আমরা স্বামী বাউলানন্দজীর ছোটবেলাকার জীবন সম্বন্ধে আলোচনা করছিলাম । আমরা আগের সংখ্যায় দেখেছিলাম যে উনি মাতৃবিয়োগের পর প্রথমবারের জন্য সংসার ত্যাগ করে বেরিয়ে যাওয়ার পর আবার বাড়িতে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু বেশিদিন গৃহবন্দি হয়ে থাকতে না পেরে তিনি আবার বেরিয়ে পড়েছিলেন রাস্তায় । আমরা আরো জেনেছিলাম যে, তিনি প্রথাগত কোন শিক্ষা গ্রহণ না করলেও ভ্রাম্যমান সন্ন্যাসী দলের বয়স্ক সন্ন্যাসীদের সাহায্যে তিনি পুস্তক পাঠ করা এবং লেখা রপ্ত করতে পেরেছিলেন । তাছাড়া বালক বয়সেই স্বামীজি মা জগদম্বার প্রতি একান্ত নির্ভরতাও লাভ করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
দ্বিতীয়বার বাড়ি থেকে চলে গিয়ে__ভ্রমণকালীন সময়ে হঠাৎ করে একদিন বিবেকানন্দের বক্তৃতা সম্বলিত একখানি ছোট পুস্তিকা তাঁর হাতে আসে। সেই বইটি পাঠ করে স্বামী বাউলানন্দ খুব আনন্দ লাভ করেন। এই বইটিতে একটি প্রবন্ধ ছিল “আমার গুরু”! এই প্রবন্ধটি তাঁর মনকে খুব নাড়া দিলো। তিনি পুনঃ পুনঃ সেই বইখানি পড়লেন এবং পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হলেন। স্বামী বিবেকানন্দের গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ শীঘ্রই তার আরাধ্য এবং শ্রদ্ধা ভক্তির একমাত্র পাত্র হয়ে দাঁড়ালো । তিনি সম্যকভাবে বুঝতে পারলেন যে শ্রীরামকৃষ্ণ ভগবানের অবতার। শ্রীরামকৃষ্ণ তার নিকট আর শুধুমাত্র ‘পরমহংস’ রইলেন না পরমাত্মা হয়ে উঠলেন।
ঐ বইটিতে একটি নীতি গল্প, যেটি রামকৃষ্ণদেব বলতেন __তার উল্লেখ ছিল! গল্পটি হোল _ একটি চোরকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। চোরটি যাই হোক করে জানতে পারলো যে_ পাশের ঘরে কয়েক বস্তা সোনা আছে। এইটি জানার পর_ ঐগুলি পাওয়ার জন্য তার মনে প্রবল বাসনা জাগলো। সে একেবারে অস্থির হয়ে পড়লো, তার এক চিন্তা_ যেমন করে হোক কারাগারের বাইরে যেতে হবে, পাশের ঘর খুলতে হবে এবং সোনার বস্তা গুলি নিতে হবে । সে কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে শুরু কোরলো _একাজ তার দ্বারা সম্ভব কি অসম্ভব সেটা নিয়ে তার উদ্বিগ্নতা ছিল না। তার চিন্তা-ভাবনা মনোযোগ সবকিছুই সেই পাশের ঘরে সোনার দিকেই পড়ে রইলো!
গল্পের উপসংহারে বলা ছিল যে, ঠিক সেইরকম যদি কোন ভক্তকে বলা হয় যে, ঈশ্বর তার নিকটই আছে _চেষ্টা করলেই তাকে পাওয়া যায়, তাহলে সে এক মুহুর্তও অলসভাবে কাটাতে পারবে না! সে ঘুমাতেই পারবেনা! স্ত্রী-পুত্র, খাদ্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এই সবকিছুই তার মন থেকে উঠে যাবে! ঈশ্বর যখন সহজলভ্য, তখন তাকে কিভাবে পাওয়া যাবে _এই গভীর চিন্তায় সে সর্বদা নিমগ্ন থাকবে । খাদ্যের অভাবে তার শরীর দুর্বল হতে পারে, সমস্ত কার্যক্ষমতা লুপ্ত হতে পারে, কিন্তু মন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হবে।
মা জগদম্বার দর্শন লাভের জন্য স্বামী বাউলানন্দের মনোজগতে এই রূপই অন্বেষণ শুরু হয়েছিল । তিনি কোনোখানে স্থির হতে পারছিলেন না। শারীরিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি কোন লক্ষ্যই তার সেই সময় ছিল না। শান্তি লাভের আশায় তিনি স্থান হতে স্থানান্তরে ঘুরতে শুরু করলেন। মনের যখন এইরকম অবস্থা _সেই সময় তিনি একদিন এক গ্রামে উপস্থিত হলেন, যেখানে মার্কন্ডেশ্বরের মন্দির রয়েছে । ওই স্থানে থাকাকালীন সময়ে এক ব্যক্তি স্বামীজীকে মহা সাধক রামতীর্থ সম্বন্ধে লেখা একটি বই দিলেন। সেই বইটিও তিনি বারবার পড়তে পড়তে লাগলেন। এই বইটিতে রামতীর্থের সাধন জীবনে চরম আনন্দ প্রাপ্তি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ছিল।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[1]
রাস্তার ধারে দু-দল লোক কোন একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ বাগবিতণ্ডা করছিল। একপরিচিত বা অপরিচিত লোক হঠাৎ ঘটনাস্থলে হাজির হোল ৷ ঐ লোকটি নিরপেক্ষ। সে বিবাদের বিষয়টি, এর ন্যায়-অন্যায় দিক, এর সূত্র ইত্যাদি যথাযথ বুঝে নিল ৷ বিষয়টির ন্যায়-অন্যায় দিক, সূত্র এবং বিবদমান লোকগুলির দোষত্রুটি সম্বন্ধে সম্যক উপলব্ধিই হল বিষয়টির জ্ঞাতব্য বিষয়। ঘটনাস্থলে আগন্তুকের নিকট এটাই প্রতিপন্ন হোল যে এক পক্ষ অপর পক্ষ অপেক্ষা অধিক বুদ্ধিমান, ধড়িবাজ এবং কৌশলী। এবং বুদ্ধিমানের দল অপর পক্ষকে ঠকাতে চাইছে। এই (বুদ্ধিমান) পক্ষের যুক্তি জোরালো নয় | তাদের এই প্রতিরোধটা সামগ্রিকভাবে অযৌক্তিক। কিন্তু অপর পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তি কম এবং প্রতিদ্বন্দ্বি দলের মত সুকৌশলী নয় এবং এই পরিস্থিতির মােকাবিলা করার ক্ষমতাও নাই। তাই তাদের যুক্তি ন্যায়সংগত হলেও তারা নিশ্চিত প্রতারিত হবে। এই অবস্থায় ধড়িবাজ দলের দোষত্রুটি দেখিয়ে নিরপেক্ষ লোকটি তা বিচার করার জন্য অবশ্যই মধ্যস্থতা করবে এবং প্রতারিত হতে চলেছে যে দল_ সেই দলকে যুক্তিসংগতভাবে সহায়তা করবে এবং প্রবঞ্চনা অবশ্যই বন্ধ করবে । এই প্রবঞ্চনা নিবারণ করা ছাড়া সে তৃপ্ত হতে পারে না। এই ব্যক্তিটির (আগন্তুক) মনে করা ঠিক হবে না – “কেন আমি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কোরবো ? এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নাই। বিষয়টি সম্পূর্ণ আমার এক্তিয়ারের বাইরে। আমার এই হস্তক্ষেপের ফলে আমি ধড়িবাজ লােকগুলির বিরাগভাজন হতে পারি। এর ফলে আমি বিপদে পড়তে পারি। তারা সংখ্যায় বেশী, তাতে আমি আবার আগন্তুক । আমি আমার কাজে অন্য রাস্তায় যাব ভেবেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ এই সঙ্কটে পড়ে গেলাম।”
এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ঐ স্থানে উপস্থিত হওয়ার ফলে নিরপেক্ষ লোকটি এও ভাবতে পারে, “এতে আমার কিছু করণীয় আছে। এতে আমি সংশ্লিষ্ট হবো। কাজে অন্য রাস্তায় যাব ভেবেও দৈবক্রমে এখানে এসে হাজির হলাম । এর কিছু তাৎপর্য আছে। ন্যায়নিষ্ঠ দলটি ছল-চাতুরী করতে অক্ষম বা ছল-চাতুরী করতে অনিচ্ছুক। সে জন্য প্রতারিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিটা উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমার যথেষ্ট রয়েছে। তাই আর বুঝার কিছু নেই । বিষয়টি সম্যকরূপে উপলব্ধি করার ক্ষমতা এবং গুণ দু-দলের চেয়ে আমার অধিক পরিমাণে থাকায় যাদের এই ক্ষমতা কম তাদের ভালো এবং উন্নতির জন্য আমার এই উপলব্ধির যথার্থ ব্যবহার অবশ্যই করব। মানবের সীমিত অনুশাসন অনুযায়ী আমার এতে কোন কাজ নাই। কিন্তু বিরাট, অসীমিত এবং ধর্মের অনুশাসনের দিক থেকে আমার এতে অাছে । সেজন্যই আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই সংকটময় অবস্থাতে এ স্থানে এসে পড়েছি।”
এই চিন্তাধারার পথেই জ্ঞানবান বিচরণ করে। এর ফলে হয় কি জ্ঞানীর প্রচেষ্টায় প্রতারণা বন্ধ হয়। দুনীতিপরায়ণ দল বাধা সৃষ্টি কোরছে। নানারূপ মন্তব্য করছে এবং যুক্তিতর্ক চালাচ্ছে। এই জ্ঞানী ব্যক্তি তাদের যুক্তিতর্কের দোষত্রুটি ব্যাখা করতে শুরু করবে। দুর্নীতিপরায়ণ দল ভুল সংশোধন করতে পারে, ঠিক পথে আসতে পারে। প্রবঞ্চনা বা প্রতারণা বন্ধ হতে পারে। সমগ্র বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হতে পারে। ভালোই। যদি দুর্নীতি-পরায়ণ দলটি তাদের মনােভাব সংশোধন না করে এবং কৌশলের ধারা না পাল্টায় তাহলে নিরপেক্ষ লােকটি এতে হস্তক্ষেপ কোরে _এই প্রতারণা বন্ধ করতে সম্পূর্ণ প্রয়াসী হবে। ব্যক্তিটির এই প্রচেষ্টা বিষয়টির ‘জ্ঞান’-এর রূপ । তেমনি, প্রত্যেক নামেরএকটা রূপ আছে এবং প্রত্যেক রূপের একটা নাম আছে।
প্রেম (Love), জ্ঞান (Knowledge) এবং শক্তি (Strength) এই পদ গুলি তাদের নিজ নিজ রূপের নাম । ব্যক্তির উপরিউক্ত প্রচেষ্টাটি হল বিষয় (affair) জ্ঞানের ব্যবহারের পদ্ধতি । জ্ঞানকে রূপায়িত করার এই হল পদ্ধতি । অপরের উন্নতি প্রকল্পে এটাই হোল জ্ঞানের প্রকাশ ভঙ্গি। এই প্রচেষ্টা ব্যক্তির (যে ব্যক্তি প্রচেষ্টা করে) বিষয় (affair) জ্ঞানকে আরও বর্ধিত কোরবে। এই প্রচেষ্টাই দুর্নীতিপরায়ণ দলকে অপরকে প্রবঞ্চনা করা থেকে নিবৃত্ত কোরবে এবং প্রবঞ্চনা-গামীকে জ্ঞান দেবে ৷ এর ফলে প্রবঞ্চনা বা প্রতারণা বন্ধ হবে। … [ক্রমশঃ]
দ্বিতীয়বার বাড়ি থেকে চলে গিয়ে__ভ্রমণকালীন সময়ে হঠাৎ করে একদিন বিবেকানন্দের বক্তৃতা সম্বলিত একখানি ছোট পুস্তিকা তাঁর হাতে আসে। সেই বইটি পাঠ করে স্বামী বাউলানন্দ খুব আনন্দ লাভ করেন। এই বইটিতে একটি প্রবন্ধ ছিল “আমার গুরু”! এই প্রবন্ধটি তাঁর মনকে খুব নাড়া দিলো। তিনি পুনঃ পুনঃ সেই বইখানি পড়লেন এবং পড়ে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত হলেন। স্বামী বিবেকানন্দের গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ শীঘ্রই তার আরাধ্য এবং শ্রদ্ধা ভক্তির একমাত্র পাত্র হয়ে দাঁড়ালো । তিনি সম্যকভাবে বুঝতে পারলেন যে শ্রীরামকৃষ্ণ ভগবানের অবতার। শ্রীরামকৃষ্ণ তার নিকট আর শুধুমাত্র ‘পরমহংস’ রইলেন না পরমাত্মা হয়ে উঠলেন।
ঐ বইটিতে একটি নীতি গল্প, যেটি রামকৃষ্ণদেব বলতেন __তার উল্লেখ ছিল! গল্পটি হোল _ একটি চোরকে কারাগারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। চোরটি যাই হোক করে জানতে পারলো যে_ পাশের ঘরে কয়েক বস্তা সোনা আছে। এইটি জানার পর_ ঐগুলি পাওয়ার জন্য তার মনে প্রবল বাসনা জাগলো। সে একেবারে অস্থির হয়ে পড়লো, তার এক চিন্তা_ যেমন করে হোক কারাগারের বাইরে যেতে হবে, পাশের ঘর খুলতে হবে এবং সোনার বস্তা গুলি নিতে হবে । সে কারাগার থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতে শুরু কোরলো _একাজ তার দ্বারা সম্ভব কি অসম্ভব সেটা নিয়ে তার উদ্বিগ্নতা ছিল না। তার চিন্তা-ভাবনা মনোযোগ সবকিছুই সেই পাশের ঘরে সোনার দিকেই পড়ে রইলো!
গল্পের উপসংহারে বলা ছিল যে, ঠিক সেইরকম যদি কোন ভক্তকে বলা হয় যে, ঈশ্বর তার নিকটই আছে _চেষ্টা করলেই তাকে পাওয়া যায়, তাহলে সে এক মুহুর্তও অলসভাবে কাটাতে পারবে না! সে ঘুমাতেই পারবেনা! স্ত্রী-পুত্র, খাদ্য, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য এই সবকিছুই তার মন থেকে উঠে যাবে! ঈশ্বর যখন সহজলভ্য, তখন তাকে কিভাবে পাওয়া যাবে _এই গভীর চিন্তায় সে সর্বদা নিমগ্ন থাকবে । খাদ্যের অভাবে তার শরীর দুর্বল হতে পারে, সমস্ত কার্যক্ষমতা লুপ্ত হতে পারে, কিন্তু মন নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে দ্রুতগতিতে অগ্রসর হবে।
মা জগদম্বার দর্শন লাভের জন্য স্বামী বাউলানন্দের মনোজগতে এই রূপই অন্বেষণ শুরু হয়েছিল । তিনি কোনোখানে স্থির হতে পারছিলেন না। শারীরিক সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতি কোন লক্ষ্যই তার সেই সময় ছিল না। শান্তি লাভের আশায় তিনি স্থান হতে স্থানান্তরে ঘুরতে শুরু করলেন। মনের যখন এইরকম অবস্থা _সেই সময় তিনি একদিন এক গ্রামে উপস্থিত হলেন, যেখানে মার্কন্ডেশ্বরের মন্দির রয়েছে । ওই স্থানে থাকাকালীন সময়ে এক ব্যক্তি স্বামীজীকে মহা সাধক রামতীর্থ সম্বন্ধে লেখা একটি বই দিলেন। সেই বইটিও তিনি বারবার পড়তে পড়তে লাগলেন। এই বইটিতে রামতীর্থের সাধন জীবনে চরম আনন্দ প্রাপ্তি সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা ছিল।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
[1]
রাস্তার ধারে দু-দল লোক কোন একটা বিষয় নিয়ে ভীষণ বাগবিতণ্ডা করছিল। একপরিচিত বা অপরিচিত লোক হঠাৎ ঘটনাস্থলে হাজির হোল ৷ ঐ লোকটি নিরপেক্ষ। সে বিবাদের বিষয়টি, এর ন্যায়-অন্যায় দিক, এর সূত্র ইত্যাদি যথাযথ বুঝে নিল ৷ বিষয়টির ন্যায়-অন্যায় দিক, সূত্র এবং বিবদমান লোকগুলির দোষত্রুটি সম্বন্ধে সম্যক উপলব্ধিই হল বিষয়টির জ্ঞাতব্য বিষয়। ঘটনাস্থলে আগন্তুকের নিকট এটাই প্রতিপন্ন হোল যে এক পক্ষ অপর পক্ষ অপেক্ষা অধিক বুদ্ধিমান, ধড়িবাজ এবং কৌশলী। এবং বুদ্ধিমানের দল অপর পক্ষকে ঠকাতে চাইছে। এই (বুদ্ধিমান) পক্ষের যুক্তি জোরালো নয় | তাদের এই প্রতিরোধটা সামগ্রিকভাবে অযৌক্তিক। কিন্তু অপর পক্ষের বুদ্ধিবৃত্তি কম এবং প্রতিদ্বন্দ্বি দলের মত সুকৌশলী নয় এবং এই পরিস্থিতির মােকাবিলা করার ক্ষমতাও নাই। তাই তাদের যুক্তি ন্যায়সংগত হলেও তারা নিশ্চিত প্রতারিত হবে। এই অবস্থায় ধড়িবাজ দলের দোষত্রুটি দেখিয়ে নিরপেক্ষ লোকটি তা বিচার করার জন্য অবশ্যই মধ্যস্থতা করবে এবং প্রতারিত হতে চলেছে যে দল_ সেই দলকে যুক্তিসংগতভাবে সহায়তা করবে এবং প্রবঞ্চনা অবশ্যই বন্ধ করবে । এই প্রবঞ্চনা নিবারণ করা ছাড়া সে তৃপ্ত হতে পারে না। এই ব্যক্তিটির (আগন্তুক) মনে করা ঠিক হবে না – “কেন আমি এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ কোরবো ? এ ব্যাপারে আমার কিছু করার নাই। বিষয়টি সম্পূর্ণ আমার এক্তিয়ারের বাইরে। আমার এই হস্তক্ষেপের ফলে আমি ধড়িবাজ লােকগুলির বিরাগভাজন হতে পারি। এর ফলে আমি বিপদে পড়তে পারি। তারা সংখ্যায় বেশী, তাতে আমি আবার আগন্তুক । আমি আমার কাজে অন্য রাস্তায় যাব ভেবেছিলাম, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশতঃ এই সঙ্কটে পড়ে গেলাম।”
এই সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে ঐ স্থানে উপস্থিত হওয়ার ফলে নিরপেক্ষ লোকটি এও ভাবতে পারে, “এতে আমার কিছু করণীয় আছে। এতে আমি সংশ্লিষ্ট হবো। কাজে অন্য রাস্তায় যাব ভেবেও দৈবক্রমে এখানে এসে হাজির হলাম । এর কিছু তাৎপর্য আছে। ন্যায়নিষ্ঠ দলটি ছল-চাতুরী করতে অক্ষম বা ছল-চাতুরী করতে অনিচ্ছুক। সে জন্য প্রতারিত হতে পারে। এই পরিস্থিতিটা উপলব্ধি করার ক্ষমতা আমার যথেষ্ট রয়েছে। তাই আর বুঝার কিছু নেই । বিষয়টি সম্যকরূপে উপলব্ধি করার ক্ষমতা এবং গুণ দু-দলের চেয়ে আমার অধিক পরিমাণে থাকায় যাদের এই ক্ষমতা কম তাদের ভালো এবং উন্নতির জন্য আমার এই উপলব্ধির যথার্থ ব্যবহার অবশ্যই করব। মানবের সীমিত অনুশাসন অনুযায়ী আমার এতে কোন কাজ নাই। কিন্তু বিরাট, অসীমিত এবং ধর্মের অনুশাসনের দিক থেকে আমার এতে অাছে । সেজন্যই আমি অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই সংকটময় অবস্থাতে এ স্থানে এসে পড়েছি।”
এই চিন্তাধারার পথেই জ্ঞানবান বিচরণ করে। এর ফলে হয় কি জ্ঞানীর প্রচেষ্টায় প্রতারণা বন্ধ হয়। দুনীতিপরায়ণ দল বাধা সৃষ্টি কোরছে। নানারূপ মন্তব্য করছে এবং যুক্তিতর্ক চালাচ্ছে। এই জ্ঞানী ব্যক্তি তাদের যুক্তিতর্কের দোষত্রুটি ব্যাখা করতে শুরু করবে। দুর্নীতিপরায়ণ দল ভুল সংশোধন করতে পারে, ঠিক পথে আসতে পারে। প্রবঞ্চনা বা প্রতারণা বন্ধ হতে পারে। সমগ্র বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসা হতে পারে। ভালোই। যদি দুর্নীতি-পরায়ণ দলটি তাদের মনােভাব সংশোধন না করে এবং কৌশলের ধারা না পাল্টায় তাহলে নিরপেক্ষ লােকটি এতে হস্তক্ষেপ কোরে _এই প্রতারণা বন্ধ করতে সম্পূর্ণ প্রয়াসী হবে। ব্যক্তিটির এই প্রচেষ্টা বিষয়টির ‘জ্ঞান’-এর রূপ । তেমনি, প্রত্যেক নামেরএকটা রূপ আছে এবং প্রত্যেক রূপের একটা নাম আছে।
প্রেম (Love), জ্ঞান (Knowledge) এবং শক্তি (Strength) এই পদ গুলি তাদের নিজ নিজ রূপের নাম । ব্যক্তির উপরিউক্ত প্রচেষ্টাটি হল বিষয় (affair) জ্ঞানের ব্যবহারের পদ্ধতি । জ্ঞানকে রূপায়িত করার এই হল পদ্ধতি । অপরের উন্নতি প্রকল্পে এটাই হোল জ্ঞানের প্রকাশ ভঙ্গি। এই প্রচেষ্টা ব্যক্তির (যে ব্যক্তি প্রচেষ্টা করে) বিষয় (affair) জ্ঞানকে আরও বর্ধিত কোরবে। এই প্রচেষ্টাই দুর্নীতিপরায়ণ দলকে অপরকে প্রবঞ্চনা করা থেকে নিবৃত্ত কোরবে এবং প্রবঞ্চনা-গামীকে জ্ঞান দেবে ৷ এর ফলে প্রবঞ্চনা বা প্রতারণা বন্ধ হবে। … [ক্রমশঃ]
