শ্রী শ্রী গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ ইউরোপ থেকে ফিরে বনগ্রামে সিটিং-এ ওখানকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমাদের কাছে আলোচনা করেছিলেন ৷ সেই প্রসঙ্গে যেমন উঠে এসেছিল ওখানকার ভক্তদের কথা , তেমনই ওইসব দেশের আবহাওয়া , জলবায়ু , সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অবস্থা , ঐসব দেশের ইতিহাস (প্রাচীন এবং আধুনিক) ইত্যাদি নানান বিষয় সমূহ । আমরা এখন আলোচনা করছিলাম জার্মানীর ঘটনা নিয়ে ৷ সাধারণভাবেই _ওই দেশের সমাজনীতি-অর্থনীতি , ভৌগলিক ও ঐতিহাসিক দিকগুলি উনি আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সেগুলো আমাদের এখানকার আলোচনার বিষয়বস্তু নয় , কারণ সকলে ভূগোলের ম্যাপ খুললেই এইগুলি পেয়ে যাবেন – তাই আর সেসব বলছি না ৷ তবে উনি যা বলেছিলেন তাতে আমরা এটা বুঝেছিলাম যে ইংল্যান্ড জার্মানী এই দেশগুলি কিন্তু শীত প্রধান দেশ , অর্থাৎ বছরের মধ্যে অন্ততঃ ৭/৮ মাস ঠান্ডা থাকে ৷ অপেক্ষাকৃত ইতালির আবহাওয়া অনেকটাই আমাদের দেশের সাথে মেলে । যার জন্য ওখানকার মানুষের শরীরের গঠন , মুখের গঠনও অনেকটা এদেশের মানুষের মতোই ! ইউরোপের অন্যান্য অংশের তুলনায় ইতালিয়ানদের গায়ের রঙও অতটা সাদা নয় – খানিকটা আমাদের ভারতের কাশ্মীরিদের গায়ের রঙ ! আমাদের এখানে ইতালি থেকে যারা আসে, তাদের মধ্যে আলেক্স এবং ইলারিও-র নাম উল্লেখ করে গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” ওদেরকে দেখে অনেকেই ভারতের উত্তরাংশের লোক বলেই মনে করে !”
আমরা আগের এপিসোডে জার্মানীর কথা বলতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এডলফ্ হিটলারের উল্লেখ করেছিলাম । আমরা আগের এপিসোড শেষ করেছিলাম_ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে হিটলারের দেখা হওয়ার ব্যাপারে গুরু মহারাজ কি বলেছিলেন — সেই জায়গায় । আজ সেখান থেকেই আবার শুরু করি !
সুভাষচন্দ্র ভারতবর্ষ থেকে আফগানিস্তান, রাশিয়া হয়ে, নানান কঠিন বাধা পেড়িয়ে জার্মানী পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পৌঁছে গেলেও_ প্রথমেই সরাসরি হিটলারের সাথে যোগাযোগ করতে বা দেখা করতে তিনি পারেন নি । জার্মানীতে একটি বিপ্লবী গ্রুপের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের যোগাযোগ হয়েছিল ৷ ওরাই হিটলারের সাথে নেতাজি সুভাষের দেখা করানোর একটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিল । কিন্তু একটা সময় এমন অবস্থা এসেছিল যে , বিদেশি হিসাবে অর্থাৎ জার্মানীর অ-নাগরিক হিসাবে আর সুভাষচন্দ্রের ওদেশে থাকা সম্ভব ছিল না । সে ক্ষেত্রে একটা উপায়ই ছিল – সুভাষ যদি জার্মানীর কোন মহিলাকে বিবাহ করে – তাহলে আর কোন অসুবিধা হবে না , সাথে সাথে ঐ দেশের নাগরিকত্ব বা ওদেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যাবে । নেতাজী সুভাষ-কে ওরা সেই সময় কিছুদিন লুকিয়ে রাখতেও বাধ্য হয়েছিল ৷ শুধুমাত্র দেশমাতৃকার অঙ্গ থেকে পরাধীনতার শৃংখল উন্মোচন করার জন্য সেই মহান সন্ন্যাসীকল্প মানুষটি একটা Understanding বিবাহ করেছিল !
আমরা গুরুমহারাজের নিজের মুখ থেকে এই কথাগুলি শুনেছিলাম ! আজন্ম ব্রহ্মচারী – দেশমাতৃকার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির কাছে যেখানে নিজের প্রাণটাই তুচ্ছাতিতুচ্ছ – যাঁর জীবন-যৌবন ইংরেজদের নিষ্ঠুরতা ও স্বদেশবাসীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে উৎসর্গীকৃত – তাঁর কাছে নারীশরীরের প্রলোভন তুচ্ছ – এই ধারণা এখনও বেশিরভাগ ভারতবাসীর তৈরি-ই হয়নি ! তাই ভারতবর্ষের জনগণ নেতাজির মূল্যায়ন আজও করতে পারলো না ! গুরুমহারাজ আরও বলেছিলেন – ওই মেয়েটি (এমিলি শেঙ্কেল)-র ভারতে আসার বা নিজেকে নেতাজির স্ত্রী হিসাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার কোন ইচ্ছা বা প্রচেষ্টাই ছিল না। তৎকালে ভারতবর্ষের নেতৃবর্গ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য লোক পাঠিয়ে ওই মহিলাকে ভারতে এনে তাকে High-light করেছিল!
যাইহোক , তারপর হিটলারের সাথে নেতাজী সুভাষচন্দ্রের দেখা হয়েছিল ৷ কারণ সুভাষের কাছে ইতালি সরকারের দেওয়া কিছু পরিচয়পত্র ছিল, আর ইতালি ছিল জার্মানির বন্ধুরাষ্ট্র, অক্ষশক্তির সহযোগী দেশ। বিপ্লবী রাসবিহারী বসু বহু আগে থেকেই জাপানে গিয়ে ওখানকার সরকারের সাথে একটা সুসম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছিল, এমনকি যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে ছোটখাটো একটা সৈন্যদল-ও তৈরি করে ফেলেছিল! সুভাষচন্দ্র জাপানে যাবার পর রাসবিহারী ওনাকে সেই সেনাবাহিনীর(INA) ‘সর্বাধিনায়ক’ ঘোষনা করে দিয়েছিলেন। ঐ সৈন্যরাই সুভাষ-কে “নেতা-জী” হিসাবে গ্রহণ করে নেয় এবং উনি এরপর থেকেই সকলের কাছে “নেতাজী” নামে পরিচিত হন(নেতাজী সুভাষ জার্মানীতেও একইভাবে একটা সৈন্যদল গঠন করেছিলেন। এই দুই মিলিত বাহিনী ই পরবর্তীকালের INA বা আজাদ হিন্দ ফৌজ!)। যাইহোক, এইসব কারনেই জাপান সরকার সুভাষচন্দ্রকে অত অল্প সময়ের মধ্যে _এতটা সাহায্য করেছিল।
হিটলারের সাথে সুভাষচন্দ্রের সাক্ষাৎের সময়, হিটলার সুভাষকে বলেন – ‘তোমার দেশের তো এখন নিজস্বতা বলতে কিছুই নাই , অর্থবল নাই – সৈন্যবল নাই , তোমার নিজের তেমন কোনো আন্তর্জাতিক পরিচিতি নাই – তাহলে কি নিয়ে তুমি শক্তিশালী ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করবে বা আমাকে সাহায্য করবে ?’
সুভাষ ওনাকে বুঝিয়েছিলেন __ অক্ষশক্তির হাতে যত ব্রিটিশের যুদ্ধবন্দী রয়েছে, তাদের মধ্যে ভারতীয় ( তখন অখন্ড ভারতবর্ষ ছিল।) উপমহাদেশের সমস্ত বন্দীদেরকে যদি ওরা ছেড়ে দেয় এবং তাদেরকে সুভাষের হাতে তুলে দেয় , তাহলে রাসবিহারী বসু যে ছোটখাটো সৈন্যদল [INA] তৈরি করেছেন – তার সঙ্গে এরা যুক্ত হলেই একটা বিরাট সৈন্যদল তৈরি হবে, আর তা হলে _তখন তারা(যারা এতদিন বৃটিশের হয়ে লড়াই করেছিল)_ই বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আর এভাবেই সুভাষের এই নতুন সৈন্যদল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে সহায়তা করতে পারবে।
হিটলার বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ব্যক্তি একজন অসাধারণ মানুষ তাই তিনি সুভাষের যুক্তি মেনে নিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ কথাবার্তার পর সুভাষ বিশ্বত্রাস হিটলার কে একটা মাত্র উপদেশ দিয়েছিলেন, যেটাকে সতর্কবাণীও বলা যেতে পারে _আর এইটা থেকেই বোঝা যায় এই মহান দেশপ্রেমিক, মহাসাধক সুভাষ কতবড় কূটনিতীজ্ঞ ছিলেন! যে ব্যাপারটা তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক হিটলার বুঝতেই পারেন নি ! পরামর্শটি ছিল _”রাশিয়া যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি(পূর্বচুক্তি মত) _তাই কোন কারণেই যেন জার্মান-সৈন্য রাশিয়ার কোন ক্ষতিসাধন না করে!”
হিটলারের সাথে দেখা করার পরই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জার্মানী থেকে জাপান গিয়েছিলেন ৷ আমরা অনেকেই জানি এই পথটা উনি সাবমেরিনে করে গিয়েছিলেন !প্রথমটায় জার্মানীরা এবং পরে জাপান সরকার এই ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে , চারিদিকে মিত্রপক্ষের যুদ্ধজাহাজ টহলদারি চালাচ্ছে – তার মধ্যে দিয়ে মাত্র দুই-একজন সহকারি এবং সাবমেরিন চালকদের নিয়ে অকুতোভয় নেতাজি সুভাষ দীর্ঘ জলপথ পার হয়ে জাপানে পৌঁছেছিলেন ! শোনা যায় শত্রুপক্ষ যাত্রাপথের কোন এক সময়, ঐ সাবমেরিনটাকে ট্রেস করতে পেরে কিছু টর্পেডোও ছুঁড়েছিল – কিন্তু একটাও ওই সাবমেরিনে লাগেনি ! সেই সময় ওই সাবমেরিনের বাকি আরোহীরা প্রাণ ভয়ে ভীত ও অস্থির হয়ে পড়লেও – ওরা সবিস্ময়ে দেখেছিল যে সুভাষচন্দ্র অত্যন্ত শান্ত – ধীর , স্থির ভাবে চেয়ারে বসে একটা ম্যাপ তৈরি করছেন , বাইরের ব্যাপারে তাঁর কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও ছিল না ! (ক্রমশঃ)
আমরা আগের এপিসোডে জার্মানীর কথা বলতে গিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এবং জার্মানির ইতিহাসের অন্যতম ব্যক্তিত্ব এডলফ্ হিটলারের উল্লেখ করেছিলাম । আমরা আগের এপিসোড শেষ করেছিলাম_ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর সাথে হিটলারের দেখা হওয়ার ব্যাপারে গুরু মহারাজ কি বলেছিলেন — সেই জায়গায় । আজ সেখান থেকেই আবার শুরু করি !
সুভাষচন্দ্র ভারতবর্ষ থেকে আফগানিস্তান, রাশিয়া হয়ে, নানান কঠিন বাধা পেড়িয়ে জার্মানী পৌঁছেছিলেন। কিন্তু পৌঁছে গেলেও_ প্রথমেই সরাসরি হিটলারের সাথে যোগাযোগ করতে বা দেখা করতে তিনি পারেন নি । জার্মানীতে একটি বিপ্লবী গ্রুপের সঙ্গে সুভাষচন্দ্রের যোগাযোগ হয়েছিল ৷ ওরাই হিটলারের সাথে নেতাজি সুভাষের দেখা করানোর একটা ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেছিল । কিন্তু একটা সময় এমন অবস্থা এসেছিল যে , বিদেশি হিসাবে অর্থাৎ জার্মানীর অ-নাগরিক হিসাবে আর সুভাষচন্দ্রের ওদেশে থাকা সম্ভব ছিল না । সে ক্ষেত্রে একটা উপায়ই ছিল – সুভাষ যদি জার্মানীর কোন মহিলাকে বিবাহ করে – তাহলে আর কোন অসুবিধা হবে না , সাথে সাথে ঐ দেশের নাগরিকত্ব বা ওদেশে বসবাসের অনুমতি পাওয়া যাবে । নেতাজী সুভাষ-কে ওরা সেই সময় কিছুদিন লুকিয়ে রাখতেও বাধ্য হয়েছিল ৷ শুধুমাত্র দেশমাতৃকার অঙ্গ থেকে পরাধীনতার শৃংখল উন্মোচন করার জন্য সেই মহান সন্ন্যাসীকল্প মানুষটি একটা Understanding বিবাহ করেছিল !
আমরা গুরুমহারাজের নিজের মুখ থেকে এই কথাগুলি শুনেছিলাম ! আজন্ম ব্রহ্মচারী – দেশমাতৃকার জন্য নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তির কাছে যেখানে নিজের প্রাণটাই তুচ্ছাতিতুচ্ছ – যাঁর জীবন-যৌবন ইংরেজদের নিষ্ঠুরতা ও স্বদেশবাসীর অত্যাচারের বিরুদ্ধে উৎসর্গীকৃত – তাঁর কাছে নারীশরীরের প্রলোভন তুচ্ছ – এই ধারণা এখনও বেশিরভাগ ভারতবাসীর তৈরি-ই হয়নি ! তাই ভারতবর্ষের জনগণ নেতাজির মূল্যায়ন আজও করতে পারলো না ! গুরুমহারাজ আরও বলেছিলেন – ওই মেয়েটি (এমিলি শেঙ্কেল)-র ভারতে আসার বা নিজেকে নেতাজির স্ত্রী হিসাবে জনসমক্ষে তুলে ধরার কোন ইচ্ছা বা প্রচেষ্টাই ছিল না। তৎকালে ভারতবর্ষের নেতৃবর্গ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য লোক পাঠিয়ে ওই মহিলাকে ভারতে এনে তাকে High-light করেছিল!
যাইহোক , তারপর হিটলারের সাথে নেতাজী সুভাষচন্দ্রের দেখা হয়েছিল ৷ কারণ সুভাষের কাছে ইতালি সরকারের দেওয়া কিছু পরিচয়পত্র ছিল, আর ইতালি ছিল জার্মানির বন্ধুরাষ্ট্র, অক্ষশক্তির সহযোগী দেশ। বিপ্লবী রাসবিহারী বসু বহু আগে থেকেই জাপানে গিয়ে ওখানকার সরকারের সাথে একটা সুসম্পর্ক স্থাপন করে রেখেছিল, এমনকি যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে ছোটখাটো একটা সৈন্যদল-ও তৈরি করে ফেলেছিল! সুভাষচন্দ্র জাপানে যাবার পর রাসবিহারী ওনাকে সেই সেনাবাহিনীর(INA) ‘সর্বাধিনায়ক’ ঘোষনা করে দিয়েছিলেন। ঐ সৈন্যরাই সুভাষ-কে “নেতা-জী” হিসাবে গ্রহণ করে নেয় এবং উনি এরপর থেকেই সকলের কাছে “নেতাজী” নামে পরিচিত হন(নেতাজী সুভাষ জার্মানীতেও একইভাবে একটা সৈন্যদল গঠন করেছিলেন। এই দুই মিলিত বাহিনী ই পরবর্তীকালের INA বা আজাদ হিন্দ ফৌজ!)। যাইহোক, এইসব কারনেই জাপান সরকার সুভাষচন্দ্রকে অত অল্প সময়ের মধ্যে _এতটা সাহায্য করেছিল।
হিটলারের সাথে সুভাষচন্দ্রের সাক্ষাৎের সময়, হিটলার সুভাষকে বলেন – ‘তোমার দেশের তো এখন নিজস্বতা বলতে কিছুই নাই , অর্থবল নাই – সৈন্যবল নাই , তোমার নিজের তেমন কোনো আন্তর্জাতিক পরিচিতি নাই – তাহলে কি নিয়ে তুমি শক্তিশালী ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করবে বা আমাকে সাহায্য করবে ?’
সুভাষ ওনাকে বুঝিয়েছিলেন __ অক্ষশক্তির হাতে যত ব্রিটিশের যুদ্ধবন্দী রয়েছে, তাদের মধ্যে ভারতীয় ( তখন অখন্ড ভারতবর্ষ ছিল।) উপমহাদেশের সমস্ত বন্দীদেরকে যদি ওরা ছেড়ে দেয় এবং তাদেরকে সুভাষের হাতে তুলে দেয় , তাহলে রাসবিহারী বসু যে ছোটখাটো সৈন্যদল [INA] তৈরি করেছেন – তার সঙ্গে এরা যুক্ত হলেই একটা বিরাট সৈন্যদল তৈরি হবে, আর তা হলে _তখন তারা(যারা এতদিন বৃটিশের হয়ে লড়াই করেছিল)_ই বৃটিশের বিরুদ্ধে লড়াই করবে। আর এভাবেই সুভাষের এই নতুন সৈন্যদল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলারকে সহায়তা করতে পারবে।
হিটলার বুঝতে পেরেছিলেন যে এই ব্যক্তি একজন অসাধারণ মানুষ তাই তিনি সুভাষের যুক্তি মেনে নিয়েছিলেন। অনেকক্ষণ কথাবার্তার পর সুভাষ বিশ্বত্রাস হিটলার কে একটা মাত্র উপদেশ দিয়েছিলেন, যেটাকে সতর্কবাণীও বলা যেতে পারে _আর এইটা থেকেই বোঝা যায় এই মহান দেশপ্রেমিক, মহাসাধক সুভাষ কতবড় কূটনিতীজ্ঞ ছিলেন! যে ব্যাপারটা তৎকালীন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রনায়ক হিটলার বুঝতেই পারেন নি ! পরামর্শটি ছিল _”রাশিয়া যেহেতু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি(পূর্বচুক্তি মত) _তাই কোন কারণেই যেন জার্মান-সৈন্য রাশিয়ার কোন ক্ষতিসাধন না করে!”
হিটলারের সাথে দেখা করার পরই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু জার্মানী থেকে জাপান গিয়েছিলেন ৷ আমরা অনেকেই জানি এই পথটা উনি সাবমেরিনে করে গিয়েছিলেন !প্রথমটায় জার্মানীরা এবং পরে জাপান সরকার এই ব্যবস্থা করে দিয়েছিল। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে , চারিদিকে মিত্রপক্ষের যুদ্ধজাহাজ টহলদারি চালাচ্ছে – তার মধ্যে দিয়ে মাত্র দুই-একজন সহকারি এবং সাবমেরিন চালকদের নিয়ে অকুতোভয় নেতাজি সুভাষ দীর্ঘ জলপথ পার হয়ে জাপানে পৌঁছেছিলেন ! শোনা যায় শত্রুপক্ষ যাত্রাপথের কোন এক সময়, ঐ সাবমেরিনটাকে ট্রেস করতে পেরে কিছু টর্পেডোও ছুঁড়েছিল – কিন্তু একটাও ওই সাবমেরিনে লাগেনি ! সেই সময় ওই সাবমেরিনের বাকি আরোহীরা প্রাণ ভয়ে ভীত ও অস্থির হয়ে পড়লেও – ওরা সবিস্ময়ে দেখেছিল যে সুভাষচন্দ্র অত্যন্ত শান্ত – ধীর , স্থির ভাবে চেয়ারে বসে একটা ম্যাপ তৈরি করছেন , বাইরের ব্যাপারে তাঁর কোনো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাও ছিল না ! (ক্রমশঃ)
