গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে আসার পর বনগ্রামে ফিরে এসে উনি সিটিংয়ে আমাদের সকলের কাছে – ওইসব দেশে ওনার নানান অভিজ্ঞতার কথা , সেখানকার ইতিহাস , সেখানকার বর্তমান রাজনৈতিক , অর্থনৈতিক , সামাজিক অবস্থা সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করতেন ।সেই সময় আমরা যারা সেইসব সিটিংয়ে উপস্থিত থাকতাম – তারা নতুন করে কতকিছু শিখতাম ! ওই বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্রে তখন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষক নিরবিচ্ছিন্ন ঝর্ণাধারার ন্যায় ঝর ঝর করে ওইসব প্রসঙ্গ যখন বলে যেতেন , তখন আমরা যারা শুনতাম তারা অবাক হয়ে যেতাম – ভাবতাম কি করে উনি এত কথা বলছেন ! এই তো মাত্র কদিনের জন্য উনি ঐ সব দেশে গেছিলেন _এইটুকু সময়ের মধ্যেই উনি এতকিছু জানলেন কি করে? পরে পরে আমরা জানতে পেরেছিলাম – ওনার মধ্যেই তো সবকিছু – তাহলে ওনার অজানা আর কি আছে ? উনি যা বলতে চাইবেন – তাই বলতে পারেন, ওনার আর কি অসুবিধা!!
গুরু মহারাজ নিজেই একবার বলেছিলেন – ” হস্তমলকবৎ ! পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞান যেন হাতের ময়লা !” তাছাড়া উনি আর একবার বলেছিলেন – ” মা আমাকে সিটিং-এ বসার আগেই দেখিয়ে দেয় – আজকে সিটিং-এ কে কে আসবে, কি কি জিজ্ঞাসা আসবে এবং আমাকে কি কি উত্তর দিতে হবে ৷”
তাছাড়া আমরা ওনার মুখে আরও শুনেছিলাম যে , পৃথিবীতে একমাত্র মা জগদম্বার নির্বাচিত মহাপুরুষেরাই যুগপুরুষ হিসাবে এই গ্রহে কাজ করেন এবং তাদেরই আপামর জনগণকে কৃপা করার অধিকার থাকে ! এঁরাই স্বয়ং ঈশ্বরের রূপ হওয়া সত্বেও সাধারণ মানুষের বেশে সাধারণ মানুষের একেবারে কাছটিতে চলে আসেন । তাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যে থেকে – প্রথমেই বিরাট ঐ ব্যবধানটি ঘুচিয়ে দেন ! এর ফলে দলে দলে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে আসতে সুযোগ পায় , আর উনিও সেই সুযোগে বহু মানুষকে একসাথে একবারে ঠেলে ঠেলে অনেকটা বিবর্তনের অথবা সংবর্ত্তনের ধারায় এগিয়ে দেন । একটা জন্মেই অনেক জন্ম-জন্মান্তর ঘটিয়ে দেন ৷ দীর্ঘদিন কোন সমাজে মহাপুরুষগণ সাধারণ মানুষের চেতনায় নাড়া না দিলে সেই সমাজে একটা Stagnancy তৈরি হয় । আর ঠিক তখনই প্রবল জোয়ারের স্রোতের মতো এসে কোনো না কোনো মহাপুরুষ একধাক্কায় ওই সমাজকে বা ওই জাতিকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দিয়ে যান ।
গুরু মহারাজ আরও বলেছিলেন যে মা জগদম্বার ঐ নির্দিষ্ট মহাপুরুষদেরই অধিকার আছে সাধারণ মানুষের যে কোনো জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়ার ! এনারাই সহজ-সরলভাবে সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় মানুষের মনের সমস্ত জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়ে মনের যাবতীয় সংশয় দূর করেন ! এতে কি হয় – এতে মানুষের মনোজগতে দৃঢ়-মূল হয়ে গেড়ে বসে থাকা জন্ম-জন্মান্তরের সংস্কার রাশি দূরীভূত হয় ৷ এটাই চেতনার উত্তরণ ! মানুষ যত সংস্কারমুক্ত হয় – ততই তার সমস্ত জাগতিক বন্ধন সমূহ কেটে যেতে থাকে এবং সে তখন অন্য মানুষে পরিণত হয়!
তারই বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয়-স্বজন তখন তাকে দেখে অবাক হয়ে যায়! মনে মনে ভাবে_ এই ছেলেটির/মেয়েটির হোল টা কি ? এ যেন আগের থেকে এখন অন্য মানুষে রূপান্তরিত হয়ে গেছে ! তবে Mass-এর এই রূপান্তর ঘটাতে পারেন একমাত্র মা জগদম্বার কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত যুগপুরুষেরা ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন ভগবান বুদ্ধ , যীশু , মহাপ্রভু , ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ প্রমুখেরা এই ধরনের যুগপুরুষ’ ছিলেন ৷
যাইহোক আমরা আবার আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি । আমরা বলছিলাম জার্মানীতে গুরুমহারাজ থাকাকালীন যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল – সেই সব কথায় ! অবশ্যই এই কথাগুলি সবই গুরু মহারাজের কাছেই শোনা ৷ উনি একদিন বলছিলেন – “জার্মানী জাতি খুবই কর্মঠ , পরিশ্রমী এবং মজবুত শরীরের অধিকারী ! আমি একদিন বন্ধুদের সাথে ওখানকার রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে দেখি – একজন স্থানীয় কারখানার শ্রমিক একটা পাত্রে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের Roasted ঘোড়ার থাই (thigh) এবং এক জাগ ভদকা দিয়ে প্রাতরাশ সারছে ! ওইটা খেয়ে ও কারখানার কাজে লেগে যাবে – তাহলে বুঝতে পারছো তো ওই শ্রমিকটি কতটা বেশি শ্রম দিতে পারবে !
তোমরা এটা নিশ্চয়ই বলতে পারো যে – একসাথে অতটা মাংস খেয়ে হজম করার মতো পাকযন্ত্রের ক্ষমতাও এখানকার সাধারণ মানুষের নাই এবং এখানকার জলবায়ু , আবহাওয়া অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশও অতটা মাংস খেয়ে হজমের অনুকূলও নয় ৷ এটা সত্যি কথা ! কিন্তু আমি এইজন্য উল্লেখ করলাম – যাতে তোমরা একটা ধারণা করতে পারো যে , জার্মানীর সাধারণ মানুষেরা কী সাংঘাতিক শক্তিশালী !”
গুরু মহারাজ বলেছিলেন – “রেস্টুরেন্টে ওদের বেশিরভাগ খাবারই আমিষযুক্ত ! তোমাকে নিরামিষ খাবার খেতে হলে বিস্কুট আর ফলমূল খেয়ে থাকতে হবে ৷ আর মাংস বলতে ওদের কোন বাছবিচার নাই – গরু-শুয়োর-ঘোড়া যা হোক একটা হলেই হল । বেশিরভাগ খাবারই হয় Rosted না হয় Baked অথবা Smok-ed ! Smok-ed বলতে কী বোঝায় তাও গুরুমহারাজ বুঝিয়েছিলেন – গরম ধোঁয়ার মধ্যে রেখে processing করা ! অভ্যেস না থাকলে ওই ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধযুক্ত খাবার তোমাদের কেউ মুখেই তুলতে পারবে না! জার্মানীরা ঘোড়ার মাংস খুবই খায়! গুরু মহারাজ বনগ্রামের নগেনকে উদ্দেশ্য করে এই নিয়ে সেদিন একটু মশকরাও করেছিলেন – ” জানিস্ তো নগেন ! তোদের এখানে গ্রামাঞ্চলে যেটা গালাগালি দিয়ে বলে , ‘ঘোড়ার ….. খা!’ ও দেশে দেখলাম ওইটা একটা ‘মহার্ঘ’ খাবার !”
গুরুমহারাজের মুখে একথা শুনে নগেনের সে কি হাসি!! কতদিন ধরে যে ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছে এই কথাটা মজা করে বলে তাদেরকে আনন্দ দিত _তার ইয়ত্তা নাই! নগেন বলত _ওর সেদিন যেটা সবচাইতে অবাক লেগেছিল এবং খুবই আনন্দ লেগেছিল __সেটা এই ভেবে যে _সেদিন গুরুমহারাজ ওর সাথে চটুল-ইয়ার্কি করে, ওকে বন্ধুর মর্যাদা দিয়েছিলেন!! (ক্রমশঃ)
গুরু মহারাজ নিজেই একবার বলেছিলেন – ” হস্তমলকবৎ ! পৃথিবীর যাবতীয় জ্ঞান যেন হাতের ময়লা !” তাছাড়া উনি আর একবার বলেছিলেন – ” মা আমাকে সিটিং-এ বসার আগেই দেখিয়ে দেয় – আজকে সিটিং-এ কে কে আসবে, কি কি জিজ্ঞাসা আসবে এবং আমাকে কি কি উত্তর দিতে হবে ৷”
তাছাড়া আমরা ওনার মুখে আরও শুনেছিলাম যে , পৃথিবীতে একমাত্র মা জগদম্বার নির্বাচিত মহাপুরুষেরাই যুগপুরুষ হিসাবে এই গ্রহে কাজ করেন এবং তাদেরই আপামর জনগণকে কৃপা করার অধিকার থাকে ! এঁরাই স্বয়ং ঈশ্বরের রূপ হওয়া সত্বেও সাধারণ মানুষের বেশে সাধারণ মানুষের একেবারে কাছটিতে চলে আসেন । তাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যে থেকে – প্রথমেই বিরাট ঐ ব্যবধানটি ঘুচিয়ে দেন ! এর ফলে দলে দলে সাধারণ মানুষ তাঁর কাছে আসতে সুযোগ পায় , আর উনিও সেই সুযোগে বহু মানুষকে একসাথে একবারে ঠেলে ঠেলে অনেকটা বিবর্তনের অথবা সংবর্ত্তনের ধারায় এগিয়ে দেন । একটা জন্মেই অনেক জন্ম-জন্মান্তর ঘটিয়ে দেন ৷ দীর্ঘদিন কোন সমাজে মহাপুরুষগণ সাধারণ মানুষের চেতনায় নাড়া না দিলে সেই সমাজে একটা Stagnancy তৈরি হয় । আর ঠিক তখনই প্রবল জোয়ারের স্রোতের মতো এসে কোনো না কোনো মহাপুরুষ একধাক্কায় ওই সমাজকে বা ওই জাতিকে বেশ খানিকটা এগিয়ে দিয়ে যান ।
গুরু মহারাজ আরও বলেছিলেন যে মা জগদম্বার ঐ নির্দিষ্ট মহাপুরুষদেরই অধিকার আছে সাধারণ মানুষের যে কোনো জিজ্ঞাসার উত্তর দেওয়ার ! এনারাই সহজ-সরলভাবে সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় মানুষের মনের সমস্ত জিজ্ঞাসার উত্তর দিয়ে মনের যাবতীয় সংশয় দূর করেন ! এতে কি হয় – এতে মানুষের মনোজগতে দৃঢ়-মূল হয়ে গেড়ে বসে থাকা জন্ম-জন্মান্তরের সংস্কার রাশি দূরীভূত হয় ৷ এটাই চেতনার উত্তরণ ! মানুষ যত সংস্কারমুক্ত হয় – ততই তার সমস্ত জাগতিক বন্ধন সমূহ কেটে যেতে থাকে এবং সে তখন অন্য মানুষে পরিণত হয়!
তারই বন্ধু-বান্ধব , আত্মীয়-স্বজন তখন তাকে দেখে অবাক হয়ে যায়! মনে মনে ভাবে_ এই ছেলেটির/মেয়েটির হোল টা কি ? এ যেন আগের থেকে এখন অন্য মানুষে রূপান্তরিত হয়ে গেছে ! তবে Mass-এর এই রূপান্তর ঘটাতে পারেন একমাত্র মা জগদম্বার কাছ থেকে ভারপ্রাপ্ত যুগপুরুষেরা ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন ভগবান বুদ্ধ , যীশু , মহাপ্রভু , ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ প্রমুখেরা এই ধরনের যুগপুরুষ’ ছিলেন ৷
যাইহোক আমরা আবার আমাদের মূল আলোচনায় ফিরে আসি । আমরা বলছিলাম জার্মানীতে গুরুমহারাজ থাকাকালীন যে সমস্ত ঘটনা ঘটেছিল – সেই সব কথায় ! অবশ্যই এই কথাগুলি সবই গুরু মহারাজের কাছেই শোনা ৷ উনি একদিন বলছিলেন – “জার্মানী জাতি খুবই কর্মঠ , পরিশ্রমী এবং মজবুত শরীরের অধিকারী ! আমি একদিন বন্ধুদের সাথে ওখানকার রেস্টুরেন্টে খেতে গিয়ে দেখি – একজন স্থানীয় কারখানার শ্রমিক একটা পাত্রে দুই থেকে আড়াই কেজি ওজনের Roasted ঘোড়ার থাই (thigh) এবং এক জাগ ভদকা দিয়ে প্রাতরাশ সারছে ! ওইটা খেয়ে ও কারখানার কাজে লেগে যাবে – তাহলে বুঝতে পারছো তো ওই শ্রমিকটি কতটা বেশি শ্রম দিতে পারবে !
তোমরা এটা নিশ্চয়ই বলতে পারো যে – একসাথে অতটা মাংস খেয়ে হজম করার মতো পাকযন্ত্রের ক্ষমতাও এখানকার সাধারণ মানুষের নাই এবং এখানকার জলবায়ু , আবহাওয়া অর্থাৎ প্রাকৃতিক পরিবেশও অতটা মাংস খেয়ে হজমের অনুকূলও নয় ৷ এটা সত্যি কথা ! কিন্তু আমি এইজন্য উল্লেখ করলাম – যাতে তোমরা একটা ধারণা করতে পারো যে , জার্মানীর সাধারণ মানুষেরা কী সাংঘাতিক শক্তিশালী !”
গুরু মহারাজ বলেছিলেন – “রেস্টুরেন্টে ওদের বেশিরভাগ খাবারই আমিষযুক্ত ! তোমাকে নিরামিষ খাবার খেতে হলে বিস্কুট আর ফলমূল খেয়ে থাকতে হবে ৷ আর মাংস বলতে ওদের কোন বাছবিচার নাই – গরু-শুয়োর-ঘোড়া যা হোক একটা হলেই হল । বেশিরভাগ খাবারই হয় Rosted না হয় Baked অথবা Smok-ed ! Smok-ed বলতে কী বোঝায় তাও গুরুমহারাজ বুঝিয়েছিলেন – গরম ধোঁয়ার মধ্যে রেখে processing করা ! অভ্যেস না থাকলে ওই ধোঁয়া ধোঁয়া গন্ধযুক্ত খাবার তোমাদের কেউ মুখেই তুলতে পারবে না! জার্মানীরা ঘোড়ার মাংস খুবই খায়! গুরু মহারাজ বনগ্রামের নগেনকে উদ্দেশ্য করে এই নিয়ে সেদিন একটু মশকরাও করেছিলেন – ” জানিস্ তো নগেন ! তোদের এখানে গ্রামাঞ্চলে যেটা গালাগালি দিয়ে বলে , ‘ঘোড়ার ….. খা!’ ও দেশে দেখলাম ওইটা একটা ‘মহার্ঘ’ খাবার !”
গুরুমহারাজের মুখে একথা শুনে নগেনের সে কি হাসি!! কতদিন ধরে যে ও বন্ধু-বান্ধবদের কাছে এই কথাটা মজা করে বলে তাদেরকে আনন্দ দিত _তার ইয়ত্তা নাই! নগেন বলত _ওর সেদিন যেটা সবচাইতে অবাক লেগেছিল এবং খুবই আনন্দ লেগেছিল __সেটা এই ভেবে যে _সেদিন গুরুমহারাজ ওর সাথে চটুল-ইয়ার্কি করে, ওকে বন্ধুর মর্যাদা দিয়েছিলেন!! (ক্রমশঃ)
