স্বামী বাউলানন্দজীর ভ্রমণকালীন সময়ের ঘটনাসমূহ এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ স্বামীজীকে দর্শন দিয়ে গ্রামের মানুষদের কিভাবে উন্নত কোরতে হবে_সেই ব্যাপারে কিছু নির্দেশ দিচ্ছিলেন। ঠাকুর ধনী এবং দরিদ্রদের বিভেদের কারণ ও তার ফল নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বলছিলেন__” কতগুলি গ্রাম নিয়ে গঠিত হয় একটি সমাজ। প্রত্যেক গ্রাম যদি নিজের ভরণপোষণ চালানোর পর অন্য গ্রামকে তার ঘাটতি পূরণ করার জন্য সাহায্য করে_ তাহলে প্রতিটি সমাজ এবং প্রতিটি সমাজের বিভিন্ন জাতি, উপজাতিরা উন্নতি লাভ করতে পারবে । তুমি নিশ্চয়ই জানো, সমগ্র বিশ্বে__ সকল জীবেদের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য প্রকৃতি স্বয়ং উৎপন্ন করে। যে সমস্ত বড় বড় দেশে লোক সংখ্যা কম, সেই সমস্ত দেশ স্বার্থপরতার সঙ্গে খাদ্য সঞ্চয় কোরে__ অধিক লোকসংখ্যা যুক্ত অন্যান্য বড় দেশে খাবারের ঘাটতি সৃষ্টি করে। এর ফলে অধিক লোকসংখ্যা যুক্ত দেশ গুলি দুঃখ কষ্ট ভোগ করে।
বিশ্বের কোন এক অংশের দুঃখ কষ্ট, বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত স্থানে শান্তি এবং সাম্যাবস্থাকে বিপর্যস্ত করে । একটি জাতি কাঁদলে অন্য জাতি হাসতে পারে না ! যদিও হাসে, তাহলে তার ঐ হাসিটা অমানবোচিত বলে গণ্য হবে । পৃথিবীর দেশগুলির বিভিন্ন অংশে অমানুষিকতা ছড়িয়ে পড়লেই তা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এই দুঃখ হতে রেহাই পেতে হোলে প্রত্যেক জাতিকেই হোতে হবে মানবধর্মী, অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রী এবং পুরুষকে মানবধর্মী হোতে হবে এবং একে অপরের সাথে মানবোচিত ব্যবহার করতে হবে । আর এটা সম্ভব হবে তখনই হবে, যখন মানুষ জানবে অমানবীয় জীবের সঙ্গে কেমন ভাবে নিজেকে পৃথক রাখা উচিত এবং অবশ্যম্ভাবী শরীর ধারণের সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে কিভাবে সে তার সমস্ত প্রচেষ্টার দ্বারা অগ্রগতির দিকে যেতে পারে! মানুষের ঊর্ধ্বগতি না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে জনসংখ্যা কমানো সম্ভব নয়। সুতরাং প্রতিটি মানুষের উচিত বাল্য অবস্থা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা__ যাতে সে স্বার্থপর মানুষ না হয়ে ওঠে । কোন ধনী বা দরিদ্র ব্যক্তির যে কোন মানুষের পক্ষে বলা ঠিক নয় যে, সে কোনো জিনিসের মালিক! তার অবশ্যই জানা উচিত যে, সে অন্য সকলের তত্ত্বাবধায়ক এবং মে সকল জিনিসপত্র তার কাছে আছে__তা শুধু সকলের প্রগতির জন্য। এই ধরনের ধর্মীয় মনোভাব __সমাজ এবং তার অধিবাসীকে সমান এবং সার্বজনীন উন্নতিলাভে সাহায্য করতে পারে ।
অন্যান্য জিনিসের মত জ্ঞান কতিপয় লোকের একচেটিয়া বিষয় হওয়া উচিত নয় । প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে থাকা। মানুষের চরম লক্ষ্য হোলো ঈশ্বর উপলব্ধি করা। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্ম হোল এ বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া । যে ব্যক্তি ইতিমধ্যে এ জ্ঞান লাভ করেছে তার উচিত অন্য সকলকে সাহায্য করা _যাতে তারাও এই জ্ঞান লাভ করতে পারে । পার্থিব সমস্যায় _ধর্মীয় মনোভাব এলে প্রকৃত অগ্রগতি সুনিশ্চিত।
কাপড় প্রভৃতি প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরির জন্য প্রত্যেক গ্রামে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠা দরকার। যখন চাষের কাজ থাকবে না তখন গ্রামের মেয়ে পুরুষ প্রত্যেকের কর্মসংস্থান হবে এই সমস্ত শিল্পে । মেয়েরাও সংখ্যায় কম নয়__ জাতির পুনর্গঠনের কাজে তাদেরও শক্তি নিয়োগ করা উচিত । যে সমস্ত কাজ তাদের পক্ষে করা সম্ভব, সেগুলি তাদের করতে দেওয়া উচিত ।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমাদের পুরুষগুলাের কি চরিত্রই না ছিল ! যে কুলীন সে একটা দুটো নয়, একশ’ পঞ্চাশটা বিয়ে করতে পারতাে। শ্মশানযাত্রী বুড়ােটাও তরুণী কিংবা নাবালিকাকেও বিয়ে করে ফেলতো আর মেয়েটার বাপ বুক উঁচিয়ে ঐ বলিদানকে গৌরীদান বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করতাে। একটিবারও যদি কোন নারী একাকী বাইরে যেত তা হ’লে চিরকালের জন্য তাকে ঘর-ছাড়া হতে হােতাে আর তখন তার সামনে খােলা থাকতো শুধু দুটি পথ,–বেশ্যাগিরি অথবা আত্মহত্যা।
অস্পৃশ্যতার কি ভয়ানক ব্যাধিই না ছিল সমাজে। কোন জননীর সন্তান-হারা হৃদয়বিদীর্ণ-করা বিলাপ শুনে একজন জিজ্ঞেস করলো ‘কি হয়েছে? আহা, এমন করে কে কাঁদছে ?’ ‘দুলেদের একমাত্র ছেলেটা মারা গেছে’ অপর ব্যক্তি জানায়। ‘ও:, ঐ অচ্ছুত দুলেদের ছেলে ?’ বলেই সে চলে যাবার জন্য পা বাড়ায় । ‘যাই গিয়ে একটু প্রবােধ দিই’–একথা তার মনেই হয় না। আবার হয়তো শােনা গেল বাগ্দী পাড়ায় আগুন লেগেছে। যেহেতু ওরা বাগ্দী, যাবার তাগিদ এলো না।
হ্যাঁ, বলে বটে, আগের দিনে মানুষ দুধে ঘিয়ে সাঁতার কাটতো। হয়তো তেমনভাবে জীবন কাটতো, কোন কোন ভাগ্যবানের। কিন্তু বাবা, জনতার বিরাট অংশকে কাটাতে হােতে অর্ধাহারে বা অনাহারেই। এখন সেরকম নয়। শ্রমিক তার মজুরী পায় এবং শ্রমজীবি বলে তার হীনভাবও দেখা দেয় না। আগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কেউ সাহসই পেত না । টেনে নিয়ে তার চামড়া খুলে দিত। এখন প্রতিবাদ হয়। যদিও এ প্রতিবাদ আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না, দিন আসছে যখন শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিকার হতে থাকবে।
বাবা, অস্পৃশ্যতা ও জাতপাতের বিরুদ্ধে সজাগ হও। এগুলি যেন সমাজ-দেহে কুষ্ঠের মত। কুষ্ঠ হ’লে অঙ্গ খসে পড়ে শরীরটা ছোট হয়ে যায় । বিবেকানন্দের পর কতদিন পার হয়ে গেল কিন্তু আজও গেল না এই বিষম ব্যাধি। কি দুর্ভাগ্য!
জান, মাহমুদ যখন সােমনাথ মন্দির ধ্বংস করছিল তখন নিম্নশ্রেণীর হিন্দুরা উল্লসিত হােলো। কেন ?—পণ্ডিত আর পাণ্ডাদের কুক্ষিগত ঐ মন্দিরে আহা, ওরা ঢুকতেই পেত না !
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন– “চতুর্বর্ণং ময়া সৃষ্টং”–চারটি বর্ণ আমি বানিয়েছি। ব্রাহ্মণ সত্ত্বগুণী, তার উপর ন্যস্ত হয়েছিল শিক্ষা আর সংস্কৃতির দায়িত্ব। আজকের দিনের Minister for Education and Culture যা করেন তাই করতেন ব্রাহ্মণরা। ক্ষত্রিয় রজ:গুণী, শাসন ও সুরক্ষার ভার দেওয়া হোলো তাকে। বৈশ্যের রয়েছে রজঃ ও তমঃ গুণ, তাকে দেখতে বলা হোলাে বাণিজ্য আর অর্থ। শূদ্র তম:গুণী, তার থাকলো সেবা আর উৎপাদনের দায়িত্ব।
বাবা, এক বর্ণ থেকে অন্য বর্ণ, রক্ত মাংস শরীরে ভিন্ন নয়। তবে ভিন্নতা কোথায় ? –তা রয়েছে প্রবণতার মধ্যে প্রচ্ছন্ন। যে বলে, ‘জেনে রাখ, আমার রক্তে রয়েছে ব্রাহ্মণত্ব কিংবা রক্ত-বৈশিষ্ট্যে আমি ক্ষত্রিয়’ সে ভ্রান্ত। সত্যিই ভ্রান্ত যদি না হয়, তবে সে সহজাত স্বভাব বা প্রবণতা অনুসারে বড় হয়ে ওঠে। বললে কি হবে ? ক্ষত্রিয়ের পরিচয় রণভূমিতেই। আমরা তাকে দেখবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে। অন্য তিন বর্ণের বেলাতেও ঐ একই কথা।
তখন আমাদের রাজাদের এমন আলিশান চেহারা ছিল যে ঘােড়ায় চড়তেই পারতো না। তাই তো হাতির পিঠে চাপা শুরু হােলো। কেমন করে যুদ্ধ করতে হয় তাও জানতাে না; কিন্তু তাই বলে কোমরে তিন তিন খানা তলােয়ার ঝুলাতে ভুলতাে না। ইউরােপের লর্ডসরা কিন্তু এই অপদার্থ রাজাদের মত ছিল না। তাদের ছিল যথার্থ বীরের ন্যায় চাবুক চেহারা। (ক্রমশঃ)
বিশ্বের কোন এক অংশের দুঃখ কষ্ট, বিশ্বের অন্যান্য সমস্ত স্থানে শান্তি এবং সাম্যাবস্থাকে বিপর্যস্ত করে । একটি জাতি কাঁদলে অন্য জাতি হাসতে পারে না ! যদিও হাসে, তাহলে তার ঐ হাসিটা অমানবোচিত বলে গণ্য হবে । পৃথিবীর দেশগুলির বিভিন্ন অংশে অমানুষিকতা ছড়িয়ে পড়লেই তা দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এই দুঃখ হতে রেহাই পেতে হোলে প্রত্যেক জাতিকেই হোতে হবে মানবধর্মী, অর্থাৎ প্রত্যেক স্ত্রী এবং পুরুষকে মানবধর্মী হোতে হবে এবং একে অপরের সাথে মানবোচিত ব্যবহার করতে হবে । আর এটা সম্ভব হবে তখনই হবে, যখন মানুষ জানবে অমানবীয় জীবের সঙ্গে কেমন ভাবে নিজেকে পৃথক রাখা উচিত এবং অবশ্যম্ভাবী শরীর ধারণের সম্ভাবনাকে ছাড়িয়ে কিভাবে সে তার সমস্ত প্রচেষ্টার দ্বারা অগ্রগতির দিকে যেতে পারে! মানুষের ঊর্ধ্বগতি না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে জনসংখ্যা কমানো সম্ভব নয়। সুতরাং প্রতিটি মানুষের উচিত বাল্য অবস্থা থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করা__ যাতে সে স্বার্থপর মানুষ না হয়ে ওঠে । কোন ধনী বা দরিদ্র ব্যক্তির যে কোন মানুষের পক্ষে বলা ঠিক নয় যে, সে কোনো জিনিসের মালিক! তার অবশ্যই জানা উচিত যে, সে অন্য সকলের তত্ত্বাবধায়ক এবং মে সকল জিনিসপত্র তার কাছে আছে__তা শুধু সকলের প্রগতির জন্য। এই ধরনের ধর্মীয় মনোভাব __সমাজ এবং তার অধিবাসীকে সমান এবং সার্বজনীন উন্নতিলাভে সাহায্য করতে পারে ।
অন্যান্য জিনিসের মত জ্ঞান কতিপয় লোকের একচেটিয়া বিষয় হওয়া উচিত নয় । প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত কোনো ধর্ম সম্প্রদায়ের ঊর্ধ্বে থাকা। মানুষের চরম লক্ষ্য হোলো ঈশ্বর উপলব্ধি করা। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির ধর্ম হোল এ বিষয়ে সচেষ্ট হওয়া । যে ব্যক্তি ইতিমধ্যে এ জ্ঞান লাভ করেছে তার উচিত অন্য সকলকে সাহায্য করা _যাতে তারাও এই জ্ঞান লাভ করতে পারে । পার্থিব সমস্যায় _ধর্মীয় মনোভাব এলে প্রকৃত অগ্রগতি সুনিশ্চিত।
কাপড় প্রভৃতি প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরির জন্য প্রত্যেক গ্রামে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে ওঠা দরকার। যখন চাষের কাজ থাকবে না তখন গ্রামের মেয়ে পুরুষ প্রত্যেকের কর্মসংস্থান হবে এই সমস্ত শিল্পে । মেয়েরাও সংখ্যায় কম নয়__ জাতির পুনর্গঠনের কাজে তাদেরও শক্তি নিয়োগ করা উচিত । যে সমস্ত কাজ তাদের পক্ষে করা সম্ভব, সেগুলি তাদের করতে দেওয়া উচিত ।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমাদের পুরুষগুলাের কি চরিত্রই না ছিল ! যে কুলীন সে একটা দুটো নয়, একশ’ পঞ্চাশটা বিয়ে করতে পারতাে। শ্মশানযাত্রী বুড়ােটাও তরুণী কিংবা নাবালিকাকেও বিয়ে করে ফেলতো আর মেয়েটার বাপ বুক উঁচিয়ে ঐ বলিদানকে গৌরীদান বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করতাে। একটিবারও যদি কোন নারী একাকী বাইরে যেত তা হ’লে চিরকালের জন্য তাকে ঘর-ছাড়া হতে হােতাে আর তখন তার সামনে খােলা থাকতো শুধু দুটি পথ,–বেশ্যাগিরি অথবা আত্মহত্যা।
অস্পৃশ্যতার কি ভয়ানক ব্যাধিই না ছিল সমাজে। কোন জননীর সন্তান-হারা হৃদয়বিদীর্ণ-করা বিলাপ শুনে একজন জিজ্ঞেস করলো ‘কি হয়েছে? আহা, এমন করে কে কাঁদছে ?’ ‘দুলেদের একমাত্র ছেলেটা মারা গেছে’ অপর ব্যক্তি জানায়। ‘ও:, ঐ অচ্ছুত দুলেদের ছেলে ?’ বলেই সে চলে যাবার জন্য পা বাড়ায় । ‘যাই গিয়ে একটু প্রবােধ দিই’–একথা তার মনেই হয় না। আবার হয়তো শােনা গেল বাগ্দী পাড়ায় আগুন লেগেছে। যেহেতু ওরা বাগ্দী, যাবার তাগিদ এলো না।
হ্যাঁ, বলে বটে, আগের দিনে মানুষ দুধে ঘিয়ে সাঁতার কাটতো। হয়তো তেমনভাবে জীবন কাটতো, কোন কোন ভাগ্যবানের। কিন্তু বাবা, জনতার বিরাট অংশকে কাটাতে হােতে অর্ধাহারে বা অনাহারেই। এখন সেরকম নয়। শ্রমিক তার মজুরী পায় এবং শ্রমজীবি বলে তার হীনভাবও দেখা দেয় না। আগে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে কেউ সাহসই পেত না । টেনে নিয়ে তার চামড়া খুলে দিত। এখন প্রতিবাদ হয়। যদিও এ প্রতিবাদ আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না, দিন আসছে যখন শুধু প্রতিবাদ নয়, প্রতিকার হতে থাকবে।
বাবা, অস্পৃশ্যতা ও জাতপাতের বিরুদ্ধে সজাগ হও। এগুলি যেন সমাজ-দেহে কুষ্ঠের মত। কুষ্ঠ হ’লে অঙ্গ খসে পড়ে শরীরটা ছোট হয়ে যায় । বিবেকানন্দের পর কতদিন পার হয়ে গেল কিন্তু আজও গেল না এই বিষম ব্যাধি। কি দুর্ভাগ্য!
জান, মাহমুদ যখন সােমনাথ মন্দির ধ্বংস করছিল তখন নিম্নশ্রেণীর হিন্দুরা উল্লসিত হােলো। কেন ?—পণ্ডিত আর পাণ্ডাদের কুক্ষিগত ঐ মন্দিরে আহা, ওরা ঢুকতেই পেত না !
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন– “চতুর্বর্ণং ময়া সৃষ্টং”–চারটি বর্ণ আমি বানিয়েছি। ব্রাহ্মণ সত্ত্বগুণী, তার উপর ন্যস্ত হয়েছিল শিক্ষা আর সংস্কৃতির দায়িত্ব। আজকের দিনের Minister for Education and Culture যা করেন তাই করতেন ব্রাহ্মণরা। ক্ষত্রিয় রজ:গুণী, শাসন ও সুরক্ষার ভার দেওয়া হোলো তাকে। বৈশ্যের রয়েছে রজঃ ও তমঃ গুণ, তাকে দেখতে বলা হোলাে বাণিজ্য আর অর্থ। শূদ্র তম:গুণী, তার থাকলো সেবা আর উৎপাদনের দায়িত্ব।
বাবা, এক বর্ণ থেকে অন্য বর্ণ, রক্ত মাংস শরীরে ভিন্ন নয়। তবে ভিন্নতা কোথায় ? –তা রয়েছে প্রবণতার মধ্যে প্রচ্ছন্ন। যে বলে, ‘জেনে রাখ, আমার রক্তে রয়েছে ব্রাহ্মণত্ব কিংবা রক্ত-বৈশিষ্ট্যে আমি ক্ষত্রিয়’ সে ভ্রান্ত। সত্যিই ভ্রান্ত যদি না হয়, তবে সে সহজাত স্বভাব বা প্রবণতা অনুসারে বড় হয়ে ওঠে। বললে কি হবে ? ক্ষত্রিয়ের পরিচয় রণভূমিতেই। আমরা তাকে দেখবে যুদ্ধ ক্ষেত্রে। অন্য তিন বর্ণের বেলাতেও ঐ একই কথা।
তখন আমাদের রাজাদের এমন আলিশান চেহারা ছিল যে ঘােড়ায় চড়তেই পারতো না। তাই তো হাতির পিঠে চাপা শুরু হােলো। কেমন করে যুদ্ধ করতে হয় তাও জানতাে না; কিন্তু তাই বলে কোমরে তিন তিন খানা তলােয়ার ঝুলাতে ভুলতাে না। ইউরােপের লর্ডসরা কিন্তু এই অপদার্থ রাজাদের মত ছিল না। তাদের ছিল যথার্থ বীরের ন্যায় চাবুক চেহারা। (ক্রমশঃ)
