর মন্দিরে রূপ গােস্বামীও ভবলীলা সাঙ্গ করেন। বৈষ্ণবসমাজের দুই উজ্জ্বল নক্ষত্র এইভাবেই অধ্যাত্ম আকাশ থেকে অন্তর্হিত হল, যার আলাের রেখাটা আজও রয়ে গেছে অগণিত ভক্ত হৃদয়ে, বৈষ্ণবসমাজের মনের মণিকোঠায়।