গুরু মহারাজের সাথে স্বামী বাউলানন্দজীর সাক্ষাৎ এবং তার পরবর্তী ঘটনা সমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিল। গুরু মহারাজ পেরেন্টাপল্লী আশ্রমে পৌঁছে বাউলানন্দজীর ঘরে ঢুকে গিয়ে দেখলেন যে সাধুবাবা নিশ্চিন্তে বিছানায় চুপচাপ শুয়ে রয়েছেন। এতে গুরু মহারাজ একটু বিস্মিত হয়েছিলেন এবং যেইমাত্র বিরক্তি প্রকাশ করতে যাবেন_ঠিক তখনই ওনাকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে, সেই সাধুবাবা এক ঝটকায় উঠে বসে মুখে আঙুল দিয়ে ইশারায় চুপ করতে বলে _কাছে এসে বসতে বললেন এবং গম্ভীর কণ্ঠে নির্দেশ দেবার ভঙ্গিতে বললেন_”সময় বড়ই সংক্ষিপ্ত_চুপচাপ আমার কাছে বসো, আমি তোমায় আধ্যাত্মিক দীক্ষায় দীক্ষিত করবো”!
গুরু মহারাজ বলেছিলেন_ “আমি ঘটনার আকস্মিকতায় এবং ওই রকম এক শয্যাশায়ী বৃদ্ধের গুরুগম্ভীর কন্ঠস্বরে প্রথমটায় যেন একটু ঘাবড়ে গিয়েই বললাম _’আমি জল খাবো’! উনি ইঙ্গিতে আমাকে ঘরের কোণার দিকে নির্দেশ করলেন_আমি দেখলাম সেখানে একটা মাটির কুঁজো রয়েছে এবং একটা পাত্র। আমি ধীরে ধীরে সেই পাত্রে জল ঢেলে পান করতে যাবো_এমন সময় মনে হোল উনি আমার গুরু স্থানীয়, ওনার প্রসাদ করেই পান করা উচিত”!(ক্রমশঃ)
______________০________________
*** *আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা* ***
[ Spiritual Enquiry ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< _স্বামী বাউলানন্দ_ >>
জিজ্ঞাসা :–মহাজনেরা বলে থাকেন যে এক সময়ে পৃথিবীর কোথাও প্রতীক বা মূর্তি উপাসনার প্রথা ছিল না। কথাটা কি সত্য?
উত্তরা :– সত্য।
জিজ্ঞাসা :—কোন্ সময়ে ?
উত্তর :–প্রাচীনকালে, কোন ধর্ম আন্দোলন হওয়ার আগে। ধর্মের মৌলিক সূত্রগুলি উচ্চারিত হবার পর আধ্যাত্মিক গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি হয়—কিন্তু তার পরেও বহুকাল প্রতীক বা মূর্তির কোন ব্যবহার বা প্রয়ােজন ছিল না।
জিজ্ঞাসা :—উপাসনা বা প্রার্থনার যে পরম্পরা সেটা কিরকম পরিস্থিতিতে সূত্রপাত হয়েছিল ?
উত্তর :–ধর্মচর্চা শুরু হওয়ার বেশ কিছুকাল পরে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ তত্ত্ব ধারণা করা অথবা তত্ত্বের উপর অভিনিবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অতএব পূর্বে যা ছিল শ্রুতি-পরম্পরা, পরে তা লেখনীর সাহায্যে সংরক্ষিত এবং পরিবেশিত হতে থাকে। সুতরাং বলা যায় যে, এই লেখনীও হয়ে উঠল অধ্যাত্ম-তত্ত্ব ব্যাখ্যার একধরণের প্রতীক। কারণ ‘আত্মা’, ‘ব্ৰহ্ম’ বা ‘ঈশ্বর’- এই শব্দগুলি সম্বন্ধে স্পষ্টতর ধারণা দেবার উদ্দেশ্যে, শব্দার্থের সরলীকরণ করা হল প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে।
মূলতত্ত্বের প্রতীকাত্মক ব্যাখ্যা গুরু হওয়ার অনেক পরেও কিন্তু ঈশ্বরের জন্য গৃহ নির্মাণের কোন উদ্যোগ ছিল না। (অর্থাৎ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, ইত্যাদি।) পরবর্তীকালে ধর্মজীবনে গ্লানি আসে এবং কিছু মানুষ চেষ্টা করেন ধর্মকে এই গ্লানি থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু এই সংস্কার বা সংশােধনের প্রচেষ্টাকে সফল করতে গিয়ে পূর্ববর্তী ধর্মমত থেকে যােগসূত্র কিছুটা হারিয়ে ফেলে এক নতুন ধর্মমতের সৃষ্টি হয়। সংশােধনের সূত্রগুলি নতুন মতের মূল ভাবধারা হিসেবে গৃহীত হয়। অর্থাৎ আলাদা মতবাদ, অনুশীলন, গােষ্ঠী ও সম্প্রদায় সৃষ্টি হয়ে যায় এবং তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা। (মন্দির, ইত্যাদি)
এই ধারা চলতে থাকে। অর্থাৎ বার বার ধর্মজীবনে অবক্ষয়ের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন স্থান, কাল, ও পাত্রে, বিভিন্ন ভাবে সংস্কার-এর প্রচেষ্টায় নতুন নতুন মতবাদ বা চিন্তাধারার উদ্ভব হয়েছে এবং সারা পৃথিবীতে অসংখ্য প্রতীক, প্রার্থনা-স্থল ইত্যাদি ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধারা আজও অব্যাহত।
এই অসংখ্য প্রতীক এবং মন্দির, মসজিদ, গির্জা ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিস্বরূপ হওয়া সত্ত্বেও এগুলি মূল ধর্মভাব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সমস্ত.ধর্মমতই অধ্যাত্ম-বিকাশ এবং মানবিকতার অনুপ্রেরণাস্বরূপ। কারণ আধ্যাত্মিকতার উদ্দেশ্য একটাই—ঈশ্বর বা আত্মা। এই সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক বা ধর্মীয় স্থান মানুষের পূর্ণতার পথে সহায়ক, অর্থাৎ আত্মজ্ঞান, সাম্য, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উত্তরণমুখী গতির অনুকূল। মানুষ আধ্যাত্মিক পথে আসে সেই মূল অদ্বৈততত্ত্বের অপরােক্ষ অনুভূতির জন্য ।
জিজ্ঞাসা :—সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন মতবাদ, গােষ্ঠী বা সম্প্রদায় থাকাটা দোষের কিছু নয়, বরং এর প্রয়ােজন আছে। কিন্তু একই সাথে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীতে ক্লেশের সবচেয়ে বড় কারণ ধর্মীয় সংঘর্ষ ; রাজনীতি বা সামাজিক দ্বন্দ্ব নয়। এই পরস্পরবিরােধী দুই দিক আমরা মেলাবাে কি করে ?
উত্তর :—জন্মান্তর এবং উত্তরণমুখী গতির মধ্যে দিয়ে এই মনুষ্য শরীর প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেহেতু পশু শরীর থেকে মনুষ্য শরীর আসে, যেহেতু মানুষের শরীর পেয়েও ব্যক্তির মধ্যে পাশবিক প্রবৃত্তি রয়ে যায়, অর্থাৎ স্বার্থপরতা। এই ক্ষুদ্র ‘আমি’কে বিরাট বিশ্ব ‘আমি’তে নিয়ে যাওয়াই জীবনের চরম ও পরম লক্ষ্য। কিন্তু মানুষ তা পারে না । তাদের শরীর, মন, বুদ্ধি সীমিত বলে কাণ্ডজ্ঞান বা বিবেক কাজ করে না। যারা পারে অর্থাৎ উত্তরণমুখী যাদের গতি, তাদের শরীর, মন, বুদ্ধি অনেক উন্নত এবং সক্ষম। মানুষ এবং অমানুষের মধ্যে এটাই পার্থক্য।
যাতে মানবজাতি অনেক সহজভাবে এই ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ব্যক্তি অহং-কে অতিক্রম করে বৃহৎ তথা মহতী অহং-এ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তার জন্যই ধর্ম বা আধ্যাত্মিক জীবনের রহস্য নিয়ে মহাজনেরা এত চর্চা করেছেন। উদ্দেশ্য ছিল এই স্বার্থপরতার প্রবৃত্তিকে সঠিক গতি দেওয়া—ব্যক্তিস্বার্থ থেকে গােষ্ঠীস্বার্থ, গােষ্ঠীস্বার্থ থেকে মানবজাতির স্বার্থ এবং শেষে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তত্ত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করে মহান হয়ে ওঠা।
কিন্তু নতুন কোন ধর্ম আন্দোলনের পর কিছুদিন স্থিতিশীলতা থাকলেও, পরে তা মূল উদ্দেশ্যের বিপরীতে কাজ করতে শুরু করে। তথাকথিত ধর্মীয় মতবাদ প্রকৃত আধ্যাত্মিক বিকাশের পরিপন্থী হয়ে ওঠে। এমন ধরণের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, মানুষ সবসময়ই গােষ্ঠী চেতনার ক্ষুদ্র আবর্তে আবদ্ধ থাকে। প্রত্যেক গােষ্ঠী নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সমস্ত মানবজাতির পক্ষে তাদের মতটাই একমাত্র গ্রহণীয় বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। এরা চিন্তায় ও আচরণে এতই সংকীর্ণ যে, কোন রকম কুকর্ম করতে পিছুপা হয় না। যাঁরা প্রকৃত ধার্মিক এবং সমস্ত সংস্কারের উর্ধ্বে উঠে পূর্ণতার পথে অগ্রণী, তাঁদেরও প্রয়ােজনে হত্যা করা হয় ।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে শিশুকে প্রথমাবস্থায় হাতে ছোট ট্রাইসাইকেল ধরিয়ে দেওয়া হয় যাতে তারা হাঁটতে শেখে। আট থেকে ষােল মাস বয়সের মধ্যে তাদের পায়ে যথেষ্ট শক্তি আসে এবং ট্রাইসাইকেলটার আর প্রয়ােজন হয় না। কিন্তু তখনও যদি সে, নেহাতই অভ্যাসবশে ট্রাইসাইকেলটার ওপর ভর করেই যাতায়াত করতে থাকে তাহলে তার শরীর আর কোনদিনও সবল হবে না, তার বৃদ্ধির গতি ওখানেই থেমে যাবে। সে স্বাধীনভাবে হাঁটতে শিখবে না, এবং তাকে পঙ্গু হয়ে বাকী জীবনটা কাটাতে হবে ।
যে সমস্ত ব্যক্তি এই ট্রাইসাইকেল ফেলে দিয়ে সবল ও স্বাধীন হয়েছেন, তাঁদের চিরকালই প্রবল সমালােচনা ও নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বহুক্ষেত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা বহুবার ঘটেছে এবং আজও ঘটছে এবং ঘটাচ্ছে এই ট্রাইসাইকেলগুলিই।
ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে মানবিক করে তােলা এবং আধ্যাত্মিক পূর্ণতার দিকে এগিয়ে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর বিচ্যুতি হয়েছে এবং ধর্মীয় মতবাদ মানুষকে ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। একটি শিশু যেমন ট্রাইসাইকেল ছেড়ে দিয়ে স্বাধীনভাৰে হাঁটাচলা করার সামর্থ্য অর্জন করেও পুরাতন নির্ভরতার অভ্যাস কাটাতে পারে না, মানুষও তেমন আধ্যাত্মিক স্বনির্ভরতার সুযােগ পেয়েও অভ্যস্ত মতবাদিক গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে। তাই মানুষের পাশবিক সংস্কারের প্রবাহ অব্যাহত থাকে—তার আচরণে, ব্যবহারে এবং অভ্যাসে। স্থূল ধর্মীয় আচরণের উদ্দেশ্যই হয়ে গেছে মানুষের মধ্যে পশুচিত অবগুণের পূর্ণ প্রকাশ ঘটিয়ে নিজেদের গােষ্ঠীস্বার্থ অক্ষুন্ন রাখা।
জিজ্ঞাসা :—এই অবস্থায় উন্নতি ঘটাতে কি কোন সচেতন প্রয়াস হয়নি ?
উত্তর :–হ্যাঁ, একাধিকবার হয়েছে ।
জিজ্ঞাসা :—তার পরিণাম কি হয়েছে ?
উত্তর :—অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন ধর্মমতের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট আরও গভীর হয়েছে। নতুন প্রচেষ্টার সম্ভাবনা তাই দিন দিন আরও জটিল ও অবাস্তব হয়ে উঠছে।
জিজ্ঞাসা :—এর কারণ ?
উত্তর :—কারণ ধর্ম ও রাজনীতি পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে—উভয় ক্ষেত্রেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির শােষণ ও দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থা, এর জন্য দায়ী।
জিজ্ঞাসা :—এই অবস্থা কি এখনও চলছে ?
উত্তর :—এই অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে ।
জিজ্ঞাসা :–কি ভাবে ?
উত্তর :–প্রায় দেড়শাে বছর আগে রাজনীতি এবং ধর্ম একে অপরের উপর শুধুই নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু কিছুকাল পরে একে অপরের ক্রীতদাস হয়ে পড়ে।
জিজ্ঞাসা :—আর একটু যদি বিস্তৃত করে বলেন ভাল হয় ।
উত্তর :– রাজনীতিবিদরা বলেন, ‘রাজনীতির মধ্যে ধর্মের অনুপ্রবেশ উচিত নয়’। ধর্মীয় আচার্যরা বলেন, ‘ধর্মকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে’। কিন্তু যখনই রাজনীতিবিদরা তাদের কর্তব্য পালনে অসমর্থ হন, তখনই তারা ব্যাকুল হয়ে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় সংস্থার সাহায্য প্রার্থনা করেন। একইভাবে যখন ধর্মীয় সংস্থাগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হয় তখনই সংস্থার নেতারা রাজনীতির দ্বারস্থ হন। সাহায্য না এলে একে অপরের অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং নিজেদের চালিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। অরাজনৈতিক এবং অধার্মিক আচরণের স্বপক্ষে এই পরস্পর নির্ভরতা প্রয়ােজন হয় এবং দুর্নীতি ও শােষণে কলুষিত রাজনীতি ও ধর্ম নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে একে অপরের ক্রীতদাস হয়ে ওঠে।
জিজ্ঞাসা :—আমরা এ সম্বন্ধে আরও জানতে আগ্রহী।
উত্তর :—এক ধর্মগুরু বলেন, “আমি সবচেয়ে মহৎ ও উদার । সুতরাং, হে বিশ্ববাসীগণ, তােমরা আমাকে মানো। ঈশ্বর এক এবং একমাত্র আমিই তােমাদেরকে তার কাছে নিয়ে যেতে পারি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষেরা ঈশ্বরের যে ধারণা দিচ্ছেন, তা সৰ্বৈব ভুল—একমাত্র আমিই সত্যের সন্ধান জানি।”
অন্য কোন ধর্মগুরু এই একই কথা বলার সাথে যােগ করেন, “একমাত্র আমার ঈশ্বরকে না মেনে তােমরা যদি অন্য ঈশ্বরকে মানতে যাও, তবে তােমাদের নরকে পতিত হতে হবে।” আবার কেউ হয়ত ভয় দেখান, না মানলে, তােমাদের হত্যা করা হবে। ইত্যাদি । সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে কেউ যদি রাজনীতির দ্বারস্থ হন, তখন প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে যে, সেই ব্যক্তি কোন্ ধর্মমতে বিশ্বাসী। সেই অনুযায়ী সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় নির্ণয় করে মানুষের বিচার হয়।
কোন হােটেলে ঢুকতে গেলে হােটেল-মালিক আগে জানতে চাইবেন—তুমি কোন্ ধর্মের লােক তার ওপর নির্ভর করে তােমার আহার-শয়নাদির ব্যবস্থা হবে।
এই প্রথা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রেনে চড়তে যাও, কোন পার্কের বেঞ্চে বসতে যাও, এমনকি শৌচাগারে ঢুকতে গেলে বা কারখানায় স্থান পেতে গেলেও এই একই বিধি ।
কোন উপাসনাস্থলে প্রবেশ করতে গেলে সেই বিশেষ ধর্মের পােষাক বা অলঙ্কার গায়ে থাকতে হবে, নতুবা প্রবেশের কোন অধিকার নেই। পৃথিবীর যে কোন ধর্মের ক্ষেত্রেই এই একই অবস্থা। পুরাে পৃথিবীর রাজনীতির ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযােজ্য।
জিজ্ঞাসা :—পৃথিবীর মহান আন্দোলনের অর্থাৎ মহাপুরুষ ও মনীষার ভাবের অধঃপতনের মূলে কী বা কারা ?
উত্তর :–সমাজে যাদের প্রভাব ও ক্ষমতা বেশি তারাই এর জন্য দায়ী। সমস্ত অধঃপতনের মূলে রয়েছে তাদের স্বার্থপরতা। … [ক্রমশঃ]
গুরু মহারাজ বলেছিলেন_ “আমি ঘটনার আকস্মিকতায় এবং ওই রকম এক শয্যাশায়ী বৃদ্ধের গুরুগম্ভীর কন্ঠস্বরে প্রথমটায় যেন একটু ঘাবড়ে গিয়েই বললাম _’আমি জল খাবো’! উনি ইঙ্গিতে আমাকে ঘরের কোণার দিকে নির্দেশ করলেন_আমি দেখলাম সেখানে একটা মাটির কুঁজো রয়েছে এবং একটা পাত্র। আমি ধীরে ধীরে সেই পাত্রে জল ঢেলে পান করতে যাবো_এমন সময় মনে হোল উনি আমার গুরু স্থানীয়, ওনার প্রসাদ করেই পান করা উচিত”!(ক্রমশঃ)
______________০________________
*** *আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা* ***
[ Spiritual Enquiry ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< _স্বামী বাউলানন্দ_ >>
জিজ্ঞাসা :–মহাজনেরা বলে থাকেন যে এক সময়ে পৃথিবীর কোথাও প্রতীক বা মূর্তি উপাসনার প্রথা ছিল না। কথাটা কি সত্য?
উত্তরা :– সত্য।
জিজ্ঞাসা :—কোন্ সময়ে ?
উত্তর :–প্রাচীনকালে, কোন ধর্ম আন্দোলন হওয়ার আগে। ধর্মের মৌলিক সূত্রগুলি উচ্চারিত হবার পর আধ্যাত্মিক গবেষণার পরিবেশ সৃষ্টি হয়—কিন্তু তার পরেও বহুকাল প্রতীক বা মূর্তির কোন ব্যবহার বা প্রয়ােজন ছিল না।
জিজ্ঞাসা :—উপাসনা বা প্রার্থনার যে পরম্পরা সেটা কিরকম পরিস্থিতিতে সূত্রপাত হয়েছিল ?
উত্তর :–ধর্মচর্চা শুরু হওয়ার বেশ কিছুকাল পরে অধিকাংশ সাধারণ মানুষ তত্ত্ব ধারণা করা অথবা তত্ত্বের উপর অভিনিবেশ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। অতএব পূর্বে যা ছিল শ্রুতি-পরম্পরা, পরে তা লেখনীর সাহায্যে সংরক্ষিত এবং পরিবেশিত হতে থাকে। সুতরাং বলা যায় যে, এই লেখনীও হয়ে উঠল অধ্যাত্ম-তত্ত্ব ব্যাখ্যার একধরণের প্রতীক। কারণ ‘আত্মা’, ‘ব্ৰহ্ম’ বা ‘ঈশ্বর’- এই শব্দগুলি সম্বন্ধে স্পষ্টতর ধারণা দেবার উদ্দেশ্যে, শব্দার্থের সরলীকরণ করা হল প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে।
মূলতত্ত্বের প্রতীকাত্মক ব্যাখ্যা গুরু হওয়ার অনেক পরেও কিন্তু ঈশ্বরের জন্য গৃহ নির্মাণের কোন উদ্যোগ ছিল না। (অর্থাৎ, মন্দির, মসজিদ, গির্জা, ইত্যাদি।) পরবর্তীকালে ধর্মজীবনে গ্লানি আসে এবং কিছু মানুষ চেষ্টা করেন ধর্মকে এই গ্লানি থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু এই সংস্কার বা সংশােধনের প্রচেষ্টাকে সফল করতে গিয়ে পূর্ববর্তী ধর্মমত থেকে যােগসূত্র কিছুটা হারিয়ে ফেলে এক নতুন ধর্মমতের সৃষ্টি হয়। সংশােধনের সূত্রগুলি নতুন মতের মূল ভাবধারা হিসেবে গৃহীত হয়। অর্থাৎ আলাদা মতবাদ, অনুশীলন, গােষ্ঠী ও সম্প্রদায় সৃষ্টি হয়ে যায় এবং তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় উপাসনার জন্য নির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করা। (মন্দির, ইত্যাদি)
এই ধারা চলতে থাকে। অর্থাৎ বার বার ধর্মজীবনে অবক্ষয়ের প্রতিক্রিয়ায় বিভিন্ন স্থান, কাল, ও পাত্রে, বিভিন্ন ভাবে সংস্কার-এর প্রচেষ্টায় নতুন নতুন মতবাদ বা চিন্তাধারার উদ্ভব হয়েছে এবং সারা পৃথিবীতে অসংখ্য প্রতীক, প্রার্থনা-স্থল ইত্যাদি ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধারা আজও অব্যাহত।
এই অসংখ্য প্রতীক এবং মন্দির, মসজিদ, গির্জা ইত্যাদি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিস্বরূপ হওয়া সত্ত্বেও এগুলি মূল ধর্মভাব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। সমস্ত.ধর্মমতই অধ্যাত্ম-বিকাশ এবং মানবিকতার অনুপ্রেরণাস্বরূপ। কারণ আধ্যাত্মিকতার উদ্দেশ্য একটাই—ঈশ্বর বা আত্মা। এই সমস্ত ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক বা ধর্মীয় স্থান মানুষের পূর্ণতার পথে সহায়ক, অর্থাৎ আত্মজ্ঞান, সাম্য, শান্তি, সমৃদ্ধি এবং উত্তরণমুখী গতির অনুকূল। মানুষ আধ্যাত্মিক পথে আসে সেই মূল অদ্বৈততত্ত্বের অপরােক্ষ অনুভূতির জন্য ।
জিজ্ঞাসা :—সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, বিভিন্ন মতবাদ, গােষ্ঠী বা সম্প্রদায় থাকাটা দোষের কিছু নয়, বরং এর প্রয়ােজন আছে। কিন্তু একই সাথে দেখা যাচ্ছে যে, পৃথিবীতে ক্লেশের সবচেয়ে বড় কারণ ধর্মীয় সংঘর্ষ ; রাজনীতি বা সামাজিক দ্বন্দ্ব নয়। এই পরস্পরবিরােধী দুই দিক আমরা মেলাবাে কি করে ?
উত্তর :—জন্মান্তর এবং উত্তরণমুখী গতির মধ্যে দিয়ে এই মনুষ্য শরীর প্রাপ্ত হওয়া যায়। সেহেতু পশু শরীর থেকে মনুষ্য শরীর আসে, যেহেতু মানুষের শরীর পেয়েও ব্যক্তির মধ্যে পাশবিক প্রবৃত্তি রয়ে যায়, অর্থাৎ স্বার্থপরতা। এই ক্ষুদ্র ‘আমি’কে বিরাট বিশ্ব ‘আমি’তে নিয়ে যাওয়াই জীবনের চরম ও পরম লক্ষ্য। কিন্তু মানুষ তা পারে না । তাদের শরীর, মন, বুদ্ধি সীমিত বলে কাণ্ডজ্ঞান বা বিবেক কাজ করে না। যারা পারে অর্থাৎ উত্তরণমুখী যাদের গতি, তাদের শরীর, মন, বুদ্ধি অনেক উন্নত এবং সক্ষম। মানুষ এবং অমানুষের মধ্যে এটাই পার্থক্য।
যাতে মানবজাতি অনেক সহজভাবে এই ক্ষুদ্র স্বার্থ বা ব্যক্তি অহং-কে অতিক্রম করে বৃহৎ তথা মহতী অহং-এ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, তার জন্যই ধর্ম বা আধ্যাত্মিক জীবনের রহস্য নিয়ে মহাজনেরা এত চর্চা করেছেন। উদ্দেশ্য ছিল এই স্বার্থপরতার প্রবৃত্তিকে সঠিক গতি দেওয়া—ব্যক্তিস্বার্থ থেকে গােষ্ঠীস্বার্থ, গােষ্ঠীস্বার্থ থেকে মানবজাতির স্বার্থ এবং শেষে সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের তত্ত্বকে নিজের মধ্যে ধারণ করে মহান হয়ে ওঠা।
কিন্তু নতুন কোন ধর্ম আন্দোলনের পর কিছুদিন স্থিতিশীলতা থাকলেও, পরে তা মূল উদ্দেশ্যের বিপরীতে কাজ করতে শুরু করে। তথাকথিত ধর্মীয় মতবাদ প্রকৃত আধ্যাত্মিক বিকাশের পরিপন্থী হয়ে ওঠে। এমন ধরণের পরিবেশ ও পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, মানুষ সবসময়ই গােষ্ঠী চেতনার ক্ষুদ্র আবর্তে আবদ্ধ থাকে। প্রত্যেক গােষ্ঠী নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং সমস্ত মানবজাতির পক্ষে তাদের মতটাই একমাত্র গ্রহণীয় বলে প্রতিষ্ঠা করার জন্য তৎপর হয়ে ওঠে। এরা চিন্তায় ও আচরণে এতই সংকীর্ণ যে, কোন রকম কুকর্ম করতে পিছুপা হয় না। যাঁরা প্রকৃত ধার্মিক এবং সমস্ত সংস্কারের উর্ধ্বে উঠে পূর্ণতার পথে অগ্রণী, তাঁদেরও প্রয়ােজনে হত্যা করা হয় ।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে শিশুকে প্রথমাবস্থায় হাতে ছোট ট্রাইসাইকেল ধরিয়ে দেওয়া হয় যাতে তারা হাঁটতে শেখে। আট থেকে ষােল মাস বয়সের মধ্যে তাদের পায়ে যথেষ্ট শক্তি আসে এবং ট্রাইসাইকেলটার আর প্রয়ােজন হয় না। কিন্তু তখনও যদি সে, নেহাতই অভ্যাসবশে ট্রাইসাইকেলটার ওপর ভর করেই যাতায়াত করতে থাকে তাহলে তার শরীর আর কোনদিনও সবল হবে না, তার বৃদ্ধির গতি ওখানেই থেমে যাবে। সে স্বাধীনভাবে হাঁটতে শিখবে না, এবং তাকে পঙ্গু হয়ে বাকী জীবনটা কাটাতে হবে ।
যে সমস্ত ব্যক্তি এই ট্রাইসাইকেল ফেলে দিয়ে সবল ও স্বাধীন হয়েছেন, তাঁদের চিরকালই প্রবল সমালােচনা ও নিষ্ঠুর প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বহুক্ষেত্রে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনা বহুবার ঘটেছে এবং আজও ঘটছে এবং ঘটাচ্ছে এই ট্রাইসাইকেলগুলিই।
ধর্মের মূল উদ্দেশ্য মানুষকে মানবিক করে তােলা এবং আধ্যাত্মিক পূর্ণতার দিকে এগিয়ে দেওয়া। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এর বিচ্যুতি হয়েছে এবং ধর্মীয় মতবাদ মানুষকে ক্ষুদ্র গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে রেখেছে। একটি শিশু যেমন ট্রাইসাইকেল ছেড়ে দিয়ে স্বাধীনভাৰে হাঁটাচলা করার সামর্থ্য অর্জন করেও পুরাতন নির্ভরতার অভ্যাস কাটাতে পারে না, মানুষও তেমন আধ্যাত্মিক স্বনির্ভরতার সুযােগ পেয়েও অভ্যস্ত মতবাদিক গণ্ডির মধ্যে আটকে থাকে। তাই মানুষের পাশবিক সংস্কারের প্রবাহ অব্যাহত থাকে—তার আচরণে, ব্যবহারে এবং অভ্যাসে। স্থূল ধর্মীয় আচরণের উদ্দেশ্যই হয়ে গেছে মানুষের মধ্যে পশুচিত অবগুণের পূর্ণ প্রকাশ ঘটিয়ে নিজেদের গােষ্ঠীস্বার্থ অক্ষুন্ন রাখা।
জিজ্ঞাসা :—এই অবস্থায় উন্নতি ঘটাতে কি কোন সচেতন প্রয়াস হয়নি ?
উত্তর :–হ্যাঁ, একাধিকবার হয়েছে ।
জিজ্ঞাসা :—তার পরিণাম কি হয়েছে ?
উত্তর :—অধিকাংশ ক্ষেত্রে নতুন ধর্মমতের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংকট আরও গভীর হয়েছে। নতুন প্রচেষ্টার সম্ভাবনা তাই দিন দিন আরও জটিল ও অবাস্তব হয়ে উঠছে।
জিজ্ঞাসা :—এর কারণ ?
উত্তর :—কারণ ধর্ম ও রাজনীতি পরস্পর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে—উভয় ক্ষেত্রেই কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির শােষণ ও দুর্নীতি এবং সাধারণ মানুষের অসহায় অবস্থা, এর জন্য দায়ী।
জিজ্ঞাসা :—এই অবস্থা কি এখনও চলছে ?
উত্তর :—এই অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে ।
জিজ্ঞাসা :–কি ভাবে ?
উত্তর :–প্রায় দেড়শাে বছর আগে রাজনীতি এবং ধর্ম একে অপরের উপর শুধুই নির্ভরশীল ছিল, কিন্তু কিছুকাল পরে একে অপরের ক্রীতদাস হয়ে পড়ে।
জিজ্ঞাসা :—আর একটু যদি বিস্তৃত করে বলেন ভাল হয় ।
উত্তর :– রাজনীতিবিদরা বলেন, ‘রাজনীতির মধ্যে ধর্মের অনুপ্রবেশ উচিত নয়’। ধর্মীয় আচার্যরা বলেন, ‘ধর্মকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে হবে’। কিন্তু যখনই রাজনীতিবিদরা তাদের কর্তব্য পালনে অসমর্থ হন, তখনই তারা ব্যাকুল হয়ে প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় সংস্থার সাহায্য প্রার্থনা করেন। একইভাবে যখন ধর্মীয় সংস্থাগুলির অস্তিত্ব বিপন্ন হয় তখনই সংস্থার নেতারা রাজনীতির দ্বারস্থ হন। সাহায্য না এলে একে অপরের অস্তিত্ব রক্ষা করা এবং নিজেদের চালিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। অরাজনৈতিক এবং অধার্মিক আচরণের স্বপক্ষে এই পরস্পর নির্ভরতা প্রয়ােজন হয় এবং দুর্নীতি ও শােষণে কলুষিত রাজনীতি ও ধর্ম নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে একে অপরের ক্রীতদাস হয়ে ওঠে।
জিজ্ঞাসা :—আমরা এ সম্বন্ধে আরও জানতে আগ্রহী।
উত্তর :—এক ধর্মগুরু বলেন, “আমি সবচেয়ে মহৎ ও উদার । সুতরাং, হে বিশ্ববাসীগণ, তােমরা আমাকে মানো। ঈশ্বর এক এবং একমাত্র আমিই তােমাদেরকে তার কাছে নিয়ে যেতে পারি। অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষেরা ঈশ্বরের যে ধারণা দিচ্ছেন, তা সৰ্বৈব ভুল—একমাত্র আমিই সত্যের সন্ধান জানি।”
অন্য কোন ধর্মগুরু এই একই কথা বলার সাথে যােগ করেন, “একমাত্র আমার ঈশ্বরকে না মেনে তােমরা যদি অন্য ঈশ্বরকে মানতে যাও, তবে তােমাদের নরকে পতিত হতে হবে।” আবার কেউ হয়ত ভয় দেখান, না মানলে, তােমাদের হত্যা করা হবে। ইত্যাদি । সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে কেউ যদি রাজনীতির দ্বারস্থ হন, তখন প্রথমেই জানতে চাওয়া হবে যে, সেই ব্যক্তি কোন্ ধর্মমতে বিশ্বাসী। সেই অনুযায়ী সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় নির্ণয় করে মানুষের বিচার হয়।
কোন হােটেলে ঢুকতে গেলে হােটেল-মালিক আগে জানতে চাইবেন—তুমি কোন্ ধর্মের লােক তার ওপর নির্ভর করে তােমার আহার-শয়নাদির ব্যবস্থা হবে।
এই প্রথা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রেনে চড়তে যাও, কোন পার্কের বেঞ্চে বসতে যাও, এমনকি শৌচাগারে ঢুকতে গেলে বা কারখানায় স্থান পেতে গেলেও এই একই বিধি ।
কোন উপাসনাস্থলে প্রবেশ করতে গেলে সেই বিশেষ ধর্মের পােষাক বা অলঙ্কার গায়ে থাকতে হবে, নতুবা প্রবেশের কোন অধিকার নেই। পৃথিবীর যে কোন ধর্মের ক্ষেত্রেই এই একই অবস্থা। পুরাে পৃথিবীর রাজনীতির ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযােজ্য।
জিজ্ঞাসা :—পৃথিবীর মহান আন্দোলনের অর্থাৎ মহাপুরুষ ও মনীষার ভাবের অধঃপতনের মূলে কী বা কারা ?
উত্তর :–সমাজে যাদের প্রভাব ও ক্ষমতা বেশি তারাই এর জন্য দায়ী। সমস্ত অধঃপতনের মূলে রয়েছে তাদের স্বার্থপরতা। … [ক্রমশঃ]
