অনেক সময় Devine plan বা ৺মা জগদম্বার ইচ্ছায় জগৎ সংসারে এমন দু-একটা ঘটনা ঘটে যায় যে, বুদ্ধিতে যার ব্যাখ্যা মেলে না। একদিন এই রকমই এক ঘটনার উল্লেখ করলেন গুরুমহারাজ _এখানে সেই গল্পটি দেওয়া হোল।
একবার পাঁচজন ঋষি(সনক, সনাতন, সনন্দাদি) হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা যখন মানস সরোবরের কাছে এলেন, তখন তাঁরা অবাক হয়ে দেখলেন যে সেখানে একজন অতীব সুন্দরী তরুনী সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে আপনমনে স্নান করছে!
হয়েছে কি স্বর্গের এক অপ্সরা(চিত্রাঙ্গদা) দেবরাজ ইন্দ্রকে নৃত্যে-গীতে খুশি করায় মর্তে ‘যেখানে ইচ্ছা সেখানে’ _ভ্রমনের অনুমতি লাভ করে। সেই বর পেয়ে আহ্লাদিত অপ্সরাটি আকাশমার্গ অবলম্বন করে ভ্রমণ করতে করতে হিমালয় অঞ্চলে চলে এসেছিল । হিমালয়ের অপূর্ব নৈসর্গিক শোভা দেখে আপ্লুত অপ্সরাটি হটাৎ করে মানস সরোবরের টলটলে স্বচ্ছ জল দেখে আর স্থির থাকতে পারলো না _সেখানে অবতরণ করে অঙ্গের বস্ত্রাদি খুলে নেমে পড়েছিল জলে!
আপনমনে স্নান করতে করতেই হটাৎ করে তার চোখ পড়ে গেল ঐ পাঁচজন ঋষির উপর! যাঁরা অবাক চোখে ঐ মেয়েটির স্নান করা দেখছিল!
লজ্জিত, ক্রুদ্ধ, অপমানিত অপ্সরা জল থেকে তাড়াতাড়ি উঠে,পাড়ে রাখা পোষাক গুলি অতি দ্রুত পরিধান করে _ঋষিদের উদ্দেশ্যে বলে উঠল _”তোমরা ঋষি হয়েও ‘সাধারণ মানুষের’ ন্যায় আচরন করেছ[কারন, অনাবৃত নারীশরীর দেখে সুখ লাভ করে একমাত্র ‘মনুষ্য চেতনায়’ স্থিত মানুষেরা! ঐ মানুষই যখন উন্নত চেতনায় অর্থাৎ জ্ঞানী বা ঋষি-স্থিতি লাভ করেন – তখন আর সুখস্পৃহা থাকে না! আবার মনুষ্যেতর প্রানীদের(পশু পাখি)-ও অনাবৃত নারীশরীর দেখে সুখ লাভ করে না।] _তাই আমি তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছি _তোমাদের আবার শরীর নিয়ে অন্তত এক জন্ম _সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতে হবে!
অপ্সরার মুখ থেকে এই অভিশাপ বের হবার সাথে সাথেই _যাত্রাপালায় যেমন বিশেষ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে _”ঝ্যাং”_করে একটা বাজনা বেজে ওঠে, স্বর্গলোকেও ঠিক তেমনি একটা sudden আলোড়ন পড়ে গেল!
ঋষিদেরকে অভিশাপ!! কিন্তু অপ্সরা চিত্রাঙ্গদা দেবানুগ্রহীতা _তাই তার কথা সত্য না করলেই নয়! এদিকে ঋষিদেরকে ফের শরীর নিয়ে ঋষিত্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবন কাটাতে হবে __সেও এক বিরাট সমস্যা!! কারন _এদের নতুন শরীরের দায়িত্ব নেবে কে!! সমস্ত দিক থেকে সিদ্ধ এই মহামানবদের handling করা যার তার কর্ম নয়!
সেদিন স্বর্গরাজ্যে দেবসভায় _নতুন নাটকের রচনা থেকে plot নির্বাচন, player নির্বাচন _সবকিছুর খসড়া তৈরি হয়ে গেল! কিছুদিন আগে দেবরাজ ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত, দূর্বাসা মুনির দ্বারা অভিশাপগ্রস্ত হয়েছিল । তাকেও এই নাটকের ক্যারেক্টার করে দেওয়া হোল। এমনকি ঋষিদেরকে অভিশাপ দেওয়ার অপরাধে চিত্রাঙ্গদাকেও মর্তে শরীর নিতে হল (কারণ চিত্তবৃত্তিনিরোধ হয়ে গেলে বাইরের কোন কিছু সেই চিত্তে ঘা মেরে আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়) ।
স্বর্গের সেদিনের খসড়া অনুযায়ী মর্তভূমিতে একে একে শরীর নিতে শুরু করল সকলে। পাঁচজন ঋষি পাঁচ ভাই হয়ে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণের ঘরে জন্মাল কিন্তু ওদের জন্মের পরেই বাবা-মা মারা গেল। দেবগুরু বৃহস্পতিকেও শরীর নিতে হোল এই পাঁচজনের ভার নেবার জন্য! গুরু পরমানন্দ নাম নিয়ে, অনাথ ঐ বালকদেরকে নিয়ে উনি সস্ত্রীক বনের ধারে একটি আশ্রমে এসে উঠলেন। দেবরাজ ইন্দ্রপুত্র জয়ন্ত ঐ অঞ্চলের রাজা হয়ে জন্মাল। অপ্সরা চিত্রাঙ্গদা জন্মাল ঐ রাজ্যের রাজনর্তকী হয়ে! সেদিনের সভায় এটাও নির্ধারিত হয়েছিল যে, যেদিন এই চরিত্রগুলোর সবাই একসাথে হয়ে যাবে অর্থাৎ সবার সাথে সবার দেখা হবে _সেদিনই সবার সব কথা মনে পড়ে যাবে এবং সকলে ফিরে যাবে আপন আপন স্থানে!
পাঁচ ঋষির জন্মের সময় থেকেই ‘খসড়া’ অনুযায়ী ওরা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে জন্মেছিল_যাতে ওদেরকে control করা সহজ হয়! কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হোল! ……. [ক্রমশঃ]
একবার পাঁচজন ঋষি(সনক, সনাতন, সনন্দাদি) হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে তাঁরা যখন মানস সরোবরের কাছে এলেন, তখন তাঁরা অবাক হয়ে দেখলেন যে সেখানে একজন অতীব সুন্দরী তরুনী সম্পূর্ণ বিবস্ত্র হয়ে আপনমনে স্নান করছে!
হয়েছে কি স্বর্গের এক অপ্সরা(চিত্রাঙ্গদা) দেবরাজ ইন্দ্রকে নৃত্যে-গীতে খুশি করায় মর্তে ‘যেখানে ইচ্ছা সেখানে’ _ভ্রমনের অনুমতি লাভ করে। সেই বর পেয়ে আহ্লাদিত অপ্সরাটি আকাশমার্গ অবলম্বন করে ভ্রমণ করতে করতে হিমালয় অঞ্চলে চলে এসেছিল । হিমালয়ের অপূর্ব নৈসর্গিক শোভা দেখে আপ্লুত অপ্সরাটি হটাৎ করে মানস সরোবরের টলটলে স্বচ্ছ জল দেখে আর স্থির থাকতে পারলো না _সেখানে অবতরণ করে অঙ্গের বস্ত্রাদি খুলে নেমে পড়েছিল জলে!
আপনমনে স্নান করতে করতেই হটাৎ করে তার চোখ পড়ে গেল ঐ পাঁচজন ঋষির উপর! যাঁরা অবাক চোখে ঐ মেয়েটির স্নান করা দেখছিল!
লজ্জিত, ক্রুদ্ধ, অপমানিত অপ্সরা জল থেকে তাড়াতাড়ি উঠে,পাড়ে রাখা পোষাক গুলি অতি দ্রুত পরিধান করে _ঋষিদের উদ্দেশ্যে বলে উঠল _”তোমরা ঋষি হয়েও ‘সাধারণ মানুষের’ ন্যায় আচরন করেছ[কারন, অনাবৃত নারীশরীর দেখে সুখ লাভ করে একমাত্র ‘মনুষ্য চেতনায়’ স্থিত মানুষেরা! ঐ মানুষই যখন উন্নত চেতনায় অর্থাৎ জ্ঞানী বা ঋষি-স্থিতি লাভ করেন – তখন আর সুখস্পৃহা থাকে না! আবার মনুষ্যেতর প্রানীদের(পশু পাখি)-ও অনাবৃত নারীশরীর দেখে সুখ লাভ করে না।] _তাই আমি তোমাদের অভিশাপ দিচ্ছি _তোমাদের আবার শরীর নিয়ে অন্তত এক জন্ম _সাধারণ মানুষের মতো জীবন কাটাতে হবে!
অপ্সরার মুখ থেকে এই অভিশাপ বের হবার সাথে সাথেই _যাত্রাপালায় যেমন বিশেষ ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে _”ঝ্যাং”_করে একটা বাজনা বেজে ওঠে, স্বর্গলোকেও ঠিক তেমনি একটা sudden আলোড়ন পড়ে গেল!
ঋষিদেরকে অভিশাপ!! কিন্তু অপ্সরা চিত্রাঙ্গদা দেবানুগ্রহীতা _তাই তার কথা সত্য না করলেই নয়! এদিকে ঋষিদেরকে ফের শরীর নিয়ে ঋষিত্ব হারিয়ে সাধারণ মানুষের ন্যায় জীবন কাটাতে হবে __সেও এক বিরাট সমস্যা!! কারন _এদের নতুন শরীরের দায়িত্ব নেবে কে!! সমস্ত দিক থেকে সিদ্ধ এই মহামানবদের handling করা যার তার কর্ম নয়!
সেদিন স্বর্গরাজ্যে দেবসভায় _নতুন নাটকের রচনা থেকে plot নির্বাচন, player নির্বাচন _সবকিছুর খসড়া তৈরি হয়ে গেল! কিছুদিন আগে দেবরাজ ইন্দ্রের পুত্র জয়ন্ত, দূর্বাসা মুনির দ্বারা অভিশাপগ্রস্ত হয়েছিল । তাকেও এই নাটকের ক্যারেক্টার করে দেওয়া হোল। এমনকি ঋষিদেরকে অভিশাপ দেওয়ার অপরাধে চিত্রাঙ্গদাকেও মর্তে শরীর নিতে হল (কারণ চিত্তবৃত্তিনিরোধ হয়ে গেলে বাইরের কোন কিছু সেই চিত্তে ঘা মেরে আবার পূর্বের জায়গায় ফিরে যায়) ।
স্বর্গের সেদিনের খসড়া অনুযায়ী মর্তভূমিতে একে একে শরীর নিতে শুরু করল সকলে। পাঁচজন ঋষি পাঁচ ভাই হয়ে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণের ঘরে জন্মাল কিন্তু ওদের জন্মের পরেই বাবা-মা মারা গেল। দেবগুরু বৃহস্পতিকেও শরীর নিতে হোল এই পাঁচজনের ভার নেবার জন্য! গুরু পরমানন্দ নাম নিয়ে, অনাথ ঐ বালকদেরকে নিয়ে উনি সস্ত্রীক বনের ধারে একটি আশ্রমে এসে উঠলেন। দেবরাজ ইন্দ্রপুত্র জয়ন্ত ঐ অঞ্চলের রাজা হয়ে জন্মাল। অপ্সরা চিত্রাঙ্গদা জন্মাল ঐ রাজ্যের রাজনর্তকী হয়ে! সেদিনের সভায় এটাও নির্ধারিত হয়েছিল যে, যেদিন এই চরিত্রগুলোর সবাই একসাথে হয়ে যাবে অর্থাৎ সবার সাথে সবার দেখা হবে _সেদিনই সবার সব কথা মনে পড়ে যাবে এবং সকলে ফিরে যাবে আপন আপন স্থানে!
পাঁচ ঋষির জন্মের সময় থেকেই ‘খসড়া’ অনুযায়ী ওরা জড়বুদ্ধিসম্পন্ন হয়ে জন্মেছিল_যাতে ওদেরকে control করা সহজ হয়! কিন্তু এতে হিতে বিপরীত হোল! ……. [ক্রমশঃ]
