গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ সম্বন্ধে কিছু বলতে গেলে তাঁর পার্ষদ, সঙ্গী-সাথী, তাঁর বিভিন্ন সময়ের লীলা সহচরদের কথা চলেই আসে ! তাঁদের কথা না বললে ভগবানের লীলা বোঝানো যাবে কি করে ? সাধারনভাবে একজন মানুষের-ই কত রূপ – সে বাবা-মায়ের কাছে সন্তান, বন্ধুমহলে ইয়ারবন্ধু, স্ত্রীর কাছে স্বামী (অথবা উল্টোটা), সন্তানদের কাছে পিতা বা মাতা, বোনের কাছে ভাই বা বোন,… ইত্যাদি সম্পর্ক স্থাপন করতে হয় ! কিন্তু কোনো সম্পর্কটাই পারফেক্ট হয় না । অপরপক্ষে স্বয়ং ভগবান যখন লীলাশরীর ধারণ করে এই পৃথিবীতে আসেন – তখন তিনি তার জীবউদ্ধার বা জগৎকল্যাণের কাজ ছাড়াও শত-শত, সহস্র-সহস্র ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করেন ! আর এইটি করতে গিয়ে ঐ সহস্র-সহস্র ভক্ত মানুষের মনের মতন হয়ে তাদের সঙ্গে মেলামেশা করতে হয় এবং তাদের সকলের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে হয় । যার সঙ্গে যখন তিনি মেশেন বা লীলা করেন – তখন সেইসব সম্পর্কের মাধুর্য হয় একশভাগ perfect ! সাধারণ মানুষের সম্পর্ক স্থাপনের সাথে ভগবানের মেলামেশার এটাই একটা অন্যতম তফাৎ !
কিন্তু পার্ষদদের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময়েই নানারকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হোচ্ছে, কারণ একে তো গুরুমহারাজ স্থূল শরীর ছেড়ে দিয়েছেন আজ প্রায় কুড়ি বছর হয়েই গেল ! মানুষের স্মৃতিশক্তি প্রচণ্ড দুর্বল, আমার সাথেই সিটিং-এ বসে গুরুমহারাজের কাছে যারা তাঁর কথা শুনেছিল, কোনো লেখা যাচাই করতে গিয়ে, সেইসব ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসা করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক কোনো সদুত্তর পাই না ! এক-আধজন নয়,অনেককে জিজ্ঞাসা করেও সেইসব কথার সঠিক উত্তর পাই না ! তারা বলে – ” ঐ কথাটা ঠিক মনে নেই ! তবে মনে হয় ঐরকমই কিছু শুনেছিলাম !” মুশকিল এটাই শুধু নয় – সমস্যা আরো আছে, যার সম্বন্ধে বলা হচ্ছে সেই ব্যক্তি বা তার আত্মীয় স্বজনেরা __শুধু ওই ব্যক্তি সম্বন্ধে ভালো ভালো কথা শুনতে চায় – একটুও কোনো নেগেটিভ কথা শুনতে চায় না !
সমস্যা আরো আছে – গুরুমহারাজ অনেক সময় মজা করে তাঁর প্রিয় শিষ্য-ভক্তদের সঙ্গে, তখন ঘটে যাওয়া কোনো না কোনো ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন । হয়তো সেইগুলি আমার কাছে note করা রয়েছে – কিন্তু যে ব্যক্তি সম্বন্ধে কথাগুলো বলা হয়েছে, তার মনোজগতে তো গুরুমহারাজ সম্বন্ধে অন্যরকম মনোভাব, অন্যরকম শ্রদ্ধা ও সম্মানের স্থান রয়েছে ! ফলে সে (বা তার আত্মীয়-স্বজনেরা) ভাবে – “আমার সম্বন্ধে(বা আমার আত্নীয়ের সাথে) এমন কথা উনি বলতেই পারেন না !” এইরকম নানান সমস্যা হয় !
তাই কোনো ভক্ত, পার্ষদ, লীলাসহচরদের সম্বন্ধে কথা বলতে গেলে এখন খুবই সমস্যায় পড়তে হোচ্ছে ! তবুও জোর করে করে বলছি – যা হয় হবে, না হয় অনেকের গালাগালি খেতে হবে, হয়তো অনেকেই সম্পর্ক ত্যাগ করবে – তা হোক, তবু বলার চেষ্টা কোরবো !
তবে এখন কয়েকটা এপিসোড অন্য প্রসঙ্গ ! গুরুমহারাজ পুরাণাদি শাস্ত্রের বিভিন্ন ঘটনাকে কত আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করতেন – সেইসব নিয়ে আলোচনা চলবে । এইগুলি শেষ হোলে আবার “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”-য় বিভিন্ন ভক্তদের কথা, গুরুমহারাজের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আশ্রমের কথা –এইসব চলবে ! প্রসঙ্গত: একটা কথা উল্লেখ করা যাক – যে, কদিন আগে ফোনে ‘শ্রুতি’- লেখক রমেনবাবু (রমেন চক্রবর্তী) জানালেন, উনি গুরুমহারাজের বিভিন্ন ভক্তদেরকে নিয়ে কিছু কিছু লিখছেন ! তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যেমন,__ গুরুমহারাজের কথায় তিনটি মা অর্থাৎ গর্ভধারিণী জননী নিভাননী দেবী, রায়নার জগাদার মা, চক্ষণজাদীর টগরদার মা – সম্বন্ধে কিছু কথা ! তাছাড়া হয়তো কিছু মহারাজ (যেমন তপেশ্বরানন্দ মহারাজ, শংকরানন্দ মহারাজ, দেবেন্দ্রনাথ বা বিশুদ্ধানন্দ,মিহির মহারাজ প্রমুখ) সম্বন্ধে !
আমরা আসি গুরুমহারাজের বলা মহাকাব্যে এবং পুরাণে উল্লিখিত ঘটনাসমূহের ব্যাখ্যার কথায় ! প্রথমেই বলি – যে কথাটা গুরুমহারাজ প্রায়ই বলতেন যে, বৈজ্ঞানিক-সামাজিক ইত্যাদি বিভিন্ন তত্ত্বগুলিকে গল্পের আকারে রূপকাকারে প্রকাশ করার এক অসাধারণ মুন্সিয়ানা রয়েছে পুরাণাদি শাস্ত্রে ! এই যে style এটি অনন্য এবং ঋষিস্থিতি বা বোধিপ্রাপ্ত, সিদ্ধ ব্যক্তিগণ ছাড়া এইভাবে রূপদান করা সম্ভব হয় না !
যাইহোক, আমরা একে একে এই ধরনের এক-একটা গল্প এবং তার ব্যাখ্যায় আসব ।
পুরাণে বর্ণিত কশ্যপ মুনির আট-টি স্ত্রী এবং তাদের প্রত্যেকের পুত্র-কন্যারা যে মেরুদন্ডী প্রাণীদের এক-একটি প্রজাতি – তা আগে একদিন উল্লেখ করা হয়েছিল । তবু একটু মনে পাড়িয়ে দেবার জন্য বলি – কশ্যপের স্ত্রীদের মধ্যে ‘কদ্রু’-র সন্তানেরা ছিল সরীসৃপ, ‘বিনতা’-র সন্তানেরা ছিল পক্ষী (গরুড় ইত্যাদি) ! এখনকার জীববিজ্ঞানীরাও মেরুদন্ডী প্রাণীদের আট-টি ভাগেই ভাগ করেছে । হয়তো বিভাগের ভিন্নতা রয়েছে, কিন্তু আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে ঋষিদের করে যাওয়া এই বিভাজন-ই আধুনিক বিজ্ঞানীদের মেরুদন্ডী প্রাণীদের বিভাজনে পথ দেখিয়েছে – এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই !
এইবার আসি পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের গল্পে । সেখানে রয়েছে যে, সমুদ্র থেকে অমৃতকুম্ভ তুলে অমর হবার মানসিকতায় দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে একটা সমঝোতা হয় এবং তারা মন্দার পর্বতকে মন্থনদন্ড এবং বাসুকি নাগকে মন্থনের জন্য দড়ি-রূপে ব্যবহার করে সমুদ্রমন্থন করেছিল । মন্থনের ফলে একে একে উঠে এসেছিল উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব, ঐরাবত হস্তী, বহুমূল্য মণি, লক্ষীদেবী স্বয়ং এবং আরও অনেক কিছু । শেষে উঠেছিল অমৃতকুম্ভ এবং এই কুম্ভের দখল নিয়ে শুরু হয়েছিল দেবাসুরে সংগ্রাম । আর এই সঙ্গে সঙ্গেই বাসুকি নাগের মুখনিসৃত ‘হলাহল’-এ দেবাসুরের সাথে সাথেও মর্ত্যবাসীরও প্রাণান্তকর অবস্থা ! শেষে স্বয়ং মহাদেবকে আসতে হয়েছিল সেই তীব্র কালকূট বিষ ‘হলাহল’ পান করে নীলকন্ঠ হয়ে ওঠার জন্য ! এই সেই মহাদেব – যিনি অমৃতের প্রত্যাশী নন, কিন্তু সকলের কল্যাণের নিমিত্তে ‘হলাহল’ নিজের শরীরে গ্রহণ করে সকলকে স্বস্তি ও শান্তি এনে দেন ।
এবার এই পৌরাণিক গল্পের ব্যাখ্যা যেটা গুরুমহারাজ বলেছিলেন, সেটার কথায় আসবো । কিন্তু সেটা এই এপিসোডে নয় – পরের এপিসোডে বলা হবে ৷ (ক্রমশঃ)
কিন্তু পার্ষদদের কথা বলতে গিয়ে অনেক সময়েই নানারকম অসুবিধার সম্মুখীন হতে হোচ্ছে, কারণ একে তো গুরুমহারাজ স্থূল শরীর ছেড়ে দিয়েছেন আজ প্রায় কুড়ি বছর হয়েই গেল ! মানুষের স্মৃতিশক্তি প্রচণ্ড দুর্বল, আমার সাথেই সিটিং-এ বসে গুরুমহারাজের কাছে যারা তাঁর কথা শুনেছিল, কোনো লেখা যাচাই করতে গিয়ে, সেইসব ব্যক্তিদেরকে জিজ্ঞাসা করে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সঠিক কোনো সদুত্তর পাই না ! এক-আধজন নয়,অনেককে জিজ্ঞাসা করেও সেইসব কথার সঠিক উত্তর পাই না ! তারা বলে – ” ঐ কথাটা ঠিক মনে নেই ! তবে মনে হয় ঐরকমই কিছু শুনেছিলাম !” মুশকিল এটাই শুধু নয় – সমস্যা আরো আছে, যার সম্বন্ধে বলা হচ্ছে সেই ব্যক্তি বা তার আত্মীয় স্বজনেরা __শুধু ওই ব্যক্তি সম্বন্ধে ভালো ভালো কথা শুনতে চায় – একটুও কোনো নেগেটিভ কথা শুনতে চায় না !
সমস্যা আরো আছে – গুরুমহারাজ অনেক সময় মজা করে তাঁর প্রিয় শিষ্য-ভক্তদের সঙ্গে, তখন ঘটে যাওয়া কোনো না কোনো ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন । হয়তো সেইগুলি আমার কাছে note করা রয়েছে – কিন্তু যে ব্যক্তি সম্বন্ধে কথাগুলো বলা হয়েছে, তার মনোজগতে তো গুরুমহারাজ সম্বন্ধে অন্যরকম মনোভাব, অন্যরকম শ্রদ্ধা ও সম্মানের স্থান রয়েছে ! ফলে সে (বা তার আত্মীয়-স্বজনেরা) ভাবে – “আমার সম্বন্ধে(বা আমার আত্নীয়ের সাথে) এমন কথা উনি বলতেই পারেন না !” এইরকম নানান সমস্যা হয় !
তাই কোনো ভক্ত, পার্ষদ, লীলাসহচরদের সম্বন্ধে কথা বলতে গেলে এখন খুবই সমস্যায় পড়তে হোচ্ছে ! তবুও জোর করে করে বলছি – যা হয় হবে, না হয় অনেকের গালাগালি খেতে হবে, হয়তো অনেকেই সম্পর্ক ত্যাগ করবে – তা হোক, তবু বলার চেষ্টা কোরবো !
তবে এখন কয়েকটা এপিসোড অন্য প্রসঙ্গ ! গুরুমহারাজ পুরাণাদি শাস্ত্রের বিভিন্ন ঘটনাকে কত আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যাখ্যা করতেন – সেইসব নিয়ে আলোচনা চলবে । এইগুলি শেষ হোলে আবার “পুরোনো সেই বনগ্রামের কথা”-য় বিভিন্ন ভক্তদের কথা, গুরুমহারাজের প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন আশ্রমের কথা –এইসব চলবে ! প্রসঙ্গত: একটা কথা উল্লেখ করা যাক – যে, কদিন আগে ফোনে ‘শ্রুতি’- লেখক রমেনবাবু (রমেন চক্রবর্তী) জানালেন, উনি গুরুমহারাজের বিভিন্ন ভক্তদেরকে নিয়ে কিছু কিছু লিখছেন ! তাঁদের মধ্যে রয়েছেন যেমন,__ গুরুমহারাজের কথায় তিনটি মা অর্থাৎ গর্ভধারিণী জননী নিভাননী দেবী, রায়নার জগাদার মা, চক্ষণজাদীর টগরদার মা – সম্বন্ধে কিছু কথা ! তাছাড়া হয়তো কিছু মহারাজ (যেমন তপেশ্বরানন্দ মহারাজ, শংকরানন্দ মহারাজ, দেবেন্দ্রনাথ বা বিশুদ্ধানন্দ,মিহির মহারাজ প্রমুখ) সম্বন্ধে !
আমরা আসি গুরুমহারাজের বলা মহাকাব্যে এবং পুরাণে উল্লিখিত ঘটনাসমূহের ব্যাখ্যার কথায় ! প্রথমেই বলি – যে কথাটা গুরুমহারাজ প্রায়ই বলতেন যে, বৈজ্ঞানিক-সামাজিক ইত্যাদি বিভিন্ন তত্ত্বগুলিকে গল্পের আকারে রূপকাকারে প্রকাশ করার এক অসাধারণ মুন্সিয়ানা রয়েছে পুরাণাদি শাস্ত্রে ! এই যে style এটি অনন্য এবং ঋষিস্থিতি বা বোধিপ্রাপ্ত, সিদ্ধ ব্যক্তিগণ ছাড়া এইভাবে রূপদান করা সম্ভব হয় না !
যাইহোক, আমরা একে একে এই ধরনের এক-একটা গল্প এবং তার ব্যাখ্যায় আসব ।
পুরাণে বর্ণিত কশ্যপ মুনির আট-টি স্ত্রী এবং তাদের প্রত্যেকের পুত্র-কন্যারা যে মেরুদন্ডী প্রাণীদের এক-একটি প্রজাতি – তা আগে একদিন উল্লেখ করা হয়েছিল । তবু একটু মনে পাড়িয়ে দেবার জন্য বলি – কশ্যপের স্ত্রীদের মধ্যে ‘কদ্রু’-র সন্তানেরা ছিল সরীসৃপ, ‘বিনতা’-র সন্তানেরা ছিল পক্ষী (গরুড় ইত্যাদি) ! এখনকার জীববিজ্ঞানীরাও মেরুদন্ডী প্রাণীদের আট-টি ভাগেই ভাগ করেছে । হয়তো বিভাগের ভিন্নতা রয়েছে, কিন্তু আজ থেকে হাজার হাজার বছর আগে ঋষিদের করে যাওয়া এই বিভাজন-ই আধুনিক বিজ্ঞানীদের মেরুদন্ডী প্রাণীদের বিভাজনে পথ দেখিয়েছে – এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই !
এইবার আসি পৌরাণিক সমুদ্রমন্থনের গল্পে । সেখানে রয়েছে যে, সমুদ্র থেকে অমৃতকুম্ভ তুলে অমর হবার মানসিকতায় দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে একটা সমঝোতা হয় এবং তারা মন্দার পর্বতকে মন্থনদন্ড এবং বাসুকি নাগকে মন্থনের জন্য দড়ি-রূপে ব্যবহার করে সমুদ্রমন্থন করেছিল । মন্থনের ফলে একে একে উঠে এসেছিল উচ্চৈঃশ্রবা অশ্ব, ঐরাবত হস্তী, বহুমূল্য মণি, লক্ষীদেবী স্বয়ং এবং আরও অনেক কিছু । শেষে উঠেছিল অমৃতকুম্ভ এবং এই কুম্ভের দখল নিয়ে শুরু হয়েছিল দেবাসুরে সংগ্রাম । আর এই সঙ্গে সঙ্গেই বাসুকি নাগের মুখনিসৃত ‘হলাহল’-এ দেবাসুরের সাথে সাথেও মর্ত্যবাসীরও প্রাণান্তকর অবস্থা ! শেষে স্বয়ং মহাদেবকে আসতে হয়েছিল সেই তীব্র কালকূট বিষ ‘হলাহল’ পান করে নীলকন্ঠ হয়ে ওঠার জন্য ! এই সেই মহাদেব – যিনি অমৃতের প্রত্যাশী নন, কিন্তু সকলের কল্যাণের নিমিত্তে ‘হলাহল’ নিজের শরীরে গ্রহণ করে সকলকে স্বস্তি ও শান্তি এনে দেন ।
এবার এই পৌরাণিক গল্পের ব্যাখ্যা যেটা গুরুমহারাজ বলেছিলেন, সেটার কথায় আসবো । কিন্তু সেটা এই এপিসোডে নয় – পরের এপিসোডে বলা হবে ৷ (ক্রমশঃ)
