স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। আগের দিন আমরা দেখেছিলাম যে, শিবমন্দিরে এক বৃদ্ধা জাদুকরীর দ্বারা বিষপ্রয়োগের পর আশ্চর্যজনকভাবে স্বামীজী সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন এবং তিনিই আবার ঐ মন্দিরে আগত আগন্তুকদের রক্ষা করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন।
পরের দিন সকালে কয়েকজন গ্রামবাসী রাতের ঘটনার বৃত্তান্ত শুনে মন্দিরের সামনে এসে হাজির হোলো। তারা সব বুঝতে পারল এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের নামও জানতে পারলো। কিন্তু যেহেতু ওই সংশ্লিষ্ট লোকগুলি ধনী এবং পরাক্রমশালী ছিল, সেহেতু গ্রামবাসীরা এদের বিরোধিতা করতে সাহস করলো না । কেউ কেউ ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর কথা বললো। স্বামীজীও এই কথাই ভাবছিলেন, আবার কেউ কেউ _’পুলিশের নিকট নালিশ করার দরকার নাই’ _ বলে স্বামীজীকে শান্ত করতে চাইলো । তারা বলল, “আপনার তো কোনো ক্ষতি হয় নাই! তাই আর কোনো নালিশ করতে হবে না।” কিন্তু স্বামীজী ভাবলেন, এই জাদুকরী বৃদ্ধাকে মন্দিরে থাকতে দেওয়া বিপদজনক ! তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করলেন যে অন্তত বৃদ্ধাকে বের করে দেওয়ার জন্য পুলিশ ডাকা উচিত! স্বামীজী নিজেই পুলিশকে দেওয়ার জন্য অভিযোগ পত্র লিখে দিলেন, কিন্তু কেউই সেই কাগজ নিয়ে থানায় যেতে রাজি হোলো না । কিছুক্ষণ পরে চক্রান্তে লিপ্ত ব্যক্তিগণ সহ গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা সেখানে এসে উপস্থিত হলো। গ্রামবাসীরা তাদেরকে ঘিরে ধরলো। অভিযোগ পত্র থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামীজী প্রবীণ ব্যক্তিদের অনুরোধ করলেন_কিন্তু তারা রাজি হলো না, বরঞ্চ তারা বৃদ্ধাকে পরামর্শ দিল _ যেন সেই বৃদ্ধা লোককে বলে যে, __”ভাগবতেরা মদ খেয়ে মন্দিরে এসেছিল এবং বমি করে সেখানটা তারা নোংরা করেছে!”
সমস্ত লোক এটা শুনে হেসে ফেললো। জনতার মধ্যে একজন যুবক ইতিপূর্বে স্বামীজীকে দেখেছিল, সে লাঠি নিয়ে এগিয়ে এলো এবং ওই লাঠি দিয়ে বৃদ্ধার মাথা ফাটিয়ে দিতে চাইলো।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে পাশের গ্রাম থেকে কেশরী সিং তার বন্ধু রেভিনিউ ইন্সপেক্টর কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁরা সমস্ত বৃত্তান্ত শুনলেন। রেভিনিউ ইন্সপেক্টর স্বামীজীর লেখা অভিযোগ পত্রটি থানায় পাঠিয়ে দিলেন ।কেশরী সিং স্বামীজীকে তার বাড়ি নিয়ে গেলেন। দুদিন পর কুনাভরম থেকে পুলিশ এল। তারা গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করলো এবং ওই মন্দিরের বৃদ্ধাকে দেখতে চাইলো। গ্রামবাসীরা তাদেরকে জানালো যে, ওই বৃদ্ধা একজন ডাইনি ! সে ইচ্ছামত যা খুশি করতে পারে ! সব শুনে পুলিশরাও তার সঙ্গে দেখা করতে ভয় পেলো! “পরিনামদর্শিতা শৌর্যের শ্রেষ্ঠতর অঙ্গ”__ চিন্তা করে তারা থানায় ফিরে এলো । কিন্তু লোকে বিষয়টিকে ওইখানেই থামতে দিলোনা। বহুলোক একত্রিত হয়ে মন্দিরে ঢুকে বৃদ্ধাকে গ্রামের বাইরে যাওয়ার জন্য জোর কোরলো। গ্রামের সীমানার বাইরে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হোল। যখন বৃদ্ধ দূরবর্তী গ্রাম “সিতামপেডা”য় পৌঁছালেন, তখন সেখানকার লোকও প্রতিবেশী গ্রামের নিকট আভাস পেয়ে_ সেখান থেকেও তাড়িয়ে দিলো! ফলে ঐ বৃদ্ধা রাজমন্দ্রির দিকে চলে গেলো এবং সেখান থেকে কোনো অজানা স্থানে চলে গেলো। স্বামীজি আমাদেরকে বলেছিলেন যে পরে নেলোর থেকে আগত ভাগবতেরা বছরে একবার পেরেন্টাপল্লী আশ্রম দর্শন করতে আসতো। যে দুজন বিষাক্ত জলপান করেছিল তারা আর তাদের কণ্ঠস্বর ফিরে পাই নাই সুতরাং তারা তাদের ব্যবসায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল।(ক্রমশঃ)
==============©=======
মহিলারা স্বামীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের কিছু আদেশ করবেন?” স্বামীজি বলতে লাগলেনঃ “ঈশ্বর সম্বন্ধে সব কথা আপনারা জানেন। যেটা দরকার সেটা হল আপনার যা জানেন তাকে কার্যে রূপ দেওয়া। আজ সকলেই একজন মা “অহং বৈশ্বানরাে ভূত্বা….” এই শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। এই শ্লোকটির অর্থ আপনাদের অবশ্যই জানতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই শ্লোকে বলছেন: “আমি বৈশ্বানর হয়ে প্রাণিগণের দেহমধ্যে প্রবেশ করে প্রাণ ও অপানসহ সংযুক্ত হয়ে চতুর্বিধ অন্ন পরিপাক করি ৷” অর্থাৎ সমস্ত জীবের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজ করছেন। তিনি হলেন শরীরের ভিতরের অগ্নি। খাদ্য অর্পণ করে এই অগ্নিকে তৃপ্ত করতে হয়। যদি বৈশ্বানরকে খাদ্যহুতি না দেওয়া হয় তাহলে মানু’ষর জীবন ক্লেশযুক্ত হয়। এবং যদি জগতে অনেক দুঃখী লোক থাকে তাহলে জগতও দুঃখময় হয়। যদিও কিছু লােক সুখী এবং ধনী তথাপি দুঃখ-কষ্ট সকলকে আচ্ছন্ন করে এবং তাদের সুখ সেই পরিমাণে মলিন হয়ে পড়বে। পৃথিবীর সমস্ত মানুষই একই আদি পিতামাতার সন্তানসন্ততি। সকলের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যই আদি পিতামাতার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য। পৃথিবীর দুজন লােকও যদি দুঃখ-কষ্ট পায় তাহলে তাঁরাও দুঃখ-কষ্ট ভােগ করেন। সুতরাং আপনারা যদি ঈশ্বরকে (অর্থাৎ আদি পিতামাতাকে) তুষ্ট করতে চান তাহলে আপনার জীবকে আহার দিন এবং তাদের ভিতর যে বৈশ্বানর আছেন তাঁকে তৃপ্ত করুন। যে সমস্ত মানুষ আহার্য চায় তারা সংখ্যায় খুব বেশী। আপনাদের ক্ষমতা খুবই কম। দু-একজনকে খাবার দিয়ে কি হবে? এই ধারণা পােষণ করবেন না। একেবারে কিছু না করার চেয়ে কিছু করা ভাল।
একটা ছোট্ট বিষয়ে আপনাদের বলছি। “প্রত্যেকদিন আপনারা ভাত রান্না করেন। আপনারা সাধারণতঃ ভাতের ফ্যান ফেলে দেন। অনেকের এই ফ্যান দরকার। সুতরাং আপনারা এটা যত্ন করে রেখে দেবেন এবং যারা চায় তাদেরকে দিয়ে দেবেন।
পূজা, জপ, তপ করে কি হবে? হৃদয়কে প্রসারিত করুন, আপনাদের মধ্যে মানবত্বের বিকাশ ঘটান। আপনাদের জানা দরকার যে পরমাত্মা আপনাদের মধ্যে আছেন, তিনি অন্য মানুষের মধ্যেও রয়েছেন। যে পরমাত্মা সকলের মধ্যে রয়েছেন তাঁকে পূজা করা উচিত। তাঁকে উপলব্ধি করে তাঁতে লীন হয়ে যান। ওটাই হল মোক্ষ। তিনিই চিরন্তন সত্য। সব পুস্তকই একই সত্য শিক্ষা দেয়। আমরা যে পূজা করি সেই পূজায় তিনি তুষ্ট হন না। তাঁকে ভাত কাপড় দিয়ে উপাসনা করতে হবে। তিনি আমাদের প্রেম ও ভালবাসা চান। মানুষের প্রেমই চুড়ান্ত জিনিস। মানুষকে যে সেবা আমরা করি সেটাই হল ঈশ্বরকে অর্ঘ্য প্রদান। দরিদ্রের বস্ত্র দান হল যজ্ঞােপবীত দান। দরিদ্রকে খাদ্য দান হল ঈশ্বরকে মহানিবেদন দেওয়া। দরিদ্রের দুঃখ কষ্ট মােচন হল ঈশ্বরকে চামর দিয়ে ব্যজন করা। এই সত্য আপনাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে।”
“মা! এই গ্রামের লােকেদের দেখুন। সামান্য রান্না ভাত খেতে পাওয়াই এদের কাছে উৎসব। যদিও সারাদিন কাজ করে তথাপি পর্যাপ্ত খাবার খেতে পায় না। অনেক মা শরীরের আবরণের জন্য বড় মাপের কাপড় পায় না। পুরুষরা কৌপীন পড়ে চলাফেরা করে। অজ্ঞ লােকেরা বলে–কৌপীন পড়াই এদের রীতি। এটা মােটেই সত্য নয়। এটা স্বার্থপর লােকদের বানানাে কথা। এই সমস্ত লোকেরা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা করে। লজ্জাশরম নাই বলে মনে হয় । আচ্ছাদনের কাপড় তাদের নাই। কাপড় কেনবার পয়সা নাই। দারিদ্রের চাপে পড়ে লজ্জা পালিয়েছে। বাড়ীতে বসে থাকলে তাদের আহার জোটেনা। জীবিকার জন্য বাইরে তাদের কাজ করতেই হয়।
আপনাদের বাড়ীতে পুরানাে ছেঁড়া কাপড় আছে। সেগুলাে আপনাদের আর দরকার নাই। ঐ ছেঁড়া কাপড়গুলো সেলাই করে শাড়ি বানাবেন। যদি আপনাদের সেলাই করার সময় না থাকে, তাহলে আমাদের এখানে নিয়ে আসবেন। আমরা ওগুলো সেলাই করে শাড়ি বানিয়ে এখানকার মায়েদের দেব। আমি বলতে চাই না যে শুধু আমাদের এখানেই গরীব লােক আছে। গরীব সর্বত্রই আছে। অন্যত্রও দিতে পারেন । আপনাদের সাহায্য এবং সেবা কোন না কোন গরীবের কাছে পৌঁছাবে।” … [ক্রমশঃ]
পরের দিন সকালে কয়েকজন গ্রামবাসী রাতের ঘটনার বৃত্তান্ত শুনে মন্দিরের সামনে এসে হাজির হোলো। তারা সব বুঝতে পারল এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ব্যক্তিদের নামও জানতে পারলো। কিন্তু যেহেতু ওই সংশ্লিষ্ট লোকগুলি ধনী এবং পরাক্রমশালী ছিল, সেহেতু গ্রামবাসীরা এদের বিরোধিতা করতে সাহস করলো না । কেউ কেউ ঘটনাটি পুলিশকে জানানোর কথা বললো। স্বামীজীও এই কথাই ভাবছিলেন, আবার কেউ কেউ _’পুলিশের নিকট নালিশ করার দরকার নাই’ _ বলে স্বামীজীকে শান্ত করতে চাইলো । তারা বলল, “আপনার তো কোনো ক্ষতি হয় নাই! তাই আর কোনো নালিশ করতে হবে না।” কিন্তু স্বামীজী ভাবলেন, এই জাদুকরী বৃদ্ধাকে মন্দিরে থাকতে দেওয়া বিপদজনক ! তিনি ইচ্ছা প্রকাশ করলেন যে অন্তত বৃদ্ধাকে বের করে দেওয়ার জন্য পুলিশ ডাকা উচিত! স্বামীজী নিজেই পুলিশকে দেওয়ার জন্য অভিযোগ পত্র লিখে দিলেন, কিন্তু কেউই সেই কাগজ নিয়ে থানায় যেতে রাজি হোলো না । কিছুক্ষণ পরে চক্রান্তে লিপ্ত ব্যক্তিগণ সহ গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তিরা সেখানে এসে উপস্থিত হলো। গ্রামবাসীরা তাদেরকে ঘিরে ধরলো। অভিযোগ পত্র থানায় নিয়ে যাওয়ার জন্য স্বামীজী প্রবীণ ব্যক্তিদের অনুরোধ করলেন_কিন্তু তারা রাজি হলো না, বরঞ্চ তারা বৃদ্ধাকে পরামর্শ দিল _ যেন সেই বৃদ্ধা লোককে বলে যে, __”ভাগবতেরা মদ খেয়ে মন্দিরে এসেছিল এবং বমি করে সেখানটা তারা নোংরা করেছে!”
সমস্ত লোক এটা শুনে হেসে ফেললো। জনতার মধ্যে একজন যুবক ইতিপূর্বে স্বামীজীকে দেখেছিল, সে লাঠি নিয়ে এগিয়ে এলো এবং ওই লাঠি দিয়ে বৃদ্ধার মাথা ফাটিয়ে দিতে চাইলো।
এদিকে এই ঘটনার খবর পেয়ে পাশের গ্রাম থেকে কেশরী সিং তার বন্ধু রেভিনিউ ইন্সপেক্টর কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন। তাঁরা সমস্ত বৃত্তান্ত শুনলেন। রেভিনিউ ইন্সপেক্টর স্বামীজীর লেখা অভিযোগ পত্রটি থানায় পাঠিয়ে দিলেন ।কেশরী সিং স্বামীজীকে তার বাড়ি নিয়ে গেলেন। দুদিন পর কুনাভরম থেকে পুলিশ এল। তারা গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে দেখা করলো এবং ওই মন্দিরের বৃদ্ধাকে দেখতে চাইলো। গ্রামবাসীরা তাদেরকে জানালো যে, ওই বৃদ্ধা একজন ডাইনি ! সে ইচ্ছামত যা খুশি করতে পারে ! সব শুনে পুলিশরাও তার সঙ্গে দেখা করতে ভয় পেলো! “পরিনামদর্শিতা শৌর্যের শ্রেষ্ঠতর অঙ্গ”__ চিন্তা করে তারা থানায় ফিরে এলো । কিন্তু লোকে বিষয়টিকে ওইখানেই থামতে দিলোনা। বহুলোক একত্রিত হয়ে মন্দিরে ঢুকে বৃদ্ধাকে গ্রামের বাইরে যাওয়ার জন্য জোর কোরলো। গ্রামের সীমানার বাইরে তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হোল। যখন বৃদ্ধ দূরবর্তী গ্রাম “সিতামপেডা”য় পৌঁছালেন, তখন সেখানকার লোকও প্রতিবেশী গ্রামের নিকট আভাস পেয়ে_ সেখান থেকেও তাড়িয়ে দিলো! ফলে ঐ বৃদ্ধা রাজমন্দ্রির দিকে চলে গেলো এবং সেখান থেকে কোনো অজানা স্থানে চলে গেলো। স্বামীজি আমাদেরকে বলেছিলেন যে পরে নেলোর থেকে আগত ভাগবতেরা বছরে একবার পেরেন্টাপল্লী আশ্রম দর্শন করতে আসতো। যে দুজন বিষাক্ত জলপান করেছিল তারা আর তাদের কণ্ঠস্বর ফিরে পাই নাই সুতরাং তারা তাদের ব্যবসায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল।(ক্রমশঃ)
==============©=======
মহিলারা স্বামীজীকে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমাদের কিছু আদেশ করবেন?” স্বামীজি বলতে লাগলেনঃ “ঈশ্বর সম্বন্ধে সব কথা আপনারা জানেন। যেটা দরকার সেটা হল আপনার যা জানেন তাকে কার্যে রূপ দেওয়া। আজ সকলেই একজন মা “অহং বৈশ্বানরাে ভূত্বা….” এই শ্লোকটি আবৃত্তি করলেন। এই শ্লোকটির অর্থ আপনাদের অবশ্যই জানতে হবে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই শ্লোকে বলছেন: “আমি বৈশ্বানর হয়ে প্রাণিগণের দেহমধ্যে প্রবেশ করে প্রাণ ও অপানসহ সংযুক্ত হয়ে চতুর্বিধ অন্ন পরিপাক করি ৷” অর্থাৎ সমস্ত জীবের মধ্যে শ্রীকৃষ্ণ বিরাজ করছেন। তিনি হলেন শরীরের ভিতরের অগ্নি। খাদ্য অর্পণ করে এই অগ্নিকে তৃপ্ত করতে হয়। যদি বৈশ্বানরকে খাদ্যহুতি না দেওয়া হয় তাহলে মানু’ষর জীবন ক্লেশযুক্ত হয়। এবং যদি জগতে অনেক দুঃখী লোক থাকে তাহলে জগতও দুঃখময় হয়। যদিও কিছু লােক সুখী এবং ধনী তথাপি দুঃখ-কষ্ট সকলকে আচ্ছন্ন করে এবং তাদের সুখ সেই পরিমাণে মলিন হয়ে পড়বে। পৃথিবীর সমস্ত মানুষই একই আদি পিতামাতার সন্তানসন্ততি। সকলের সুখ স্বাচ্ছন্দ্যই আদি পিতামাতার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য। পৃথিবীর দুজন লােকও যদি দুঃখ-কষ্ট পায় তাহলে তাঁরাও দুঃখ-কষ্ট ভােগ করেন। সুতরাং আপনারা যদি ঈশ্বরকে (অর্থাৎ আদি পিতামাতাকে) তুষ্ট করতে চান তাহলে আপনার জীবকে আহার দিন এবং তাদের ভিতর যে বৈশ্বানর আছেন তাঁকে তৃপ্ত করুন। যে সমস্ত মানুষ আহার্য চায় তারা সংখ্যায় খুব বেশী। আপনাদের ক্ষমতা খুবই কম। দু-একজনকে খাবার দিয়ে কি হবে? এই ধারণা পােষণ করবেন না। একেবারে কিছু না করার চেয়ে কিছু করা ভাল।
একটা ছোট্ট বিষয়ে আপনাদের বলছি। “প্রত্যেকদিন আপনারা ভাত রান্না করেন। আপনারা সাধারণতঃ ভাতের ফ্যান ফেলে দেন। অনেকের এই ফ্যান দরকার। সুতরাং আপনারা এটা যত্ন করে রেখে দেবেন এবং যারা চায় তাদেরকে দিয়ে দেবেন।
পূজা, জপ, তপ করে কি হবে? হৃদয়কে প্রসারিত করুন, আপনাদের মধ্যে মানবত্বের বিকাশ ঘটান। আপনাদের জানা দরকার যে পরমাত্মা আপনাদের মধ্যে আছেন, তিনি অন্য মানুষের মধ্যেও রয়েছেন। যে পরমাত্মা সকলের মধ্যে রয়েছেন তাঁকে পূজা করা উচিত। তাঁকে উপলব্ধি করে তাঁতে লীন হয়ে যান। ওটাই হল মোক্ষ। তিনিই চিরন্তন সত্য। সব পুস্তকই একই সত্য শিক্ষা দেয়। আমরা যে পূজা করি সেই পূজায় তিনি তুষ্ট হন না। তাঁকে ভাত কাপড় দিয়ে উপাসনা করতে হবে। তিনি আমাদের প্রেম ও ভালবাসা চান। মানুষের প্রেমই চুড়ান্ত জিনিস। মানুষকে যে সেবা আমরা করি সেটাই হল ঈশ্বরকে অর্ঘ্য প্রদান। দরিদ্রের বস্ত্র দান হল যজ্ঞােপবীত দান। দরিদ্রকে খাদ্য দান হল ঈশ্বরকে মহানিবেদন দেওয়া। দরিদ্রের দুঃখ কষ্ট মােচন হল ঈশ্বরকে চামর দিয়ে ব্যজন করা। এই সত্য আপনাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে।”
“মা! এই গ্রামের লােকেদের দেখুন। সামান্য রান্না ভাত খেতে পাওয়াই এদের কাছে উৎসব। যদিও সারাদিন কাজ করে তথাপি পর্যাপ্ত খাবার খেতে পায় না। অনেক মা শরীরের আবরণের জন্য বড় মাপের কাপড় পায় না। পুরুষরা কৌপীন পড়ে চলাফেরা করে। অজ্ঞ লােকেরা বলে–কৌপীন পড়াই এদের রীতি। এটা মােটেই সত্য নয়। এটা স্বার্থপর লােকদের বানানাে কথা। এই সমস্ত লোকেরা অর্ধ উলঙ্গ অবস্থায় চলাফেরা করে। লজ্জাশরম নাই বলে মনে হয় । আচ্ছাদনের কাপড় তাদের নাই। কাপড় কেনবার পয়সা নাই। দারিদ্রের চাপে পড়ে লজ্জা পালিয়েছে। বাড়ীতে বসে থাকলে তাদের আহার জোটেনা। জীবিকার জন্য বাইরে তাদের কাজ করতেই হয়।
আপনাদের বাড়ীতে পুরানাে ছেঁড়া কাপড় আছে। সেগুলাে আপনাদের আর দরকার নাই। ঐ ছেঁড়া কাপড়গুলো সেলাই করে শাড়ি বানাবেন। যদি আপনাদের সেলাই করার সময় না থাকে, তাহলে আমাদের এখানে নিয়ে আসবেন। আমরা ওগুলো সেলাই করে শাড়ি বানিয়ে এখানকার মায়েদের দেব। আমি বলতে চাই না যে শুধু আমাদের এখানেই গরীব লােক আছে। গরীব সর্বত্রই আছে। অন্যত্রও দিতে পারেন । আপনাদের সাহায্য এবং সেবা কোন না কোন গরীবের কাছে পৌঁছাবে।” … [ক্রমশঃ]
