গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে এই ক’দিন আলোচনা করা হচ্ছিলো, ফলে বেশ তাঁর (তাঁর শরীরটার) ধ্যান হয়ে যাচ্ছিলো, তাঁকে (তাঁর শরীরটার) স্মরণ-মনন হচ্ছিলো ৷ তাঁর মুখের হাসি, তাঁর অঙ্গভঙ্গিমা, তাঁর হাঁটা-চলা, তাঁর কথা বলা, কারুকে নিয়ে তাঁর বালকসুলভ খুনসুটি, কারুকে বকাঝকা করা – সব কথাই মনে পড়ে যাচ্ছিলো ! অর্থাৎ এক কথায় বলা যায় আমরা চিন্তার জগতে পৌঁছে যাচ্ছিলাম আবার ” *পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা* “-য় ।
আগের দিন বলা হচ্ছিলো – গুরুমহারাজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুসামঞ্জস্যে-র মধ্যেও একটু-আধটু খুঁতের কথা ! তখন ওনার সাথে যারা এই ব্যাপারে বিতর্ক করতো তাদের মুখেই আমরা শুনেছিলাম (অবশ্য আমাদের চোখে কখনোই এসব খুঁত ধরা পড়েনি) যে, শরীরের উচ্চতা বা অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় নাকি গুরুমহারাজের হাত দুটো একটু আকারে ছোট ছিল –যেটা নাকি ওদের চোখে অসামঞ্জস্য লাগতো ! আর গুরুমহারাজের চোখ-ও নাকি আর একটু আয়ত হলে ওদের আরো ভালো লাগতো ! গুরুমহারাজের height নিয়েও ওদের অনেক বক্তব্য ছিল !
কিন্তু গুরুমহারাজ এগুলির সবই কারণ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন । সমালোচনাকারীরা ওনার উত্তর শুনে আবেগে কেঁদেও ফেলতো – এসবই আমরা দেখতাম এবং সব ব্যাপারটারই মজা নিতাম ! আমাদের কাছে তখন গুরুমহারাজ ছিলেন একটা আদর্শ পুরুষ, আদর্শ মানব, আদর্শ মা, আদর্শ বাবা, আদর্শ গুরু ! ফলে আমাদের মতো সাধারণ ভক্তদের কাছে ওনার শরীরের কোনো খুঁত কোনোদিন চোখে তো পরেই নি বরং “রূপে রূপে অপরূপ”_ ঐ মানুষটির দিকে শুধু ‘হাঁ’ করে তাকিয়েই থাকতাম ! আর তাকিয়ে থাকতেই যেন বেশী ভালো লাগতো ৷ উনি যে ঝরঝর্ করে বেদ-বেদান্ত, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ভূগোলের কথা বলেই যেতেন – অনেক সময় সেসব কথা আমাদের কানেই ঢুকতো না, ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে এতটাই তন্ময় হয়ে যেতাম !
হয়তো এই কথাটা আগে বলেছি তবুও আরেকবার উল্লেখ করি, সেটা হলো – গুরুমহারাজ সাধারণ সুতির তৈরি গেরুয়া পাঞ্জাবি এবং গেরুয়া লুঙ্গি পড়তেন, কিন্তু ওনার গায়ে সেই জামা বা লুঙ্গি চাপলেই সেগুলি এত glazy এবং glossy হয়ে উঠতো যেন মনে হতো পৃথিবীর সবচাইতে দামী কোনো কাপড় দিয়ে ঐগুলি তৈরি এবং এইমাত্র নতুন কিনে আনা জিনিসটা উনি পড়ে আছেন ! অনেক সময় আমাদের আশ্রমের অন্য কোনো সন্ন্যাসী বা ব্রহ্মচারীদের (নিষ্কামানন্দ, চিৎ-বিলাসানন্দ, সহজনন্দ প্রমুখ) প্রয়োজনে উনি ওনার ব্যবহার করা জামা বা কাপড় (লুঙ্গি) দিয়ে দিতেন ! উনি দেবার just পরে পরেই তাঁরা(ঐ মহারাজরা) যখন ঐ কাপড়গুলি পড়তেন, তখন কিন্তু কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড় করতো, আর পাঁচটা গেরুয়া কাপড়ের মতোই লাগতো ! কোন বিশেষ বিশেষত্ব আছে বলে মনেই হোতো না !
এইটাও একটা কি আশ্চর্য ব্যাপার নয় ? দেবীবাবু (ন’কাকার বড় দাদা) একবার এইসব ব্যাপার উল্লেখ করে বলেছিলেন – “জানো শ্রীধর ! গুরুমহারাজ যেন ‘নব রে নব (নতুন), নিতুই (প্রতিদিনই) নব !’ এটা একদম খাঁটি সত্যি কথা !
যখন আশ্রমে থাকতাম তখন প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে একটু টিফিন সেরে যখন গিয়ে সিটিং-য়ে বসতাম, আর প্রতীক্ষা করতাম কখন গুরুমহারাজ ঘর থেকে বেরোবেন, – – – কখন ঘর থেকে বেরোবেন ! তারপর উনি বেরিয়ে আসতেন রাজার মতো বীরদর্পে, অথচ ধীর পদক্ষেপে হেঁটে এসে ওনার জন্য পেতে রাখা নির্দিষ্ট আসনটায় বসতেন ! আবার অনেক সময় এসেই আসনের উপর দাঁড়িয়ে পড়তেন যাতে সবাই ওনার রাতুল চরণদুটি স্পর্শ করে প্রণাম করতে পারে ! আর সবাই তাই কোরতো ! আমিও আমার মাথাখানি আলতো করে দুটি পায়ের উপর ঠেকিয়ে প্রণাম জানাতাম আর বলতাম, “হে প্রভু ! তোমার মহিমা তো কিছুই বুঝতে পারলাম না ! বোঝার দরকারও নাই ! এমনি করেই যেন জনমে জনমে চরণ স্পর্শ্য করার সুযোগটুকু দিও প্রভু !”[*পরের দিন থেকে আবার_*পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা*]
আগের দিন বলা হচ্ছিলো – গুরুমহারাজের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুসামঞ্জস্যে-র মধ্যেও একটু-আধটু খুঁতের কথা ! তখন ওনার সাথে যারা এই ব্যাপারে বিতর্ক করতো তাদের মুখেই আমরা শুনেছিলাম (অবশ্য আমাদের চোখে কখনোই এসব খুঁত ধরা পড়েনি) যে, শরীরের উচ্চতা বা অন্যান্য অঙ্গের তুলনায় নাকি গুরুমহারাজের হাত দুটো একটু আকারে ছোট ছিল –যেটা নাকি ওদের চোখে অসামঞ্জস্য লাগতো ! আর গুরুমহারাজের চোখ-ও নাকি আর একটু আয়ত হলে ওদের আরো ভালো লাগতো ! গুরুমহারাজের height নিয়েও ওদের অনেক বক্তব্য ছিল !
কিন্তু গুরুমহারাজ এগুলির সবই কারণ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন । সমালোচনাকারীরা ওনার উত্তর শুনে আবেগে কেঁদেও ফেলতো – এসবই আমরা দেখতাম এবং সব ব্যাপারটারই মজা নিতাম ! আমাদের কাছে তখন গুরুমহারাজ ছিলেন একটা আদর্শ পুরুষ, আদর্শ মানব, আদর্শ মা, আদর্শ বাবা, আদর্শ গুরু ! ফলে আমাদের মতো সাধারণ ভক্তদের কাছে ওনার শরীরের কোনো খুঁত কোনোদিন চোখে তো পরেই নি বরং “রূপে রূপে অপরূপ”_ ঐ মানুষটির দিকে শুধু ‘হাঁ’ করে তাকিয়েই থাকতাম ! আর তাকিয়ে থাকতেই যেন বেশী ভালো লাগতো ৷ উনি যে ঝরঝর্ করে বেদ-বেদান্ত, জ্ঞান-বিজ্ঞান, ইতিহাস-ভূগোলের কথা বলেই যেতেন – অনেক সময় সেসব কথা আমাদের কানেই ঢুকতো না, ওনার মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে এতটাই তন্ময় হয়ে যেতাম !
হয়তো এই কথাটা আগে বলেছি তবুও আরেকবার উল্লেখ করি, সেটা হলো – গুরুমহারাজ সাধারণ সুতির তৈরি গেরুয়া পাঞ্জাবি এবং গেরুয়া লুঙ্গি পড়তেন, কিন্তু ওনার গায়ে সেই জামা বা লুঙ্গি চাপলেই সেগুলি এত glazy এবং glossy হয়ে উঠতো যেন মনে হতো পৃথিবীর সবচাইতে দামী কোনো কাপড় দিয়ে ঐগুলি তৈরি এবং এইমাত্র নতুন কিনে আনা জিনিসটা উনি পড়ে আছেন ! অনেক সময় আমাদের আশ্রমের অন্য কোনো সন্ন্যাসী বা ব্রহ্মচারীদের (নিষ্কামানন্দ, চিৎ-বিলাসানন্দ, সহজনন্দ প্রমুখ) প্রয়োজনে উনি ওনার ব্যবহার করা জামা বা কাপড় (লুঙ্গি) দিয়ে দিতেন ! উনি দেবার just পরে পরেই তাঁরা(ঐ মহারাজরা) যখন ঐ কাপড়গুলি পড়তেন, তখন কিন্তু কেমন যেন ম্যাড়ম্যাড় করতো, আর পাঁচটা গেরুয়া কাপড়ের মতোই লাগতো ! কোন বিশেষ বিশেষত্ব আছে বলে মনেই হোতো না !
এইটাও একটা কি আশ্চর্য ব্যাপার নয় ? দেবীবাবু (ন’কাকার বড় দাদা) একবার এইসব ব্যাপার উল্লেখ করে বলেছিলেন – “জানো শ্রীধর ! গুরুমহারাজ যেন ‘নব রে নব (নতুন), নিতুই (প্রতিদিনই) নব !’ এটা একদম খাঁটি সত্যি কথা !
যখন আশ্রমে থাকতাম তখন প্রতিদিন সকালে স্নান সেরে একটু টিফিন সেরে যখন গিয়ে সিটিং-য়ে বসতাম, আর প্রতীক্ষা করতাম কখন গুরুমহারাজ ঘর থেকে বেরোবেন, – – – কখন ঘর থেকে বেরোবেন ! তারপর উনি বেরিয়ে আসতেন রাজার মতো বীরদর্পে, অথচ ধীর পদক্ষেপে হেঁটে এসে ওনার জন্য পেতে রাখা নির্দিষ্ট আসনটায় বসতেন ! আবার অনেক সময় এসেই আসনের উপর দাঁড়িয়ে পড়তেন যাতে সবাই ওনার রাতুল চরণদুটি স্পর্শ করে প্রণাম করতে পারে ! আর সবাই তাই কোরতো ! আমিও আমার মাথাখানি আলতো করে দুটি পায়ের উপর ঠেকিয়ে প্রণাম জানাতাম আর বলতাম, “হে প্রভু ! তোমার মহিমা তো কিছুই বুঝতে পারলাম না ! বোঝার দরকারও নাই ! এমনি করেই যেন জনমে জনমে চরণ স্পর্শ্য করার সুযোগটুকু দিও প্রভু !”[*পরের দিন থেকে আবার_*পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা*]
