স্বামী বাউলানন্দজী ত্রাণ সমিতি গঠন করার পর থেকে_ পেরেন্টাপল্লী অঞ্চলের আদিবাসী উপজাতিদের কল্যানকল্পে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ঐ অঞ্চলের অন্যতম সম্পদ হোল বাঁশ_তাই স্বামীজী সরকারের অনুমতি আদায় করে Poverty Relief Society-র মাধ্যমে বাঁশ কাটা এবং এর বিক্রয়ের কাজ চালিয়ে যেতে শুরু করলেন।
এই কাজে স্থানীয়দের প্রচুর পরিমাণে। কর্মসংস্থান হোলো এবং সমিতির হাতেও দু-পয়সা আসতে লাগলো। সেই সময়টা যেহেতু ছিল বৃটিশ শাসনাধীন সময়_তাই সরকারি নানা প্রয়োজনে ইউরোপীয় অফিসারেরা ঐ অঞ্চলে আসতো।এদের মধ্যে দু-একজন, স্বামীজীর মতো একজন ইংরাজি জানা শিক্ষিত লোকের_এইভাবে আদিবাসী কল্যানে নিবেদিত-প্রাণ হয়ে কাজ করা দেখে __তাঁর প্রতি খুবই lnterested হয়ে পড়েছিলেন। তারাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় article লিখে অথবা তাদের লিখিত গ্রন্থে স্বামী বাউলানন্দজীর এই নিঃস্বার্থ মানবসেবার কথা তুলে ধরেছিল। এইসব কারণে পেরেন্টাপল্লীর বাইরের জগতেও তাঁর একটা ব্যাপক পরিচিতিও ঘটেছিল ! “The Illustrated London New” এবং “World Digest” _ এর মতো পত্রিকাতে স্বামী বাউলানন্দজী সম্বন্ধে প্রশংসা করে প্রবন্ধ ছেপেছিল। সেই সব প্রবন্ধে স্বামীজীর অলৌকিক শক্তির ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়েছিল।বলা হয়েছিল যে, তিনি শুধুমাত্র উপজাতিদের উপরেই নয় বন্য হিংস্র জন্তু-জানোয়ারদেরকেও বশ মানিয়ে কাছে রাখতেন।।(ক্রমশঃ)
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
*** *আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা* ***
[ Spiritual Enquairy ]
~~~~~~~~~~~~~~~~~~
<< _স্বামী বাউলানন্দ_ >>
জিজ্ঞাসা :–যারা প্রথমবার মানবশরীর পেয়েছে তাদের বলা যাক্ নবীন, আর যারা একাধিকবার শরীর পেয়েও পুনরায় মানবশরীরে অবস্থান করছে, তাদের বলা হােক অভিজ্ঞ। এই মুহূর্তে পৃথিবীতে সংখ্যায় কারা বেশি যারা নবীন না যারা অভিজ্ঞ
মীমাংসা :– সংখ্যার হিসাবে প্রায় সমান । কিন্তু যারা অভিজ্ঞ, তারা অধিকাংশই দুর্বল। উর্ধ্বমুখী গতি হওয়ার ক্ষমতা তারা এখনও অর্জন করতে পারেনি। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও, তাদের ক্ষমতা সীমিত, তাই তারা জীবনযুদ্ধে সফল হতে পারছে না। সেই দিক দিয়ে দেখতে গেলে তাদের সাথে নবীনদের খুব একটা পার্থক্য চোখে পড়ছে না। এই অবস্থাটা চলতে থাকলে, আগামী তিন দশকের মধ্যে এই অক্ষম অভিজ্ঞদের সংখ্যা অত্যন্ত বেড়ে যাবে ।
জিজ্ঞাসা :–এই নবীন ও অভিজ্ঞদের যে ভূমিকা, তার বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্যগুলি একটু বুঝিয়ে বলুন।
মীমাংসা :– যারা অভিজ্ঞ তাদের মানুষ হিসেবে পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে, তাই তাদের সামর্থ্য বেশি, সম্পদ সংগ্রহের ক্ষমতা বেশি, জীবনযুদ্ধে মানিয়ে চলায় তারা পারদর্শী, আত্মরক্ষায় সক্ষম এবং অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে !
আর যারা নবীন, তাদের এই সুবিধাগুলো নেই: কারণ তারা পূর্বে পশু শরীরে ছিল। তাই তারা অধিক ক্ষমতাশালী বা প্রভাবশালী শক্তির কাছে বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য। স্বাভাবিকভাবেই সেই বশ্যতা স্বীকার করার পেছনে কোন নির্দিষ্ট দিন বা উদ্দেশ্য কাজ করে না।
জিজ্ঞাসা :– যারা অভিজ্ঞ, তাদের ভূমিকা এই নবীনদের কাছে কল্যাণকারী হবে নিশ্চয়ই ?
মীমাংসা :– সেটা প্রত্যাশিত, কিন্তু তা হয় না। বরং তাদের উপস্থিতি নবীনদের ক্ষেত্রে অশান্তি ও কষ্টের কারণ হয় এবং তারা নিজেরাও যথেষ্ট দুঃখ ভােগ করে। জগতে যত বিভ্রান্তি, তার মূলেও এরা।
জিজ্ঞাসা :– আপনার এই কথাটা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া একেবারেই অসম্ভব। এই অভিজ্ঞরা আছে বলেই জগতে অনেক কিছু ভাল আছে। এরা না থাকলে পৃথিবীতে মনুষ্যত্ব বলে কিছু থাকতো না। এরাই উদ্ভাবক, এরাই আবিষ্কারক, যেসবের জন্য মানুষ সামগ্রিকভাবে তার প্রয়ােজনগুলো মেটাতে পারছে । নবীনদের মধ্যে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সংস্কৃতি এরাই ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে জীবনকে সবাই ঠিকমত ভােগ করতে পারে। এখানে অভিজ্ঞদের মহানুভবতারই পরিচয় পাওয়া যায়। পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে বলেই এগুলো তারা করতে পারে। জগতে এরাই, সব অনর্থের মূল —এ কথা আপনি কিসের ভিত্তিতে বলছেন ।
মীমাংসা :– তুমি যা বলছ, তা সঠিক। এ সবই ওরা করে। কিন্তু তাদের ঐ তথাকথিত মহানুভবতা ও দাক্ষিণ্যের প্রয়ােজনটুকু নিয়ে তুমি বিবেচনা করে দেখােনি ৷ যারা নবীন তাঁদের অত দফা দাক্ষিণ্যের দরকারটা কি ? তারা কি ভিক্ষাপাত্র নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ?
লক্ষ্য করে দেখবে যে, যারা পশু শরীরে রয়েছে, তারাও অন্যের অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে বাঁচে না, কারণ সেটা তাদের স্বভাববিরুদ্ধ। তাহলে মানুষ হয়ে সে কেন হঠাৎ অন্যের উপর নির্ভর করতে চাইবে ? সেটা অসম্ভব। সবাই স্বাধীন ও স্বাবলম্বী হতে চায়। কিন্তু, তবু নবীনরা নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কেন? কারণ অভিজ্ঞরা চায় নবীনরা নির্ভরশীল হােক তাদের ওপর। তারা চায় নবীনরা ওদের বশ হয়েই থাকুক, যাতে ওরা দাক্ষিণ্য ও নেতৃত্বের অজুহাতে নিজেদের সুবিধেজনক অবস্থাটাকে বজায় রাখতে পারে। নবীনদের স্বাস্থ্য বা শিক্ষা নিয়ে তারা কখন ভাবে ? যখন তারা দেখে যে, নবীনদের মধ্যে অশিক্ষা ও রােগ তাদের নিজেদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে তখনই ভাবে ।
প্রকৃতিতে সবকিছু একে অপরের সাথে সম্পর্কযুক্ত, সুতরাং কারুর অগ্রগতি স্তব্ধ হলে অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঠিক সেই কারণে নিজেদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার প্রসার ঘটাতে গিয়ে অপরেরটাও তারা চিন্তা করতে বাধ্য হয়েছে। সাথে সাথে আনুসঙ্গিক বিষয়গুলােও চলে এসেছে, যেমন খাদ্য উৎপাদন, প্রযুক্তি, বিনােদন, বাসস্থান ও বিলাসিতা। তুমি ভাবছ, তারা খুব মহানুভব। ভুল ভাবছাে । তাদের পরিচালিত করছে ব্যক্তিস্বার্থ। মানবিকতার নামে আসলে পশুচেতনাই কাজ করে চলেছে। কারুর স্বাস্থ্য উন্নতি করতে গেলে তাকে শিক্ষিত করে তুলতে হবে। শিক্ষা না দিয়ে যদি স্বাস্থ্য সচেতন করার কোন উপায় থাকতাে, তবে অভিজ্ঞরা তাই করতো। কিন্তু সেরকম কোন উপায় তারা খুঁজে পায়নি। তাই দাক্ষিণ্যের নামে শােষণ চলছে।
জিজ্ঞাসা :—পৃথিবীর কোন কোন জায়গায় এই অভিজ্ঞদের সংখ্যা বেশি ?
মীমাংসা :–কোন বিশেষ স্থানে নয়, সারা পৃথিবীতেই এরা ছড়িয়ে আছে।
জিজ্ঞাসা :– অভিজ্ঞরা খুব স্বার্থপর, এই যুক্তির স্বপক্ষে আর কী কোন প্রমাণ আছে ?
মীমাংসা :– হ্যাঁ, আছে। বর্তমান পৃথিবীর অবস্থাই এর প্রমাণ। যেমন ধরাে; দুর্বলকে সাহায্য করার জন্য সুযােগ-সুবিধে ধরিয়ে দেওয়া হয়, কিন্তু সেই সুযােগ-সুবিধেগুলাের উৎপাদন ও কৌশল সম্বন্ধে শিক্ষা দেওয়া হয় না। তাই পৃথিবীতে এত দুঃখ, কষ্ট ও অশান্তি।
জিজ্ঞাসা :– গত আড়াই হাজার বছর ধরে শ্রেষ্ঠ চিন্তাবিদরা বলে আসছেন যে, কিছু কিছু জাতির মধ্যে উন্নত মানুষ বেশী আসে। মায়ের গর্ভ থেকেই অনেক শিশু উন্নত হয় এবং সেটা নাকি তার জাতিগত বৈশিষ্ট্য। অন্যান্য জাতির মানুষ অত্যন্ত সাধারণ এবং জীবনযুদ্ধে তারা চিরকালই পিছিয়ে থেকেছে, ভবিষ্যতেও থাকবে। চিন্তাবিদরা আরও বলেন যে, এই উন্নত জাতিগুলিরই অস্তিত্বের অধিকার আছে, বাকীরা লুপ্ত হয়ে যাওয়াই বাঞ্ছনীয়। অবাঞ্ছিতদের শোষণ করেই উন্নতদের বংশবৃদ্ধি করার অধিকার আছে। এইভাবে নাকি জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই।
মীমাংসা :– অনেক ক্ষেত্রে মায়ের গর্ভ থেকেই যে কিছু শিশু সাধারণের চেয়ে উন্নত হতে পারে–এই মতবাদ স্বীকার্য। কিন্তু এর সাথে জাতিগত বৈশিষ্ট্যের কোন সম্পর্ক নেই।
জিজ্ঞাসা :–তবে কিভাবে এটা নির্ধারিত হয় ,
মীমাংসা :– যারা জন্মগতভাবে উন্নত তারা পূর্বে একাধিকবার মানবশরীর গ্রহণ করেছে আর যারা অপেক্ষাকৃত সাধারণ তারা প্রথম মানবশরীর নিয়েছে। মাতৃগর্ভে আসার আগেই যাদের বৈশিষ্ট্য নির্ধারিত, তাদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসে, কোথা থেকে তারা অর্জন করল বা অধিকার করল এই বৈশিষ্ট্য ? স্বভাবের সূত্র কোথায় ? কারুর সামর্থ্য বেশী বা কম হয় কি করে ? এই প্রশ্নগুলাে তােমার বিবেচনা করা উচিত। জীবনের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তারা তাদের স্বভাবের বৈশিষ্ট্যগুলি অর্জন করে। অতীতের পরিবেশ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী বর্তমানের রূপ ফুটে ওঠে। মানব শরীরের পূর্ব অভিজ্ঞতা নবজাতককে সমৃদ্ধ করে ও তার সফলতার সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করে। বাকীরা হয়ত দেখা যায় প্রথম থেকেই ততটা উজ্জ্বল নয়। তাদের সাফল্য নিয়ে সংশয় থাকে। অপরের বশ হবার প্রবণতা বহন করে এবং প্রতিযােগিতার দৌড়ে পিছিয়ে পড়তে দেখা যায়। এদের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযােজ্য। পূর্বের মনুষ্যেতর শরীরের স্মৃতি এদের জন্মের আগে থেকেই সক্রিয় ! মানব শরীরের সম্ভাবনাগুলাের সাথে মানিয়ে নিতে এদের পক্ষে কিছুটা সময় লাগা স্বাভাবিক।
স্বাভাবিক নিয়মেই অভিজ্ঞরা নবীনদের ওপর আধিপত্য করে। আজ যারা নবীন, তাদের যদি মৃত্যুর সময় মােহ বা আসক্তি না কাটে, তবে তারা পুনরায় শরীর নেবে এবং তখন প্রথম শরীরপ্রাপ্ত নবীনদের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে। অর্থাৎ জন্ম থেকেই শিশুর মধ্যে যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য দেখা যায় তার সাথে জাত বা গােষ্ঠীর কোন সম্পর্ক নেই, কারণটা সম্পূর্ণ আধ্যাত্মিক।
জিজ্ঞাসা :–বিষয়টি সম্বন্ধে আমাদের স্পষ্ট ধারণা হােল। কিন্তু পৃথিবীব্যাপী জনসংখ্যা সমস্যাটা তাহলে ঠিক কিভাবে দেখা উচিত ?
মীমাংসা :– অধ্যাত্ম-বিজ্ঞান বলে, জীবনের অভিজ্ঞতা যত বাড়বে, মানুষের তত নিঃস্বার্থ হওয়া উচিত। যারা বারবার শরীর নিয়ে আসছে, বহু অভিজ্ঞতা হয়েছে—তারা নিজেদের গতি তাে উর্ধ্বমুখী করবেই, অপরকেও সেই পথে এগিয়ে দেবে—এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু বাস্তবে উল্টোটা হয় । এরাই বেশী স্বার্থপর হয় এবং নিজেদের উন্নত সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে অপরের ওপর প্রভুত্ব করে।
অতএব পরিস্থিতিই বাধ্য করছে নবীনদের ওদের হাতের মুঠোর মধ্যে আসার। নবীনরা প্রথম দিকে স্বার্থপর হবেই কিছুটা, কারণ তাদের মধ্যে পূর্ব সংস্কার কাজ করছে। কিন্তু ঐ স্বার্থের গণ্ডীতেই তাদের আটকে রাখছে অভিজ্ঞরা, সেখান থেকে আর উঠতে দিচ্ছে না। এই জন্য জনসংখ্যার অঙ্কটা ক্রমে জটিল হয়ে পড়ছে। এ প্রসঙ্গে তােমাকে আগেও বলেছি যে, মানুষ যে সব সময় চিন্তা করছে –এটা সমস্যা নয়, সে যে ধরণের চিন্তা করছে, সেটা নিয়ে সমস্যা। কারণ তার চিন্তাই তাকে বাধ্য করছে বারবার শরীর নিতে। ভেবে দেখ, এমন কি আছে, যার দ্বারা তার চিন্তার মুখটাকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়, যাতে সে জীবনের প্রতি নির্মোহ হতে পারে ? বনস্পতি থেকে মানুষ পর্যন্ত, সবাই নিরন্তর চিন্তা করে চলেছে। সমস্ত চিন্তায় একটাই সুর—সবাই চায় নিরাপত্তা ও আনন্দ। কেউ স্বার্থের মধ্যে খুঁজছে, কেউ খুঁজছে নিঃস্বার্থতার মধ্যে। স্বার্থচিন্তার মধ্যে আটকে থাকলে মানুষ বারবার শরীর নিতে বাধ্য হবে। স্বার্থমুক্তি ঘটলে আর জন্ম নিতে হয় না।
স্বার্থচিন্তাকে নিঃস্বার্থ চিন্তায় রূপান্তরিত করতে গেলে প্রত্যেককে তার কাণ্ডজ্ঞান সম্বন্ধে সচেতন হতে হবে এবং নিজের অন্তর্নিহিত সূক্ষ্ম শক্তিকে যথার্থভাবে জাগিয়ে তুলে তাকে গুণগত পরিপূর্ণতার দিকে নিয়ে যেতে হবে। এটা করতে গেলে যারা প্রকৃত অর্থে নিঃস্বার্থ তাদের সঙ্গে সংযােগ স্থাপন করতে হবে বা তাদের সান্নিধ্যে আসা প্রয়ােজন। কারণ নিঃস্বার্থ ব্যক্তির মধ্যে থেকে শুভশক্তি নির্গত হয়ে সাধারণ মানুষের সংকীর্ণ চেতনার গণ্ডীকে ধীরে ধীরে বিস্তৃত করতে সাহায্য করে।
এইভাবে, যারা অভিজ্ঞ, তাদের পুনরায় শরীর গ্রহণের প্রবণতাকে রােধ করতে হবে আর যারা নবীন, তারা যেন দ্বিতীয়বার শরীর গ্রহণ না করে, সেই পথে তাদের অনুপ্রাণিত করতে হবে । অযাচিত ও অন্যায় প্রতিযােগিতা তখন বন্ধ হবে। লােভ এবং প্রয়ােজনের চেয়ে অতিরিক্ত সংগ্রহের যে প্রবণতা, সেটাও ধীরে ধীরে কমে যাবে। ন্যূনতম সুযােগ-সুবিধা এবং উৎপাদন ও প্রযুক্তির বিদ্যা একদিন সকলের কাছেই পৌঁছুবে। আর তাতেই দেখবে সমস্যাগুলো সমাধানের দিকে এগিয়ে চলেছে। … [ক্রমশঃ]