স্বামী বাউলানন্দজীর ছোটবেলাকার কথা আগে বলা হয়েছে এখন কিশোর বয়সের বা যৌবন বয়সের ভ্রমণকালীন ঘটনাসমূহ এখানে বর্ণনা করা হচ্ছে।
মার্কন্ডেশ্বরের মন্দির থেকে বেরিয়ে স্বামীজি বেশ কিছুকাল এখানে ওখানে ঘুরে তিনি সোজা চলে যান উত্তর ভারতের ঋষিকেশে। ঋষিকেশে উনি প্রায় 6 মাসকাল ছিলেন । ঋষিকেশ শহরটি গঙ্গার তীরে অবস্থিত । দীর্ঘকাল ধরে এই শহরের অভ্যন্তরে এবং গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে বহু উন্নত সাধুরা বসবাস করেন ।এই সব অঞ্চলে বহু অজ্ঞাত অথচ উন্নত সাধু লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁরাও এসব স্থানে অবস্থান করেন। তাছাড়া বিখ্যাত তীর্থস্থান হওয়ায়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা এই স্থান দর্শন করতে আসেন । স্বামী বাউলানন্দজীও এইসব কারনেই এই স্থানটির প্রতি এতোটা আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
ঋষিকেশে থাকাকালীন সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশের একজন ব্যক্তি তার নাম শাস্ত্রীজী ওই সময় স্বামীজীর সাথে থাকতেন। তিনি স্বামীজীকে খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং আন্তরিক ভাবে তাঁর সেবা করতেন। এই সময় যে কোনো কারণেই হোক __স্বামীজির কাছে দৈনন্দিন খরচ মেটাবার মত যথেষ্ট অর্থ ছিল! ফলে তাঁরা দুজনে থাকার জন্য ধর্মশালায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেখানে প্রার্থনা এবং তপশ্চর্যার মধ্য দিয়ে তারা বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন । এরমধ্যে শাস্ত্রীজী একদিন স্বামীজিকে জানালেন যে, টাকা পয়সা সব ফুরিয়ে গেছে! এরপর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কি করে হবে?
স্বামীজির কাছে কিছু ডাকটিকিট ছিল তিনি সেগুলি বিক্রি করে পয়সা জোগাড় করতে বললেন। এর ফলে তাঁদের আরও বেশ কয়েকদিন সেখানে থাকার ব্যবস্থা হোল । সেই অর্থও শেষ হয়ে গেলে স্বামীজী এবং তার সঙ্গী শাস্ত্রীজী_ হৃষিকেশে সাধুদের খাবারের জন্য যেখানে চিরকুট দেওয়া হয়, সেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন। ধর্মশালার মহান্ত এক জায়গায় বসে চিরকুটগুলি বিলি করছিলেন । যখন স্বামীজি লাইন বরাবর আগাতে আগাতে তাঁর নিকটে এলেন_ তখন সেই মহান্ত স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন এবং শেষে স্বামীজীকে পাশে দাঁড়াতে বলে অবশিষ্ট টিকিট তিনি বাকি সাধুদের বিতরণ করলেন।সকলকে চিরকুট দেওয়া হয়ে গেলে সেই মহান্ত স্বামীজীকে বললেন _”আপনি স্বয়ং লক্ষ্মী-পুত্র হয়ে লাইনে দাড়িয়েছেন কেন?এই স্থান আপনার জন্য নয়””! __এই বলে তিনি স্বামীজীকে তার নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে ভোজন করালেন এবং শেষে ভোজন-দক্ষিণা হিসাবে কিছু অর্থ দান হিসাবে দিয়েছিলেন।।
এরপর থেকে স্বামীজীর চিন্তা করলেন যে তাঁর লাইনে দাঁড়ানো ঠিক হচ্ছেনা ! তখন থেকে তাঁরা দুজনই যুক্তি করে একটি মতলব খুঁজে বের করলেন । শাস্ত্রীজী প্রতিদিন গঙ্গা স্নান করতে যেতেন। এইস্থানের গঙ্গার তীরে প্রচুর শিবলিঙ্গ রয়েছে । তীর্থযাত্রীরা এগুলি স্থাপন করেছেন বটে কিন্তু নিত্য পূজার কোন ব্যবস্থা নাই ! অন্য যাত্রীরা এই স্থান পরিদর্শনে এলে গঙ্গা জল দিয়ে এইসব শিবলিঙ্গ গুলিকে অভিষেক করেন, ফুল দিয়ে অর্চনা করেন, এবং মুদ্রা দক্ষিণা দেয়। সুতরাং প্রতিটি শিবলিঙ্গের নিচে প্রতিদিন কিছু মুদ্রা পড়ে থাকতোই! শাস্ত্রীজী প্রতিদিন গঙ্গাস্নানে গিয়ে তিনটি মুদ্রা প্রতিদিনই নিয়ে আসতেন। সেই মুদ্রায় minimum যেটুকু খাদ্য পাওয়া যেতো_ তাই খেয়ে তাঁরা দুজনে দিন কাটতে লাগলেন। সাধারণতঃ তাদের খাদ্য ছিল দুপয়সার চা-গুঁড়ো এবং এক পয়সার গুড়। সারাদিনে তারা দুজনে কয়েকবার চা খেয়ে দিনের পর দিন কাটাতে শুরু করলেন। কিন্তু এতে তাদের সাধন-ভজনের কোনো ব্যাঘাত ঘটতো না এবং এইসময় তাঁরা সুস্থ শরীরে আনন্দের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে এই সময়ে তারা দুজনেই ঈশ্বরের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে দিন কাটাতেন_তাই কখনোই কোনো অসুবিধা দেখা দেয় নি!
বেশ কয়েক মাস ওখানে থাকার পরে কোন এক স্থান থেকে কিছু টাকা-পয়সা স্বামীজীর হাতে এসে গেল। তখন তিনি হৃষিকেশ ছেড়ে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যাবার জন্য হাঁটা লাগালেন।।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
… পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানের শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের মজুতদারগণ ! তোমাদের এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে এই মজুত করার মধ্যে অভিমান রয়েছে । পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মানুষকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানের মানুষের জন্য এগুলি ব্যবহার করতে তোমরা উদ্দেশ্য প্রণােদিত । এগুলি সমগ্র মানব জাতির।
শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম মজুত করার মধ্যে অভিমান রয়েছে। যাদের এগুলি মজুত কম তাদেরকে এগুলি মজুত করার জন্য ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষ প্রবৃত্ত করছে। এই প্রবর্তক শক্তি পারমার্থিক নীতিতে রূপান্তরিত হয়ে মজুতের মধ্যে অভিমানরূপে বর্তমান । এইরূপে মজুতের অভিমান এবং সার্বজনীন অভিশাপের পরোয়ানার অভিমান অভেদ এবং একই শক্তি সম্পন্ন। এই কারণে অলঙ্ঘ্য এবং অনমনীয় শক্তিসম্পন্ন সার্বজনীন অভিশাপের পরােয়ানার অভিমান কারারুদ্ধ শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভিমানের পরিপূরক। পরােয়ানাগুলি বাইরে থেকে শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমকে কারাগার হতে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করছে । মজুত বিষয়সমূহ ভিতর থেকে নিজেদেরকে কারাগার হতে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম চালাচ্ছে।
মজুতদারগণ! তোমরা চিন্তা কর – যে জ্ঞান, শক্তি এবং প্রেম তোমাদের মধ্যে বর্তমান তা দিয়ে তােমরা অভিশাপের পরােয়ানাগুলিকে পরাস্ত করতে পার এবং যে মানবজাতি হতে তাদের উৎপত্তি সেই মানবজাতির কাছে
তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে পার। তদনুসারে, তােমরা নিজেদেরকে সমস্ত মজুত (শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের সঞ্চয়) দ্বারা নিজেদেরকে তৈরী করে আসছ । কিন্তু যে মজুত দ্বারা তােমরা পরােয়ানাকে পরাস্ত করতে চাইছ তা পরোয়ানার উদ্দেশ্য সাধনে প্রবৃত্ত হচ্ছে । তা দ্বারা পরােয়ানার লক্ষ্য সিদ্ধ হচ্ছে। যে ভিত্তিতে তোমরা ঐ তিনটিকে (জ্ঞান, শক্তি, প্রেম) মজুত করে এসেছ তা পরােয়ানার ভিত্তির সঙ্গে অভেদ। যে নীতিতে তােমরা ওগুলি মজুত করছ তা তোমাদের করায়ত্ত থেকে ঐ তিনটিকে মুক্ত করার জন্য পরােয়ানাগুলি যে নীতি অবলম্বন করছে তার সঙ্গে অভেদ। পরােয়ানাগুলিকে পরাস্ত করার জন্য যে নীতি তােমরা অবলম্বন করছ তা তোমাদের মজুতকে উদ্ধার করার জন্য পরোয়ানাগুলি যে নীতি গ্রহণ করছে তার সঙ্গে অভেদ।
সুতরাং, বিবেচক হও এবং তোমাদের মজুত এবং পরােয়ানার অভিমানের মধ্যে ঐক্য লক্ষ্য কর। তোমাদের এবং তােমাদের লক্ষ্যের সঙ্গে তোমাদের মজুতের অনৈক্য লক্ষ্য কর। দেখ, পরোয়ানার লক্ষ্যের সঙ্গে তার অভিমানের লক্ষ্যের মিল আছে। মানব জাতিকে তার স্বাভাবিক সুযােগ সুবিধা হতে বঞ্চিত করে তার অগ্রগতিকে প্রতিহত করতে চেষ্টা করায় তোমরা সার্বজনীন প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দুনীতি-পরায়ণ । তোমাদের উন্নতির জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার অতিরিক্ত মিটিয়ে তোমাদের করায়ত্ব ঐ যে মজুত তা উদ্ধার করার চেষ্টা থাকায় তারা ন্যায়পরায়ণ এবং সার্বিক প্রয়োজনের দিক থেকে তাদের এই চেষ্টা সঙ্গতিপূর্ণ। তোমরা তাদেরকে প্রগতি থেকে সরিয়ে দিতে চাইছ এবং তারা চাইছে তোমাদেরকে প্রগতি থেকে না সরিয়ে দিয়ে নিজেদের উন্নতির জন্য নিজেদেরকে সাহায্য করতে। সার্বজনীন অভিশাপের পরোয়ানাগুলি সার্বিক প্রয়োজনের দিক থেকে নিজেদের লক্ষ্যে ঠিক থাকায় শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের সমর্থন পায়। সেই কারণে, ধর্মীয় নীতি অনুসারে, সার্বিক প্রয়ােজন পূরণে সময়ে সময়ে অল্প অল্প করে তোমাদের ঐ মজুত পরোয়ানার লক্ষ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে এবং ঐ মজুত তােমাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী (তােমাদের এই মজুত) বেঠিক এবং সার্বিক প্রয়ােজনের দিক থেকে সমস্তই অসঙ্গতিপূর্ণ। যদিও তাদের ক্ষণেকের সাফল্য আছে তথাপি পরিশেষে তারা ব্যর্থ হয়। তারা অপরকে শত্রু ভাবে। কিন্তু তারা তাদের বন্ধু যেহেতু তাদের লক্ষ্য নীতিপূর্ণ এবং সঙ্গতিপূর্ণ। যে সমস্ত লক্ষ্য ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী ঠিক এবং সার্বিক প্রয়ােজনের দিক থেকে সঙ্গতিপূর্ণ, যেগুলি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার সম্মুখীন হলেও উদ্দেশ্য সাধনে নিশ্চিত সমর্থ হয়, তা সে তাড়াতাড়িই হােক আর দেরীতেই হোক । যে সমস্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য সাধনে নীতিপরায়ণ তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকর বলে প্রমাণিত হবে। সেজন্য অভিশাপের পরোয়ানা (যে মানবজাতির মধ্য দিয়ে অভিশাপের পরােয়ানার আবির্ভাব হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, যে মানবজাতি পরোয়ানাকে রূপ দিয়েছে এবং এখন দিচ্ছে) হল তোমাদের বন্ধু, শত্রু নয় । সুতরাং তাদেরকে সেইমত ভাব এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কর । তোমাদের মনোভাব, আচরণ এবং স্বভাবে নিম্নমাত্রায় বন্ধুত্ব তাদের প্রগতিকে সুসাধ্য করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এতে তারা পূর্ণমাত্রায় সুখী হবে। কারণ, প্রেমিকের দ্বারা পরিচালিত হয়ে তারা নিঃস্বার্থপর হচ্ছে। এই বন্ধুত্ব, তোমাদের প্রগতির জন্য যে সুযােগ-সুবিধা তা থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত করবে না। সুতরাং তোমরা এবং তারা উভয়েই উন্নতি করতে পারবে । এবং একের উন্নতি অপরের উন্নতির পরিপূরক হবে। এইরূপে মানব তথা সমগ্র সত্তার সার্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে তােমাদের উভয়ের লক্ষ্য ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী ঠিক হবে । … [ক্রমশঃ]
মার্কন্ডেশ্বরের মন্দির থেকে বেরিয়ে স্বামীজি বেশ কিছুকাল এখানে ওখানে ঘুরে তিনি সোজা চলে যান উত্তর ভারতের ঋষিকেশে। ঋষিকেশে উনি প্রায় 6 মাসকাল ছিলেন । ঋষিকেশ শহরটি গঙ্গার তীরে অবস্থিত । দীর্ঘকাল ধরে এই শহরের অভ্যন্তরে এবং গঙ্গার তীরবর্তী অঞ্চলে বহু উন্নত সাধুরা বসবাস করেন ।এই সব অঞ্চলে বহু অজ্ঞাত অথচ উন্নত সাধু লোকচক্ষুর অন্তরালে থেকে সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন। তাঁরাও এসব স্থানে অবস্থান করেন। তাছাড়া বিখ্যাত তীর্থস্থান হওয়ায়, ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা এই স্থান দর্শন করতে আসেন । স্বামী বাউলানন্দজীও এইসব কারনেই এই স্থানটির প্রতি এতোটা আকৃষ্ট হয়েছিলেন।
ঋষিকেশে থাকাকালীন সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশের একজন ব্যক্তি তার নাম শাস্ত্রীজী ওই সময় স্বামীজীর সাথে থাকতেন। তিনি স্বামীজীকে খুব শ্রদ্ধা করতেন এবং আন্তরিক ভাবে তাঁর সেবা করতেন। এই সময় যে কোনো কারণেই হোক __স্বামীজির কাছে দৈনন্দিন খরচ মেটাবার মত যথেষ্ট অর্থ ছিল! ফলে তাঁরা দুজনে থাকার জন্য ধর্মশালায় একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকতেন। সেখানে প্রার্থনা এবং তপশ্চর্যার মধ্য দিয়ে তারা বেশ সুখেই দিন কাটাচ্ছিলেন । এরমধ্যে শাস্ত্রীজী একদিন স্বামীজিকে জানালেন যে, টাকা পয়সা সব ফুরিয়ে গেছে! এরপর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা কি করে হবে?
স্বামীজির কাছে কিছু ডাকটিকিট ছিল তিনি সেগুলি বিক্রি করে পয়সা জোগাড় করতে বললেন। এর ফলে তাঁদের আরও বেশ কয়েকদিন সেখানে থাকার ব্যবস্থা হোল । সেই অর্থও শেষ হয়ে গেলে স্বামীজী এবং তার সঙ্গী শাস্ত্রীজী_ হৃষিকেশে সাধুদের খাবারের জন্য যেখানে চিরকুট দেওয়া হয়, সেই লাইনে দাঁড়িয়ে গেলেন। ধর্মশালার মহান্ত এক জায়গায় বসে চিরকুটগুলি বিলি করছিলেন । যখন স্বামীজি লাইন বরাবর আগাতে আগাতে তাঁর নিকটে এলেন_ তখন সেই মহান্ত স্বামীর মুখের দিকে তাকিয়ে অবাক হলেন এবং শেষে স্বামীজীকে পাশে দাঁড়াতে বলে অবশিষ্ট টিকিট তিনি বাকি সাধুদের বিতরণ করলেন।সকলকে চিরকুট দেওয়া হয়ে গেলে সেই মহান্ত স্বামীজীকে বললেন _”আপনি স্বয়ং লক্ষ্মী-পুত্র হয়ে লাইনে দাড়িয়েছেন কেন?এই স্থান আপনার জন্য নয়””! __এই বলে তিনি স্বামীজীকে তার নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে ভোজন করালেন এবং শেষে ভোজন-দক্ষিণা হিসাবে কিছু অর্থ দান হিসাবে দিয়েছিলেন।।
এরপর থেকে স্বামীজীর চিন্তা করলেন যে তাঁর লাইনে দাঁড়ানো ঠিক হচ্ছেনা ! তখন থেকে তাঁরা দুজনই যুক্তি করে একটি মতলব খুঁজে বের করলেন । শাস্ত্রীজী প্রতিদিন গঙ্গা স্নান করতে যেতেন। এইস্থানের গঙ্গার তীরে প্রচুর শিবলিঙ্গ রয়েছে । তীর্থযাত্রীরা এগুলি স্থাপন করেছেন বটে কিন্তু নিত্য পূজার কোন ব্যবস্থা নাই ! অন্য যাত্রীরা এই স্থান পরিদর্শনে এলে গঙ্গা জল দিয়ে এইসব শিবলিঙ্গ গুলিকে অভিষেক করেন, ফুল দিয়ে অর্চনা করেন, এবং মুদ্রা দক্ষিণা দেয়। সুতরাং প্রতিটি শিবলিঙ্গের নিচে প্রতিদিন কিছু মুদ্রা পড়ে থাকতোই! শাস্ত্রীজী প্রতিদিন গঙ্গাস্নানে গিয়ে তিনটি মুদ্রা প্রতিদিনই নিয়ে আসতেন। সেই মুদ্রায় minimum যেটুকু খাদ্য পাওয়া যেতো_ তাই খেয়ে তাঁরা দুজনে দিন কাটতে লাগলেন। সাধারণতঃ তাদের খাদ্য ছিল দুপয়সার চা-গুঁড়ো এবং এক পয়সার গুড়। সারাদিনে তারা দুজনে কয়েকবার চা খেয়ে দিনের পর দিন কাটাতে শুরু করলেন। কিন্তু এতে তাদের সাধন-ভজনের কোনো ব্যাঘাত ঘটতো না এবং এইসময় তাঁরা সুস্থ শরীরে আনন্দের সঙ্গে দিন কাটাচ্ছিলেন।
প্রকৃতপক্ষে এই সময়ে তারা দুজনেই ঈশ্বরের উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে দিন কাটাতেন_তাই কখনোই কোনো অসুবিধা দেখা দেয় নি!
বেশ কয়েক মাস ওখানে থাকার পরে কোন এক স্থান থেকে কিছু টাকা-পয়সা স্বামীজীর হাতে এসে গেল। তখন তিনি হৃষিকেশ ছেড়ে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্য অঞ্চলের দিকে যাবার জন্য হাঁটা লাগালেন।।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
… পৃথিবীর নির্দিষ্ট স্থানের শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের মজুতদারগণ ! তোমাদের এটা অবশ্যই বুঝতে হবে যে এই মজুত করার মধ্যে অভিমান রয়েছে । পৃথিবীর অন্যান্য স্থানের মানুষকে বাদ দিয়ে নির্দিষ্ট স্থানের মানুষের জন্য এগুলি ব্যবহার করতে তোমরা উদ্দেশ্য প্রণােদিত । এগুলি সমগ্র মানব জাতির।
শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম মজুত করার মধ্যে অভিমান রয়েছে। যাদের এগুলি মজুত কম তাদেরকে এগুলি মজুত করার জন্য ঘৃণা, ঈর্ষা এবং দ্বেষ প্রবৃত্ত করছে। এই প্রবর্তক শক্তি পারমার্থিক নীতিতে রূপান্তরিত হয়ে মজুতের মধ্যে অভিমানরূপে বর্তমান । এইরূপে মজুতের অভিমান এবং সার্বজনীন অভিশাপের পরোয়ানার অভিমান অভেদ এবং একই শক্তি সম্পন্ন। এই কারণে অলঙ্ঘ্য এবং অনমনীয় শক্তিসম্পন্ন সার্বজনীন অভিশাপের পরােয়ানার অভিমান কারারুদ্ধ শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের অভিমানের পরিপূরক। পরােয়ানাগুলি বাইরে থেকে শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমকে কারাগার হতে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম করছে । মজুত বিষয়সমূহ ভিতর থেকে নিজেদেরকে কারাগার হতে মুক্ত করার জন্য সংগ্রাম চালাচ্ছে।
মজুতদারগণ! তোমরা চিন্তা কর – যে জ্ঞান, শক্তি এবং প্রেম তোমাদের মধ্যে বর্তমান তা দিয়ে তােমরা অভিশাপের পরােয়ানাগুলিকে পরাস্ত করতে পার এবং যে মানবজাতি হতে তাদের উৎপত্তি সেই মানবজাতির কাছে
তাদেরকে পাঠিয়ে দিতে পার। তদনুসারে, তােমরা নিজেদেরকে সমস্ত মজুত (শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের সঞ্চয়) দ্বারা নিজেদেরকে তৈরী করে আসছ । কিন্তু যে মজুত দ্বারা তােমরা পরােয়ানাকে পরাস্ত করতে চাইছ তা পরোয়ানার উদ্দেশ্য সাধনে প্রবৃত্ত হচ্ছে । তা দ্বারা পরােয়ানার লক্ষ্য সিদ্ধ হচ্ছে। যে ভিত্তিতে তোমরা ঐ তিনটিকে (জ্ঞান, শক্তি, প্রেম) মজুত করে এসেছ তা পরােয়ানার ভিত্তির সঙ্গে অভেদ। যে নীতিতে তােমরা ওগুলি মজুত করছ তা তোমাদের করায়ত্ত থেকে ঐ তিনটিকে মুক্ত করার জন্য পরােয়ানাগুলি যে নীতি অবলম্বন করছে তার সঙ্গে অভেদ। পরােয়ানাগুলিকে পরাস্ত করার জন্য যে নীতি তােমরা অবলম্বন করছ তা তোমাদের মজুতকে উদ্ধার করার জন্য পরোয়ানাগুলি যে নীতি গ্রহণ করছে তার সঙ্গে অভেদ।
সুতরাং, বিবেচক হও এবং তোমাদের মজুত এবং পরােয়ানার অভিমানের মধ্যে ঐক্য লক্ষ্য কর। তোমাদের এবং তােমাদের লক্ষ্যের সঙ্গে তোমাদের মজুতের অনৈক্য লক্ষ্য কর। দেখ, পরোয়ানার লক্ষ্যের সঙ্গে তার অভিমানের লক্ষ্যের মিল আছে। মানব জাতিকে তার স্বাভাবিক সুযােগ সুবিধা হতে বঞ্চিত করে তার অগ্রগতিকে প্রতিহত করতে চেষ্টা করায় তোমরা সার্বজনীন প্রয়োজনের ক্ষেত্রে দুনীতি-পরায়ণ । তোমাদের উন্নতির জন্য যতটুকু প্রয়োজন তার অতিরিক্ত মিটিয়ে তোমাদের করায়ত্ব ঐ যে মজুত তা উদ্ধার করার চেষ্টা থাকায় তারা ন্যায়পরায়ণ এবং সার্বিক প্রয়োজনের দিক থেকে তাদের এই চেষ্টা সঙ্গতিপূর্ণ। তোমরা তাদেরকে প্রগতি থেকে সরিয়ে দিতে চাইছ এবং তারা চাইছে তোমাদেরকে প্রগতি থেকে না সরিয়ে দিয়ে নিজেদের উন্নতির জন্য নিজেদেরকে সাহায্য করতে। সার্বজনীন অভিশাপের পরোয়ানাগুলি সার্বিক প্রয়োজনের দিক থেকে নিজেদের লক্ষ্যে ঠিক থাকায় শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেমের সমর্থন পায়। সেই কারণে, ধর্মীয় নীতি অনুসারে, সার্বিক প্রয়ােজন পূরণে সময়ে সময়ে অল্প অল্প করে তোমাদের ঐ মজুত পরোয়ানার লক্ষ্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হচ্ছে এবং ঐ মজুত তােমাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে।
ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী (তােমাদের এই মজুত) বেঠিক এবং সার্বিক প্রয়ােজনের দিক থেকে সমস্তই অসঙ্গতিপূর্ণ। যদিও তাদের ক্ষণেকের সাফল্য আছে তথাপি পরিশেষে তারা ব্যর্থ হয়। তারা অপরকে শত্রু ভাবে। কিন্তু তারা তাদের বন্ধু যেহেতু তাদের লক্ষ্য নীতিপূর্ণ এবং সঙ্গতিপূর্ণ। যে সমস্ত লক্ষ্য ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী ঠিক এবং সার্বিক প্রয়ােজনের দিক থেকে সঙ্গতিপূর্ণ, যেগুলি বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যর্থতার সম্মুখীন হলেও উদ্দেশ্য সাধনে নিশ্চিত সমর্থ হয়, তা সে তাড়াতাড়িই হােক আর দেরীতেই হোক । যে সমস্ত লক্ষ্য উদ্দেশ্য সাধনে নীতিপরায়ণ তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণকর বলে প্রমাণিত হবে। সেজন্য অভিশাপের পরোয়ানা (যে মানবজাতির মধ্য দিয়ে অভিশাপের পরােয়ানার আবির্ভাব হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে, যে মানবজাতি পরোয়ানাকে রূপ দিয়েছে এবং এখন দিচ্ছে) হল তোমাদের বন্ধু, শত্রু নয় । সুতরাং তাদেরকে সেইমত ভাব এবং তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কর । তোমাদের মনোভাব, আচরণ এবং স্বভাবে নিম্নমাত্রায় বন্ধুত্ব তাদের প্রগতিকে সুসাধ্য করার ক্ষেত্রে যথেষ্ট। এতে তারা পূর্ণমাত্রায় সুখী হবে। কারণ, প্রেমিকের দ্বারা পরিচালিত হয়ে তারা নিঃস্বার্থপর হচ্ছে। এই বন্ধুত্ব, তোমাদের প্রগতির জন্য যে সুযােগ-সুবিধা তা থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত করবে না। সুতরাং তোমরা এবং তারা উভয়েই উন্নতি করতে পারবে । এবং একের উন্নতি অপরের উন্নতির পরিপূরক হবে। এইরূপে মানব তথা সমগ্র সত্তার সার্বিক প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হয়ে তােমাদের উভয়ের লক্ষ্য ধর্মীয় নীতি অনুযায়ী ঠিক হবে । … [ক্রমশঃ]
