যাই হোক ,আবার শুরু করছি ন’কাকার প্রথম প্রথম আদিত্যপুর আশ্রম আসার কথায় ! প্রথম দিকে যখনই ন’কাকা আদিত্যপুর আশ্রমে আসতেন – তখন উনি আমাকে ওনার আসার নির্দিষ্ট দিনটি ফোনে জানাতেন , আমি হয় বনগ্রামে চলে যেতাম অথবা সকাল-সকাল বর্ধমান স্টেশনে পৌঁছে যেতাম – উনিও বনগ্রাম থেকে ওখানে চলে আসতেন । এরপর আমরা দুজনে ট্রেন ধরে চলে আসতাম বোলপুর ! প্রান্তিক স্টেশনে নেমে বেশ কয়েকবার আমরা হেঁটেও (বনডাঙ্গা সাঁওতাল পল্লীর পাশ দিয়ে) আদিত্যপুর পৌঁছেছি ! দু-একবার বাসেও এসেছি (বোলপুর-লাভপুর বাসে আদিত্যপুরে স্টপেজ রয়েছে)। পরের দিকে প্রফেসর গৌতম , ধনপতি মুখুজ্জে– এরা স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে করে আমাদেরকে আশ্রমে নিয়ে আসতো ! আমরা আশ্রমে পৌঁছে দেখতাম অনেকেই আগেভাগে আশ্রমে পৌঁছে গিয়ে ন’কাকার জন্য অপেক্ষা করছে , আবার অনেকে পরে পরে আসতো । তবে বিকালের দিকে ন’কাকার কাছে প্রচুর মানুষের সমাগম হোত । জমে উঠতো সিটিং !
ন’কাকা সাধারণত গুরু মহারাজের কথাই বলতেন , কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে , বারবার তাঁর কথায় ফিরে ফিরে আসতো তারাপীঠের মহাভৈরব সাধকশ্রেষ্ঠ বামদেবের কথা ! যত যাই প্রসঙ্গ হোক না কেন __শেষকালে বামদেবের প্রসঙ্গ আসতোই ! আর ন’কাকা এমন অক্লেশে বামদেবের জীবনের ঘটনা সমূহ বর্ণনা করতেন – যেন মনে হতো উনি দেখে দেখে বলছেন (আসলে হয়তো ওনার-ই পূর্ব জীবনের কথা) ! বামদেবের সাথে তৎকালীন যুগে কোন্ কোন্ মনীষীর দেখা হয়েছিল , কি কথা হয়েছিল – উনি অক্লেশে বলে যেতেন !
বামদেবের সাথে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্থূলে সাক্ষাৎ হয়েছিল কিনা – তা কোনো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা আছে কিনা আমার জানা নাই । ন’কাকা আমাদের বলেছিলেন সেই দুই মহাপুরুষের মহাসঙ্গমের কাহিনী ! অবশ্য ন’কাকা এটাও বলেছিলেন যে গুরু মহারাজের কাছ থেকে উনি ঐ বৃত্তান্ত শুনেছিলেন !
কিন্তু আমরা ভাবতাম কার কথা কে কাকে শোনায় – আর কে কার কথা শোনে ! একদিকে মহাগুরু আর অন্যদিকে মহাভৈরব !!
যাইহোক , উনি যা বলেছিলেন তা হল এই যে, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কেউ একজন বামদেবকে একবার কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলে ঠাকুর বাড়িতে(পোস্তা) এনেছিলেন । সেই সময় গভীর রাতে নিমতলা শ্মশান ঘাটে গিয়ে বামদেব গঙ্গার জলে ঝাঁপ দিয়ে একেবারে দক্ষিনেশ্বরে। বকুলতলার ঘাটে এই দুই মহাপুরুষের স্থূলে সাক্ষাৎ হয়েছিল গভীর রাত্রিতে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ আগে থাকতেই চলে এসেছিলেন ওখানে ! কি যে কথা হয়েছিল – তা তো বলার জো নাই , বলেই হয়তো উনি আমাদেরকে বললেন না তাই আমরাও জানতে পারলাম না ! আসলে _ওনারা যদি কথা কিছু বলেও থাকেন – তাহলেও দু-হাত দূরের মানুষও সেই কথার বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারবে না – সেটা আমরা বেশ জানি !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে বেনারসে যখন ত্রৈলঙ্গস্বামীর দেখা হয়েছিল তখন কি ঘটেছিল মনে নাই ? মহাযোগী ঠাকুরকে দেখেই বালকের মত আনন্দ করে উঠেছিলেন , তারপর একটা আঙ্গুল তুলেছিলেন – ঠাকুর সাথে সাথে দুটো আঙ্গুল তুলে ছিলেন, আর একটা বিশেষ মুদ্রা করেছিলেন ! এটা দেখে ত্রৈলঙ্গস্বামীর সে কি আনন্দ ! একটা রুপোর নস্যিদান বা ঐ ধরনের কিছু ঠাকুরকে gift দিয়েছিলেন ! ব্যাপারটার অন্ধিসন্ধি কিছু বুঝতে পারলেন ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারি নি!! (অবশ্য অনেক ব্যাখাকারেরা বলেছেন_ত্রৈলঙ্গস্বামী এক আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছিলেন_ ‘ব্রহ্ম একমেবদ্বিতীয়ম্’। ঠাকুর দুই আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছিলেন_ ‘ব্রহ্মা এবং শক্তি অভেদ’।)
এক ভগবান(ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ)-এর সাথে অন্য ভগবান(ত্রৈলঙ্গস্বামী)-এর দেখা হলো – কিন্তু কি ভাষায় কথা হলো ? কি কথা হলো ? আর সদাউলঙ্গ-সর্বত্যাগী ওই মহাযোগী , যাঁর দিনের পর দিন কাটে জলে ভেসে অথবা জলের তলায় – সে রুপোর নস্যিদানী পেলোই বা কোথা থেকে আর ঐটায় তার কাজই বা কি ছিল ? তাছাড়া পৃথিবীতে এত জিনিস থাকতে এক ভগবান অন্য ভগবানকে দিলেন নস্যিদানী ? – কেন ?
এসব রহস্য ___রহস্য হিসেবেই থেকে যাবে , যতই পণ্ডিতেরা এর ব্যাখ্যা দিক না কেনো, এইসব ঘটনার কোন ব্যাখ্যা হবে না __ যতদিন না স্বয়ং ভগবান এসে ঐসব ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ! সুতরাং বামদেবের সাথে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কি কথা হয়েছিল – তা আমাদের আর জানা হয়ে ওঠেনি । তবু ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছিলাম যে , পৃথিবীর তৎকালীন আধ্যাত্মিক পরিস্থিতি , রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি সব রকম বিষয়েই কথা হয়েছিল এবং কিভাবে সকল সমস্যার সমাধান হবে _সে কথাও হয়েছিল। সকালের আলো ফোটার আগেই ওনারা দুজনে যে যার জায়গায় ফিরে গিয়েছিলেন – যাতে কেউ টেরটিও না পায় !!(ক্রমশঃ)
ন’কাকা সাধারণত গুরু মহারাজের কথাই বলতেন , কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে , বারবার তাঁর কথায় ফিরে ফিরে আসতো তারাপীঠের মহাভৈরব সাধকশ্রেষ্ঠ বামদেবের কথা ! যত যাই প্রসঙ্গ হোক না কেন __শেষকালে বামদেবের প্রসঙ্গ আসতোই ! আর ন’কাকা এমন অক্লেশে বামদেবের জীবনের ঘটনা সমূহ বর্ণনা করতেন – যেন মনে হতো উনি দেখে দেখে বলছেন (আসলে হয়তো ওনার-ই পূর্ব জীবনের কথা) ! বামদেবের সাথে তৎকালীন যুগে কোন্ কোন্ মনীষীর দেখা হয়েছিল , কি কথা হয়েছিল – উনি অক্লেশে বলে যেতেন !
বামদেবের সাথে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের স্থূলে সাক্ষাৎ হয়েছিল কিনা – তা কোনো গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করা আছে কিনা আমার জানা নাই । ন’কাকা আমাদের বলেছিলেন সেই দুই মহাপুরুষের মহাসঙ্গমের কাহিনী ! অবশ্য ন’কাকা এটাও বলেছিলেন যে গুরু মহারাজের কাছ থেকে উনি ঐ বৃত্তান্ত শুনেছিলেন !
কিন্তু আমরা ভাবতাম কার কথা কে কাকে শোনায় – আর কে কার কথা শোনে ! একদিকে মহাগুরু আর অন্যদিকে মহাভৈরব !!
যাইহোক , উনি যা বলেছিলেন তা হল এই যে, জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির কেউ একজন বামদেবকে একবার কলকাতার বড়বাজার অঞ্চলে ঠাকুর বাড়িতে(পোস্তা) এনেছিলেন । সেই সময় গভীর রাতে নিমতলা শ্মশান ঘাটে গিয়ে বামদেব গঙ্গার জলে ঝাঁপ দিয়ে একেবারে দক্ষিনেশ্বরে। বকুলতলার ঘাটে এই দুই মহাপুরুষের স্থূলে সাক্ষাৎ হয়েছিল গভীর রাত্রিতে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ আগে থাকতেই চলে এসেছিলেন ওখানে ! কি যে কথা হয়েছিল – তা তো বলার জো নাই , বলেই হয়তো উনি আমাদেরকে বললেন না তাই আমরাও জানতে পারলাম না ! আসলে _ওনারা যদি কথা কিছু বলেও থাকেন – তাহলেও দু-হাত দূরের মানুষও সেই কথার বিন্দুবিসর্গও বুঝতে পারবে না – সেটা আমরা বেশ জানি !
ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সাথে বেনারসে যখন ত্রৈলঙ্গস্বামীর দেখা হয়েছিল তখন কি ঘটেছিল মনে নাই ? মহাযোগী ঠাকুরকে দেখেই বালকের মত আনন্দ করে উঠেছিলেন , তারপর একটা আঙ্গুল তুলেছিলেন – ঠাকুর সাথে সাথে দুটো আঙ্গুল তুলে ছিলেন, আর একটা বিশেষ মুদ্রা করেছিলেন ! এটা দেখে ত্রৈলঙ্গস্বামীর সে কি আনন্দ ! একটা রুপোর নস্যিদান বা ঐ ধরনের কিছু ঠাকুরকে gift দিয়েছিলেন ! ব্যাপারটার অন্ধিসন্ধি কিছু বুঝতে পারলেন ? আমি তো কিছুই বুঝতে পারি নি!! (অবশ্য অনেক ব্যাখাকারেরা বলেছেন_ত্রৈলঙ্গস্বামী এক আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছিলেন_ ‘ব্রহ্ম একমেবদ্বিতীয়ম্’। ঠাকুর দুই আঙ্গুল দেখিয়ে বলেছিলেন_ ‘ব্রহ্মা এবং শক্তি অভেদ’।)
এক ভগবান(ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ)-এর সাথে অন্য ভগবান(ত্রৈলঙ্গস্বামী)-এর দেখা হলো – কিন্তু কি ভাষায় কথা হলো ? কি কথা হলো ? আর সদাউলঙ্গ-সর্বত্যাগী ওই মহাযোগী , যাঁর দিনের পর দিন কাটে জলে ভেসে অথবা জলের তলায় – সে রুপোর নস্যিদানী পেলোই বা কোথা থেকে আর ঐটায় তার কাজই বা কি ছিল ? তাছাড়া পৃথিবীতে এত জিনিস থাকতে এক ভগবান অন্য ভগবানকে দিলেন নস্যিদানী ? – কেন ?
এসব রহস্য ___রহস্য হিসেবেই থেকে যাবে , যতই পণ্ডিতেরা এর ব্যাখ্যা দিক না কেনো, এইসব ঘটনার কোন ব্যাখ্যা হবে না __ যতদিন না স্বয়ং ভগবান এসে ঐসব ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন ! সুতরাং বামদেবের সাথে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কি কথা হয়েছিল – তা আমাদের আর জানা হয়ে ওঠেনি । তবু ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করে জানতে পেরেছিলাম যে , পৃথিবীর তৎকালীন আধ্যাত্মিক পরিস্থিতি , রাজনৈতিক পরিস্থিতি ইত্যাদি সব রকম বিষয়েই কথা হয়েছিল এবং কিভাবে সকল সমস্যার সমাধান হবে _সে কথাও হয়েছিল। সকালের আলো ফোটার আগেই ওনারা দুজনে যে যার জায়গায় ফিরে গিয়েছিলেন – যাতে কেউ টেরটিও না পায় !!(ক্রমশঃ)
