বৈষ্ণবশাস্ত্রে সাধকদের উদ্দেশে কয়েকটি অপরাধের কথা বলা হয়েছে। যেমন সেবা-অপরাধ, বৈষ্ণব-অপরাধ ইত্যাদি। এর মধ্যে বৈষ্ণব-অপরাধ অন্যতম বড় অপরাধ। গুরুজনের সেবা করতে গিয়ে যদি কোন ত্রুটি হয় সেটা সেবা-অপরাধ। নিষ্ঠা সহকারে সেবার দ্বারাই সেবা-অপরাধ দূরীভূত হয়। কিন্তু বৈষ্ণব- অপরাধের মার্জনা করা বিষ্ণুরও হাতে নয়। যে বৈষ্ণবের নিকট এ অপরাধ করা হয়েছে একমাত্র তিনি ক্ষমা করলেই তবে এই অপরাধের মার্জনা হয়। সনাতন গােস্বামীকে মহাপ্রভু আদেশ করেছিলেন—লুপ্ততীর্থ উদ্ধারের জন্য বৃন্দাবন বাসের। শ্রীসনাতন কৃষ্ণ-লীলাস্থল উদ্ধারে অশ্রুসজল নয়নে বনে বনে ঘুরতে লাগলেন। কিন্তু কি আশ্চর্য! এত আলাে কেন ? স্নিগ্ধ আলোয় সনাতন ভবনেত্রে দেখতে লাগলেন অপার্থিব দৃশ্য ! স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণ বৃন্দাবনের গোপ-রমণী অথবা গােপ- বালকগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন লীলা করে চলেছেন। দ্বাপরের লীলা এ যুগে তাঁর নিকট প্রকটিত হল। কোন কোন ভাগ্যবানের মতাে বৈষ্ণব শিরােমণি সনাতনও দেখলেন এই লীলা। ঐ সময় এক কুৎসিত দর্শন বৈষ্ণব সনাতন গােস্বামীর নাম শুনে তাঁকে দেখার মানসে বহুদূর পথ অতিক্রম করে সনাতনের কুটিরে এসে পৌঁছান। পথশ্রমে ক্লান্ত বৈষ্ণব জানতে পারেন সনাতন গােস্বামীজী বনমধ্যে ধ্যানস্থ রয়েছেন। উনি একটুও বিশ্রাম না নিয়ে তাঁকে খুঁজে বের করলেন। দেখলেন সনাতন গােস্বামী যমুনাতীরে এক বৃক্ষতলে বসে আছেন আর মৃদু মৃদু হাসছেন। বৃদ্ধ বৈষ্ণব ভাবলেন যে, তাঁর কুৎসিত চেহারা ন্যুব্জ-কুব্জ হয়ে গেছে দেখে সমাজের ছেলে-ছোকরার মতাে বৈষ্ণব শিরােমণি সনাতনও উপহাস করছেন। এই ভেবে বৃদ্ধ দুঃখিত মনে ফিরে যেতে যেতে শুনলেন সনাতন হাে হাে করে হেসে বৃন্দাবনের রজঃ গায়ে মাখছেন আর ধুলােয় লুটিয়ে পড়ছেন। পরম বৈষ্ণবের প্রতি মনে একরাশ ঘৃণা নিয়ে বৃদ্ধ বনপথে অন্তর্হিত হবার সঙ্গে সঙ্গে ঘটল এক মহা ঘটনা। তখন সনাতন গােস্বামী তাে বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত অবস্থায় শ্রীকৃষ্ণ প্রভুর লীলাদর্শন করছিলেন— তিনি দেখছিলেন সামনেই যমুনার জলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গােপ-রমণীদের জল ছিটিয়ে ভিজিয়ে দিচ্ছেন কিন্তু কোন রমণীই প্রভুর গায়ে জলের ছিটা দিতে পারছেন না। চতুর-চূড়ামণি ঠিক সুকৌশলে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন। হঠাৎ একজন বিশেষ গােপিনী প্রভুকে জল দিয়ে ভিজিয়ে দিতেই উপস্থিত রমণীরা হাততালি দিয়ে আনন্দে হেসে উঠেছে আর সনাতন প্রভুও তাঁদের আনন্দে সামিল হয়ে হাে হাে করে হেসে উঠেছিলেন। কিন্তু বৃদ্ধ বৈষ্ণব তাে আর এসব জানেন না—তাই তিনি হাসিটাকে তাঁর প্রতি উপহাস ভেবে স্থান ত্যাগ করেছিলেন। কিন্তু অপ্রত্যক্ষ কারণে এই অপরাধেই সনাতনের লীলাদর্শন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেল। বাহ্যজগতে ফিরে এসে সনাতন হাউহাউ করে কাঁদতে লাগলেন। তিনি বুঝতে পারলেন নিশ্চয়ই তাঁর দ্বারা কোন অপরাধ হয়েছে—তাই এই অদর্শন। তিনি ছুটে এলেন তাঁর কুটিরে, শ্রীরূপ, শ্রীজীব এমনকি অন্যান্য সেবকদেরকেও তিনি হাতে-পায়ে ধরতে লাগলেন যদি কারও প্রতি কোন অপরাধ করা হয়ে থাকে। কিন্তু সকলে শশব্যস্ত হয়ে বললেন তাঁর কোন অপরাধ হয়নি। সনাতন তখন জানতে পারলেন ঐ বৃদ্ধ বৈষ্ণবের ফিরে যাবার কথা। তারপর সনাতন বনপথে ছুটে গিয়ে খুঁজে পেলেন বৃদ্ধকে। তাঁর পায়ে ধরে মিনতি করতে লাগলেন বারবার আর অঝােরে চোখের জল ফেলতে ফেলতে প্রার্থনা করতে লাগলেন অজান্তে করে ফেলা অপরাধ মার্জনা করার জন্য। অতবড় একজন পরম ভাগবত সনাতন গােস্বামীর শিশুসুলভ আচরণ দেখে বৃদ্ধ অবাক ! তারপর যখন তিনি সনাতণের বাহ্যজ্ঞানহীন অবস্থায় হাসির কারণ জানতে পারলেন তখন আর তাঁর লজ্জার সীমা থাকল না । সারাজীবন এই মহান বৈষ্ণবের চরণপ্রান্তে থাকার বাসনা জানালেন। আর তাঁর না জানা ভুলের জন্য তিনিও গােস্বামীজীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলেন। উভয় বৈষ্ণব উভয়কে প্রেমালিঙ্গনে আবদ্ধ করলেন। ব্যস ! সঙ্গে সঙ্গে আবার সনাতন গােস্বামীর লীলাদর্শন হতে শুরু করল, তিনি ছুটে চললেন যমুনার তটে।
এই ঘটনা থেকেই বােঝা যায়, বৈষ্ণব অপরাধ কি ভীষণ ! জ্ঞাতসারে এমনকি অজ্ঞাতে ঘটে যাওয়া বৈষ্ণব অপরাধও কি মারাত্মক হতে পারে ! সেইজন্যই শ্ৰীমন্মমহাপ্রভু মা শচীদেবীর বৈষ্ণব অপরাধ যাতে মার্জনা হয়ে যায় তাঁর ব্যবস্থা করলেন। এবার পুনরায় অদ্বৈত প্রসঙ্গে ফিরে যাওয়া যাক। ভাবােন্মত্ত মহাপ্রভু গয়া থেকে ফিরে নবদ্বীপে বিচরণ করছেন। শ্রীগৌরাঙ্গকে ‘মহাপ্রভু’ অদ্বৈতই বলেছিলেন। কিন্তু কিশাের বয়সেই অসাধারণ পাণ্ডিত্যলাভ করে নিমাই পণ্ডিত যখন তৎকালীন নবদ্বীপের বড় বড় পণ্ডিতদের তর্কযুদ্ধে হারিয়ে একের পর এক তাদের টিকি কাটতে লাগলেন তখন একটু-আধটু দ্বিধা-সংশয় অদ্বৈতের মনেও জেগেছিল। মনুষ্যে ভগবৎ-বুদ্ধি আরােপ করা সহজ কাজ নয় ! নানান পণ্ডিতেরাও অদ্বৈতকে কম কথা শােনায়নি—“এই তােমার মহাপ্রভু !” “এই তােমার শ্রীকৃষ্ণের নবকলেবর !” বিহ্বল অদ্বৈত তখন নতমুখে সরে যেতেন—প্রার্থনা করতেন, ‘প্রভু তােমার এ লীলা সংবরণ কর।’ গয়া থেকে ফিরে মহাপ্রভুর নতুন লীলা শুরু হোল–যাকে দেখেন তারই পায়ে পড়েন, চোখের জলে দু’গণ্ড ধুয়ে যায় সর্বদা। । ‘যে করে কানুর আশ ধরে তার পায় / সােনার পুতুলি যেন ধুলায় লুটায়।’ এই দৃশ্য দেখে বৃদ্ধ অদ্বৈতের সে কি স্ফূর্তি। সবাইকে ডেকে হেঁকে বলছেন, ‘দ্যাখাে, দ্যাখাে আমার প্রভুকে দ্যাখাে ! বৈষ্ণবের আচরণ কেমন হওয়া উচিত তা প্রভু স্বয়ং করে দেখিয়ে দিচ্ছেন— ‘আপনি আচরি ধর্ম জীবেরে শেখায়।” সেই প্রভু কাটোয়ার গঙ্গাতীরে প্রভুপাদ কেশব ভারতীর কাছে নিলেন সন্ন্যাস-দীক্ষা। তখন তাঁর অর্ধবাহ্যদশায় সর্বদা মুখে হরিকথা আর বৃন্দাবনের কথা। সর্বক্ষণের সাথী নিত্যানন্দ প্রভুকে ভুলিয়ে নিয়ে এসেছেন শান্তিপুরে। সন্ন্যাসীর আর স্বগৃহে যাবার নিয়ম নেই– তাই অদ্বৈতের আবাসে। প্রভু গঙ্গায় স্নান করছেন যমুনা ভেবে। সদ্য সন্ন্যাসপ্রাপ্ত সন্ন্যাসীর পরনে কৌপীন কিন্তু স্নানান্তে আর কৌপীন কোথায় পাবেন ! বাহ্যদশায় প্রভু দেখলেন অদ্বৈত ডাের-কৌপীন হাতে গঙ্গাতীরে সহাস্যে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। যমুনা নয় দেখে প্রভু দুঃখ করতে লাগলেন কিন্তু অদ্বৈত তাঁকে বােঝালেন, ‘তােমার পাদস্পর্শ যেখানে পড়েছে তাই বৃন্দাবন আর তােমার স্পর্শে আজ গঙ্গাই যমুনা’।
আচার্যের গৃহে আবার একটি যুগান্তকারী দৃশ্যপট তৈরী হতে চলেছে। কখনাে বাহ্যদশা, কখনাে অর্ধবাহ্যদশা, কখনাে অন্তর্দশায় থাকা মহাপ্রভু কখন যে কি করছেন তা সামলানাে নিত্যানন্দের একার পক্ষে খুবই মুস্কিল হয়ে যাচ্ছে। স্নানান্তে অদ্বৈতের গৃহে তুলসীমঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে প্রভুর আবার ভাবাবেশ হয়ে গেল, কৃষ্ণনাম উচ্চারণ করতে করতে স্তব্ধ হয়ে গেলেন মহাপ্রভু–মুখমণ্ডল থেকে এক মহাজ্যোতি বেরােতে লাগল—ঝলমল করে উঠল চতুর্দিক। আচার্য আর নিজেকে সংবরণ করে রাখতে পারলেন না, লুটিয়ে পড়লেন ষড়ৈশ্বর্যবান ভগবান মহাপ্রভুর চরণপ্রান্তে। ভক্ত হরিদাস সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তিনিও এই বিরল দৃশ্য দেখে আর স্থির থাকতে না পেরে মহাপ্রভুকে স্পর্শ করে শায়িত ও প্রণত অদ্বৈতের চরণ স্পর্শ করে ভূমিতে লুণ্ঠিত হলেন। কি অপরূপ অপার্থিব দৃশ্য ! আচার্যের আঙ্গিনায় এই নয়নাভিরাম দৃশ্যের প্রসঙ্গে ভক্তকবি মহাজন শ্ৰীবৃন্দাবন দাস লিখেছেন, ‘ধর্মসেতু হেন তিন বিগ্রহ প্রকাশে।’ আমরা সাধারণ মানুষেরা জোড়হাতে ভগবানকে, ভগবানের সাক্ষাৎ ভক্তদের এবং তাঁদের ভক্তদেরও প্রণতি জানাই। ভক্ত হরিদাসও কি কম ভক্ত ! মুসলমানের গৃহে পালিত হয়েও ছােট বয়স থেকেই হরিনামে প্রীতি। পালক-পিতা, মােল্লা- মৌলবিরা কত চেষ্টা করেছিল হরিনাম ভােলাতে কিন্তু কেউ পারেনি। পরে যখন মুসলমান শাসনকর্তার কানে উঠল একথা তখন তিনি আদেশ দিলেন বাইশ বাজারে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এই বিদ্রোহী কাফেরকে বেত্রাঘাত করতে। আদেশ অনুযায়ীই বাজারে বাজারে বেত্রাঘাতে ক্ষতবিক্ষত রক্তাক্ত হরিদাসকে মারতে না পেরে পাইকেরা কাজীর কাছে মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে তাঁরই শরণাগত হল, তখন মহাভক্ত হরিদাস বাহ্যজ্ঞানহীন সমাধিস্থ হলেন। পাইকরা তখন কাজীর আদেশে তাঁকে মৃত বলে গঙ্গার জলে ফেলে দিল। হরিদাস ভাসতে ভাসতে গঙ্গার পরপারে ফুলিয়ায় এসে হরিনাম করতে লাগলেন। অদ্বৈতের মতাে তিনিও নবদ্বীপে গৌরাঙ্গের আবির্ভাব জানতে পারলেন। আচার্য তাঁকে বললেন, ‘শ্রীবাসের অঙ্গনে প্রত্যহ সন্ধ্যায় প্রভুর আগমন হয়, সেখানে গেলেই তাঁর দর্শন হবে। অদ্বৈতের কথামতাে হরিদাস শ্রীবাসের অঙ্গনে এককোণে গুটিসুটি মেরে সকলের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সবাই তাঁকে ‘যবন হরিদাস’ বলত, তাই তাঁর এত কুণ্ঠা। এদিকে বাহ্যদশায় মহাপ্রভু তখন নামকীর্তন করতে শুরু করে দিয়েছেন। সকলে মহানন্দে লম্পঝম্ফ করে নৃত্য করছে। ‘বহিরঙ্গ সঙ্গে করে নাম-সংকীর্তন, অন্তরঙ্গ সঙ্গে করে প্রেম আলাপন।’ বাইরে সংকীর্তন হত আর এতে অনেকেই যােগদান করত। কিন্তু সেদিন হঠাৎ মহাপ্রভুর উন্মাদ-নৃত্য থেমে গেল। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মহাপ্রভু ধুলায় লুষ্ঠিত হয়ে গেলেন। ভক্তকুল হতবাক। বিস্ময়ে, ভয়ে সকলে আকুল–কি হােল মহাপ্রভুর ! নিতাই প্রভুর কানে কানে জিজ্ঞাসা করলেন—“প্রভু কি হয়েছে তোমার ?” প্রভু কথা বলতে পারছেন না—শুধু একদিকে আঙুল দেখিয়ে বলছেন, ‘ওই-ওই’, আর নিদারুণ অব্যক্ত যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। মহাপ্রভুর কষ্ট দেখে ভক্তেরা ব্যাকুল হয়ে বলছেন, ‘প্রভু, এত কষ্ট তােমার কিসে লাঘব হবে ?’ প্রভু একটু সামলে বললেন, ‘এক মহাপবিত্র পরম বৈষ্ণব এখানে উপস্থিত রয়েছে কিন্তু সে আমার স্পর্শ বাঁচিয়ে নিজেকে দূরে রেখেছে তাই আমার এত কষ্ট ! এক্ষুনি যদি সে আমাকে স্পর্শ করে ধন্য না করে তাহলে আমার শরীর ছুটে যাবে, এই যন্ত্রণা আমি সহ্য করতে পারছি না। তােমরা শীঘ্র তাঁকে আমার কাছে নিয়ে এস, তাঁর পবিত্র স্পর্শে আমার এই উত্তপ্ত দেহ একটু জুড়াই।’
কে সেই মহাবৈষ্ণব, সকলে ভিড়ের মধ্যে খুঁজতে লাগল। নিতাই একলাফে মহাপ্রভুর অঙ্গুলি নির্দেশিত পথে ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে দেখেন—গুটিসুটি মেরে একজন বসে বসে আকুল নয়নে কাঁদছেন আর ছটফট করছেন। নিতাই তাঁর কাছে যেতেই তিনি যেন আরও গুটিয়ে যেতে লাগলেন, হঠাৎ প্রভু বলে উঠলেন–’ওই-ওই’। রুদ্রাবতার নিত্যানন্দ রুদ্র রূপ ধারণ করে জোর করে ধরে তাঁকে একরকম টানতে টানতে প্রভুর কাছে হাজির করলেন। প্রভু ভূমিশয্যা ত্যাগ করে উঠে দাঁড়াতেই, তিনি আবার ভূমিতে লুটিয়ে মুখ লুকালেন। এবার প্রভূ বললেন, ‘হরিদাস, তুমি নিজেকে দীনহীন ভাবাে আর লােকে তােমাকে ‘যবন’ বলে উপহাস করে—এটা যে আমার কি যন্ত্রণা, তা তােমাকে বোঝাতে পারবাে না, তবে এই মুহূর্তে যদি তুমি আমাকে স্পর্শ না করাে তাহলে আমার দেহপাত হয়ে যাবে।’ নিত্যানন্দ আবার জোর করে হরিদাসকে উঠালেন। দু’জন আলিঙ্গন-বদ্ধ হতেই, “জয় ভগবান গৌরাঙ্গ” “জয় ভক্তশ্রেষ্ঠ হরিদাস” নামে সকলে জয়ধ্বনি করতে লাগল। হরিদাস কেঁদে আকুল হলেন, ভগবানও কাঁদতে লাগলেন, ভগবান বললেন- ‘হরিদাস তােমার লাগেনি তাে’ হরিদাস বলল, ‘না প্রভু ! একটুও লাগেনি’। ভগবান আবার জিজ্ঞাসা করলেন, “তাহলে কাঁদছিলে কেন ?” হরিদাস বললেন—’প্রভু তােমার যে লাগছিল, তুমি যে আমাকে আঁকড়ে ধরেছিলে তাই ওদের চাবুকের ঘা তােমার সর্বাঙ্গে পড়ে ক্ষতবিক্ষত করছিল, সেই দুঃখে আমি কাঁদছিলাম।’ অদ্বৈত মনােযােগ দিয়ে এই কথোপকথন শুনছিলেন। নিত্যানন্দও শুনছিলেন, বললেন, ‘প্রভু, তােমাদের মধ্যে অনেককালের চেনাশােনা। তাহলে নাটক করছিলে কেন ?’ মহাপ্রভু বললেন, ‘এই নাটকের নাট্যকার অদ্বৈত–ওকেই জিজ্ঞাসা করাে এর কারণ।’
পরসংখ্যায় মহাপ্রভুর পরিজনদের নিয়ে আরও কিছু লীলার কথা আলােচনা করা যাবে। কারণ অদ্বৈত আচার্যের লীলাবর্ণনা করতে গেলেই অন্যান্য গৌর-ভক্তজনের লীলাও বর্ণিত হবে। পরিশেষে সুধী পাঠকজনের গৌর-গােবিন্দ পদে মতি হােক, শ্রীভগবান পরমানন্দের কাছে এই প্রার্থনা করি।