[ আমাদের কথা হচ্ছিল _মহাপুরুষের শরীর ধারনকালে তার নিকটাত্নীয়রা তাঁকে যে অতটা মানতে পারে না __সেই নিয়ে। কিন্তু তারা ঐ মহাপুরুষের সাথে কিভাবে ব্যবহার করল _সেটা বড় কথা নয়, তিনি যে পরিবারে শরীরধারন করেছেন সেই পরিবারের সকলের মুক্তির দায়িত্ব নিয়ে নেন_সেটাই বড় ব্যাপার। ]
….. সেই জন্যই বলছিলাম – ন’কাকার ক্ষেত্রেও এরকমটিই হোতে পারে ৷ তবে ওনাদের পরিবারের বেশিরভাগ মানুষ-ই অবশ্য আধ্যাত্মিক মানুষ । স্বয়ং গুরু মহারাজের আশ্রিত বা তাঁর কৃপাধন্য তাঁরা – তাছাড়া গুরুমহারাজ স্বয়ং ওই বাড়ির একজন Member হিসাবেই লীলা করেছেন বলা চলে ! তাই তাঁদের আবার চিন্তা কি ! ন’কাকার শ্বশুরবাড়ির কথাও আমি একদিন ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । তাঁদের পরকালের ভারও যে ন’কাকার উপরেই বর্ত্তানো ছিল – তা সেদিন উনি ঠারে-ঠোরে আমাকে বলেছিলেন ! আমি ন’কাকার করুণায় ওনাকে(ন’কাকাকে) যেমনটা বুঝেছিলাম তাতে এইটুকু বিশ্বাস আমার যথেষ্ট দৃঢ়ভাবেই ছিল যে, ন’কাকা ইচ্ছা করলে বা কারো প্রতি করুণা প্রদর্শন করতে পারেন – সে যে অবস্থার মানুষই হোক না কেন – তাকে কয়েকজন্ম অতিক্রম করিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা উনি করে দিতে পারেন ! হয়তো এমনটা করেছেনও অনেককে !
আর তাছাড়া এটাও জানতাম, গুরুমহারাজের মতোই ন’কাকারও মধ্যে এই Super Power-টা ছিল, যাতে করে উনি যে কোনো মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের প্রারব্ধ কর্মেরও ক্ষয় করে দিতে পারতেন । এটা অবশ্য সকল মহাপুরুষরাই করে থাকেন এবং তাইতো তাঁরা তাড়াতাড়ি অসুস্থ হ’ন – তাইতো তাঁরা তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরণ করেন – তাইতো তাঁরা মানুষের কল্যাণ ভেবে মানুষের হাতেই প্রাণ দিয়ে দেন!
আর তা নাহলে তো তাঁদের শরীরে কোন ক্ষয়-ই হোতো না, তাঁদের কোনদিনই মৃত্যু হোতো না ৷
গুরু মহারাজ নিজের মুখেই বলেছিলেন একথা – ” আমরা এই শরীরের এমনিতে কোন ক্ষয় নেই – তাই এই শরীরটা বহুকাল বেঁচে থাকলেও শরীরের কোষকলার মৃত্যু ঘটবে না । সেইজন্য আমাকে কোনো না কোনো পৃথিবী গ্রহের রোগকে Accept করতে হবে । যেমন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তৎকালীন কর্কট বা রোহিনী রোগকে নিজের শরীরে আকর্ষণ করে নিয়েছিলেন ৷ অনেকেই বলে, ‘ গিরিশের পাপ শরীরে নিয়ে ঠাকুরের ওই ভয়ানক ব্যাধি হয়েছিল ‘– কিন্তু এটা ঠিক কথা নয় ! কারণ আমি(গুরুমহারাজ) দেখেছি আমার এই শরীরে সমস্ত মানুষের এক কল্পকালের (কয়েক’শ বা কয়েক হাজার বছর) পাপ হজম করতে পারে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তাই করেছিলেন, সমস্ত অবতার পুরুষরাই এটা করেন । সুতরাং শুধু গিরিশের পাপ নিয়ে ঠাকুরের ‘ক্যান্সার’ রোগ – এটা ঠিক নয় ৷ গিরিশ আর তার জীবনে কতটুকু পাপ করেছিল যে স্বয়ং ভগবানের শরীরপাতের কারণ হবে ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শরীরে ক্যান্সার রোগটিকে আকর্ষণ করে নিজের শরীরে নিয়েছিলেন – কারণ ঠাকুর দেখেছিলেন এই রোগটি সমাজে মারাত্মক আকার ধারণ করতে চলেছে ৷ যেহেতু এর প্রতিকারের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি, তাই ক্যান্সার রোগ মানেই অবধারিত মৃত্যু ! এই ভয়ঙ্কর রোগটি যখনই যার হবে – সে তার অবধারিত মৃত্যুর কথা চিন্তা করে নিজেকে ‘মহাপাপী’ বলে মনে করবে এবং তার অধোগামী চিন্তার জন্য – মৃত্যুর পর তার অধোগতি ঘটবে ৷ এতসব কথা চিন্তা করেই করুণাময় যুগাবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের শরীরে এই রোগটিকে স্থান দিয়েছিলেন – যাতে করে বর্তমানের রোগাক্রান্ত যে কোনো ব্যক্তি নিজের শরীরের ওই ভয়ানক রোগটির জন্য নিজেকে পাপী বলে মনে করবে না বরং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা স্মরণ করবে । মনে মনে ভাববে – ‘ ঠাকুরের যখন এইরকম প্রাণঘাতী রোগ হয়েছিল – তাহলে আমি নিশ্চয়ই এমন কিছু পাপী নই !’ তাহলে ওই রোগক্লিষ্ট ব্যক্তি ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ-মনন করার সুবাদে তার মঙ্গল হবে ৷ দ্যাখো – মৃত্যু তো যে কোনো জীবিত ব্যক্তির-ই হবে । তবে বার্ধক্যজনিত মৃত্যু না হয়ে অকালে মৃত্যু হলেই তা দুঃখের বা বেদনার ! কিন্তু মৃত্যু যখনই হোক না কেন, ভগবান (ঈশ্বর)-কে স্মরণ করতে করতে মৃত্যু হোলে – তার পরবর্তী জন্ম খুব ভালো হয়ে থাকে । এমনটা হোলে সে ঈশ্বর অনুরাগী হয়ে জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে পারবে অর্থাৎ সে অতি দ্রুত তার জন্ম-মৃত্যুর চক্র Complete করতে পারবে (এটাই সকল মানব জীবনের উদ্দেশ্য) !”
সুতরাং এটা বোঝা গেল – ভগবান বুদ্ধ, করুণাময় যীশু, হযরত মুহাম্মদ, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মহাভৈরব বামদেব, স্বামী পরমানন্দ, ন’কাকা-শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের চারপাশের জনগণের পাপ-তাপ, জ্বালা-যন্ত্রণা ইত্যাদি Negative যা কিছু সেগুলি হরণ করে নেন, শোষণ করে নেন! এরপর সেইগুলি ওই মহাপুরুষের ভাগবতী তনু-কে ক্ষয় করতে শুরু করে, রোগ হয়ে শরীরে স্থান করে নেয় । অথবা তাঁরা শরীরপাতের জন্য মানুষের কাছ থেকে কোন অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করে শরীর ছাড়েন ৷ ইংরেজিতে এঁদের বলে __” Savior of the mankind !” এছাড়াও মহাপুরুষগণ যেন বৃষ্টিধারার মতো ! বৃষ্টির ধারা যেমন পরিবেশের দূষণ মুক্ত করে, ঠিক তেমনি মহাপুরুষগণ শুধু তাঁর চারপাশের লোকজনেরই নয়, সমগ্র মানব সমাজকেই গ্লানিমুক্ত বা কলুষমুক্ত করেন ।৷ [ক্রমশঃ]
….. সেই জন্যই বলছিলাম – ন’কাকার ক্ষেত্রেও এরকমটিই হোতে পারে ৷ তবে ওনাদের পরিবারের বেশিরভাগ মানুষ-ই অবশ্য আধ্যাত্মিক মানুষ । স্বয়ং গুরু মহারাজের আশ্রিত বা তাঁর কৃপাধন্য তাঁরা – তাছাড়া গুরুমহারাজ স্বয়ং ওই বাড়ির একজন Member হিসাবেই লীলা করেছেন বলা চলে ! তাই তাঁদের আবার চিন্তা কি ! ন’কাকার শ্বশুরবাড়ির কথাও আমি একদিন ওনাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম । তাঁদের পরকালের ভারও যে ন’কাকার উপরেই বর্ত্তানো ছিল – তা সেদিন উনি ঠারে-ঠোরে আমাকে বলেছিলেন ! আমি ন’কাকার করুণায় ওনাকে(ন’কাকাকে) যেমনটা বুঝেছিলাম তাতে এইটুকু বিশ্বাস আমার যথেষ্ট দৃঢ়ভাবেই ছিল যে, ন’কাকা ইচ্ছা করলে বা কারো প্রতি করুণা প্রদর্শন করতে পারেন – সে যে অবস্থার মানুষই হোক না কেন – তাকে কয়েকজন্ম অতিক্রম করিয়ে মুক্তির ব্যবস্থা উনি করে দিতে পারেন ! হয়তো এমনটা করেছেনও অনেককে !
আর তাছাড়া এটাও জানতাম, গুরুমহারাজের মতোই ন’কাকারও মধ্যে এই Super Power-টা ছিল, যাতে করে উনি যে কোনো মানুষের জন্ম-জন্মান্তরের প্রারব্ধ কর্মেরও ক্ষয় করে দিতে পারতেন । এটা অবশ্য সকল মহাপুরুষরাই করে থাকেন এবং তাইতো তাঁরা তাড়াতাড়ি অসুস্থ হ’ন – তাইতো তাঁরা তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরণ করেন – তাইতো তাঁরা মানুষের কল্যাণ ভেবে মানুষের হাতেই প্রাণ দিয়ে দেন!
আর তা নাহলে তো তাঁদের শরীরে কোন ক্ষয়-ই হোতো না, তাঁদের কোনদিনই মৃত্যু হোতো না ৷
গুরু মহারাজ নিজের মুখেই বলেছিলেন একথা – ” আমরা এই শরীরের এমনিতে কোন ক্ষয় নেই – তাই এই শরীরটা বহুকাল বেঁচে থাকলেও শরীরের কোষকলার মৃত্যু ঘটবে না । সেইজন্য আমাকে কোনো না কোনো পৃথিবী গ্রহের রোগকে Accept করতে হবে । যেমন ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ তৎকালীন কর্কট বা রোহিনী রোগকে নিজের শরীরে আকর্ষণ করে নিয়েছিলেন ৷ অনেকেই বলে, ‘ গিরিশের পাপ শরীরে নিয়ে ঠাকুরের ওই ভয়ানক ব্যাধি হয়েছিল ‘– কিন্তু এটা ঠিক কথা নয় ! কারণ আমি(গুরুমহারাজ) দেখেছি আমার এই শরীরে সমস্ত মানুষের এক কল্পকালের (কয়েক’শ বা কয়েক হাজার বছর) পাপ হজম করতে পারে ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তাই করেছিলেন, সমস্ত অবতার পুরুষরাই এটা করেন । সুতরাং শুধু গিরিশের পাপ নিয়ে ঠাকুরের ‘ক্যান্সার’ রোগ – এটা ঠিক নয় ৷ গিরিশ আর তার জীবনে কতটুকু পাপ করেছিল যে স্বয়ং ভগবানের শরীরপাতের কারণ হবে ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ শরীরে ক্যান্সার রোগটিকে আকর্ষণ করে নিজের শরীরে নিয়েছিলেন – কারণ ঠাকুর দেখেছিলেন এই রোগটি সমাজে মারাত্মক আকার ধারণ করতে চলেছে ৷ যেহেতু এর প্রতিকারের কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি, তাই ক্যান্সার রোগ মানেই অবধারিত মৃত্যু ! এই ভয়ঙ্কর রোগটি যখনই যার হবে – সে তার অবধারিত মৃত্যুর কথা চিন্তা করে নিজেকে ‘মহাপাপী’ বলে মনে করবে এবং তার অধোগামী চিন্তার জন্য – মৃত্যুর পর তার অধোগতি ঘটবে ৷ এতসব কথা চিন্তা করেই করুণাময় যুগাবতার ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ নিজের শরীরে এই রোগটিকে স্থান দিয়েছিলেন – যাতে করে বর্তমানের রোগাক্রান্ত যে কোনো ব্যক্তি নিজের শরীরের ওই ভয়ানক রোগটির জন্য নিজেকে পাপী বলে মনে করবে না বরং ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের কথা স্মরণ করবে । মনে মনে ভাববে – ‘ ঠাকুরের যখন এইরকম প্রাণঘাতী রোগ হয়েছিল – তাহলে আমি নিশ্চয়ই এমন কিছু পাপী নই !’ তাহলে ওই রোগক্লিষ্ট ব্যক্তি ভগবান শ্রীরামকৃষ্ণকে স্মরণ-মনন করার সুবাদে তার মঙ্গল হবে ৷ দ্যাখো – মৃত্যু তো যে কোনো জীবিত ব্যক্তির-ই হবে । তবে বার্ধক্যজনিত মৃত্যু না হয়ে অকালে মৃত্যু হলেই তা দুঃখের বা বেদনার ! কিন্তু মৃত্যু যখনই হোক না কেন, ভগবান (ঈশ্বর)-কে স্মরণ করতে করতে মৃত্যু হোলে – তার পরবর্তী জন্ম খুব ভালো হয়ে থাকে । এমনটা হোলে সে ঈশ্বর অনুরাগী হয়ে জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে পারবে অর্থাৎ সে অতি দ্রুত তার জন্ম-মৃত্যুর চক্র Complete করতে পারবে (এটাই সকল মানব জীবনের উদ্দেশ্য) !”
সুতরাং এটা বোঝা গেল – ভগবান বুদ্ধ, করুণাময় যীশু, হযরত মুহাম্মদ, শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, মহাভৈরব বামদেব, স্বামী পরমানন্দ, ন’কাকা-শ্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় এঁরা প্রত্যেকেই তাঁদের চারপাশের জনগণের পাপ-তাপ, জ্বালা-যন্ত্রণা ইত্যাদি Negative যা কিছু সেগুলি হরণ করে নেন, শোষণ করে নেন! এরপর সেইগুলি ওই মহাপুরুষের ভাগবতী তনু-কে ক্ষয় করতে শুরু করে, রোগ হয়ে শরীরে স্থান করে নেয় । অথবা তাঁরা শরীরপাতের জন্য মানুষের কাছ থেকে কোন অসহনীয় অত্যাচার সহ্য করে শরীর ছাড়েন ৷ ইংরেজিতে এঁদের বলে __” Savior of the mankind !” এছাড়াও মহাপুরুষগণ যেন বৃষ্টিধারার মতো ! বৃষ্টির ধারা যেমন পরিবেশের দূষণ মুক্ত করে, ঠিক তেমনি মহাপুরুষগণ শুধু তাঁর চারপাশের লোকজনেরই নয়, সমগ্র মানব সমাজকেই গ্লানিমুক্ত বা কলুষমুক্ত করেন ।৷ [ক্রমশঃ]
