[ ন’কাকার স্থূল শরীর চলে যাবার পর ভক্তদের যে কি অবস্থা হয়েছিল – সেইসব কথা বলা হছিলো..|]
ন’কাকার স্থূল শরীরের প্রয়োজনীয়তা আমি অন্ততঃ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছি ! অবশ্য আমি ছাড়া ন’কাকার অন্যান্য ভক্তরাও নিশ্চয়ই তাদের নিজের মতো করে এই ব্যাপারটা উপলব্ধি করছেন ! এখন, অর্থাৎ বর্তমানেও ন’কাকার বেশিরভাগ ভক্তদের সাথেই আমার কোনো না কোনো ভাবে যোগাযোগ রয়েছে – সুতরাং তাদের মনের অবস্থার কথাও তো তারা জানায় – তাই জানতে পারি ।
তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই একটা কথা common – ” শ্রীধর দা ! কি সম্পদ যে আমরা পেয়েও হারালাম – এই ক্ষতি পূরণ হবার নয় !” সত্যি সত্যিই ‘অপূরণীয়’ বলে যে শব্দটা রয়েছে, তা বোধহয় এই ক্ষেত্রেই সঠিক অর্থে প্রযোজ্য হয় ৷ পিতা-মাতার মৃত্যুর পরে অবশ্যই ছেলেমেয়েদের জীবনে খুবই ক্ষতি হয়, বিরাট একটা শূন্যতা – একটা অভাববোধ সৃষ্টি হয় । কিন্তু এই ক্ষতিও অপূরণীয় নয় – কারণ প্রতিটি ব্যক্তিই এই loss বা এই ধাক্কা ,খুব অল্পসময়ের মধ্যেই কাটিয়ে ওঠে ! আবার সে নতুন উদ্যমে সংসারের কাজে ব্রতী হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় – সংসারের কর্তা অর্থাৎ ওই ব্যক্তির পিতা যেভাবে সংসার চালাতো, সে হয়তো বাবার চেয়েও ভালোভাবে সবকিছুকে ম্যানেজ করে সংসারের আরও উন্নতি করে ।
কিন্তু কোনো মহাপুরুষের সান্নিধ্য লাভ করে বা সদ্গুরুর আশ্রয় পাবার পর হঠাৎ করে যদি তাঁকে হারিয়ে ফেলতে হয় – তাহলে হঠাৎ করে চোখের জ্যোতি নিভে গিয়ে অন্ধত্বের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় ! .উদাহরন হিসাবে একটা কথা এখানে বলেই ফেলি! দেখুন – আজকের পন্ডিত সমাজ যাই বলুক না কেন , স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং শিবাবতার হওয়া সত্বেও–ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের বলা একসাথে আঠারোটা সূর্যের প্রকাশ সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও – ঠাকুরের অন্তর্ধানের পর তিনিও কেমন যেন অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, পরিব্রাজনে বেরিয়ে পড়েছিলেন ! চলার পথে কোথাও কোনো শক্তিশালী সাধক, যোগী – রয়েছে শুনতে পেলেই তিনি ছুটে যেতেন তাঁর কাছে, তাঁর সান্নিধ্যে কিছুক্ষণ কাটিয়ে মনের শান্তি – প্রাণের আরাম পেতে চাইতেন । এই কারণেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন তারাপীঠের বামদেবের কাছে, ছুটে গিয়েছিলেন গাজীপুরের পওহারী বাবার কাছে ! গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – পওহারী বাবার অলৌকিক ক্ষমতা এবং ক্রিয়া-কাণ্ড দেখে, স্বামীজি ওনার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পওহারি বাবার মতোই সিদ্ধি অর্জন করতে চেয়েছিলেন । পওহারি অর্থাৎ পও_বা বায়ু আহারি!তিনি কোনো খাদ্য গ্রহন করতেন না,সবাই জানতো উনি বায়ুভূক! তাই ওনার এই রকম নামকরন হয়েছিল। পত্তহারি বাবা প্রথমটায় রাজি না হলেও _পরে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু যেদিন ওই দীক্ষাদি ক্রিয়া হবার কথা ,সেদিনই ভোর রাতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামীজীকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং তাঁর মনের সমস্ত সংশয় দূর করে তাঁকে নতুন করে গুরুকরণ করা থেকে বিরত রাখেন ।
যদিও আমরা জানি যে, কথায় কথায় স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের উদাহরণ হিসাবে টেনে আনা উচিত নয়, তবু ‘বলার’ জন্য কথাগুলি বলা হোলো । এই উদাহরণের সাহায্যে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হলো যে, অবতারকল্প মহাপুরুষেরা যখন স্থূলশরীর ছেড়ে চলে যান – তখন সমকালীন ভক্তদের কি দশা হয় ! এটা যেন বাইবেলে বর্ণিত “স্বর্গ হইতে পতন”। এতদিন ভগবানের সান্নিধ্যে বাস করে হঠাৎ করে তাঁর দর্শন থেকে বঞ্চিত হওয়া , তাঁর স্নেহচ্ছায়া থেকে দূরে সরে যাওয়া _এটা ঐ “স্বর্গ হইতে পতন” ছাড়া আর কি ই বা বলব বলুন তো! আর একটা ব্যাপার তো ছিলই ,সেটা হোলো ~যে কোনো সমস্যায় পড়লে মুহূর্ত্তে তা থেকে মুক্তি পাবার কল্পতরুটির সরে যাওয়া!
কিন্তু পানা পুকুরে ঢিল পড়লে যেমন খানিকটা জল প্রথমটায় বেরিয়ে পড়লেও – কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পুকুরের পানাগুলি আবার সেই জায়গাটি দখল করে নেয় ! ঠিক তেমন-ই হয়েছিল আমাদের মতো সাধারন মানুষগুলির জীবনে । অজ্ঞান-অন্ধকার এবং মূঢ়তায় আচ্ছন্ন ছিলাম আমরা পুকুরের পানা দ্বারা আবৃত জলের মতোই । গুরুমহারাজ বা ন’কাকার মতো মহামানবেরা নিজের চেষ্টায় – নিজের শক্তিতে ওই পানাগুলি সরিয়ে অন্ততঃ খানিকটা স্থানেরও জলকে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন, যাতে সেখানে সূর্যের (জ্ঞান সূর্য) প্রতিফলন হয় – জলটি কলুষমুক্ত হয় ৷
জোর করে পানা সরিয়ে, জল বের করলেও যেমন পানাগুলির Tendency থাকে আবার জলকে আবৃত করার, ঠিক তেমনি মহামায়ার জগতে তাঁর পেতে রাখা নানান ফাঁদ আবার মহাপুরুষগণের ভক্তগণকে প্রলুব্ধ করে ফাঁসিয়ে দেয় এবং আবার তাঁর (মহামায়ার) নিজের স্রোতে বহু দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় | গুরু মহারাজের অন্তর্ধানের পর ন’কাকা আমাদের ন্যায় অনেক সাধারণ মানুষের জীবনের মায়া-মোহের অন্ধকার রূপ পানা পুকুরের জঞ্জাল দুহাতে প্রাণপণ সরিয়ে – যাতে সেখানে পরমানন্দের প্রেমের আলো, জ্ঞানের আলো পড়ে – তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ! তাঁর ওই কৃপা – ওই করুণা আমরা যারা পেয়েছি, – তারা তাঁর এই ঋণ এ জীবনে কিছুতেই শোধ করতে পারবো না ! তার বিনিময়ে শুধু চোখের জল ফেলে তাঁর গুণগান ছাড়া আমরা আর কি-ই বা করতে পারি !
মহাপুরুষদের ব্যাপার-স্যাপার একদম কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুবাদে এটা খুব বেশি করে আমরা অনুভব করলাম যে, তাঁদের(গুরু মহারাজ বা নকাকা) অলৌকিক ও অসাধারণ আকর্ষণী মুদ্রা –যে দারুন কৌশলে শত শত, সহস্র-সহস্র মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে – ঠিক তেমনভাবে বেঁধে রাখাটা আর অন্য কারো পক্ষেই সম্ভব নয় ! সুতোয় বাঁধা বললাম –’বিনি সুতাের মালা’ কিন্তু বলা যাবে না ! কারণ এখানে সুতোটা হচ্ছে – প্রেম ৷ অপার্থিব প্রেম – অকৈতব প্রেম ! মালার সুতো ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হলে যেমন করে মালার সব ফুল, পুঁতি বা মোতি ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে যায় – আমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো ! প্রথমবার এটা হতে দেখলাম স্বামী পরমানন্দের বৃহৎ পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এবং পরবর্তীতে দেখলাম ন’কাকাকে কেন্দ্র করে ওঠা ভক্তবৃন্দের ক্ষেত্রে ! … [ক্রমশঃ]
ন’কাকার স্থূল শরীরের প্রয়োজনীয়তা আমি অন্ততঃ মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পারছি ! অবশ্য আমি ছাড়া ন’কাকার অন্যান্য ভক্তরাও নিশ্চয়ই তাদের নিজের মতো করে এই ব্যাপারটা উপলব্ধি করছেন ! এখন, অর্থাৎ বর্তমানেও ন’কাকার বেশিরভাগ ভক্তদের সাথেই আমার কোনো না কোনো ভাবে যোগাযোগ রয়েছে – সুতরাং তাদের মনের অবস্থার কথাও তো তারা জানায় – তাই জানতে পারি ।
তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই একটা কথা common – ” শ্রীধর দা ! কি সম্পদ যে আমরা পেয়েও হারালাম – এই ক্ষতি পূরণ হবার নয় !” সত্যি সত্যিই ‘অপূরণীয়’ বলে যে শব্দটা রয়েছে, তা বোধহয় এই ক্ষেত্রেই সঠিক অর্থে প্রযোজ্য হয় ৷ পিতা-মাতার মৃত্যুর পরে অবশ্যই ছেলেমেয়েদের জীবনে খুবই ক্ষতি হয়, বিরাট একটা শূন্যতা – একটা অভাববোধ সৃষ্টি হয় । কিন্তু এই ক্ষতিও অপূরণীয় নয় – কারণ প্রতিটি ব্যক্তিই এই loss বা এই ধাক্কা ,খুব অল্পসময়ের মধ্যেই কাটিয়ে ওঠে ! আবার সে নতুন উদ্যমে সংসারের কাজে ব্রতী হয়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় – সংসারের কর্তা অর্থাৎ ওই ব্যক্তির পিতা যেভাবে সংসার চালাতো, সে হয়তো বাবার চেয়েও ভালোভাবে সবকিছুকে ম্যানেজ করে সংসারের আরও উন্নতি করে ।
কিন্তু কোনো মহাপুরুষের সান্নিধ্য লাভ করে বা সদ্গুরুর আশ্রয় পাবার পর হঠাৎ করে যদি তাঁকে হারিয়ে ফেলতে হয় – তাহলে হঠাৎ করে চোখের জ্যোতি নিভে গিয়ে অন্ধত্বের অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয় ! .উদাহরন হিসাবে একটা কথা এখানে বলেই ফেলি! দেখুন – আজকের পন্ডিত সমাজ যাই বলুক না কেন , স্বামী বিবেকানন্দ স্বয়ং শিবাবতার হওয়া সত্বেও–ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের বলা একসাথে আঠারোটা সূর্যের প্রকাশ সম্পন্ন ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও – ঠাকুরের অন্তর্ধানের পর তিনিও কেমন যেন অস্থির হয়ে পড়েছিলেন, পরিব্রাজনে বেরিয়ে পড়েছিলেন ! চলার পথে কোথাও কোনো শক্তিশালী সাধক, যোগী – রয়েছে শুনতে পেলেই তিনি ছুটে যেতেন তাঁর কাছে, তাঁর সান্নিধ্যে কিছুক্ষণ কাটিয়ে মনের শান্তি – প্রাণের আরাম পেতে চাইতেন । এই কারণেই তিনি ছুটে গিয়েছিলেন তারাপীঠের বামদেবের কাছে, ছুটে গিয়েছিলেন গাজীপুরের পওহারী বাবার কাছে ! গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – পওহারী বাবার অলৌকিক ক্ষমতা এবং ক্রিয়া-কাণ্ড দেখে, স্বামীজি ওনার কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করে পওহারি বাবার মতোই সিদ্ধি অর্জন করতে চেয়েছিলেন । পওহারি অর্থাৎ পও_বা বায়ু আহারি!তিনি কোনো খাদ্য গ্রহন করতেন না,সবাই জানতো উনি বায়ুভূক! তাই ওনার এই রকম নামকরন হয়েছিল। পত্তহারি বাবা প্রথমটায় রাজি না হলেও _পরে রাজি হয়ে গিয়েছিলেন । কিন্তু যেদিন ওই দীক্ষাদি ক্রিয়া হবার কথা ,সেদিনই ভোর রাতে ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামীজীকে দর্শন দিয়েছিলেন এবং তাঁর মনের সমস্ত সংশয় দূর করে তাঁকে নতুন করে গুরুকরণ করা থেকে বিরত রাখেন ।
যদিও আমরা জানি যে, কথায় কথায় স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের উদাহরণ হিসাবে টেনে আনা উচিত নয়, তবু ‘বলার’ জন্য কথাগুলি বলা হোলো । এই উদাহরণের সাহায্যে এটাই বোঝানোর চেষ্টা করা হলো যে, অবতারকল্প মহাপুরুষেরা যখন স্থূলশরীর ছেড়ে চলে যান – তখন সমকালীন ভক্তদের কি দশা হয় ! এটা যেন বাইবেলে বর্ণিত “স্বর্গ হইতে পতন”। এতদিন ভগবানের সান্নিধ্যে বাস করে হঠাৎ করে তাঁর দর্শন থেকে বঞ্চিত হওয়া , তাঁর স্নেহচ্ছায়া থেকে দূরে সরে যাওয়া _এটা ঐ “স্বর্গ হইতে পতন” ছাড়া আর কি ই বা বলব বলুন তো! আর একটা ব্যাপার তো ছিলই ,সেটা হোলো ~যে কোনো সমস্যায় পড়লে মুহূর্ত্তে তা থেকে মুক্তি পাবার কল্পতরুটির সরে যাওয়া!
কিন্তু পানা পুকুরে ঢিল পড়লে যেমন খানিকটা জল প্রথমটায় বেরিয়ে পড়লেও – কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই পুকুরের পানাগুলি আবার সেই জায়গাটি দখল করে নেয় ! ঠিক তেমন-ই হয়েছিল আমাদের মতো সাধারন মানুষগুলির জীবনে । অজ্ঞান-অন্ধকার এবং মূঢ়তায় আচ্ছন্ন ছিলাম আমরা পুকুরের পানা দ্বারা আবৃত জলের মতোই । গুরুমহারাজ বা ন’কাকার মতো মহামানবেরা নিজের চেষ্টায় – নিজের শক্তিতে ওই পানাগুলি সরিয়ে অন্ততঃ খানিকটা স্থানেরও জলকে পরিষ্কার করে দিয়েছিলেন, যাতে সেখানে সূর্যের (জ্ঞান সূর্য) প্রতিফলন হয় – জলটি কলুষমুক্ত হয় ৷
জোর করে পানা সরিয়ে, জল বের করলেও যেমন পানাগুলির Tendency থাকে আবার জলকে আবৃত করার, ঠিক তেমনি মহামায়ার জগতে তাঁর পেতে রাখা নানান ফাঁদ আবার মহাপুরুষগণের ভক্তগণকে প্রলুব্ধ করে ফাঁসিয়ে দেয় এবং আবার তাঁর (মহামায়ার) নিজের স্রোতে বহু দূরে ভাসিয়ে নিয়ে যায় | গুরু মহারাজের অন্তর্ধানের পর ন’কাকা আমাদের ন্যায় অনেক সাধারণ মানুষের জীবনের মায়া-মোহের অন্ধকার রূপ পানা পুকুরের জঞ্জাল দুহাতে প্রাণপণ সরিয়ে – যাতে সেখানে পরমানন্দের প্রেমের আলো, জ্ঞানের আলো পড়ে – তার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ! তাঁর ওই কৃপা – ওই করুণা আমরা যারা পেয়েছি, – তারা তাঁর এই ঋণ এ জীবনে কিছুতেই শোধ করতে পারবো না ! তার বিনিময়ে শুধু চোখের জল ফেলে তাঁর গুণগান ছাড়া আমরা আর কি-ই বা করতে পারি !
মহাপুরুষদের ব্যাপার-স্যাপার একদম কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার সুবাদে এটা খুব বেশি করে আমরা অনুভব করলাম যে, তাঁদের(গুরু মহারাজ বা নকাকা) অলৌকিক ও অসাধারণ আকর্ষণী মুদ্রা –যে দারুন কৌশলে শত শত, সহস্র-সহস্র মানুষকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে – ঠিক তেমনভাবে বেঁধে রাখাটা আর অন্য কারো পক্ষেই সম্ভব নয় ! সুতোয় বাঁধা বললাম –’বিনি সুতাের মালা’ কিন্তু বলা যাবে না ! কারণ এখানে সুতোটা হচ্ছে – প্রেম ৷ অপার্থিব প্রেম – অকৈতব প্রেম ! মালার সুতো ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন হলে যেমন করে মালার সব ফুল, পুঁতি বা মোতি ছিটকে চারিদিকে ছড়িয়ে যায় – আমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হলো ! প্রথমবার এটা হতে দেখলাম স্বামী পরমানন্দের বৃহৎ পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে এবং পরবর্তীতে দেখলাম ন’কাকাকে কেন্দ্র করে ওঠা ভক্তবৃন্দের ক্ষেত্রে ! … [ক্রমশঃ]
