কোন এক সময়ে আরবদেশে একজন ‘ওলি’ থাকতেন। যে সমস্ত সাধক, আল্লাহ বা ঈশ্বরের উপাসনার উঁচু স্তরে পৌঁছেছেন _তাঁরাই ‘ওলি’। এখানে যাঁর কথা বলা হচ্ছে _ইনি এতটাই উন্নত ছিলেন যে, ইনি আল্লাহের সাথে সরাসরি কথাবার্তাও বলতেন। এক পাহাড়ের মাথায় ওনার কুঠিয়া ছিল, ওখানেই উনি সাধন-ভজন করতেন, প্রয়োজনে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করতেন!
কদাচিৎ উনি পাহাড় থেকে নেমে লোকালয়ে আসতেন। আর যখনই আসতেন _সেখানকার মানুষজন ওনাকে বিশেষ শ্রদ্ধা ভক্তি করতো, ওনাকে তাদের সমস্যার কথা বলতো, কারণ ওলি আল্লাহর সাথে কথা বলে অনেক সময় তার সমাধান ও করে দিতেন।
ওখানেই এক গ্রামে এক ধনী দম্পতি বাস করতো, যাদের সমৃদ্ধি খুবই ছিল _কিন্তু মনে শান্তি ছিল না, কারন তাদের কোন সন্তান ছিল না!
একদিন সৌভাগ্যক্রমে সেই ওলি হটাৎ করে ঐ দম্পতির বাড়িতে এসে হাজির! নিঃসন্তান দম্পতি যেন হাতে চাঁদ পেয়ে গেল! সাধ্যমত তাঁর সেবাযত্ন করে এবং জীবনধারনের কিছু সামগ্রী তাঁর ঝোলায় ভরে দিয়ে – ওলির বিদায় বেলায় ঐ দম্পতি তাদের মনের একান্ত দুঃখের কথা তাঁকে নিবেদন করল! জানতে চাইল _’আদৌ কি তাদের সন্তান হবে’_এইটা যদি ওলিসাহেব আল্লাহ্ পাকের কাছ থেকে জেনে নেন! ওলি ওদেরকে আশ্বাস দিয়ে চলে গেলেন।
বেশ কিছুদিন কেটে গেছে _আবার হটাৎ করে একদিন ওলিসাহেব ঐ বাড়ীতে এসে গেলেন। দম্পতি তো একবুক আশা নিয়ে একেবারে হামলে পড়ল ওলির পায়ে!’সন্তানের ব্যাপারে কি বললেন _আল্লাহ্ পাক!!’ ওলিসাহেব ঐ দম্পতিকে নিরাশ করে বললেন _আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন যে এই জীবনে তাদের কোন সন্তানাদি হবে না!
ঐ দম্পতি মানুষ হিসাবে খুবই ভালো ছিল _ফলে তারা ওলির উপর রুষ্ট হোল না, বরং ‘এটাই ভবিতব্য’ _ভেবে নিয়ে ওরা ওলিসাহেবকে যথেষ্ট যত্ন-আত্তি করে তাঁকে বিদায় দিলো। হয়তো তাদের সন্তান হোতে পারে _এই ভেবে ঐ দম্পতি মনে মনে যে অশান্তি ভোগ করতো, তা থেকে তারা মুক্তি পেল। তারা নিশ্চিত হয়ে গেল , আল্লাহ্ পাক যখন বলে দিয়েছেন _তখন তাদের এ জীবনে কোন সন্তান হবে না।
দিন কেটে যায়, বছর আসে _বছর ও কেটে যায়! এইভাবে বেশ কয়েকবছর কেটে যাবার পর একদিন সকালে যখন ঐ বাড়ির বধূটি গৃহকর্মে ব্যস্ত ছিল _তখন সে শুনল একটা ফকির রাস্তা দিয়ে হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে _”কেউ আমাকে কিছু খেতে দেবে গো! যে আমাকে য’টা রুটি দেবে _তার তত ক’টি সন্তান হবে।”
ঐ বধূটি এমনিতেই খুবই ভক্তিমতী ছিল _অতিথি ফকিরদের রাস্তা থেকে ডেকে ডেকে নিয়ে এসে খাওয়াতো এবং যত্ন করতো। তাই তিনি ফকিরের হাঁক শুনে হাসতে হাসতে (যেহেতু তারা জানতো যে, তাদের কোন সন্তানাদি হবে না) ফকিরকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে বসালো এবং আসন পেতে যত্ন করে খাওয়ালো।
খাওয়া শেষ করে ঐ ফকির একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে আশীর্বাদের মুদ্রায় বধুটিকে বলল_”মা তুমি আমাকে যটা রুটি খাওয়ালে, তোমার তত সংখ্যক সন্তান হবেই হবে ।”
ফকিরের কথা বলার ধরন এবং কন্ঠে এতটা দৃঢ় প্রত্যয় দেখে গৃহকর্তা এবং বধূটি একটু আশ্চর্য হোল _তবু অবিশ্বাসের হাসি হেসে ফকিরকে বিদায় জানাতে তাঁর সাথে সাথে বাড়ির ফটক অবধি এগিয়ে দিতে গেল। ফকির ওদের মানসিকতা বুঝে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার বলে উঠলেন _” আমার কথা বিশ্বাস করতে পারলে না তো _ঠিক আছে এক বছরের মধ্যেই এর প্রমাণ পাবে!”
সত্যি সত্যিই একটা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ঐ মা-টির কোল আলো করে একটি সন্তান জন্ম নিল! আর এর পর থেকেই কয়েক বছরে আরও বেশ কয়েকটি! সন্তান লাভ করে ঐ দম্পতির সুখের আর সীমা নাই _সন্তান সন্তানাদি নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল ওরা!
এরমধ্যে অনেক বছর কেটে গেছে। বহুদিন পর ওলিসাহেব পাহাড় চূড়া থেকে নেমে আবার ঐ পথে হাঁটতে হাঁটতে আসছিলেন।
সেই দম্পতির বাড়ির কাছাকাছি আসতেই তাঁর চোখে পড়ল _ঐ বাড়ির অঙ্গনে অনেকগুলি ছোট ছোট বালক-বালিকা খেলা করে বেড়াচ্ছে! ব্যাপারটা কি!! দেখতে হচ্ছে তো!!
ওলিসাহেব ঢুকে পড়লেন ঐ বাড়ীতে! তাঁকে দেখতে পেয়ে দম্পতির খুব আনন্দ হোল। আদর-আপ্যায়ন করে ভিতরে নিয়ে যাবার তোড়জোড় করতেই ওলিসাহেব বলে উঠলেন _”আরে দাঁড়াও – দাঁড়াও! আগে বলোতো _এই শিশুসন্তান গুলি কার?”
দম্পতি করজোড়ে বলল_” হুজুর! ওরা আমাদেরই সন্তান! এক ফকিরবাবার কৃপায় এবং আশীর্বাদে আমাদের এই সন্তানগুলি হয়েছে! আল্লাহর করুনায় আমাদের মনে আর কোন অশান্তি নাই। এখন আসুন _একটু আহারাদি ও বিশ্রাম করে আমাদের ধন্য করুন!”
ওলি ওদের সব কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, তাঁর জীবনের সবচাইতে কঠিন মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি! একদিকে আল্লাহ্ পাকের মুখের কথা _আর অন্যদিকে চোখের সামনে থাকা এই বাস্তব! কোন কথা না বলে দ্রুতবেগে ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওলিসাহেব ছুটে গেলেন সেই পাহাড়ের দিকে _যেখানে ওনার সাধন-কুঠি, যেখানে গেলে আল্লাহ্র সাথে ওর কথা হবে, যেখানে গেলে উনি জানতে পারবেন এই অসম্ভব _সম্ভব হোল কি করে??? [ক্রমশঃ]
কদাচিৎ উনি পাহাড় থেকে নেমে লোকালয়ে আসতেন। আর যখনই আসতেন _সেখানকার মানুষজন ওনাকে বিশেষ শ্রদ্ধা ভক্তি করতো, ওনাকে তাদের সমস্যার কথা বলতো, কারণ ওলি আল্লাহর সাথে কথা বলে অনেক সময় তার সমাধান ও করে দিতেন।
ওখানেই এক গ্রামে এক ধনী দম্পতি বাস করতো, যাদের সমৃদ্ধি খুবই ছিল _কিন্তু মনে শান্তি ছিল না, কারন তাদের কোন সন্তান ছিল না!
একদিন সৌভাগ্যক্রমে সেই ওলি হটাৎ করে ঐ দম্পতির বাড়িতে এসে হাজির! নিঃসন্তান দম্পতি যেন হাতে চাঁদ পেয়ে গেল! সাধ্যমত তাঁর সেবাযত্ন করে এবং জীবনধারনের কিছু সামগ্রী তাঁর ঝোলায় ভরে দিয়ে – ওলির বিদায় বেলায় ঐ দম্পতি তাদের মনের একান্ত দুঃখের কথা তাঁকে নিবেদন করল! জানতে চাইল _’আদৌ কি তাদের সন্তান হবে’_এইটা যদি ওলিসাহেব আল্লাহ্ পাকের কাছ থেকে জেনে নেন! ওলি ওদেরকে আশ্বাস দিয়ে চলে গেলেন।
বেশ কিছুদিন কেটে গেছে _আবার হটাৎ করে একদিন ওলিসাহেব ঐ বাড়ীতে এসে গেলেন। দম্পতি তো একবুক আশা নিয়ে একেবারে হামলে পড়ল ওলির পায়ে!’সন্তানের ব্যাপারে কি বললেন _আল্লাহ্ পাক!!’ ওলিসাহেব ঐ দম্পতিকে নিরাশ করে বললেন _আল্লাহ্ বলে দিয়েছেন যে এই জীবনে তাদের কোন সন্তানাদি হবে না!
ঐ দম্পতি মানুষ হিসাবে খুবই ভালো ছিল _ফলে তারা ওলির উপর রুষ্ট হোল না, বরং ‘এটাই ভবিতব্য’ _ভেবে নিয়ে ওরা ওলিসাহেবকে যথেষ্ট যত্ন-আত্তি করে তাঁকে বিদায় দিলো। হয়তো তাদের সন্তান হোতে পারে _এই ভেবে ঐ দম্পতি মনে মনে যে অশান্তি ভোগ করতো, তা থেকে তারা মুক্তি পেল। তারা নিশ্চিত হয়ে গেল , আল্লাহ্ পাক যখন বলে দিয়েছেন _তখন তাদের এ জীবনে কোন সন্তান হবে না।
দিন কেটে যায়, বছর আসে _বছর ও কেটে যায়! এইভাবে বেশ কয়েকবছর কেটে যাবার পর একদিন সকালে যখন ঐ বাড়ির বধূটি গৃহকর্মে ব্যস্ত ছিল _তখন সে শুনল একটা ফকির রাস্তা দিয়ে হাঁকতে হাঁকতে যাচ্ছে _”কেউ আমাকে কিছু খেতে দেবে গো! যে আমাকে য’টা রুটি দেবে _তার তত ক’টি সন্তান হবে।”
ঐ বধূটি এমনিতেই খুবই ভক্তিমতী ছিল _অতিথি ফকিরদের রাস্তা থেকে ডেকে ডেকে নিয়ে এসে খাওয়াতো এবং যত্ন করতো। তাই তিনি ফকিরের হাঁক শুনে হাসতে হাসতে (যেহেতু তারা জানতো যে, তাদের কোন সন্তানাদি হবে না) ফকিরকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে এসে বসালো এবং আসন পেতে যত্ন করে খাওয়ালো।
খাওয়া শেষ করে ঐ ফকির একটা তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে আশীর্বাদের মুদ্রায় বধুটিকে বলল_”মা তুমি আমাকে যটা রুটি খাওয়ালে, তোমার তত সংখ্যক সন্তান হবেই হবে ।”
ফকিরের কথা বলার ধরন এবং কন্ঠে এতটা দৃঢ় প্রত্যয় দেখে গৃহকর্তা এবং বধূটি একটু আশ্চর্য হোল _তবু অবিশ্বাসের হাসি হেসে ফকিরকে বিদায় জানাতে তাঁর সাথে সাথে বাড়ির ফটক অবধি এগিয়ে দিতে গেল। ফকির ওদের মানসিকতা বুঝে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার বলে উঠলেন _” আমার কথা বিশ্বাস করতে পারলে না তো _ঠিক আছে এক বছরের মধ্যেই এর প্রমাণ পাবে!”
সত্যি সত্যিই একটা বছর ঘুরতে না ঘুরতেই ঐ মা-টির কোল আলো করে একটি সন্তান জন্ম নিল! আর এর পর থেকেই কয়েক বছরে আরও বেশ কয়েকটি! সন্তান লাভ করে ঐ দম্পতির সুখের আর সীমা নাই _সন্তান সন্তানাদি নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করছিল ওরা!
এরমধ্যে অনেক বছর কেটে গেছে। বহুদিন পর ওলিসাহেব পাহাড় চূড়া থেকে নেমে আবার ঐ পথে হাঁটতে হাঁটতে আসছিলেন।
সেই দম্পতির বাড়ির কাছাকাছি আসতেই তাঁর চোখে পড়ল _ঐ বাড়ির অঙ্গনে অনেকগুলি ছোট ছোট বালক-বালিকা খেলা করে বেড়াচ্ছে! ব্যাপারটা কি!! দেখতে হচ্ছে তো!!
ওলিসাহেব ঢুকে পড়লেন ঐ বাড়ীতে! তাঁকে দেখতে পেয়ে দম্পতির খুব আনন্দ হোল। আদর-আপ্যায়ন করে ভিতরে নিয়ে যাবার তোড়জোড় করতেই ওলিসাহেব বলে উঠলেন _”আরে দাঁড়াও – দাঁড়াও! আগে বলোতো _এই শিশুসন্তান গুলি কার?”
দম্পতি করজোড়ে বলল_” হুজুর! ওরা আমাদেরই সন্তান! এক ফকিরবাবার কৃপায় এবং আশীর্বাদে আমাদের এই সন্তানগুলি হয়েছে! আল্লাহর করুনায় আমাদের মনে আর কোন অশান্তি নাই। এখন আসুন _একটু আহারাদি ও বিশ্রাম করে আমাদের ধন্য করুন!”
ওলি ওদের সব কথা শুনে স্তম্ভিত হয়ে গেলেন, তাঁর জীবনের সবচাইতে কঠিন মুহূর্তে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি! একদিকে আল্লাহ্ পাকের মুখের কথা _আর অন্যদিকে চোখের সামনে থাকা এই বাস্তব! কোন কথা না বলে দ্রুতবেগে ঐ বাড়ি থেকে বেরিয়ে ওলিসাহেব ছুটে গেলেন সেই পাহাড়ের দিকে _যেখানে ওনার সাধন-কুঠি, যেখানে গেলে আল্লাহ্র সাথে ওর কথা হবে, যেখানে গেলে উনি জানতে পারবেন এই অসম্ভব _সম্ভব হোল কি করে??? [ক্রমশঃ]
