[ন’কাকা বিভিন্ন মহাপুরুষদের সম্বন্ধে অনায়াসে নানা কথা এমনভাবে বলতেন যাতে মনে হোত, উনি সব দেখে বলছেন। এছাড়া ওনার সাথে অনেক উন্নত মহাপুরুষদের স্থুলে এবং সুক্ষে সাক্ষাৎ ও হয়েছিল_…….। ]
ন’কাকার এই সব কথা শোনার সময় খুব করে মনে হতো – ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করি – “আচ্ছা ন’কাকা ! তাহলে আপনি কে ? আপনি কি ?” কিন্তু গুরু মহারাজের কাছেই তো অনেক বার অনেক রকম ভাবে শুনেছিলাম , তাছাড়া এত স্নেহ এত ভালোবাসায় ভরিয়ে রেখেছিলেন ন’কাকা __যে, তাঁর বিরক্তি উৎপাদন হয় – এমন কথা জিজ্ঞাসা করতে মন চাইত না ! আমি যখন থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে (facebook-এ) লেখা শুরু করি – তার আগে থেকেই ন’কাকার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলাবলি করছিলাম ! ওনার মতামত নিয়েই “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা” শুরু করি ! তারপর ওনার অনুমতি ক্রমেই “কথাপ্রসঙ্গে” – “৫-ম খন্ড” বের হতে থাকে ! “গল্প কথা প্রসঙ্গে” এবং “কথা প্রসঙ্গে” ষষ্ঠ খন্ড – এই দুটির-ই Manuscript তখন Ready ! “কথা প্রসঙ্গে”- ৫-ম খন্ড শেষ হবার পর আমি ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম , ” ন’কাকা ! তাহলে এবার কোনটা দেব –” কথা প্রসঙ্গে ষষ্ঠ খন্ড” না ‘গল্প কথা প্রসঙ্গে’ ?” উনি বলেছিলেন – ” গল্পটাই আগে দাও !” সেইমতো ওটাই দেওয়া হয়েছিল । “গল্প কথা প্রসঙ্গে_৫-ম খন্ড” – শেষ হতে না হতেই ন’কাকা আমাদেরকে ছেড়ে , ওনার পার্থিব শরীর ত্যাগ করে চলে গেলেন ! তারপর ন’কাকার ভক্তদের অনুরোধে শুরু করা হয় – ” ন’কাকা প্রসঙ্গে ” I এখন “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”-র সাথে Alternative day তে ” ন’কাকা প্রসঙ্গে ” ধারাবাহিকভাবে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে প্রকাশিত হয়ে চলেছে । এই প্রসঙ্গ শেষ হলে “কথা প্রসঙ্গে”- ষষ্ঠ খন্ড কি দেওয়া হবে ? – এর উত্তর কার কাছে জানবো ??
কিন্তু সে যাই হোক – কিছুদিন আগে (ন’কাকার শরীর ছাড়ার অনেক পরে) ন’কাকার এক ভক্তের কাছে আমার ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে – তার কাছে করা ন’কাকার একটি মন্তব্য নিয়ে আবার খুবই ধন্দে পড়ে গেলাম ! – ঘটনাটা বলি ! ছেলেটি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ন’কাকার কাছে যেতো ৷ ওখানে নানান গল্পের ফাঁকে ওর “শ্রীধর দা”-র কথাও হোত ! সেদিন যেই না ওই ছেলেটি ন’কাকাকে বলেছে যে , শ্রীধর দা তো এখন ফেসবুকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখছেন ! অমনি ন’কাকা বলে উঠেছিলেন – ” হ্যাঁ , শ্রীধর আগে হৃদয়ে ছিল , এখন face-এ উঠেছে !” ঐ ভক্ত ছেলেটির কাছে এই কথা শুনে আমার মনে হলো – ন’কাকার মতো মহাপুরুষের হৃদয়ে থাকাটাই তো ভালো ছিল , face-এ ওঠাটা কি অগ্রগতি না অধঃপতন ??
ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী অন্যান্য অনেক স্থানে যেতেন , কিন্তু বনগ্রাম ছাড়া অন্যান্য যে জায়গায় উনি সবচাইতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন – সেটা হল বীরভূমের আদিত্যপুর আশ্রমে । এই কথাগুলি আগেও বলা হয়েছ – তবু আর একবার বললাম ! আদিত্যপুর আশ্রমে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা ন’কাকাকে কেন্দ্র করে আসা-যাওয়া কোরতো – তারা প্রায় সবাই কিন্তু ছিল বামদেবের খুবই অনুরাগী । এর ঠিক উল্টোটা আমরা বনগ্রাম আশ্রমে দেখেছি – ওখানে যারা গুরু মহারাজের কাছে আসতো , তারা বেশিরভাগ ভক্তই ছিল রামকৃষ্ণ অনুরাগী !
যাইহোক , আদিত্যপুর আশ্রমে সকল ভক্তরা যখন এক জায়গায় হোত (ভক্তদের বেশীরভাগই বীরভূমের) – তখন প্রায়ই সবার মধ্যে আলোচনা হোতো – ন’কাকার সাথে একবার তারাপীঠ যাবার সুযোগ পেলে বেশ হয় ! ন’কাকা ওখানকার ভক্তদের সাথে বেশ কয়েকবার তারাপীঠ গেছিলেন! Mainly তারাপীঠের নিকটবর্তী গ্রাম (আটলার পাশের গ্রাম) চাকপাড়ার সুকুমার মুখার্জির বাড়ি গেলেই, মুখার্জিবাবু ন’কাকা সহ আমাদের সকলের তারাপীঠ যাবার এবং ওখানে পুজো দেওয়া , ভোগ খাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দিতেন ! ফলে আমি প্রায় প্রতিবার-ই ন’কাকার সাথে তারাপীঠ গেছিলাম! ওখানে গেলেই মনে মনে ভাবার চেষ্টা করতাম __ স্বয়ং ন’কাকার সাথে তারাপীঠের মন্দিরে মা ৺তারার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি অথবা তারাপীঠের শ্মশানে ঘুরছি , শ্বেত শিমুল গাছটা ঠিক কোনখানে ছিল তা জেনে নিচ্ছি , বামদেবকে পান্ডারা মেরে নদীর ঠিক কোনখানে ফেলে রেখেছিল – তাও জানছি , অথচ ন’কাকা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো-ই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, __তাহলে আমাদের কি হোল!!
আমরা অনেক কিছুই বোঝার চেষ্টা করতাম – কিন্তু কিছুই বুঝতে পারতাম না ! তারাপীঠে গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই সোজা চলে যাওয়া হোত– মায়ের মন্দিরে ! বেশিরভাগই একসাথে এক জায়গায় পূজার ডালা কেনা হোত–বেশিরভাগ সময়ে গুরু মহারাজের নামে অথবা ন’কাকার নামে পুজো দেওয়া হোত । অবশ্য অনেকেই আলাদাভাবে পূজা ও কিনতো! তারপর প্রসাদ খাওয়া – সামনের সেই বিখ্যাত পুকুরে হাত-ধোয়া , জল মাথায় নেওয়া ! প্রথমবার আমরা যখন ন’কাকার সাথে তারাপীঠে গেছিলাম – তখন ঐ পুকুরটির সংস্কারের কাজ হচ্ছিল ৷ পরেরবার যখন গেলাম – তখন দেখলাম বেশ টলটলে জল !
সবকিছু সেরে দোকানে এসে গরম গরম জিলিপি খাওয়া অথবা গরম তেলেভাজা এবং চা ৷ সেসব দিন কি মজাতেই কেটেছে ! অনেকবারই ভেবেছি তারাপীঠে হয়ত ন’কাকার মধ্যে অলৌকিক কিছু দেখতে পাবো – কিন্তু হায় ! ন’কাকা যে শান্ত-স্নিগ্ধ , সহজ-সরল-সাদাসিধে_ওখানেও ঠিক সেই রকমটাই থাকতেন !
একটা দৃশ্যের অবতারণা করলে আপনারাও ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন! __’তারাপীঠে মন্দিরে ঢোকার সময় বাকি সবাই-এর মতো ন’কাকাও লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন , মায়ের মন্দিরে ঢুকে পান্ডারা একটু ধাক্কাধাক্কি করছে – ন’কাকাকেও হয়তো একটু সড়িয়ে দিল, তাতেও উনি একটু হেসে সরে যাচ্ছেন ! আবার হয়তো আমাদের মধ্যে কারো অনুরোধে চলে যেতে গিয়েও আবার ফিরে এসে নিজে তারা মাকে স্পর্শ্য করে তাকেও আর একবার ৺মায়ের অঙ্গ স্পর্শ করিয়ে নিয়ে আসছেন ! হয়তো তার জন্য পান্ডারা দু’চারটে কথাও শুনিয়ে দিচ্ছে – ন’কাকা কিন্তু তাতেও সদাহাস্যময় ! এই মহাপুরুষকে নিয়ে আপনি কি করবেন বলুন তো!!!!
বামদেবের সমাধির দাওয়াটায় বসে বসে উনি কত কথা বলেছেন , ভক্তিভরে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে সমাধিতে প্রণাম করেছেন , পাশেই আরেকটি ছোট্ট সমাধিমন্দির রয়েছে – সেখানেও প্রণাম করেছেন এবং আমাদেরকেও করতে বলেছেন ! ন’কাকাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে , বিভিন্ন জন ছবি তুলেছে – কিন্তু ন’কাকা যে – কে সেই ! ওই সহজ-সরল-সাদাসিধে-সদাহাস্যময় মানুষটির মধ্যে অর্থাৎ তাঁর অন্তর্জগতে যে অনন্ত সম্পদ রয়েছে – তার সরাসরি প্রকাশ কোনদিন ঘটতে দেখি নি ! ওখানকার ভিখারিদেরকে ন’কাকা পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়েছেন – তাও দেখেছি ! একবার চাকপাড়ার সুকুমার বাবু (মুখার্জি) তারাপীঠে অন্নভোগ খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন – এইজন্য দুপুরবেলাটা যেহেতু ওখানেই কাটাতে হবে , তাই একটি লজে (সুকুমার বাবুর জানাশোনা) দুপুরটা বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছিলেন ৷ দেখেছিলাম – ন’কাকা দিব্যি সুকুমার বাবুর অনুরোধে ওই লজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন ! কত মানুষ কত ভাবে এইসব লজে দিন কাটায় – রাত কাটায় ! ন’কাকার মধ্যে এইসব কোন বিকার-ই কাজ কোরতো না ! উনি যেন গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দের) বাণীর সার্থক রূপ – “কালা কালা পায়েগা তো খায়েগা !”(ক্রমশঃ)
ন’কাকার এই সব কথা শোনার সময় খুব করে মনে হতো – ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করি – “আচ্ছা ন’কাকা ! তাহলে আপনি কে ? আপনি কি ?” কিন্তু গুরু মহারাজের কাছেই তো অনেক বার অনেক রকম ভাবে শুনেছিলাম , তাছাড়া এত স্নেহ এত ভালোবাসায় ভরিয়ে রেখেছিলেন ন’কাকা __যে, তাঁর বিরক্তি উৎপাদন হয় – এমন কথা জিজ্ঞাসা করতে মন চাইত না ! আমি যখন থেকে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে (facebook-এ) লেখা শুরু করি – তার আগে থেকেই ন’কাকার সাথে এই ব্যাপারে কথা বলাবলি করছিলাম ! ওনার মতামত নিয়েই “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা” শুরু করি ! তারপর ওনার অনুমতি ক্রমেই “কথাপ্রসঙ্গে” – “৫-ম খন্ড” বের হতে থাকে ! “গল্প কথা প্রসঙ্গে” এবং “কথা প্রসঙ্গে” ষষ্ঠ খন্ড – এই দুটির-ই Manuscript তখন Ready ! “কথা প্রসঙ্গে”- ৫-ম খন্ড শেষ হবার পর আমি ন’কাকাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম , ” ন’কাকা ! তাহলে এবার কোনটা দেব –” কথা প্রসঙ্গে ষষ্ঠ খন্ড” না ‘গল্প কথা প্রসঙ্গে’ ?” উনি বলেছিলেন – ” গল্পটাই আগে দাও !” সেইমতো ওটাই দেওয়া হয়েছিল । “গল্প কথা প্রসঙ্গে_৫-ম খন্ড” – শেষ হতে না হতেই ন’কাকা আমাদেরকে ছেড়ে , ওনার পার্থিব শরীর ত্যাগ করে চলে গেলেন ! তারপর ন’কাকার ভক্তদের অনুরোধে শুরু করা হয় – ” ন’কাকা প্রসঙ্গে ” I এখন “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”-র সাথে Alternative day তে ” ন’কাকা প্রসঙ্গে ” ধারাবাহিকভাবে সোশ্যাল নেটওয়ার্ক সাইটে প্রকাশিত হয়ে চলেছে । এই প্রসঙ্গ শেষ হলে “কথা প্রসঙ্গে”- ষষ্ঠ খন্ড কি দেওয়া হবে ? – এর উত্তর কার কাছে জানবো ??
কিন্তু সে যাই হোক – কিছুদিন আগে (ন’কাকার শরীর ছাড়ার অনেক পরে) ন’কাকার এক ভক্তের কাছে আমার ফেসবুকে লেখালেখি নিয়ে – তার কাছে করা ন’কাকার একটি মন্তব্য নিয়ে আবার খুবই ধন্দে পড়ে গেলাম ! – ঘটনাটা বলি ! ছেলেটি প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ন’কাকার কাছে যেতো ৷ ওখানে নানান গল্পের ফাঁকে ওর “শ্রীধর দা”-র কথাও হোত ! সেদিন যেই না ওই ছেলেটি ন’কাকাকে বলেছে যে , শ্রীধর দা তো এখন ফেসবুকে প্রতিদিনই কিছু না কিছু লিখছেন ! অমনি ন’কাকা বলে উঠেছিলেন – ” হ্যাঁ , শ্রীধর আগে হৃদয়ে ছিল , এখন face-এ উঠেছে !” ঐ ভক্ত ছেলেটির কাছে এই কথা শুনে আমার মনে হলো – ন’কাকার মতো মহাপুরুষের হৃদয়ে থাকাটাই তো ভালো ছিল , face-এ ওঠাটা কি অগ্রগতি না অধঃপতন ??
ন’কাকা শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী অন্যান্য অনেক স্থানে যেতেন , কিন্তু বনগ্রাম ছাড়া অন্যান্য যে জায়গায় উনি সবচাইতে স্বচ্ছন্দ বোধ করতেন – সেটা হল বীরভূমের আদিত্যপুর আশ্রমে । এই কথাগুলি আগেও বলা হয়েছ – তবু আর একবার বললাম ! আদিত্যপুর আশ্রমে যে সমস্ত ছেলেমেয়েরা ন’কাকাকে কেন্দ্র করে আসা-যাওয়া কোরতো – তারা প্রায় সবাই কিন্তু ছিল বামদেবের খুবই অনুরাগী । এর ঠিক উল্টোটা আমরা বনগ্রাম আশ্রমে দেখেছি – ওখানে যারা গুরু মহারাজের কাছে আসতো , তারা বেশিরভাগ ভক্তই ছিল রামকৃষ্ণ অনুরাগী !
যাইহোক , আদিত্যপুর আশ্রমে সকল ভক্তরা যখন এক জায়গায় হোত (ভক্তদের বেশীরভাগই বীরভূমের) – তখন প্রায়ই সবার মধ্যে আলোচনা হোতো – ন’কাকার সাথে একবার তারাপীঠ যাবার সুযোগ পেলে বেশ হয় ! ন’কাকা ওখানকার ভক্তদের সাথে বেশ কয়েকবার তারাপীঠ গেছিলেন! Mainly তারাপীঠের নিকটবর্তী গ্রাম (আটলার পাশের গ্রাম) চাকপাড়ার সুকুমার মুখার্জির বাড়ি গেলেই, মুখার্জিবাবু ন’কাকা সহ আমাদের সকলের তারাপীঠ যাবার এবং ওখানে পুজো দেওয়া , ভোগ খাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দিতেন ! ফলে আমি প্রায় প্রতিবার-ই ন’কাকার সাথে তারাপীঠ গেছিলাম! ওখানে গেলেই মনে মনে ভাবার চেষ্টা করতাম __ স্বয়ং ন’কাকার সাথে তারাপীঠের মন্দিরে মা ৺তারার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি অথবা তারাপীঠের শ্মশানে ঘুরছি , শ্বেত শিমুল গাছটা ঠিক কোনখানে ছিল তা জেনে নিচ্ছি , বামদেবকে পান্ডারা মেরে নদীর ঠিক কোনখানে ফেলে রেখেছিল – তাও জানছি , অথচ ন’কাকা আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো-ই ঘুরে বেড়াচ্ছেন, __তাহলে আমাদের কি হোল!!
আমরা অনেক কিছুই বোঝার চেষ্টা করতাম – কিন্তু কিছুই বুঝতে পারতাম না ! তারাপীঠে গাড়ি থেকে নেমে প্রথমেই সোজা চলে যাওয়া হোত– মায়ের মন্দিরে ! বেশিরভাগই একসাথে এক জায়গায় পূজার ডালা কেনা হোত–বেশিরভাগ সময়ে গুরু মহারাজের নামে অথবা ন’কাকার নামে পুজো দেওয়া হোত । অবশ্য অনেকেই আলাদাভাবে পূজা ও কিনতো! তারপর প্রসাদ খাওয়া – সামনের সেই বিখ্যাত পুকুরে হাত-ধোয়া , জল মাথায় নেওয়া ! প্রথমবার আমরা যখন ন’কাকার সাথে তারাপীঠে গেছিলাম – তখন ঐ পুকুরটির সংস্কারের কাজ হচ্ছিল ৷ পরেরবার যখন গেলাম – তখন দেখলাম বেশ টলটলে জল !
সবকিছু সেরে দোকানে এসে গরম গরম জিলিপি খাওয়া অথবা গরম তেলেভাজা এবং চা ৷ সেসব দিন কি মজাতেই কেটেছে ! অনেকবারই ভেবেছি তারাপীঠে হয়ত ন’কাকার মধ্যে অলৌকিক কিছু দেখতে পাবো – কিন্তু হায় ! ন’কাকা যে শান্ত-স্নিগ্ধ , সহজ-সরল-সাদাসিধে_ওখানেও ঠিক সেই রকমটাই থাকতেন !
একটা দৃশ্যের অবতারণা করলে আপনারাও ব্যাপারটা বুঝতে পারবেন! __’তারাপীঠে মন্দিরে ঢোকার সময় বাকি সবাই-এর মতো ন’কাকাও লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন , মায়ের মন্দিরে ঢুকে পান্ডারা একটু ধাক্কাধাক্কি করছে – ন’কাকাকেও হয়তো একটু সড়িয়ে দিল, তাতেও উনি একটু হেসে সরে যাচ্ছেন ! আবার হয়তো আমাদের মধ্যে কারো অনুরোধে চলে যেতে গিয়েও আবার ফিরে এসে নিজে তারা মাকে স্পর্শ্য করে তাকেও আর একবার ৺মায়ের অঙ্গ স্পর্শ করিয়ে নিয়ে আসছেন ! হয়তো তার জন্য পান্ডারা দু’চারটে কথাও শুনিয়ে দিচ্ছে – ন’কাকা কিন্তু তাতেও সদাহাস্যময় ! এই মহাপুরুষকে নিয়ে আপনি কি করবেন বলুন তো!!!!
বামদেবের সমাধির দাওয়াটায় বসে বসে উনি কত কথা বলেছেন , ভক্তিভরে মাটিতে কপাল ঠেকিয়ে সমাধিতে প্রণাম করেছেন , পাশেই আরেকটি ছোট্ট সমাধিমন্দির রয়েছে – সেখানেও প্রণাম করেছেন এবং আমাদেরকেও করতে বলেছেন ! ন’কাকাকে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে , বিভিন্ন জন ছবি তুলেছে – কিন্তু ন’কাকা যে – কে সেই ! ওই সহজ-সরল-সাদাসিধে-সদাহাস্যময় মানুষটির মধ্যে অর্থাৎ তাঁর অন্তর্জগতে যে অনন্ত সম্পদ রয়েছে – তার সরাসরি প্রকাশ কোনদিন ঘটতে দেখি নি ! ওখানকার ভিখারিদেরকে ন’কাকা পকেট থেকে টাকা বের করে দিয়েছেন – তাও দেখেছি ! একবার চাকপাড়ার সুকুমার বাবু (মুখার্জি) তারাপীঠে অন্নভোগ খাবার ব্যবস্থা করেছিলেন – এইজন্য দুপুরবেলাটা যেহেতু ওখানেই কাটাতে হবে , তাই একটি লজে (সুকুমার বাবুর জানাশোনা) দুপুরটা বিশ্রামের ব্যবস্থা করেছিলেন ৷ দেখেছিলাম – ন’কাকা দিব্যি সুকুমার বাবুর অনুরোধে ওই লজের বিছানায় গিয়ে শুয়ে পড়লেন ! কত মানুষ কত ভাবে এইসব লজে দিন কাটায় – রাত কাটায় ! ন’কাকার মধ্যে এইসব কোন বিকার-ই কাজ কোরতো না ! উনি যেন গুরু মহারাজের (স্বামী পরমানন্দের) বাণীর সার্থক রূপ – “কালা কালা পায়েগা তো খায়েগা !”(ক্রমশঃ)
