গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দের বলা কথাগুলির আলোচনা প্রসঙ্গে জীবজগতের evolution , মানুষের involution এসব প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল কদিন আগেই ! এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বলা হয়েছিল যে মহাপুরুষগণকে এই পৃথিবীতে বারবার আসতেই হবে – সাধারণ মানুষকে চেতনায় উন্নত করতে , বিবেকের জাগরণ ঘটাতে ৷ যাতে করে মানুষের পূর্ণত্ব লাভের পথে গতি ত্বরান্বিত হয় । মানব জীবনের উদ্দেশ্যই হলো পূর্ণত্বলাভ (অর্থাৎ ঈশ্বর লাভ বা ঈশ্বরত্ব লাভ) । বহু মানুষের পূর্ণতালাভ হলে যে শূন্যস্থান সৃষ্টি হবে – সেই শূন্যস্থান পূর্ণ করার জন্যই আবার হাজার হাজার নিম্ন চেতনার জীবেরা উপরের স্তরে উঠে আসবে ৷
মহাপুরুষগণ শরীর ধারণ করে তাঁর সাহচর্য্যে আসা মানুষজনের মধ্যে নানাভাবে শক্তি সঞ্চারিত করে , তাদেরকে উৎসাহিত করে , অপার্থিব প্রেমের বাঁধনে বেঁধে ফেলে অর্থাৎ “জো – সো” করে তাদেরকে উন্নীত করেন ৷ এক্ষেত্রে গুরু মহারাজ একটি কথা বলতেন – ” মহাপুরুষের সংসর্গে evolution বা involution যেন Revolution হয়ে যায় !” একটা জন্মের (জীবনের) মধ্যেই যেন বেশ কয়েকটি জন্মের বিবর্তন হয় ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেতনার জগতে এই স্তরে পৌঁছেই বোধহয় বলতে পেড়েছিলেন যে , ” এই জনমে ঘটালে কত জন্ম-জন্মান্তর ।”
গুরু মহারাজ বলেছিলেন তিনি যদি কারো দিকে সস্নেহে তাকান , তখন তাঁর দৃষ্টি দিয়েই সেই ব্যক্তির উপর তাঁর শক্তির transfer হয় ! তিনি আরও বলেছিলেন তাঁর শরীরের সমস্ত কোষ কলা দিয়েই শক্তি বিচ্ছুরিত হয় ! তাঁর গা থেকে যে অতি-অপূর্ব , অপার্থিব একটা মধু-পদ্ম-চন্দন মিশ্রিত সুগন্ধ হুরহুর করে বেরোতো – সেই গন্ধ শুকলেও শরীরে , মনে আমরা যেন একটা পরম শান্তি – চরম আনন্দ অনুভব করতাম । উনি যখন কাউকে হাতে তুলে কোন প্রসাদ দিতেন – তখন সেই প্রসাদের মাধ্যমেও শক্তি সঞ্চার করতেন ! আমরা দেখেছি কোন অসুস্থ বা সমস্যাজীর্ণ কোন ব্যক্তিকে যখন উনি কোন প্রসাদ দিতেন ( তা কোন মিষ্টি হোক বা কোন ফল) – সেই প্রসাদকে উনি হাতের তালুর মধ্যে অনেকক্ষণ বেশ যত্ন করে ধরে রাখতেন – তারপর প্রসাদটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিকে দিতেন । এতে সেই ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মঙ্গল তো হতোই – রোগ মুক্তি বা সমস্যা মুক্তি ও ঘটতো !
গুরু মহারাজের মুখের লালাতে বিষনাশক Material ছিল ! আশ্রমের এক মহারাজকে একবার বিষাক্ত সাপে কামড়েছিল , উনি সেই ক্ষতস্থানে একটু মুখের লালা নিয়ে বুলিয়ে দিলেন – তারপর বললেন , ” যাও – তোমার শরীরে আর কোন বিষক্রিয়া হবে না ।” আর উনি যাকে স্পর্শ করে কৃপা করতেন – তার তো কথাই নাই !
আমার এক আত্মীয়ের বিবাহের just পরেই তার স্ত্রী-র কিছু শারীরিক বা মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল । আমরা সাথে সাথে ওদেরকে নিয়ে চলে এসেছিলাম বনগ্রামে সোজা গুরুমহারাজের কাছে ! গুরুমহারাজ তখন সিটিং-এ বসেছিলেন । অনেক লোকজন এসেছে – নানান প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনাও চলছে । কিন্তু আমরা তখন বিপদাপন্ন – তাই তো বিপদভাঞ্জন , সকল মুস্কিল-আসান , সমস্ত রোগের বৈদ্য স্বয়ং বৈদ্যনাথের কাছে এসেছি । ওনার কাছে গিয়ে প্রণাম করে চুপিচুপি কথাটা বলতেই উনি জিজ্ঞাসা করলেন – ” মেয়েটিকে এনেছিস ?” আমরা বললাম – ” হ্যাঁ মহারাজ , এনেছি ! ঐ যে রুনু (আমার স্ত্রী) ওকে নিয়ে আসছে আপনার কাছে !” উনি প্রায় সাথে সাথেই সিটিং ছেড়ে উঠে পড়লেন এবং বললেন – ” ওকে আমার ঘরে নিয়ে আয় !”
রুনু মেয়েটিকে ধরে ধরে ঘরে নিয়ে গেল_গুরুমহারাজ ঘরে ঢুকে বললেন _’দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দে।’ আমরা ওনার নির্দেশ মতে কাজ করে আবার এসে সিটিং-এ বসে পড়লাম। পরে রুনুর কাছে ভিতরে কি ঘটেছিল __সেটা শুনেছিলাম।
মেয়েটি ভিতরে ঢুকে প্রথমটায় একটু এলোমেলো আচরন করছিল কিন্তু গুরুমহারাজ যেই ওকে ধরে ওনার ঘরের মাটির বেদীটিতে বসিয়ে দিয়েছিলেন, তখন সে একদম শান্ত হয়ে চুপটি করে বসেছিল। এরপর গুরুমহারাজ মেয়েটির সাথে কথা বলতে বলতে ওর দুটো ভ্রু-র মধ্যস্থলে উনি ডানহাতের বুড়োআঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রেখেছিলেন। তারপর বলেছিলেন _”যা _ তোর কিচ্ছু হয় নি! তুই তো ভালো মেয়ে _ভালো ভাবে থাকবি কেমন!
এরপর উনি রুনু কে বলেছিলেন _”যা _একে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে কিছু খাইয়ে দে, তোরা তো আজকেই ফিরে যাবি?
গুরুমহারাজ সেটাও জানতে পেরেছিলেন __বাড়ি তো ফিরে যেতেই হোত, সেদিন যে ছিল ওদের বৌভাতের দিন! বাড়িতে লোকজন আত্মীয় স্বজনে ভর্তি! সে সবের মধ্যেই খানিকটা জোর করে স্বয়ং বৈদ্যনাথের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল!! ঘটনাটা ঘটতে মাত্র কয়েকমিনিট সময় লেগেছিল। এরপর গুরুমহারাজ পুনরায় এসে সিটিং এ বসে পড়লেন _শুরু হয়ে গেল আলোচনা! উনি ঐ মেয়েটির বিষয়েও কিছু কথা বললেন (যদিও ঐ দিনেই উনি মেয়েটিকে প্রথম দেখেছিলেন)। পরবর্ত্তীতে আমরা দেখেছিলাম যে মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছিল!
গুরুমহারাজের কথা বলতে গিয়ে এই সব ছোটখাটো ঘটনার উল্লেখ করা হয়তো উচিত নয়, আমাদের গুরুভাই-বোনেরা অনেকে হয়তো একটু বিরক্তবোধ করতে পারেন _তবু উল্লেখ করলাম ! কারণ আমাদের কতটুকুই বা ক্ষমতা _তাঁকে মানুষের কাছে তুলে ধরার! আমরা চোখের সামনে যেটুকু দেখেছি, সেটাই বলার চেষ্টা করেছি।
আগে যে কথা দিয়ে শুরু হয়েছিল _সেই কথায় ফিরে আসি! যে কোন মহাপুরুষ সারাজীবন সাধনার দ্বারা ত্যাগ – সংযম-নিয়ম নিষ্ঠার দ্বারা যে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করেন _সেগুলি তিনি নিঃশর্তে নিঃস্বার্থভাবে অকাতরে সকলকে বিলিয়ে দেন। গুরুমহারাজকেও আমরা এইরূপেই দেখেছিলাম। সবসময় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে উনি মানুষের মঙ্গলসাধন করতেন। কাউকে বকছেন বা তিরস্কার করছেন _তার মানেও ঐ ব্যক্তির প্রারব্ধের ক্ষয় হচ্ছে, তার মঙ্গল হচ্ছে!
যে কোন সাধকই সাধনার দ্বারা শক্তিলাভ করতে পারে। দীর্ঘ সাধনায় অনেকেই যথেষ্ট শক্তিমান ও হোতে পারে। কিন্ত একবার শক্তিলাভ হয়ে গেলে _তা খরচ করার জন্য ঐ সাধকের মধ্যে তখন প্রচন্ড স্পৃহা তৈরি হয়ে যায়। এই শক্তির দ্বারা কেউ কেউ মানুষের ক্ষতিসাধন করে আবার অনেকে মানুষের নানারকম কল্যানও করে থাকে। কিন্তু চাপরাশ না থাকলে এই দুরকম কাজের জন্যই শক্তিক্ষয় হোতে থাকে। এমন বহু উদাহরণ দেওয়া যায় _যেখানে দেখা যায় যে, ঐ সব সাধকেরা যথেষ্ট শক্তিলাভ করেছিলেন কিন্তু লোকমান্যতা পাবার জন্য বা অন্য কোন কারণে শক্তির প্রয়োগ ঘটাতে গিয়ে ঐ সাধকেরা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। হয়তো পরবর্ত্তীতে তাদের বিয়ে-থা হয়ে গেল বা একেবারে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবন যাপন করতে হোল! (ক্রমশঃ)
মহাপুরুষগণ শরীর ধারণ করে তাঁর সাহচর্য্যে আসা মানুষজনের মধ্যে নানাভাবে শক্তি সঞ্চারিত করে , তাদেরকে উৎসাহিত করে , অপার্থিব প্রেমের বাঁধনে বেঁধে ফেলে অর্থাৎ “জো – সো” করে তাদেরকে উন্নীত করেন ৷ এক্ষেত্রে গুরু মহারাজ একটি কথা বলতেন – ” মহাপুরুষের সংসর্গে evolution বা involution যেন Revolution হয়ে যায় !” একটা জন্মের (জীবনের) মধ্যেই যেন বেশ কয়েকটি জন্মের বিবর্তন হয় ৷ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চেতনার জগতে এই স্তরে পৌঁছেই বোধহয় বলতে পেড়েছিলেন যে , ” এই জনমে ঘটালে কত জন্ম-জন্মান্তর ।”
গুরু মহারাজ বলেছিলেন তিনি যদি কারো দিকে সস্নেহে তাকান , তখন তাঁর দৃষ্টি দিয়েই সেই ব্যক্তির উপর তাঁর শক্তির transfer হয় ! তিনি আরও বলেছিলেন তাঁর শরীরের সমস্ত কোষ কলা দিয়েই শক্তি বিচ্ছুরিত হয় ! তাঁর গা থেকে যে অতি-অপূর্ব , অপার্থিব একটা মধু-পদ্ম-চন্দন মিশ্রিত সুগন্ধ হুরহুর করে বেরোতো – সেই গন্ধ শুকলেও শরীরে , মনে আমরা যেন একটা পরম শান্তি – চরম আনন্দ অনুভব করতাম । উনি যখন কাউকে হাতে তুলে কোন প্রসাদ দিতেন – তখন সেই প্রসাদের মাধ্যমেও শক্তি সঞ্চার করতেন ! আমরা দেখেছি কোন অসুস্থ বা সমস্যাজীর্ণ কোন ব্যক্তিকে যখন উনি কোন প্রসাদ দিতেন ( তা কোন মিষ্টি হোক বা কোন ফল) – সেই প্রসাদকে উনি হাতের তালুর মধ্যে অনেকক্ষণ বেশ যত্ন করে ধরে রাখতেন – তারপর প্রসাদটি নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিকে দিতেন । এতে সেই ব্যক্তির আধ্যাত্মিক মঙ্গল তো হতোই – রোগ মুক্তি বা সমস্যা মুক্তি ও ঘটতো !
গুরু মহারাজের মুখের লালাতে বিষনাশক Material ছিল ! আশ্রমের এক মহারাজকে একবার বিষাক্ত সাপে কামড়েছিল , উনি সেই ক্ষতস্থানে একটু মুখের লালা নিয়ে বুলিয়ে দিলেন – তারপর বললেন , ” যাও – তোমার শরীরে আর কোন বিষক্রিয়া হবে না ।” আর উনি যাকে স্পর্শ করে কৃপা করতেন – তার তো কথাই নাই !
আমার এক আত্মীয়ের বিবাহের just পরেই তার স্ত্রী-র কিছু শারীরিক বা মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল । আমরা সাথে সাথে ওদেরকে নিয়ে চলে এসেছিলাম বনগ্রামে সোজা গুরুমহারাজের কাছে ! গুরুমহারাজ তখন সিটিং-এ বসেছিলেন । অনেক লোকজন এসেছে – নানান প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনাও চলছে । কিন্তু আমরা তখন বিপদাপন্ন – তাই তো বিপদভাঞ্জন , সকল মুস্কিল-আসান , সমস্ত রোগের বৈদ্য স্বয়ং বৈদ্যনাথের কাছে এসেছি । ওনার কাছে গিয়ে প্রণাম করে চুপিচুপি কথাটা বলতেই উনি জিজ্ঞাসা করলেন – ” মেয়েটিকে এনেছিস ?” আমরা বললাম – ” হ্যাঁ মহারাজ , এনেছি ! ঐ যে রুনু (আমার স্ত্রী) ওকে নিয়ে আসছে আপনার কাছে !” উনি প্রায় সাথে সাথেই সিটিং ছেড়ে উঠে পড়লেন এবং বললেন – ” ওকে আমার ঘরে নিয়ে আয় !”
রুনু মেয়েটিকে ধরে ধরে ঘরে নিয়ে গেল_গুরুমহারাজ ঘরে ঢুকে বললেন _’দরজাটা বাইরে থেকে বন্ধ করে দে।’ আমরা ওনার নির্দেশ মতে কাজ করে আবার এসে সিটিং-এ বসে পড়লাম। পরে রুনুর কাছে ভিতরে কি ঘটেছিল __সেটা শুনেছিলাম।
মেয়েটি ভিতরে ঢুকে প্রথমটায় একটু এলোমেলো আচরন করছিল কিন্তু গুরুমহারাজ যেই ওকে ধরে ওনার ঘরের মাটির বেদীটিতে বসিয়ে দিয়েছিলেন, তখন সে একদম শান্ত হয়ে চুপটি করে বসেছিল। এরপর গুরুমহারাজ মেয়েটির সাথে কথা বলতে বলতে ওর দুটো ভ্রু-র মধ্যস্থলে উনি ডানহাতের বুড়োআঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ চেপে ধরে রেখেছিলেন। তারপর বলেছিলেন _”যা _ তোর কিচ্ছু হয় নি! তুই তো ভালো মেয়ে _ভালো ভাবে থাকবি কেমন!
এরপর উনি রুনু কে বলেছিলেন _”যা _একে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে কিছু খাইয়ে দে, তোরা তো আজকেই ফিরে যাবি?
গুরুমহারাজ সেটাও জানতে পেরেছিলেন __বাড়ি তো ফিরে যেতেই হোত, সেদিন যে ছিল ওদের বৌভাতের দিন! বাড়িতে লোকজন আত্মীয় স্বজনে ভর্তি! সে সবের মধ্যেই খানিকটা জোর করে স্বয়ং বৈদ্যনাথের কাছে নিয়ে আসা হয়েছিল!! ঘটনাটা ঘটতে মাত্র কয়েকমিনিট সময় লেগেছিল। এরপর গুরুমহারাজ পুনরায় এসে সিটিং এ বসে পড়লেন _শুরু হয়ে গেল আলোচনা! উনি ঐ মেয়েটির বিষয়েও কিছু কথা বললেন (যদিও ঐ দিনেই উনি মেয়েটিকে প্রথম দেখেছিলেন)। পরবর্ত্তীতে আমরা দেখেছিলাম যে মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছিল!
গুরুমহারাজের কথা বলতে গিয়ে এই সব ছোটখাটো ঘটনার উল্লেখ করা হয়তো উচিত নয়, আমাদের গুরুভাই-বোনেরা অনেকে হয়তো একটু বিরক্তবোধ করতে পারেন _তবু উল্লেখ করলাম ! কারণ আমাদের কতটুকুই বা ক্ষমতা _তাঁকে মানুষের কাছে তুলে ধরার! আমরা চোখের সামনে যেটুকু দেখেছি, সেটাই বলার চেষ্টা করেছি।
আগে যে কথা দিয়ে শুরু হয়েছিল _সেই কথায় ফিরে আসি! যে কোন মহাপুরুষ সারাজীবন সাধনার দ্বারা ত্যাগ – সংযম-নিয়ম নিষ্ঠার দ্বারা যে আধ্যাত্মিক শক্তি অর্জন করেন _সেগুলি তিনি নিঃশর্তে নিঃস্বার্থভাবে অকাতরে সকলকে বিলিয়ে দেন। গুরুমহারাজকেও আমরা এইরূপেই দেখেছিলাম। সবসময় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে উনি মানুষের মঙ্গলসাধন করতেন। কাউকে বকছেন বা তিরস্কার করছেন _তার মানেও ঐ ব্যক্তির প্রারব্ধের ক্ষয় হচ্ছে, তার মঙ্গল হচ্ছে!
যে কোন সাধকই সাধনার দ্বারা শক্তিলাভ করতে পারে। দীর্ঘ সাধনায় অনেকেই যথেষ্ট শক্তিমান ও হোতে পারে। কিন্ত একবার শক্তিলাভ হয়ে গেলে _তা খরচ করার জন্য ঐ সাধকের মধ্যে তখন প্রচন্ড স্পৃহা তৈরি হয়ে যায়। এই শক্তির দ্বারা কেউ কেউ মানুষের ক্ষতিসাধন করে আবার অনেকে মানুষের নানারকম কল্যানও করে থাকে। কিন্তু চাপরাশ না থাকলে এই দুরকম কাজের জন্যই শক্তিক্ষয় হোতে থাকে। এমন বহু উদাহরণ দেওয়া যায় _যেখানে দেখা যায় যে, ঐ সব সাধকেরা যথেষ্ট শক্তিলাভ করেছিলেন কিন্তু লোকমান্যতা পাবার জন্য বা অন্য কোন কারণে শক্তির প্রয়োগ ঘটাতে গিয়ে ঐ সাধকেরা শক্তিহীন হয়ে পড়েছিল। হয়তো পরবর্ত্তীতে তাদের বিয়ে-থা হয়ে গেল বা একেবারে আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবন যাপন করতে হোল! (ক্রমশঃ)
