স্বামী বাউলানন্দজীর প্রথম জীবনের ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো।
ঋষিকেশ থেকে স্বামী বাউলানন্দজী, শাস্ত্রীজীকে নিয়ে দেরাদুনে এসে পৌঁছালেন। সেখানে তাঁরা এক ধর্মশালার একটা ঘরে ছিলেন। সেই ঘরের ঠিক পাশেই একটা লম্বা ঝাউ গাছ ছিল_যেটার ডালপালা ছাদটিতে চিতার মতো বিস্তৃত ছিল। বিকাল বেলায় এবং রাত্রের দিকে স্বামীজি ছাদে উঠে ওই গাছের ডালপালার নিচে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটিয়ে দিতেন। যে ঘরে ওনারা থাকতেন _সেই ঘরে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের একটা ফটো রাখা ছিল। ফটোটার সামনে সারা দিন রাত্রি প্রদীপ জ্বেলে রাখা হোতো। ফটোর দু’পাশে শয্যা পাতা ছিল যেখানে স্বামীজী এবং শাস্ত্রীজী বসে ধ্যান করতেন বা শয়ণ করতেন।
একদিন রাত্রে যথারীতি স্বামীজী ছাদে উঠে বসে আছেন_ এমন সময় তাঁর মনে হোল_ওনার কাছে শাশ্ত্রীজী থাকলে ভালো হয়! তাই তিনি ছাদে বসে বেশ জোরে জোরেই শাশ্ত্রীজীকে ডাকতে শুরু করলেন। এদিকে হয়েছে কি_ ঠিক সেই সময়েই ঘরের মধ্যে শাস্ত্রীজীর ভীষন ভয়ের সঞ্চার হয়েছিলো ! এমন ভয়_ যে তিনি নড়তে-চড়তেও পারছিলেন না। ঘটনাটা হয়েছিল কি _শাস্ত্রীজী সেই সময় দেখছিলেন যে, ওই ঘরের জল বেরোনোর জন্য যে একটা সরু নালী ছিল __সেই নালীর ভেতর দিয়ে একটা বড় আকারের ভয়ঙ্কর মূর্তি বেরিয়ে এল ! ঘরটির দেওয়াল তার গতিপথে কোনরূপ বাধা সৃষ্টি করল না! মূর্তিটি ধীরে ধীরে ভয়ংকর পদক্ষেপে শাস্ত্রীজীর দিকে এগিয়ে আসতে লাগলো। সেই মূর্তিটির অবয়ব মানুষের মতোই ছিল কিন্তু চোখগুলো ছিল লাল, আর গায়ের রং ছিল কুচকুচে কালো। এইসব কারণে সামগ্রিকভাবে মূর্তিটি খুবই ভয়ঙ্কর ছিল। শাস্ত্রীজী এই দৃশ্য সহ্য করতে পারছিলেন না। তিনি বুঝতে পারছিলেন যে যমরাজ তাঁকে আক্রমণ করতে এসেছে। তিনি _”স্বামীজী”, “স্বামীজী” বলে চিৎকার করতে চাইলেন কিন্তু ভয়ে তার কণ্ঠস্বর এত নিস্তেজ এবং ক্ষীণ হয়ে গিয়েছিল যে মুখ দিয়ে কোন আওয়াজ বেরোচ্ছিল না। মূর্তিটি ক্রমশ তাঁর দিকে এগিয়ে আসছিলো __হঠাৎ তার(ভয়ঙ্কর মূর্তি) নজরে পড়লো শ্রীরামকৃষ্ণদেবের ফটোটির উপর! সেই মূর্তিটি তা দেখে কয়েক সেকেন্ড থেমে গেল _ তারপর সে রামকৃষ্ণদেবের ফটোতে প্রণাম করে পিছিয়ে গিয়ে যে পথে সে এসেছিল_সেই পথেই ফিরে গেলো।
সেই ভয়ঙ্কর মূর্তি অদৃশ্য হতেই শাশ্ত্রীজী, স্বামীজীর কণ্ঠস্বর শুনতে পেলেন এবং মনে মনে সাহস সঞ্চার করে খুব দ্রুত বেগে দৌড়ে ছাদে স্বামীজীর নিকট চলে গেলেন‌। সেখানে গিয়ে স্বামীজীকে জড়িয়ে ধরলেন _স্বামীজি তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে তাঁকে অভয় দিলেন এবং কি ঘটেছে তা জানতে চাইলেন! শাশ্ত্রীজীর মুখে সব বর্ণনা শুনে স্বামীজি নিজে প্রত্যক্ষ করার জন্য নীচের ঘরে নেমে এলেন কিন্তু তখন সেখানে কিছুই ছিল না । এরপর স্বামীজী নানান কথা বলে শাশ্ত্রীজীর মন থেকে ভয় দূর করার জন্য চেষ্টা করতে লাগলেন।
কিন্তু ওই ভয়ঙ্কর ঘটনায় শাস্ত্রীজী এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, তার মন থেকে কিছুতেই ভয় দূর হচ্ছিল না। ফলে শাশ্ত্রীজীর শরীর খারাপ হয়ে গেল। তিনি বারবার পায়খানা যেতে শুরু করলেন এবং তার কলেরার মত রোগ দেখা দিলো।
স্বামীজি পরম যত্নে রোগীর সেবা করতে শুরু করলেন । পায়খানা যুক্ত কাপড় কাচা, রোগীকে মুক্ত করা ইত্যাদি সমস্ত কাজ নিজের হাতেই সম্পন্ন করতে লাগলেন।।(ক্রমশঃ)
*MESSAGE TO HUMANITY*
~ _Swami Baulananda_
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
… যদি তোমাদের মনােভাব, আচার-আচরণ এবং স্বভাবের দিক থেকে তোমরা সেই মানবজাতির সহিত সামান্যতম বন্ধুত্ব করতে না পারো এবং ঐ তিনটি মুক্ত করার জন্য পরোয়ানা গুলিকে বাধ্য করো, তাহলে তোমাদের বন্ধুত্ব ব্যতীতই তারা নিজেদের পথে সফল কাম হবে। এই সফলতার যে পদ্ধতি তা উভয়ের পক্ষে হবে নাশকতামূলক, অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং দুঃখজনক। ইহা ক্রমােন্নতির সুযােগ-সুবিধা থেকে তােমাদেরকে বঞ্চিত করবে। এই পরিস্থিতি যে সমস্ত স্থানে শক্তি, জ্ঞান এবং প্রেম অভিশাপের পরােয়ানা দ্বারা মুক্ত হয় সেই সমস্ত স্থানের মানবকে বাধ্য করবে অভিশাপের পরোয়ানার রূপদানকারীকে ঘৃণা, দ্বেষ এবং ঈর্ষাপরায়ণ দৃষ্টিতে দেখতে। কালক্রমে একই সূত্রে এই পরিস্থিতি পৃথিবীতে পুনরায় একই পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে ।
এই কারণে যদি স্বেচ্ছায় ঐ তিনটিকে (যা তোমাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত) মুক্ত করে অভিশাপের পরােয়ানা সৃষ্টিকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করার জন্য তোমাদের মনােভাব, আচার-আচরণের পরিবর্তন না করো, তাহলে জগতে বর্তমানের এই পরিস্থিতি চলতেই থাকবে এবং সর্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতিও চলতে থাকবে।
সুতরাং যে মানব তোমাদের বিরুদ্ধে সার্বজনীন অভিশাপের পরােয়ানা সৃষ্টি করেছে এবং এখনও করছে সেই মানব সম্বন্ধে পুনর্বিবেচনার একান্ত প্রয়োজন। সুতরাং অভিশাপের পরােয়ানাগুলির মধ্যে নিহিত অনমনীয় এবং অলঙ্ঘ্য শক্তি সম্বন্ধে যথার্থ বোধ থাকা তোমাদের একান্ত প্রয়োজন। তোমাদের পুনর্বিবেচিত যথার্থ বােধের প্রকাশের জন্য নিজেদেরকে মাধ্যম হিসাবে প্রকাশ কর এবং তা করবে অভিশাপের পরোয়ানা সৃষ্টিকারীর সঙ্গে আচার-ব্যবহারে তোমাদের মনােভাব এবং স্বভাবের পরিবর্তন করে এবং পৃথিবীতে সর্বব্যাপী ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির বিলােপ সাধনের জন্য অভিশাপের পরোয়ানা সৃষ্টিকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করে । এর দ্বারা যে পরিস্থিতি পৃথিবীতে পুনরায় অভিশাপের পরোয়ানা সৃষ্টি করতে সক্ষম তার অবলুপ্তি ঘটবে।
সুতরাং, কি ন্যায় এবং অন্যায় সে বিষয়ে মানুষ সচেতন হোক। সার্বজনীন প্রয়োজন সম্বন্ধে মানুষ সচেতন হােক। মানুষ নিজেদের মধ্যে মিত্রভাবাপন্ন হয়ে উঠুক। … [ক্রমশঃ]