গুরু মহারাজ আর একটা God Business-এর গল্প বলেছিলেন! সেইটা এখন বলার চেষ্টা করা হচ্ছে!
“এক্ষেত্রেও তোমাকে আগে একটা শহর বা শহর ঘেঁষা জায়গা নির্বাচন করতে হবে , কারণ জনবহুল এলাকা হলেই খরিদ্দার বেশি হবে এবং তোমার রোজগারও ভালো হবে! আর ওটাই তো তোমার উদ্দেশ্য নাকি?
যাইহোক, তারপর শোন_এখানেও তোমাকে গুরুদেব সাজতে হবে আর অন্তত দু’জন বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে শিষ্য সাজাতে হবে – যারা Business-এর সহযোগী হিসাবে তোমার সাথে কাজ করবে!
এদের কোন মাইনে চুক্তি কোরো না _ ব্যাবসাই হোল না, তার আগে invest করতে যাবে কেন? এরাও রোজগারের ভাগ পাবে – এই শর্তে দুজনকে নিয়োগ করবে!! প্রথমেই ওরা সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলে গিয়ে খুব করে তোমার নামে প্রচার চালাবে!! প্রচারটা এইরকম হবে __”এই অঞ্চলে খুব শিগ্গির কামাখ্যা সিদ্ধ , হিমালয়ে তপস্যা ফেরৎ, একজন বিখ্যাত তান্ত্রিক , সিদ্ধ যোগী আসছেন – যিনি জ্যোতিষ চর্চা , ভাগ্য গণনা , কাল গণনা , মৃত্যু গণনা অর্থাৎ এক কথায় মানুষের ভূত-ভবিষ্যৎ সবই বলে দিতে পারেন ৷ এই অঞ্চলের মানুষকে কৃপা করার জন্য মাত্র কয়েক দিনের জন্য উনি এখানে আসছেন ৷ যারা বাবার কৃপালাভে ইচ্ছুক _তারা যেন আমাদের সাথে যোগাযোগ করে—–ন!”
ব্যস ! এই প্রচার টা বেশ কয়েকদিন চালাতে হবে , কিছু হ্যান্ড বিল ছাপিয়ে মানুষের হাতে হাতে বিলি করতে হবে , দু চারটে পোস্টার এখানে ওখানে সাঁটাতে হবে – তাহলেই হবে ! এইবার নির্দিষ্ট দিনে তোকে লাল বস্ত্র পরিধান করে , গলায় বড় বড় রুদ্রাক্ষের মালা , কপালে সিঁদুরের বড় তিলক , বড় বড় চুল (চুল না থাকলে ফলস চুল) , হাতে ত্রিশূল নিয়ে এসে তোর জন্য নির্দিষ্ট করা ঘর বা চেম্বারে এসে বসতে হবে! প্রথম দিনেই দেখবি একেবারে ভিড় লেগে গেছে! এবার তুই কি করবি ? তুইতো হস্তরেখাবিদ্ নস্ – ওসব বিদ্যার কিছুই জানিস না ! তাই এইবারের কৌশলটা তোকে শিখিয়ে দিচ্ছি _ভালো করে শুনে নে!!
প্রথমেই বলে রাখি তোকে কিন্তু সংযমী হতে হবে , নারী-পুরুষ নির্বিশেষে যে কোন মানুষ তোর কাছে আসবে , তুই তাদেরকে ‘মা’ অথবা ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করবি এবং মর্যাদা দিবি! এরপর তার কপাল দেখবি , হাতটা টেনে নিয়ে বহুক্ষণ নড়াচড়া করবি , মাঝে মাঝে একটা মোটা লেন্স চোখে লাগিয়ে – তুই যেন পুঙ্খানুপুঙ্খ নিরীক্ষণ করছিস – এইরকম ভান করবি । তারপর কতগুলো কমন কথা – আমি শিখিয়ে দিচ্ছি সেগুলি আউরে যাবি ! যেমন আপনি খুব ভালো মানুষ, লোকের জন্য অনেক কিছু করেন, কিন্তু কেউ আপনাকে বুঝতে চায় না , আপনার হাতে অর্থ থাকতে চায় না _আসে আবার চলে যায় , আপনার জীবনে অনেক স্বপ্ন ছিল – সেগুলো ঠিক ঠিক পূরণ হয় নি – ইত্যাদি – ইত্যাদি ! দেখবি সেই ব্যক্তি (মহিলা বা পুরুষ) উচ্ছ্বসিত হয়ে তোকে বলে উঠবে – “এটা যা বলেছেন বাবা ! আমি সবার জন্য করে মরি – তবু আমাকে কেউ ভালবাসে না !”
তখন তুই বলবি – আপনার হাতের রেখায় দেখতে পাচ্ছি – মঙ্গল শুভ , শুক্রের স্থানে একটু গোলমাল রয়েছে কিন্তু বৃহস্পতি সহায় বলে ভয়ের কিছু নাই (কোনটা মঙ্গলের, কোনটা শুক্রের স্থান _ওটা একবার দেখে নিলেই মনে থাকবে)! এইভাবে সব রাশি গুলির নাম ও কাজ আউরে যাবি , আর সবকিছুই ভালো – ভালো বলে যাবি ! তোর মূখস্ত মত সবকিছু বলা হয়ে যাবার পর বলবি – আপনার সবই তো ভালো কিন্তু — উ-উ-উ-উ– !!!
এই কিন্তু-তে এমন একটা টান দিবি – যেন সে ব্যগ্র হয়ে তোর মুখের দিকে তাকিয়ে বলে ওঠে – ” কি দেখলেন ? খারাপ কিছু ?”
তখন তুই বলবি – “তেমন কিছু নয়, সবই ঠিক ঠিক রয়েছে , শুধু ওই রাহু এবং কেতু একটু গোলমাল করছে আর শনির সামান্য একটু বক্রদৃষ্টি রয়েছে! শুধুমাত্র এইটুকুর জন্যই আপনার সবকিছু গন্ডগোল হয়ে যাচ্ছে! ”
এইটা শুনে দেখবি তোর খরিদ্দার বলে উঠবে , ” তাহলে বাবা এর প্রতিকার কিছু নেই ?”
এইবার তোর আসল খেল্ ! তুই বলবি – ” দ্যাখো – আমি মায়ের চেলা ! আমি তো টাকা পয়সা কিছু নিই না! আমি মায়ের পূজা, হোম-যজ্ঞ করি ! তোমার মঙ্গলের জন্য (ছেলে বা মেয়ের জন্যও হতে পারে) তাহলে তুমি নিজেই কামরূপ_কামাক্ষায় গিয়ে, ওখানে মায়ের পূজা , হোম , যজ্ঞ করে নিও! তবে যদি একান্তই নিজে করতে না পারো____তাহলে আমার চেলাদের সাথে যোগাযোগ করো – ওরা তোমার পূজা , হোম , যজ্ঞের জোগাড় সব করে দেবে ! আর ওরাই তোমাকে পরে কামাখ্যা মায়ের পূজার পুষ্প ও যজ্ঞের ছাই এনে দেবে! এবার সেগুলিকে ঘরের নির্দিষ্ট কোনে রেখে দিলেই সব দোষ কেটে যাবে । আর যদি রত্নাদি ধারণ করতে চাও তাহলে এই এই ‘রত্ন’ ‘এত রতি’ _অমুক হাতের অমুক আঙুলে ধারণ করতে পারো !
কিন্তু এতে একটা মুশকিল কি জানো বাবা (অথবা মা) – আজকাল আসল রত্ন খুবই অমিল _সবই নকল ! তাই ধারণ করলেও গ্রহের দোষ কাটে না !”
তখন তোমার খরিদ্দারই বলবে – “তাহলে বাবা ! আপনিই ব্যবস্থা করে দিন ৷” তখন তুমি ‘নির্লোভ এবং জগৎ সংসার সম্বন্ধে যেন কত উদাস’ _এমন একটা ভাব নিয়ে বলবে – ” তাই তো ! খুবই ঝামেলায় ফেলে দিলে ! আমি মায়ের চেলা – পূজা পাঠ , হোম-যজ্ঞ নিয়ে থাকি , এসব করার আমার সময় কোথায় ? তবে হরিদ্বার-কঙ্খল _এসব স্থানে তো আমার খুবই যাতায়াত, এই হিসাবে আমার অনেক জানাশোনা রত্ন বিক্রেতা রয়েছে – তাদের মধ্যে দু-একজন সাধুদের কৃপা প্রাপ্ত , মানুষের মঙ্গলের জন্যই তারা আসল রত্নাদি রাখে এবং খুবই অল্প মূল্যে মানুষকে বিক্রয় করে! তার কাছ থেকে যদি তোমার জন্য আনিয়ে দিতে পারি –তাহলে পয়সা খরচা হোলে ও তো তুমি আসল রত্নটা পাবে! তুমি এমন করে ধরছো_তাই রাজী হলাম, কিছু টাকা ঐ চেলাদের কাছে advance করে যাও! ‘মাল’ আসার পর বাকিটা দিয়ে নিয়ে যাবে! কিন্তু সাবধান যেন কারুকে রত্নের কথা বলবে না! লোক জানাজানি হোলে সকলেই আমাকে বিরক্ত করবে!”
এই যে তুমি ওকে নিষেধ করলে __ও এই কথাটি মানুষকে বেশি করে বলবে!! আর তাতেই তোমার প্রচার!!
সবাই বাবার good book – এ থাকার জন্য রাতের অন্ধকারে এসে তোমাকে টাকা দিয়ে চলে যাবে!! কিছুদিন পর আর তোমাকে পায় কে!! তোমার তখন অনেক বাড়ি, অনেক গাড়ি!!” (ক্রমশঃ)