কোন এক দেশে এক রাজা ছিল ৷ রাজা নয় — মহারাজা । সে রাজ্যে মহারাজার সুশাসনে সবাই সুখী ছিল । কিন্তু “সুখ-দুখ দুটি ভাই”– যেখানে সুখ সেখানেই অসুখ । বিভিন্ন স্থানে ক্ষোভ-বিক্ষোভের ছোটখাটো ঘটনা রাজার কানে আসতে শুরু করল । একদিন রাজা ঠিক করলেন তিনি নিজে যাবেন প্রজাদের কাছে , প্রজাদের মাঝে ৷ সরাসরি তাদের সাথে মিশে তাদের কথা শুনবেন — তাদের দুঃখ-ব্যাথা অনুভব করবেন আর উৎসাহী ব্যক্তিদেরকে নিজের কথাও বলবেন ।
যেই ভাবা সেই কাজ ৷ ডাকলেন মন্ত্রী – পরিষদদের – ব্যক্ত করেলন মনের কথা! সবাই শুনল ৷ মহামন্ত্রী বললেন – “কিন্তু মহারাজ, আপনাকে তো রাজবেশে প্রজাদের সামনে যাওয়া চলবে না ।” রাজা বললেন – “সে কি জানিনা ভেবেছ — ছদ্মবেশ ধারণ করব । একদম সাধারণ মানুষের বেশে সাধারণ জনগণের কাছে যাব ৷ তবে তো তাদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে মিশতে পারব – তারাও অন্তরঙ্গ বা ঘনিষ্ট হতে পারবে ৷ নাহলে তো দূরত্ব থেকেই যাবে — কেউ কারো কাছেই অাসতে পারবো না । আর পরস্পরের কাছাকাছি না হলে আমার যে উদ্দেশ্য তা সফলও হবে না ৷” মহামন্ত্রী বললেন – “কিন্তু রাজন্ ! আপনাকে একা ছাড়া যাবে না — আপনার Security-র একটা ব্যাপার আছে । তাছাড়া যদি কোন প্রয়োজন হয় …. ।” রাজা বললেন – “হ্যাঁ মহামন্ত্রী ! আমি সেটাও ভেবে রেখেছি ৷ আমার সাথে তোমরা কয়েকজন যাবে ৷ তোমরাও ছদ্মবেশে থাকবে – পাশাপাশি, কাছাকাছি । প্রয়োজনে আমি তোমাদেরকে ডেকে নেব – আমার সুবিধার জন্য ৷”
এবার রাজা চললেন রাজ্য পরিভ্রমণে ছদ্মবেশে । সঙ্গের পার্ষদরা রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ৷ প্রয়োজনে তাদেরকে ডেকে নেবেন মহারাজ । রাজা চলেছেন – চলেছেন – চলেছেন ৷ একটা জায়গায় গিয়ে রাজা দেখলেন বেশ কয়েকজন কৃষক, গ্রামবাসী, পথিক ইত্যাদি অনেকে রাস্তার ধারে একটি বড় বৃক্ষের তলায় বসে ক্ষণিক বিশ্রামের জন্য — জমেছে ৷ ছদ্মবেশী রাজা সেখানেই থামলেন । কয়েকজন কর্মরত তখনও কাজ করে চলেছে দেখে তিনি হাঁকলেন – “এই যে চাষীভাই ! এস, এস, ক্ষণিক কাজে ক্ষান্তি দিয়ে একটু তামুক(হুঁকো) খেয়ে যাও ভাই !” তারাও এল – শুরু হল কথাবার্ত্তা । কত কথা । চাষ-বাসের কথা, খরা-বন্যার কথা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের কথা, আর সর্বোপরি রাজার কথা!!
ভিনদেশী বক্তা সকল কথার মাঝে-ই রাজার কথা বলে । সাধারণ প্রজারা রাজাকে কখনও দেখেনি, রাজার কথা অমন করে শোনার সময় বা সৌভাগ্য অতটা হয়নি । তাই তারা যত শোনে ততই হাঁ হয়ে যায় ।
রাজার গল্প শুনে অনেকে বলাবলি করে – “লোকটির বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত আছে, তাই ও বোধয় এত গল্পকথা শুনেছে ৷ ওসব গাঁজাখুরি গল্প শুনে কি লাভ ! চল ভাই খাই-দাই, মৌজ-মস্তি করি, আমরা খাটি খাই, আমাদের রাজার কথায় কাজ নাই।” — এই বলে একদল চলে গেল । যারা বসে থাকল এদের কেউ কেউ বলল – “লোকটি যখন রাজধানীর বর্ণনা দিচ্ছে তখন নিশ্চয়ই লোকটির রাজার রাজ্যের প্রধান প্রধান জায়গায় যাতায়াত রয়েছে ৷ রাস্তাঘাটের বর্ণনা না হলে কি আর দিতে পারতো !”
তারাও চলে গেল । বেশ কিছু জন তখনও বসে আছে ৷ রাজা এবার রাজধানীর রাস্তাঘাটের বর্ণনা সেরে রাজ-মহলের বর্ণনা শুরু করেছেন ৷ ততদূর অব্দি শুনে অনেকে বলাবলি করতে লাগল “না রে ! লোকটার রাজবাড়ীতে যাতায়াত রয়েছে, রাজমহলের কথা যখন বলছে !” – সেই দলও এইসব মন্তব্য করতে করতে চলে গেল ।
কথা হয়ে চলেছে – বেলা যত পড়ে আসছে ততই অন্তর জগতের কথা – অন্দর মহলের কথা! তখন উপস্থিত জনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে ৷ কেউ খাবার নিয়ে এসেছে — কেউ জল । কেউ আবার হুঁকোটা ধুয়ে এগিয়ে দিয়েছে “মশাই ! খান্ এক ছিলিম তামুক !”
এদিকে কি হয়েছে – যারা মহারাজের সঙ্গে এসেছিল অর্থাৎ মন্ত্রী পরিষদ , পার্ষদ – তারাও কোন কোন গাছতলায় ছোট ছোট দল করে নানান আলাপ আলোচনায় মত্ত হয়ে গেছে । তাদের আর রাজার প্রতি হুঁশই নাই (পঞ্চভূতের ফাঁদে ব্রহ্ম পড়ে কাঁদে ) । রাজার কিন্তু সবদিকে হুঁশ – সব দিকে নজর ! একে একে ডেকে ডেকে নিজের কাছে ডেকে নিয়েছে তাদের – প্রয়োজন মত দিয়েছে কাজের ভার । তারা কেউ রাজার ঝোলা থেকে বের করা রাজবাড়ীর ছবি সবাইকে দেখাচ্ছে ৷ কেউ প্রথমে শোনা কথাগুলো পরে আসা লোকদের বলে বলে বোঝাচ্ছে ৷ অনেকে আবার গল্পে এমন মশগুল যে রাজা আর প্রথমদিকে তাদের ডাকলোই না !
রাজা এবার বলছেন খাস অন্দরমহলের কথা ! রাজা-রাণীর গোপন কক্ষের কথা! রাজার আসল চেহারা কেমন – রাজবেশে তো রাজাকে সবাই দেখে – রাজবেশ খোলা, মুকুট খোলা — খোলামেলা রাজা ! প্রজানুরঞ্জক, দন্ডধারী, রাজসভার রাজা নয় — সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করা রাজার গল্প কজন জানে ? উপস্থিত জনেরা তন্ময় হয়ে শোনে ‘রাজার মুখে রাজার গল্প’ ৷ রাজা ছাড়া রাজার বর্ণনা কে আর অত ভালো করে বলতে পারে !
বেলা অবসান প্রায়, এবার খেলা ভাঙার খেলা! প্রজাদের অভাব অভিযোগ শুনে ছদ্মবেশী পার্ষদদেরকে ডেকে পাঠিয়ে তাদের অসুবিধা দূর করা জন্য বিভিন্ন Centre খুলে প্রতিবিধানের ব্যবস্থাও যেমন করলেন তেমনি রাজার প্রতি অনুরাগ যাতে জন্মায় তাই প্রজাদের কাছে সঠিকভাবে রাজাকে তুলে ধরলেন(রাজার স্তুতি করলেন) ৷
এবার তার আর একটা কাজ আছে ৷ যাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন – তাদেরকে সচেতন করে দেওয়া – “কই হে ! এখানে এসে মেতে গেলে যে! মনে নাই, কি তোমার কাজ ? ছাড়ো বৃথা সাজ — শুরু করো তোমার আসল কাজ !”
– গল্পটা শেষ করে গুরু মহারাজ বললেন এই যে এখানে পার্ষদ আর রাজার কথা বলা হোল, এটা যখন ভগবান নরশরীর ধারণ করে লীলা করতে আসেন মর্ত্তভূমে – এটা তার রূপক ৷ ভগবান একা আসেন না — সঙ্গী নিয়ে আসেন । কেউ হয়তো আগে এসে ‘রেইকি’ করে যায়, স্থান নির্ধারণ করে । কেউ একটু পরে আসে — কেউ কেউ সঙ্গেই থাকে । কিন্তু সঙ্গে এলে কি হবে — বেশীরভাগেরই স্থান-কালের প্রভাবে মায়াযুক্ত হয়ে কর্ত্তব্যকর্ম বিস্মৃত হয়ে যায় ৷ ভগবান-ই তাদেরকে ডেকে নেন — কর্তব্যে নিয়োজিত করেন ৷ আর ভগবান যখন নর শরীর ধরে লীলা করতে আসেন – তখন উপস্থিত জনেরা ধরতেই পারে না ইনি স্বয়ং ভগবান । কেউ কেউ ভাবে ইনি একজন সাধক ৷ কেউ ভাবে শুধু সাধক নয় – উন্নত সাধক ৷ কেউ আখ্যা দেয় মহাত্মা – মহাসাধক , মহাপুরুষ । কিন্তু ইনিই যে ‘স্বয়ং’ — সেটা কেউ বুঝতেই পারে না ৷ সঙ্গের সাথীরাও পঞ্চভূতের ফাঁদে ভুলে যায় – তাদের বিস্মরণ হয়ে যায় যে কি জন্য তাদের আসা!! সে সব দেখে রাজা হাসেন – পরে তিনিই আবার তাদের স্মৃতির জাগরণ ঘটান । হয় সঙ্গে করে নিয়ে চলে যান অথবা কর্তব্যকর্মে নিয়োজিত করে যথাস্থানে চলে যান ।(ক্রমশঃ)
যেই ভাবা সেই কাজ ৷ ডাকলেন মন্ত্রী – পরিষদদের – ব্যক্ত করেলন মনের কথা! সবাই শুনল ৷ মহামন্ত্রী বললেন – “কিন্তু মহারাজ, আপনাকে তো রাজবেশে প্রজাদের সামনে যাওয়া চলবে না ।” রাজা বললেন – “সে কি জানিনা ভেবেছ — ছদ্মবেশ ধারণ করব । একদম সাধারণ মানুষের বেশে সাধারণ জনগণের কাছে যাব ৷ তবে তো তাদের সাথে অন্তরঙ্গভাবে মিশতে পারব – তারাও অন্তরঙ্গ বা ঘনিষ্ট হতে পারবে ৷ নাহলে তো দূরত্ব থেকেই যাবে — কেউ কারো কাছেই অাসতে পারবো না । আর পরস্পরের কাছাকাছি না হলে আমার যে উদ্দেশ্য তা সফলও হবে না ৷” মহামন্ত্রী বললেন – “কিন্তু রাজন্ ! আপনাকে একা ছাড়া যাবে না — আপনার Security-র একটা ব্যাপার আছে । তাছাড়া যদি কোন প্রয়োজন হয় …. ।” রাজা বললেন – “হ্যাঁ মহামন্ত্রী ! আমি সেটাও ভেবে রেখেছি ৷ আমার সাথে তোমরা কয়েকজন যাবে ৷ তোমরাও ছদ্মবেশে থাকবে – পাশাপাশি, কাছাকাছি । প্রয়োজনে আমি তোমাদেরকে ডেকে নেব – আমার সুবিধার জন্য ৷”
এবার রাজা চললেন রাজ্য পরিভ্রমণে ছদ্মবেশে । সঙ্গের পার্ষদরা রয়েছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ৷ প্রয়োজনে তাদেরকে ডেকে নেবেন মহারাজ । রাজা চলেছেন – চলেছেন – চলেছেন ৷ একটা জায়গায় গিয়ে রাজা দেখলেন বেশ কয়েকজন কৃষক, গ্রামবাসী, পথিক ইত্যাদি অনেকে রাস্তার ধারে একটি বড় বৃক্ষের তলায় বসে ক্ষণিক বিশ্রামের জন্য — জমেছে ৷ ছদ্মবেশী রাজা সেখানেই থামলেন । কয়েকজন কর্মরত তখনও কাজ করে চলেছে দেখে তিনি হাঁকলেন – “এই যে চাষীভাই ! এস, এস, ক্ষণিক কাজে ক্ষান্তি দিয়ে একটু তামুক(হুঁকো) খেয়ে যাও ভাই !” তারাও এল – শুরু হল কথাবার্ত্তা । কত কথা । চাষ-বাসের কথা, খরা-বন্যার কথা, শিক্ষা-স্বাস্থ্যের কথা, আর সর্বোপরি রাজার কথা!!
ভিনদেশী বক্তা সকল কথার মাঝে-ই রাজার কথা বলে । সাধারণ প্রজারা রাজাকে কখনও দেখেনি, রাজার কথা অমন করে শোনার সময় বা সৌভাগ্য অতটা হয়নি । তাই তারা যত শোনে ততই হাঁ হয়ে যায় ।
রাজার গল্প শুনে অনেকে বলাবলি করে – “লোকটির বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত আছে, তাই ও বোধয় এত গল্পকথা শুনেছে ৷ ওসব গাঁজাখুরি গল্প শুনে কি লাভ ! চল ভাই খাই-দাই, মৌজ-মস্তি করি, আমরা খাটি খাই, আমাদের রাজার কথায় কাজ নাই।” — এই বলে একদল চলে গেল । যারা বসে থাকল এদের কেউ কেউ বলল – “লোকটি যখন রাজধানীর বর্ণনা দিচ্ছে তখন নিশ্চয়ই লোকটির রাজার রাজ্যের প্রধান প্রধান জায়গায় যাতায়াত রয়েছে ৷ রাস্তাঘাটের বর্ণনা না হলে কি আর দিতে পারতো !”
তারাও চলে গেল । বেশ কিছু জন তখনও বসে আছে ৷ রাজা এবার রাজধানীর রাস্তাঘাটের বর্ণনা সেরে রাজ-মহলের বর্ণনা শুরু করেছেন ৷ ততদূর অব্দি শুনে অনেকে বলাবলি করতে লাগল “না রে ! লোকটার রাজবাড়ীতে যাতায়াত রয়েছে, রাজমহলের কথা যখন বলছে !” – সেই দলও এইসব মন্তব্য করতে করতে চলে গেল ।
কথা হয়ে চলেছে – বেলা যত পড়ে আসছে ততই অন্তর জগতের কথা – অন্দর মহলের কথা! তখন উপস্থিত জনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে ৷ কেউ খাবার নিয়ে এসেছে — কেউ জল । কেউ আবার হুঁকোটা ধুয়ে এগিয়ে দিয়েছে “মশাই ! খান্ এক ছিলিম তামুক !”
এদিকে কি হয়েছে – যারা মহারাজের সঙ্গে এসেছিল অর্থাৎ মন্ত্রী পরিষদ , পার্ষদ – তারাও কোন কোন গাছতলায় ছোট ছোট দল করে নানান আলাপ আলোচনায় মত্ত হয়ে গেছে । তাদের আর রাজার প্রতি হুঁশই নাই (পঞ্চভূতের ফাঁদে ব্রহ্ম পড়ে কাঁদে ) । রাজার কিন্তু সবদিকে হুঁশ – সব দিকে নজর ! একে একে ডেকে ডেকে নিজের কাছে ডেকে নিয়েছে তাদের – প্রয়োজন মত দিয়েছে কাজের ভার । তারা কেউ রাজার ঝোলা থেকে বের করা রাজবাড়ীর ছবি সবাইকে দেখাচ্ছে ৷ কেউ প্রথমে শোনা কথাগুলো পরে আসা লোকদের বলে বলে বোঝাচ্ছে ৷ অনেকে আবার গল্পে এমন মশগুল যে রাজা আর প্রথমদিকে তাদের ডাকলোই না !
রাজা এবার বলছেন খাস অন্দরমহলের কথা ! রাজা-রাণীর গোপন কক্ষের কথা! রাজার আসল চেহারা কেমন – রাজবেশে তো রাজাকে সবাই দেখে – রাজবেশ খোলা, মুকুট খোলা — খোলামেলা রাজা ! প্রজানুরঞ্জক, দন্ডধারী, রাজসভার রাজা নয় — সন্তানকে কোলে নিয়ে আদর করা রাজার গল্প কজন জানে ? উপস্থিত জনেরা তন্ময় হয়ে শোনে ‘রাজার মুখে রাজার গল্প’ ৷ রাজা ছাড়া রাজার বর্ণনা কে আর অত ভালো করে বলতে পারে !
বেলা অবসান প্রায়, এবার খেলা ভাঙার খেলা! প্রজাদের অভাব অভিযোগ শুনে ছদ্মবেশী পার্ষদদেরকে ডেকে পাঠিয়ে তাদের অসুবিধা দূর করা জন্য বিভিন্ন Centre খুলে প্রতিবিধানের ব্যবস্থাও যেমন করলেন তেমনি রাজার প্রতি অনুরাগ যাতে জন্মায় তাই প্রজাদের কাছে সঠিকভাবে রাজাকে তুলে ধরলেন(রাজার স্তুতি করলেন) ৷
এবার তার আর একটা কাজ আছে ৷ যাদেরকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলেন – তাদেরকে সচেতন করে দেওয়া – “কই হে ! এখানে এসে মেতে গেলে যে! মনে নাই, কি তোমার কাজ ? ছাড়ো বৃথা সাজ — শুরু করো তোমার আসল কাজ !”
– গল্পটা শেষ করে গুরু মহারাজ বললেন এই যে এখানে পার্ষদ আর রাজার কথা বলা হোল, এটা যখন ভগবান নরশরীর ধারণ করে লীলা করতে আসেন মর্ত্তভূমে – এটা তার রূপক ৷ ভগবান একা আসেন না — সঙ্গী নিয়ে আসেন । কেউ হয়তো আগে এসে ‘রেইকি’ করে যায়, স্থান নির্ধারণ করে । কেউ একটু পরে আসে — কেউ কেউ সঙ্গেই থাকে । কিন্তু সঙ্গে এলে কি হবে — বেশীরভাগেরই স্থান-কালের প্রভাবে মায়াযুক্ত হয়ে কর্ত্তব্যকর্ম বিস্মৃত হয়ে যায় ৷ ভগবান-ই তাদেরকে ডেকে নেন — কর্তব্যে নিয়োজিত করেন ৷ আর ভগবান যখন নর শরীর ধরে লীলা করতে আসেন – তখন উপস্থিত জনেরা ধরতেই পারে না ইনি স্বয়ং ভগবান । কেউ কেউ ভাবে ইনি একজন সাধক ৷ কেউ ভাবে শুধু সাধক নয় – উন্নত সাধক ৷ কেউ আখ্যা দেয় মহাত্মা – মহাসাধক , মহাপুরুষ । কিন্তু ইনিই যে ‘স্বয়ং’ — সেটা কেউ বুঝতেই পারে না ৷ সঙ্গের সাথীরাও পঞ্চভূতের ফাঁদে ভুলে যায় – তাদের বিস্মরণ হয়ে যায় যে কি জন্য তাদের আসা!! সে সব দেখে রাজা হাসেন – পরে তিনিই আবার তাদের স্মৃতির জাগরণ ঘটান । হয় সঙ্গে করে নিয়ে চলে যান অথবা কর্তব্যকর্মে নিয়োজিত করে যথাস্থানে চলে যান ।(ক্রমশঃ)
