[মগধের সম্রাট অশোক বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হবার পর এই ধর্মমতকে দেশের বাইরে ছড়িয়ে দেবার জন্য তাঁর ছেলে মহেন্দ্র এবং কন্যা সংঘমিত্রাকে সিংহলে পাঠিয়েছিলেন, সঙ্গে অন্যান্য বয়স্ক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরাও ছিল! তারপর কি ঘটল!!]
…….একজন সম্রাটকন্যা অসাধারণ সুন্দরী তাতে অল্প বয়সের মেয়ে _সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মকথা প্রবচন করে বেড়াচ্ছে ! ফলে হোল কি__বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষা গ্রহণের থেকে ওই অসামান্য লাবণ্যময়ী রাজকন্যাকে দেখার জন্য এবং তার মুখের মধুর কন্ঠের উচ্চারণ শোনার জন্য যে সব ধর্মসভায় সংঘমিত্রা থাকতো সেখানে ভিড় উপচে পড়তে লাগল! ধীরে ধীরে ভিড় এমন বাড়তে লাগলো এবং সংঘমিত্রার সভা গুলিতে এমন বিশৃংখলা শুরু হতে লাগল যে ওই দেশের রাজা সংঘমিত্রার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন !
ওই সভা গুলিতে উপস্থিত জনগণ সকলেই ধর্মসভা শুরুর আগে ও শেষে সংঘমিত্রাকে একবার ছুঁতে বা স্পর্শ করতে চাইতো – তাতেই হুড়োহুড়ি ! ওই দেশের রাজা এসব কান্ড দেখে তার পুত্র অর্থাৎ ওই দেশের তরুণ রাজকুমারকে, বন্ধুকন্যা সংঘমিত্রার নিরাপত্তা রক্ষার ভার দিলেন ৷ ফলে সিংহলের রাজকুমার তার কয়েকজন বিশ্বস্ত দেহরক্ষীদের নিয়ে লেগে পড়লেন রাজকুমারী- তরুণী বৌদ্ধভিক্ষুণী সংঘমিত্রার নিরাপত্তা রক্ষায়!
প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা সহ সকল শ্রমণ পৃথক পৃথক সভায় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক থেকে পাঠ এবং ব্যাখ্যা অথবা উপস্থিত শ্রোতাদের জিজ্ঞাসার উত্তরদান – ইত্যাদি করতেন । বৃদ্ধ জ্ঞানী শ্রমণদের সভায় সভায় তেমন ভিড় হোত না কিন্তু সংঘমিত্রার সভায় মানুষের ঢল নামতো ! সিংহলের রাজকুমার নির্দিষ্ট সভায় নির্দিষ্ট সময়ে সেই রক্ষীদের নিয়ে হাজির থাকতেন , গাড়ি থেকে ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা নেমে সভামঞ্চ পর্যন্ত যাবার রাস্তা বরাবর , নিজের দায়িত্বে ব্যারিকেড করে , সবার শ্পর্শ বাঁচিয়ে রাজকুমারীকে মঞ্চে তুলে দিতেন , আবার পাঠ শেষে সাবধানে রাজকুমারীর হাত ধরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দুদিকে বাহু প্রসারিত করে আগলে আগলে সংঘমিত্রাকে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলে দিতেন !
এইভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে যাবার পর – সিংহলের রাজকুমার খেয়াল করলেন যে এই কাজটি করতে তার বেশ ভালই লাগছে ! একজন অসাধারণ রূপ-লাবণ্যময়ী তরুনীর ‘বডিগার্ড’ হওয়া মন্দ কি ! যাওয়া আসার পথে জনগণের ছোঁয়া বাঁচাতে তাকে প্রায়ইশই রাজকুমারী সংঘমিত্রাকে দুবাহুর বেষ্টনে আগলের মধ্যে রেখে যাওয়া-আসা করতে হতো, এতে তার শরীরে যথেষ্ট রোমাঞ্চও হোত ! রাজকুমার এটাও নোটিশ করলেন যে ওই রাজকুমারীটি কিন্তু অদ্ভুত রকমের শান্ত ও শীতল ! তারমধ্যে কোনদিনই কিছুমাত্র রোমাঞ্চ বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটত না, আর ঘটলেও অন্তত রাজকুমার লক্ষ্য করে নি !!
রাজকুমার যেটা লক্ষ্য করত সেটা হোল___ঐ মেয়েটি গাড়ী থেকে নেমে পায়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মাথা নিচু করে হাঁটে , তারপর মঞ্চে পৌঁছে ‘ত্রিপিটক’-এর পাঠ ও ব্যাখ্যা করে _ বই থেকে বড় একটা চোখ-ই তোলে না ! ফলে বাহিঃর্জগতে কি ঘটছে, কার মনে কতটা রোমাঞ্চ জাগছে – সেদিকে কোন খেয়াল-ই নাই !
এই ব্যাপারটা সিংহলের রাজকুমার মোটেই ভালোভাবে নিলেন না ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন রাজযোগের হঠযোগে তিনটি হঠ্ আছে । বাল-হঠ্ , স্ত্রী-হঠ্ এবং রাজ-হঠ্ ! বালক বা শিশু যদি কোন ব্যাপারে একবার ঝোঁক ধরে – তাহলে তা না পাওয়া পর্যন্ত কেঁদেই চলবে থামবে না ৷ স্ত্রীলোক যদি মনে করে সংসার ভাঙবেই, তাহলে তা করেই ছাড়বে – ভিন্ন না হওয়া পর্যন্ত জলগ্রহণ করবে না !
রাজ হঠ্ অর্থাৎ রাজার হঠ্ ! রাজার মনে যদি একবার জিদ্ চাপে যে সে যুদ্ধ করবে – তাহলে সে যুদ্ধ করবেই ! তাতে তার যত সৈন্যই মারা যাক্ অথবা তার যত ক্ষতিই হোক্ !
সুতরাং সিংহলের রাজকুমারেরও জিদ্ চেপে গেল! ওই অহংকারী মেয়েটি কি তার মতো তরতাজা সুদর্শন যুবক রাজকুমারকে পাত্তা দিচ্ছে না! কি আছে ওই মেয়েটির মধ্যে _যে তার মতো রাজপুত্রকেও অস্বীকার করে !!
জিদ চেপে গেল রাজপুত্রের! রাজকুমার সেদিন সোজা চলে গেল সংঘমিত্রাসহ সমস্ত ভারতবর্ষ থেকে আসা অতিথিদের বসবাসের জন্য যে প্রাসাদটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে সেখানে! সে ওই দেশের রাজার ছেলে – তার সর্বত্রই অবাধ গতি । তায় আবার বর্তমানে সে সংঘমিত্রার বডিগার্ড ! তাই কোন রক্ষী-ই রাজকুমারকে আটকালো না ৷ সংঘমিত্রার কাছে পৌছেই রাজকুমার সরাসরি চার্জ করে বসল – ” কি ব্যাপার তোমার রাজকুমারী ! এত অহংকার কিসের তোমার ? রূপের ? বিদ্যার ? রাজকুমারী বলে ?” এরপর রাজপুত্র আরও বলতে থাকল_”আমিও এই রাজ্যের রাজকুমার ! আমিও সুদর্শন , স্বাস্থ্যবান যুবক ! আমাকে লাভ করার জন্যও বহু রাজকুমারী বা সুন্দরীরা অপেক্ষা করে থাকে ! তাহলে তোমার আলাদা এমন কি আছে – যার জন্য তোমার এত অহংকার!! যার জন্য তুমি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েও দেখো না ?”
স্বভাবশান্ত-লাজুকস্বভাবা ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা এখন আর নিজেকে রাজকুমারী ভাবেন না – তার গায়ে কোন অলংকার নাই , পরনে বহুমূল্য বস্ত্র নাই – তবুও বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর পোশাকে অপরূপ লাবণ্যময়ী রাজকুমারী সংঘমিত্রা রাজকুমারের কথায় আশ্চর্য্য হয়ে গেলেন! কিন্তু শান্ত কন্ঠে উত্তর দিলেন – ” আপনি কি বলছেন ভদ্র ! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না – আমি জীবনে কাউকে আঘাত করিনি – আপনাকেও জ্ঞাতসারে কোন ভাবে আমি কোন আঘাত দিইনি ভদ্র ! তবু যদি অজ্ঞাতে কোন ভাবে আমার কোন ব্যবহারে আপনি মনে দুঃখ পান – তাহলে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি !”
রাজকুমার ছাড়বে কেন __তার যে রাজ হঠ্ ! সে সংঘমিত্রাকে উদ্দেশ্য করে বলল – ” আমি জানি _ তোমার রূপের বড় অহংকার ! কারণ তুমি জানো যে, তুমি দেখতে খুবই সুন্দরী এবং ভরা যৌবন তোমার শরীরকে আরও সৌন্দর্য দিয়েছে !” এই কথা শুনেই রাজকন্যা সংঘমিত্রা জীবনে প্রথম শিউরে উঠে গায়ের কাপড়টা একটু টেনে – নিজের লজ্জাকে যেন আরও আবৃত করতে চাইল ! জীবনে এই প্রথম সিংহল-রাজকুমারের কথায় তার মধ্যে ‘শরীরবোধ’ জাগল ! তার এই প্রথম মনে হতে লাগলো _যে সে একজন ‘নারী’! একটা পুরুষের সামনে বসে থাকতে যেন তার অস্বস্তি হতে থাকলো ! ……. [ক্রমশঃ]
…….একজন সম্রাটকন্যা অসাধারণ সুন্দরী তাতে অল্প বয়সের মেয়ে _সন্ন্যাস ধর্ম গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মকথা প্রবচন করে বেড়াচ্ছে ! ফলে হোল কি__বুদ্ধের বাণী ও শিক্ষা গ্রহণের থেকে ওই অসামান্য লাবণ্যময়ী রাজকন্যাকে দেখার জন্য এবং তার মুখের মধুর কন্ঠের উচ্চারণ শোনার জন্য যে সব ধর্মসভায় সংঘমিত্রা থাকতো সেখানে ভিড় উপচে পড়তে লাগল! ধীরে ধীরে ভিড় এমন বাড়তে লাগলো এবং সংঘমিত্রার সভা গুলিতে এমন বিশৃংখলা শুরু হতে লাগল যে ওই দেশের রাজা সংঘমিত্রার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই চিন্তিত হয়ে পড়লেন !
ওই সভা গুলিতে উপস্থিত জনগণ সকলেই ধর্মসভা শুরুর আগে ও শেষে সংঘমিত্রাকে একবার ছুঁতে বা স্পর্শ করতে চাইতো – তাতেই হুড়োহুড়ি ! ওই দেশের রাজা এসব কান্ড দেখে তার পুত্র অর্থাৎ ওই দেশের তরুণ রাজকুমারকে, বন্ধুকন্যা সংঘমিত্রার নিরাপত্তা রক্ষার ভার দিলেন ৷ ফলে সিংহলের রাজকুমার তার কয়েকজন বিশ্বস্ত দেহরক্ষীদের নিয়ে লেগে পড়লেন রাজকুমারী- তরুণী বৌদ্ধভিক্ষুণী সংঘমিত্রার নিরাপত্তা রক্ষায়!
প্রতিদিন সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা সহ সকল শ্রমণ পৃথক পৃথক সভায় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ ত্রিপিটক থেকে পাঠ এবং ব্যাখ্যা অথবা উপস্থিত শ্রোতাদের জিজ্ঞাসার উত্তরদান – ইত্যাদি করতেন । বৃদ্ধ জ্ঞানী শ্রমণদের সভায় সভায় তেমন ভিড় হোত না কিন্তু সংঘমিত্রার সভায় মানুষের ঢল নামতো ! সিংহলের রাজকুমার নির্দিষ্ট সভায় নির্দিষ্ট সময়ে সেই রক্ষীদের নিয়ে হাজির থাকতেন , গাড়ি থেকে ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা নেমে সভামঞ্চ পর্যন্ত যাবার রাস্তা বরাবর , নিজের দায়িত্বে ব্যারিকেড করে , সবার শ্পর্শ বাঁচিয়ে রাজকুমারীকে মঞ্চে তুলে দিতেন , আবার পাঠ শেষে সাবধানে রাজকুমারীর হাত ধরে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দুদিকে বাহু প্রসারিত করে আগলে আগলে সংঘমিত্রাকে নিয়ে গিয়ে গাড়িতে তুলে দিতেন !
এইভাবে বেশ কয়েকদিন কেটে যাবার পর – সিংহলের রাজকুমার খেয়াল করলেন যে এই কাজটি করতে তার বেশ ভালই লাগছে ! একজন অসাধারণ রূপ-লাবণ্যময়ী তরুনীর ‘বডিগার্ড’ হওয়া মন্দ কি ! যাওয়া আসার পথে জনগণের ছোঁয়া বাঁচাতে তাকে প্রায়ইশই রাজকুমারী সংঘমিত্রাকে দুবাহুর বেষ্টনে আগলের মধ্যে রেখে যাওয়া-আসা করতে হতো, এতে তার শরীরে যথেষ্ট রোমাঞ্চও হোত ! রাজকুমার এটাও নোটিশ করলেন যে ওই রাজকুমারীটি কিন্তু অদ্ভুত রকমের শান্ত ও শীতল ! তারমধ্যে কোনদিনই কিছুমাত্র রোমাঞ্চ বা উত্তেজনার বহিঃপ্রকাশ ঘটত না, আর ঘটলেও অন্তত রাজকুমার লক্ষ্য করে নি !!
রাজকুমার যেটা লক্ষ্য করত সেটা হোল___ঐ মেয়েটি গাড়ী থেকে নেমে পায়ের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে মাথা নিচু করে হাঁটে , তারপর মঞ্চে পৌঁছে ‘ত্রিপিটক’-এর পাঠ ও ব্যাখ্যা করে _ বই থেকে বড় একটা চোখ-ই তোলে না ! ফলে বাহিঃর্জগতে কি ঘটছে, কার মনে কতটা রোমাঞ্চ জাগছে – সেদিকে কোন খেয়াল-ই নাই !
এই ব্যাপারটা সিংহলের রাজকুমার মোটেই ভালোভাবে নিলেন না ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন রাজযোগের হঠযোগে তিনটি হঠ্ আছে । বাল-হঠ্ , স্ত্রী-হঠ্ এবং রাজ-হঠ্ ! বালক বা শিশু যদি কোন ব্যাপারে একবার ঝোঁক ধরে – তাহলে তা না পাওয়া পর্যন্ত কেঁদেই চলবে থামবে না ৷ স্ত্রীলোক যদি মনে করে সংসার ভাঙবেই, তাহলে তা করেই ছাড়বে – ভিন্ন না হওয়া পর্যন্ত জলগ্রহণ করবে না !
রাজ হঠ্ অর্থাৎ রাজার হঠ্ ! রাজার মনে যদি একবার জিদ্ চাপে যে সে যুদ্ধ করবে – তাহলে সে যুদ্ধ করবেই ! তাতে তার যত সৈন্যই মারা যাক্ অথবা তার যত ক্ষতিই হোক্ !
সুতরাং সিংহলের রাজকুমারেরও জিদ্ চেপে গেল! ওই অহংকারী মেয়েটি কি তার মতো তরতাজা সুদর্শন যুবক রাজকুমারকে পাত্তা দিচ্ছে না! কি আছে ওই মেয়েটির মধ্যে _যে তার মতো রাজপুত্রকেও অস্বীকার করে !!
জিদ চেপে গেল রাজপুত্রের! রাজকুমার সেদিন সোজা চলে গেল সংঘমিত্রাসহ সমস্ত ভারতবর্ষ থেকে আসা অতিথিদের বসবাসের জন্য যে প্রাসাদটি নির্দিষ্ট করা হয়েছে সেখানে! সে ওই দেশের রাজার ছেলে – তার সর্বত্রই অবাধ গতি । তায় আবার বর্তমানে সে সংঘমিত্রার বডিগার্ড ! তাই কোন রক্ষী-ই রাজকুমারকে আটকালো না ৷ সংঘমিত্রার কাছে পৌছেই রাজকুমার সরাসরি চার্জ করে বসল – ” কি ব্যাপার তোমার রাজকুমারী ! এত অহংকার কিসের তোমার ? রূপের ? বিদ্যার ? রাজকুমারী বলে ?” এরপর রাজপুত্র আরও বলতে থাকল_”আমিও এই রাজ্যের রাজকুমার ! আমিও সুদর্শন , স্বাস্থ্যবান যুবক ! আমাকে লাভ করার জন্যও বহু রাজকুমারী বা সুন্দরীরা অপেক্ষা করে থাকে ! তাহলে তোমার আলাদা এমন কি আছে – যার জন্য তোমার এত অহংকার!! যার জন্য তুমি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়েও দেখো না ?”
স্বভাবশান্ত-লাজুকস্বভাবা ভিক্ষুণী সংঘমিত্রা এখন আর নিজেকে রাজকুমারী ভাবেন না – তার গায়ে কোন অলংকার নাই , পরনে বহুমূল্য বস্ত্র নাই – তবুও বৌদ্ধ সন্ন্যাসিনীর পোশাকে অপরূপ লাবণ্যময়ী রাজকুমারী সংঘমিত্রা রাজকুমারের কথায় আশ্চর্য্য হয়ে গেলেন! কিন্তু শান্ত কন্ঠে উত্তর দিলেন – ” আপনি কি বলছেন ভদ্র ! আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না – আমি জীবনে কাউকে আঘাত করিনি – আপনাকেও জ্ঞাতসারে কোন ভাবে আমি কোন আঘাত দিইনি ভদ্র ! তবু যদি অজ্ঞাতে কোন ভাবে আমার কোন ব্যবহারে আপনি মনে দুঃখ পান – তাহলে আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি !”
রাজকুমার ছাড়বে কেন __তার যে রাজ হঠ্ ! সে সংঘমিত্রাকে উদ্দেশ্য করে বলল – ” আমি জানি _ তোমার রূপের বড় অহংকার ! কারণ তুমি জানো যে, তুমি দেখতে খুবই সুন্দরী এবং ভরা যৌবন তোমার শরীরকে আরও সৌন্দর্য দিয়েছে !” এই কথা শুনেই রাজকন্যা সংঘমিত্রা জীবনে প্রথম শিউরে উঠে গায়ের কাপড়টা একটু টেনে – নিজের লজ্জাকে যেন আরও আবৃত করতে চাইল ! জীবনে এই প্রথম সিংহল-রাজকুমারের কথায় তার মধ্যে ‘শরীরবোধ’ জাগল ! তার এই প্রথম মনে হতে লাগলো _যে সে একজন ‘নারী’! একটা পুরুষের সামনে বসে থাকতে যেন তার অস্বস্তি হতে থাকলো ! ……. [ক্রমশঃ]
