(ন’কাকা যখন শ্রীরামপুরের সুদর্শন মাষ্টারমশাই-এর বাড়িতে যেতেন তখনকার কথা হচ্ছিল! ন’কাকার উপস্থিতিতে সুদর্শন মাষ্টারমশাই ওনার জীবনে যে সব মহাত্মাদের সাথে যোগাযোগ হয়েছিল সেইসব গল্প করতেন , আর আমরা সবাই তা থেকে আনন্দ নিতাম।)
মাষ্টারমশাই-এর এই সব গল্প-কাহিনী শুনতে শুনতে মাঝে মাঝেই ন’কাকা হাততালি দিয়ে হেসে উঠতেন এবং মাষ্টারমশাইকে উৎসাহিত করতেন! আর এতেই কাজ হোত – মাষ্টারমশাই এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতেন ! অদ্ভুত এই কৌশল ছিল ন’কাকার ! নিজে কম কথা বলতেন – কিন্তু কায়দা করে উপস্থিত জনেদের দ্বারা কথা বলিয়ে নিতেন ৷ কিন্তু যে যতই কথা বলুক , যে যতই জ্ঞানী-ধ্যানী-সম্মানী হোক না কেনো – At the end of the day উপস্থিত সব মানুষের “ফোকাস্”-টা ন’কাকাই টেনে নিতেন! উনি ঐ আলোচনা সভা থেকে বিদায় নেবার আগে বালক-বালিকা থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত সবাই ন’কাকার কাছে গিয়ে, ওনাকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে ভুলতো না ! যার যা কিছু ব্যক্তিগত , সাংসারিক বা সামাজিক সমস্যা , সেগুলি কিভাবে সমাধান করা যায় তার আলোচনাওসকলেই আলাদা আলাদা ভাবে সেরে নিতো !
কি করে যে মানুষ ঠিক সেই আসল লোকটাকে চিনতে পারতো – সেটাই আশ্চর্য্য ! মানুষটার(ন’ কাকার) শারীরিক Glaze and Glamour বলতে যা বোঝায় _সেগুলি কিছুই ছিল না ! উনি যে সুন্দর বক্তা ছিলেন – আকর্ষণীয় বক্তব্য রাখতেন , বেদ-পুরাণ-কোরান-উপনিষদ থেকে উদ্ধৃতি তুলে মানুষকে মুগ্ধ করতেন – তাও নয় ! তাহলে কেনো এত মানুষ তাঁর প্রতি আকর্ষিত হোত ?
উত্তর হচ্ছে – “এটাই আধ্যাত্মিকতা” ! “এটাই আধ্যাত্মিক পুরুষের লক্ষণ” !__ এটা একটা অলৌকিক আকর্ষণ ! অবশ্য এমনটা নয় যে তাঁর ঐ অলৌকিক শক্তির কিছু না কিছু প্রভাব আমাদের জীবনে পড়েনি ! আমরা সাধারণ মানুষেরা বেশিরভাগই সাধারণত আর্ত বা অথার্থী , দু-চারজন জিজ্ঞাসু ! আমাদের মতন ভক্তরা যে যে ‘থাকের’ বা অবস্থার(আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক)-ই হোক না কেন – সবাই তাদের চাহিদা মতো “কিছু” পেতো বই কি ! না হলে তাঁকে মানবে কেন ? মানুষ বড় চালাক ! আগে আমি কিছু পাচ্ছি নাকি তা দেখে নেবো – নিজের পাওনা-গন্ডাটা বুঝে নেবো – তারপর তোমাকে মানার ব্যাপারটা চিন্তা কোরবো!আমাদের_ অর্থাৎ আমাদের মতো বুদ্ধিমান, সেয়ানা মানুষের চিন্তাধারাটা তো এইরকমই!!
কিন্তু ন’কাকা এমন একজন মহাপুরুষ ছিলেন যিনি চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মতো শুধু ছড়িয়ে পড়তেন , আর পৌঁছে যেতেন তার কাছে , যে তাঁকে আন্তরিকভাবে ডাকতো !
কথা হচ্ছিল যখন ন’কাকা শ্রীরামপুর (হুগলী) যেতেন সেই সময়কার । ওই সময় একদিন একটি ছেলে এল তার নাম ‘তথাগত’। পদবী চ্যাটার্জী বা মুখার্জী এরকম কিছু হবে – বামুনের ছেলে ৷ মাষ্টারমশাই-কে কেন্দ্র করে যে দলটি ওখানে তৈরী হয়েছিল , তাদের মধ্যে ২/৪ জন আমাদের আশ্রমের (পরমানন্দ মিশন) ভক্তও ছিল ৷ ওরা (অসীমদা , গৌতম ভড় , শঙ্করদা) ওই গ্রুপের বাকি জনদের(মাষ্টারমশাই, সুনীল দা,জহরলাল, মানিকবাবু প্রমূখ) আশ্রমের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চরৈবেতি’ বা আশ্রম থেকে প্রকাশিত আরও ২/৪ টে বই সরবরাহ কোরতো । এই কাজ করতে গিয়েই ওরা সন্ধান পায় যে শ্রীরামপুরে কুমোরপাড়ার কাছে গঙ্গার ধারের দিকে একটি বাড়িতে ‘তথাগত’ নামে একটি ছেলে থাকে , যে গত ১৫/১৬ বছর ধরে একটা নির্দিষ্ট ঘরে বসে সাধন ভজন করে ৷ B.Sc পাশ করার পর থেকেই ওর এই ভাবান্তর ! বাড়িতে শুধু এক খন্ড কাপড় পড়ে থাকতো, আর বাইরে বেড়োলে আর এক খন্ড কাপড় ঊর্দ্ধাঙ্গে জড়িয়ে নিতো! আমরা যখন ওকে দেখলাম তখন ও একবার স্বপাক অন্ন খেতো — তাও প্রথম প্রথম আতপ চালের সিদ্ধপাক ভাত খেতো , এখন খায় খুদঘাঁটা (কেন — সে কথা পরে বলা হবে), আর কিছু সব্জী সিদ্ধ ৷ বাবা-মা আছেন (তখনও বেঁচে ছিলেন) – বাবা সরকারী চাকুরী করতেন , এখন Retired । আমাদের আশ্রমের ঐ ভক্ত গ্রুপটির সাথে আলাপ হওয়ার পর এবং গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দ) লেখা বইগুলি এবং চরৈবেতি পত্রিকা পড়ে ‘তথাগত’ আমাদের আশ্রমের প্রতি বিশেষত গুরুমহারাজের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়েছিল ! তারপর যখন সে শুনেছিল যে স্বামী পরমানন্দ আর শরীরে নাই – তখন খুবই দুঃখপ্রকাশ করেছিল !
তথাগত বাড়ীর একটি নির্দিষ্ট ঘরে সাধন-জপ করতো , সেই ঘরে সে তার মা ছাড়া কাউকে ঢুকতে দিতো না ! সারাদিনে কারো সাথে বিশেষ কথাও বলতো না – অবশ্য সে সুযোগই বা বাড়ীর লোক পেতো কোথায় ? ও তো বেশীরভাগ সময়েই ওর নির্দিষ্ট ঘরের ভিতরে সাধন-ভজনের মধ্যে থাকতো ! কিন্তু ওর সবকিছুই ব্যতিক্রম ছিল পরমানন্দ ভক্তদের ক্ষেত্রে ! ফলে পরমানন্দ ভক্তরা কেউ ওর বাড়ি গেলে তথাগত তাদের সাথে কথা বলতো – আরো কিছু আশ্রমের বই আছে কিনা তা জানতে চাইতো এবং সেগুলি নিয়ে খুব মনযোগ দিয়ে পড়তো ! ওদের কাছেই তথাগত প্রথম শুনেছিল – ন’কাকার কথা !(ক্রমশঃ)
মাষ্টারমশাই-এর এই সব গল্প-কাহিনী শুনতে শুনতে মাঝে মাঝেই ন’কাকা হাততালি দিয়ে হেসে উঠতেন এবং মাষ্টারমশাইকে উৎসাহিত করতেন! আর এতেই কাজ হোত – মাষ্টারমশাই এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে চলে যেতেন ! অদ্ভুত এই কৌশল ছিল ন’কাকার ! নিজে কম কথা বলতেন – কিন্তু কায়দা করে উপস্থিত জনেদের দ্বারা কথা বলিয়ে নিতেন ৷ কিন্তু যে যতই কথা বলুক , যে যতই জ্ঞানী-ধ্যানী-সম্মানী হোক না কেনো – At the end of the day উপস্থিত সব মানুষের “ফোকাস্”-টা ন’কাকাই টেনে নিতেন! উনি ঐ আলোচনা সভা থেকে বিদায় নেবার আগে বালক-বালিকা থেকে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত সবাই ন’কাকার কাছে গিয়ে, ওনাকে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিতে ভুলতো না ! যার যা কিছু ব্যক্তিগত , সাংসারিক বা সামাজিক সমস্যা , সেগুলি কিভাবে সমাধান করা যায় তার আলোচনাওসকলেই আলাদা আলাদা ভাবে সেরে নিতো !
কি করে যে মানুষ ঠিক সেই আসল লোকটাকে চিনতে পারতো – সেটাই আশ্চর্য্য ! মানুষটার(ন’ কাকার) শারীরিক Glaze and Glamour বলতে যা বোঝায় _সেগুলি কিছুই ছিল না ! উনি যে সুন্দর বক্তা ছিলেন – আকর্ষণীয় বক্তব্য রাখতেন , বেদ-পুরাণ-কোরান-উপনিষদ থেকে উদ্ধৃতি তুলে মানুষকে মুগ্ধ করতেন – তাও নয় ! তাহলে কেনো এত মানুষ তাঁর প্রতি আকর্ষিত হোত ?
উত্তর হচ্ছে – “এটাই আধ্যাত্মিকতা” ! “এটাই আধ্যাত্মিক পুরুষের লক্ষণ” !__ এটা একটা অলৌকিক আকর্ষণ ! অবশ্য এমনটা নয় যে তাঁর ঐ অলৌকিক শক্তির কিছু না কিছু প্রভাব আমাদের জীবনে পড়েনি ! আমরা সাধারণ মানুষেরা বেশিরভাগই সাধারণত আর্ত বা অথার্থী , দু-চারজন জিজ্ঞাসু ! আমাদের মতন ভক্তরা যে যে ‘থাকের’ বা অবস্থার(আর্ত, অর্থার্থী, জিজ্ঞাসু, জ্ঞানী ও প্রেমিক)-ই হোক না কেন – সবাই তাদের চাহিদা মতো “কিছু” পেতো বই কি ! না হলে তাঁকে মানবে কেন ? মানুষ বড় চালাক ! আগে আমি কিছু পাচ্ছি নাকি তা দেখে নেবো – নিজের পাওনা-গন্ডাটা বুঝে নেবো – তারপর তোমাকে মানার ব্যাপারটা চিন্তা কোরবো!আমাদের_ অর্থাৎ আমাদের মতো বুদ্ধিমান, সেয়ানা মানুষের চিন্তাধারাটা তো এইরকমই!!
কিন্তু ন’কাকা এমন একজন মহাপুরুষ ছিলেন যিনি চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মতো শুধু ছড়িয়ে পড়তেন , আর পৌঁছে যেতেন তার কাছে , যে তাঁকে আন্তরিকভাবে ডাকতো !
কথা হচ্ছিল যখন ন’কাকা শ্রীরামপুর (হুগলী) যেতেন সেই সময়কার । ওই সময় একদিন একটি ছেলে এল তার নাম ‘তথাগত’। পদবী চ্যাটার্জী বা মুখার্জী এরকম কিছু হবে – বামুনের ছেলে ৷ মাষ্টারমশাই-কে কেন্দ্র করে যে দলটি ওখানে তৈরী হয়েছিল , তাদের মধ্যে ২/৪ জন আমাদের আশ্রমের (পরমানন্দ মিশন) ভক্তও ছিল ৷ ওরা (অসীমদা , গৌতম ভড় , শঙ্করদা) ওই গ্রুপের বাকি জনদের(মাষ্টারমশাই, সুনীল দা,জহরলাল, মানিকবাবু প্রমূখ) আশ্রমের ত্রৈমাসিক পত্রিকা ‘চরৈবেতি’ বা আশ্রম থেকে প্রকাশিত আরও ২/৪ টে বই সরবরাহ কোরতো । এই কাজ করতে গিয়েই ওরা সন্ধান পায় যে শ্রীরামপুরে কুমোরপাড়ার কাছে গঙ্গার ধারের দিকে একটি বাড়িতে ‘তথাগত’ নামে একটি ছেলে থাকে , যে গত ১৫/১৬ বছর ধরে একটা নির্দিষ্ট ঘরে বসে সাধন ভজন করে ৷ B.Sc পাশ করার পর থেকেই ওর এই ভাবান্তর ! বাড়িতে শুধু এক খন্ড কাপড় পড়ে থাকতো, আর বাইরে বেড়োলে আর এক খন্ড কাপড় ঊর্দ্ধাঙ্গে জড়িয়ে নিতো! আমরা যখন ওকে দেখলাম তখন ও একবার স্বপাক অন্ন খেতো — তাও প্রথম প্রথম আতপ চালের সিদ্ধপাক ভাত খেতো , এখন খায় খুদঘাঁটা (কেন — সে কথা পরে বলা হবে), আর কিছু সব্জী সিদ্ধ ৷ বাবা-মা আছেন (তখনও বেঁচে ছিলেন) – বাবা সরকারী চাকুরী করতেন , এখন Retired । আমাদের আশ্রমের ঐ ভক্ত গ্রুপটির সাথে আলাপ হওয়ার পর এবং গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দ) লেখা বইগুলি এবং চরৈবেতি পত্রিকা পড়ে ‘তথাগত’ আমাদের আশ্রমের প্রতি বিশেষত গুরুমহারাজের প্রতি খুবই আকৃষ্ট হয়েছিল ! তারপর যখন সে শুনেছিল যে স্বামী পরমানন্দ আর শরীরে নাই – তখন খুবই দুঃখপ্রকাশ করেছিল !
তথাগত বাড়ীর একটি নির্দিষ্ট ঘরে সাধন-জপ করতো , সেই ঘরে সে তার মা ছাড়া কাউকে ঢুকতে দিতো না ! সারাদিনে কারো সাথে বিশেষ কথাও বলতো না – অবশ্য সে সুযোগই বা বাড়ীর লোক পেতো কোথায় ? ও তো বেশীরভাগ সময়েই ওর নির্দিষ্ট ঘরের ভিতরে সাধন-ভজনের মধ্যে থাকতো ! কিন্তু ওর সবকিছুই ব্যতিক্রম ছিল পরমানন্দ ভক্তদের ক্ষেত্রে ! ফলে পরমানন্দ ভক্তরা কেউ ওর বাড়ি গেলে তথাগত তাদের সাথে কথা বলতো – আরো কিছু আশ্রমের বই আছে কিনা তা জানতে চাইতো এবং সেগুলি নিয়ে খুব মনযোগ দিয়ে পড়তো ! ওদের কাছেই তথাগত প্রথম শুনেছিল – ন’কাকার কথা !(ক্রমশঃ)
