গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ, বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনে একদিন নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং সেই সম্পর্কের বিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছিলেন ! আজকে সেই সম্বন্ধে কিছু আলোচনা হোক্ । গুরুমহারাজ বলেছিলেন – একটা সময় ছিল, যখন আদিম মানবসমাজ নারীতান্ত্রিক ছিল ৷ এক-একটা মানব গোষ্ঠীর মধ্যে একজন নারী-ই সমস্ত দলটিকে পরিচালনা করতো ! দলের নারীরাও অস্ত্র হাতে পুরুষের সাথেই শত্রুপক্ষের সঙ্গে লড়াই করতো – দলের বা গোষ্ঠীর মঙ্গলের জন্য দলের পুরুষেরা এবং নারীরা _অর্থাৎ সবাই চিন্তা করতো !
কিন্তু পুরুষের গায়ের শক্তি নারী অপেক্ষা অনেক বেশি হওয়ায় এবং নারীশরীরের কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় (বিশেষতঃ ঋতুকালীন এবং গর্ভকালীন সময়ে) পুরুষরা ধীরে ধীরে সমাজের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ! আর যেহেতু তখন (আদিম মানবসমাজে) যে দলে যত বেশি সুস্থ-সবল লোকের সংখ্যা – সেই দল ছিল ততো বেশি শক্তিশালী । তারা অন্য ছোট ছোট দলের উপর তত বেশি কর্তৃত্ব করতে পারতো । তাই শুরু হলো – লড়াইয়ের সময় অন্যান্য সম্পদের (গরু, ছাগল, ঘোড়া) সঙ্গে নারীদেরকেও লুট করা_কারণ যে দলে যত বেশি নারী, সেই দলে ততো বেশি সন্তান উৎপাদন হবে ! তখন থেকেই নারী লুট এবং জোর জবরদস্তি তাদেরকে দিয়ে গর্ভসঞ্চার করা এবং দলের লোকসংখ্যা বাড়ানোর ক্রিয়া শুরু হয়েছিল !
সেই আদিম মানুষের আদিম-চেতনার কার্যকারিতা এখনও সমাজে নিম্নচেতনার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যায় ! একদল সত্ত্বগুনী মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন কাটালেও কোনো নারীর ধর্ষিতা হবার কোন ভয় থাকে না! অথচ ঐ নারীই যদি দৈবাৎ তমোগুনীদের পাল্লায় একবার পরে যায়_তাহলে সে ধর্ষিতা তো হবেই_খুনও হয়ে যেতে পারে! এটাই উচ্চ চেতনাসম্পন্ন এবং নিম্ন চেতনাসম্পন্ন মানবের তফাৎ! তবে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তির সান্নিধ্যে এলে তামসিক, রাজসিক অথবা সত্ত্বগুনী _যে কোনো ব্যক্তির মন উর্দ্ধগামী থাকে!এটা গুরুজী (স্বামী পরমানন্দ) থাকাকালীন আমরা দিনের পর দিন প্রত্যক্ষ করেছি!
বন্যজীবন ছেড়ে বা আদিম মানবসমাজ থেকে একটু উন্নত জীবনে এসে__অর্থাৎ সামাজিক এবং পারিবারিক জীবন যাপন করতে শুরু হবার পর থেকেই_ মানুষের মধ্যে স্নেহ-প্রেম, মায়া-মোহ, দয়া-করুণা ইত্যাদি মানবিক গুণ-গুলির বিকাশ সাধন হতে লাগলো ৷ তখন দেখা গেলো_ একজন পুরুষের সবচাইতে ভালো সাথী,সখা, বন্ধু, একজন নারী _নারীই একজন পুরুষের সব চাইতে ভালো সঙ্গিনী! পুরুষের জীবনে নারী অপরিহার্য হয়ে ওঠার একটা অন্যতম কারণ হোল _ নারীর স্বভাবজ ‘সেবাধর্ম’! গুরু মহারাজ বলেছিলেন_nurse কথাটির বিপরীত লিঙ্গের কোনো শব্দ হয় না! এখন অবশ্য পুরুষ-nurse কথাটা চালু হচ্ছে কিন্তু একমাত্র নারী জাতিরই স্বভাবে ‘সেবা’ ব্যাপারটা রয়েছে! পুরুষকে ওটা করতে হোলে _হয় কর্তব্যের খাতিরে অথবা খানিকটা জোর কোরে করতে হয়’!
আবার নারীর ক্ষেত্রে এই চিত্রের ঠিক উল্টোটা হয়_অর্থাৎ নারীরাও সেই সময় থেকেই তাদের জীবনে কোনো না কোনো পুরুষের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করতে শুরু করেছিল ! এইভাবে সমাজ সৃষ্টির সাথে সাথেই নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলো।
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – সেমেটিক চিন্তায় প্রথম মানব আদমের বাম দিকের পাঁজর থেকে হাভা (ইভ)-র সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে unscientific মনে হলেও – এর মধ্যেও বিজ্ঞান রয়েছে ! যদিও বর্তমান জড়বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন – সৃষ্টিচক্রে যখন থেকে বির্বতনে মানব শরীর এসেছিল – তখন নারী-পুরুষ প্রায় একই সময়েই সৃষ্টি হয়েছিল । তবে যেহেতু পুরুষ শরীরে XY ক্রোমোজোম থাকে এবং নারী শরীরে থাকে XX ক্রোমোজোম; ফলে XYথেকে যে কোন প্রকারে XX ক্রোমোজোম বের করে – নারীশরীর বা XY ক্রোমোজোমযুক্ত পুরুষ শরীর তৈরী করা সম্ভব ৷ অর্থাৎ ‘ঋষি বাল্মিকী যে কুশ-কে সৃষ্টি করেছিলেন’_ বলে রামায়নে বর্ণিত রয়েছে, তাও যেমন সম্ভব_ তেমনি আদমের শরীর থেকে হাভা-র শরীর সৃষ্টিও সম্ভব !
তবে এই ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তের কথা গুরুমহারাজ বলেছিলেন,তা হোল – ‘আদিম মানব সমাজের প্রথম মানব-মানবী সৃষ্টি হয়েছিলো হিমালয় অঞ্চলে’ ! পৃথিবীর সমস্ত রকম সভ্যতার সূচনা হয়েছিল হিমালয় থেকেই !
যাইহোক, মানবসমাজ ধীরে ধীরে উন্নত হোতে থাকার সাথে সাথে তাদের বিভিন্ন sense-organ -এর ও বিবর্তন হোতে শুরু করল ৷ ফলে, তাদের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের পরিতৃপ্তির নিত্য নতুন উপায় খুঁজতে লাগলো_ তারা ! শুরু হোল বিভিন্ন রকমের গবেষণা । স্থূলজগতের উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন ভোগের উপকরণেরও আবিষ্কার বা আমদানি ঘটতে লাগলো মানব সমাজে ! পরস্পরের সাথী-সহযোগী, পরস্পরের পরিপূরক – এই অবস্থা থেকে কি করে যে সমাজ বিবর্তনে পুরুষশাসিত সমাজে নারী শুধুমাত্র ভোগের বস্তু হিসাবে কিছু মানুষের কাছে বিবেচিত হোতে শুরু করেছিলো – এটা সত্যিই অবাক করার মত ব্যাপার !
কিন্তু সভ্য মানুষ, উন্নত মানুষেরা এই ব্যাপারটায় নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চাইলো না – তারা শরীরের সারবস্তু শুক্রের নিম্নধারাকে ঊর্ধ্বধারায় প্রবাহিত করার সাধনায় ব্রতী হলো ৷ উন্নত অবস্থার মানুষেরা বুঝতে পারলো _”নাল্পে সুখম্ অস্তি..”! শুক্রক্ষয়ে ক্ষণিক আনন্দ _এই আনন্দকে কি করে দীর্ঘস্থায়ী বা চিরস্থায়ী করা যায়, সেই সাধনায় ব্রতী হোল তারা! (পরের দিন থেকে এই সাধনার কথা) … [ক্রমশঃ]
কিন্তু পুরুষের গায়ের শক্তি নারী অপেক্ষা অনেক বেশি হওয়ায় এবং নারীশরীরের কিছু বাধ্যবাধকতা থাকায় (বিশেষতঃ ঋতুকালীন এবং গর্ভকালীন সময়ে) পুরুষরা ধীরে ধীরে সমাজের কর্তৃত্ব নিজেদের হাতে নিয়ে নিল ! আর যেহেতু তখন (আদিম মানবসমাজে) যে দলে যত বেশি সুস্থ-সবল লোকের সংখ্যা – সেই দল ছিল ততো বেশি শক্তিশালী । তারা অন্য ছোট ছোট দলের উপর তত বেশি কর্তৃত্ব করতে পারতো । তাই শুরু হলো – লড়াইয়ের সময় অন্যান্য সম্পদের (গরু, ছাগল, ঘোড়া) সঙ্গে নারীদেরকেও লুট করা_কারণ যে দলে যত বেশি নারী, সেই দলে ততো বেশি সন্তান উৎপাদন হবে ! তখন থেকেই নারী লুট এবং জোর জবরদস্তি তাদেরকে দিয়ে গর্ভসঞ্চার করা এবং দলের লোকসংখ্যা বাড়ানোর ক্রিয়া শুরু হয়েছিল !
সেই আদিম মানুষের আদিম-চেতনার কার্যকারিতা এখনও সমাজে নিম্নচেতনার ব্যক্তিদের মধ্যে প্রত্যক্ষ করা যায় ! একদল সত্ত্বগুনী মানুষের মাঝে দীর্ঘদিন কাটালেও কোনো নারীর ধর্ষিতা হবার কোন ভয় থাকে না! অথচ ঐ নারীই যদি দৈবাৎ তমোগুনীদের পাল্লায় একবার পরে যায়_তাহলে সে ধর্ষিতা তো হবেই_খুনও হয়ে যেতে পারে! এটাই উচ্চ চেতনাসম্পন্ন এবং নিম্ন চেতনাসম্পন্ন মানবের তফাৎ! তবে কোনো আধ্যাত্মিক ব্যক্তির সান্নিধ্যে এলে তামসিক, রাজসিক অথবা সত্ত্বগুনী _যে কোনো ব্যক্তির মন উর্দ্ধগামী থাকে!এটা গুরুজী (স্বামী পরমানন্দ) থাকাকালীন আমরা দিনের পর দিন প্রত্যক্ষ করেছি!
বন্যজীবন ছেড়ে বা আদিম মানবসমাজ থেকে একটু উন্নত জীবনে এসে__অর্থাৎ সামাজিক এবং পারিবারিক জীবন যাপন করতে শুরু হবার পর থেকেই_ মানুষের মধ্যে স্নেহ-প্রেম, মায়া-মোহ, দয়া-করুণা ইত্যাদি মানবিক গুণ-গুলির বিকাশ সাধন হতে লাগলো ৷ তখন দেখা গেলো_ একজন পুরুষের সবচাইতে ভালো সাথী,সখা, বন্ধু, একজন নারী _নারীই একজন পুরুষের সব চাইতে ভালো সঙ্গিনী! পুরুষের জীবনে নারী অপরিহার্য হয়ে ওঠার একটা অন্যতম কারণ হোল _ নারীর স্বভাবজ ‘সেবাধর্ম’! গুরু মহারাজ বলেছিলেন_nurse কথাটির বিপরীত লিঙ্গের কোনো শব্দ হয় না! এখন অবশ্য পুরুষ-nurse কথাটা চালু হচ্ছে কিন্তু একমাত্র নারী জাতিরই স্বভাবে ‘সেবা’ ব্যাপারটা রয়েছে! পুরুষকে ওটা করতে হোলে _হয় কর্তব্যের খাতিরে অথবা খানিকটা জোর কোরে করতে হয়’!
আবার নারীর ক্ষেত্রে এই চিত্রের ঠিক উল্টোটা হয়_অর্থাৎ নারীরাও সেই সময় থেকেই তাদের জীবনে কোনো না কোনো পুরুষের প্রয়োজনীয়তার কথা অনুভব করতে শুরু করেছিল ! এইভাবে সমাজ সৃষ্টির সাথে সাথেই নারী ও পুরুষ পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠেছিলো।
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – সেমেটিক চিন্তায় প্রথম মানব আদমের বাম দিকের পাঁজর থেকে হাভা (ইভ)-র সৃষ্টি হওয়ার ব্যাপারটা আপাতদৃষ্টিতে unscientific মনে হলেও – এর মধ্যেও বিজ্ঞান রয়েছে ! যদিও বর্তমান জড়বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছিলেন – সৃষ্টিচক্রে যখন থেকে বির্বতনে মানব শরীর এসেছিল – তখন নারী-পুরুষ প্রায় একই সময়েই সৃষ্টি হয়েছিল । তবে যেহেতু পুরুষ শরীরে XY ক্রোমোজোম থাকে এবং নারী শরীরে থাকে XX ক্রোমোজোম; ফলে XYথেকে যে কোন প্রকারে XX ক্রোমোজোম বের করে – নারীশরীর বা XY ক্রোমোজোমযুক্ত পুরুষ শরীর তৈরী করা সম্ভব ৷ অর্থাৎ ‘ঋষি বাল্মিকী যে কুশ-কে সৃষ্টি করেছিলেন’_ বলে রামায়নে বর্ণিত রয়েছে, তাও যেমন সম্ভব_ তেমনি আদমের শরীর থেকে হাভা-র শরীর সৃষ্টিও সম্ভব !
তবে এই ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তের কথা গুরুমহারাজ বলেছিলেন,তা হোল – ‘আদিম মানব সমাজের প্রথম মানব-মানবী সৃষ্টি হয়েছিলো হিমালয় অঞ্চলে’ ! পৃথিবীর সমস্ত রকম সভ্যতার সূচনা হয়েছিল হিমালয় থেকেই !
যাইহোক, মানবসমাজ ধীরে ধীরে উন্নত হোতে থাকার সাথে সাথে তাদের বিভিন্ন sense-organ -এর ও বিবর্তন হোতে শুরু করল ৷ ফলে, তাদের বিভিন্ন ইন্দ্রিয়ের পরিতৃপ্তির নিত্য নতুন উপায় খুঁজতে লাগলো_ তারা ! শুরু হোল বিভিন্ন রকমের গবেষণা । স্থূলজগতের উন্নতির সাথে সাথে বিভিন্ন ভোগের উপকরণেরও আবিষ্কার বা আমদানি ঘটতে লাগলো মানব সমাজে ! পরস্পরের সাথী-সহযোগী, পরস্পরের পরিপূরক – এই অবস্থা থেকে কি করে যে সমাজ বিবর্তনে পুরুষশাসিত সমাজে নারী শুধুমাত্র ভোগের বস্তু হিসাবে কিছু মানুষের কাছে বিবেচিত হোতে শুরু করেছিলো – এটা সত্যিই অবাক করার মত ব্যাপার !
কিন্তু সভ্য মানুষ, উন্নত মানুষেরা এই ব্যাপারটায় নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চাইলো না – তারা শরীরের সারবস্তু শুক্রের নিম্নধারাকে ঊর্ধ্বধারায় প্রবাহিত করার সাধনায় ব্রতী হলো ৷ উন্নত অবস্থার মানুষেরা বুঝতে পারলো _”নাল্পে সুখম্ অস্তি..”! শুক্রক্ষয়ে ক্ষণিক আনন্দ _এই আনন্দকে কি করে দীর্ঘস্থায়ী বা চিরস্থায়ী করা যায়, সেই সাধনায় ব্রতী হোল তারা! (পরের দিন থেকে এই সাধনার কথা) … [ক্রমশঃ]
