তৎকালীন রোমে(যখন রোমান সম্রাটরা প্রায় সমগ্র ইউরোপ শাসন করত) এক অত্যন্ত সুদর্শন যুবক বাস করতো।তার এমন মনোহারী রূপ ছিল যে _যে কোন রমনী তাকে আপন করে পেতে চাইতো! কিন্তু ঐ যুবকের তেমন গুন কিছু ছিল না। তার উপর কপালের ফেরে ঐ যুবক কুসঙ্গে পড়ে নানান খারাপ কাজ এমনকি চৌর্যবৃত্তিও করতে শুরু করেছিল।
এরপর যা হবার তাই হল, কিছুদিনের মধ্যেই যুবক রাজার রক্ষীদের হাতে ধরাও পড়ে গেল! বিচারের জন্য তাকে রাজসভায় আনা হলে, রাজার পাশে বসে থাকা রানীও(যেহেতু একজন নারী) যুবকের অনিন্দ্য কান্তি দেখে মুগ্ধ হয়ে গেল!
রানী মনে মনে ভাবল _এত সুন্দর যার কান্তি, সে অন্ধকার জেলখানায় কষ্ট পাবে!! তার চেয়ে বরং একবার চেষ্টা করা যাক যদি ওকে কোন ভাবে মুক্ত করা যায়! তাই রানী রাজাকে
অনুরোধ করল _যেন ঐ ছেলেটির বিচারের ভার রাজা তার হাতে ছেড়ে দেন! রাজা রাজী হয়ে গেল।
রানী যুবককে বলল_”তুমি যদি আমার একটা ‘জিজ্ঞাসা’-র উত্তর দিতে পারো _তাহলে তোমাকে ছেড়ে দেওয়া হবে!”
যুবক শর্তে রাজী হল এবং জানতে চাইল কি সেই ‘জিজ্ঞাসা’?
রানী তাকে বলল _” তুমি তরতাজা তরুন যুবক! শক্তপোক্ত সুঠাম তোমার শরীর! রমনীর মন জয় করার মত সব উপকরণ ই তোমার মধ্যে আছে! তাই তোমাকে দেখে আমার মনে হয়েছিল যে তুমি নিশ্চয়ই পারবে আমার মনে লুকিয়ে থাকা বহুদিনের জিজ্ঞাসার উত্তর! বলোতো _”রমনী সব চাইতে সুখী হয়-কিসে?
তোমাকে সাতদিন সময় দেওয়া হোল _এর মধ্যে যদি উত্তর দিয়ে আমাকে সন্তুষ্ট করতে পারো তো তুমি মুক্ত _আর যদি ব্যর্থ হও, তাহলে তোমার শাস্তি শিরোশ্ছেদ!”
যুবক রাস্তায় নেমে পড়ল _কোথায় পাবে উত্তর! জীবনে অনেক রমনী কে সে সুখী করার চেষ্টা করেছে_তারা ওকে পেয়ে খুশি হয়েছে, কিন্তু সুখী কি তারা কেউ হয়েছে, বোধহয় কেউই তা হয় নি!!
মনে ভীষণ শঙ্কা __সাতদিনের মধ্যে উত্তর না আনতে পারলে মৃত্যু!! কোথায় পাবে উত্তর __একে ওকে জিজ্ঞাসা করতে করতে সেই যুবক পৌঁছে গেল ঐ রাজ্যের একেবারে শেষ সীমানায়। সে খবর পেয়েছিল যে ওখানে এমন একজন বৃদ্ধা রমনী রয়েছে, যার মধ্যে কিছু চমৎকারী শক্তি রয়েছে এবং যে কঠিন কঠিন সমস্যার মীমাংসাও করে দিতে পারে! যুবক রমনীর কাছে পৌঁছে সমস্ত কথা তাকে জানালো এবং রানীর জিজ্ঞাসার উত্তর জানতে চাইল। বৃদ্ধা রমনী তাকে শর্ত দিল যে, সে জিজ্ঞাসার মীমাংসা করে দেবে কিন্তু রাজদন্ড থেকে মুক্তি পাওয়ার পর _তাকে আবার ঐ রমনীর কাছে ফিরে আসতে হবে! কারণ ঐ বৃদ্ধা রমনীর এমন কিছু কাজ আছে যাতে তার ঐ যুবকের সাহায্য একান্ত প্রয়োজন!! যুবক তার নিজের প্রাণ রক্ষার তাগিদে বৃদ্ধার সব শর্তেই রাজি হয়ে গেল! বৃদ্ধা ঐ যুবককে উত্তরটা কানে কানে বলে দিল।
যুবক রানীর কাছে ফিরে এসে সেই উত্তর বলতেই রানী তা শুনে লজ্জিত হলেন কিন্তু খুশীও হলেন! যুবক রাজদন্ড থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত হয়ে ফিরে এল সেই রমনীর কাছে!
যুবকের দৈহিক শক্তি ও অসামান্য সাহসকে কাজে লাগিয়ে ঐ জাদুকরী রমনী তন্ত্র মন্ত্রের দ্বারা তার শরীরটা কে পরিবর্তন করে নিল__ অর্থাৎ সে বৃদ্ধা থেকে এক সুন্দরী তরুনীতে পরিণত হয়ে গেল! কিন্তু এইটা করতে গিয়ে ঐ রমনী তার সমস্ত সাধন শক্তি বা চমৎকারী শক্তি হারিয়ে ফেলল।
এইবার সেই অসামান্যা সুন্দরী রমনী(বৃদ্ধা রমনী), যুবকটিকে জিজ্ঞাসা করল _”হে তরুণ সুদর্শন যুবক! তোমার রূপ-যৌবনে মুগ্ধ হয়ে আমি তোমার মনের মত হবার জন্যই এই সুন্দরীর রুপ ধারন করেছি! এখন বল দেখি, তোমার বিচারে আমার কোন রূপটা ভালো? আমার পুর্বরূপ_যখন আমার নানান সিদ্ধাই ছিল এবং তার দ্বারা বহুলোকের উপকার হোত ফলে আমাকে লোকে মান্য-গন্য করতো! কিন্তু তখন আমার রূপ-যৌবন ছিল না, আমি বৃদ্ধা হতশ্রী ছিলাম__সেই রুপটা!!
অথবা এখন, যখন আমি এখন সুন্দরী যুবতীতে পরিনত হয়েছি_কিন্ত এখন আমার আর সেই সিদ্ধাই নাই, আমার দ্বারা আর কারো কোন উপকার হবে না__এই শরীর দিয়ে আমি শুধু যৌবনের উপভোগ করতে পারি–সেইটা??
আমার এই দুই রূপের মধ্যে কোনটা তোমার বিচারে সব চাইতে ভালো বলে মনে হচ্ছে?” [ক্রমশঃ]