শ্রী শ্রী গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিভিন্ন সিটিং-এ পৌরাণিক বা মহাকাব্যগুলির বিভিন্ন ঘটনার যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা করতেন – সেগুলি এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো । আগের দিন রামায়ণে উল্লেখিত শ্রবণ কুমারের ঘটনা বলা হয়েছিল, কিন্তু সেই প্রসঙ্গে আরো কিছু কথা বলা বাদ ছিল, আজ সেগুলি দিয়েই শুরু করা যাক্ !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – স্থান, কাল, পাত্র । এই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট হয়েই রয়েছে । নির্দিষ্ট সময় (কাল) উপস্থিত হোলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও (পাত্র) সেই কাজ সম্পন্ন করে । আমরা সাধারণ মানুষেরা কালের গর্ভে থাকা সেই রহস্য পাঠ করতে পারি না বলেই কিছু জানতে পারি না – ঘটনা ঘটা পর্যন্ত অপেক্ষা করি – কিন্তু যাঁরা কালদ্রষ্টা-ঋষিস্বরূপ তাঁরা আগে থেকেই সব জানতে পারেন । হয়তো কোনো কোনো সময় তা প্রকাশ করেন, কোন কোন সময় তা করেন না ৷ কিন্তু তাঁরা সবাই জানেন আগামী দিনের তথা শুধু ১০০/২০০ বছর পরের ঘটনাই শুধু নয়, পরবর্ত্তী ১০০০ বা ২০০০ বছরের বা হয়ত এই কল্পের অন্ত পর্যন্ত অথবা আগামী কল্পের সমস্ত ঘটনাও তাঁরা জানেন বা বলে দিতে পারেন !
আমরা গুরুমহারাজকে এই ধরনের ইঙ্গিত দিতে দেখেছি ! তিনি এসব কথা বলেছেন এবং এটাও বলেছেন – “এসব কথা তোদেরকে বলেই বা কি লাভ বল্ ! মহামায়ার জগতে যা হবার তাই তো হবে – তার ব্যতিক্রম তো হবার নয় ! ফলে ভালো কিছুর কথা তোরা আগাম জানলে হয়তো আনন্দ করবি, কিন্তু খারাপ যেগুলো হবে – সেসব কথা শুনে তো অকারণ দুঃখ পাবি – তাই না?” নস্ত্রাদামুসের লেখা পুঁথি বা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎপুরাণ বা এই ধরণের আরো কিছু মহাপুরুষের বলে যাওয়া অনেক কথাই মিলে যায় – এই ব্যাপারে গুরুমহারাজকে জিজ্ঞাসা করলে উনি বলেছিলেন – “এটা এক প্রকার সিদ্ধি ! এই সিদ্ধির প্রয়োগ ঘটালে ওই সিদ্ধ ব্যক্তির সাধনার ফল নষ্ট হয়ে যায় – তাঁকে আবার নতুন করে সবকিছুই শুরু করতে হয় ।”
কি কথা বলতে গিয়ে কতসব কথা চলে এলো ! আমরা স্থান-কাল-পাত্রের কথা বলছিলাম ৷ গুরুমহারাজ বলেছিলেন – কুরুক্ষেত্রের কথা ! যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখলেন যে কুরু-পাণ্ডবের মধ্যে যুদ্ধ সুনিশ্চিত, তখন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে চাইলেন । খুঁজতে খুঁজতে উনি পৌঁছেছিলেন কুরুক্ষেত্রে (বর্তমানে এটি হরিয়ানার মধ্যে পড়ে), সেখানে উনি দেখেছিলেন – পিতা সামান্য অপরাধে পুত্রকে মেরে ফেলছে, এই ধরনের আরও কিছু নিষ্ঠুর কাজ সাধিত হতে দেখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ওই স্থানটিকেই কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন ৷ কারণ তিনি জানতেন ওই যুদ্ধে ভাই ভাইয়ের রক্তে হাত রঞ্জিত করবে, সন্তানেরা পিতৃস্থানীয় বা গুরুস্থানীয়দের হত্যা করবে বা উল্টোটা অর্থাৎ গুরুস্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বা শিষ্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্রাঘাত করবে ! এই ধরনের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ যে কোনো স্থানে ঘটতে পারে না – উপযুক্ত স্থান অর্থাৎ নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটার জন্য নির্দিষ্ট স্থানেই ঘটবে ।
এই বাস্তুবিজ্ঞান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কেই বা জানতে পারবে ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন – এই যে বনগ্রাম আশ্রমে ওনার কুটিয়াটির জন্য নির্দিষ্ট জায়গাটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত, আবর্জনাযুক্ত, ভাগাড় হিসাবে পড়ে ছিল ! এইভাবেই যেকোনো দেবস্থান, তীর্থস্থান বা মঠ-মিশন – এগুলির স্থান নির্দিষ্ট হয়েই থাকে ! সেইসব স্থানে অন্য কিছু হতেই পারে না । যদিও জোর করে কেউ কিছু করতেও চায় – তাহলে নানান বিঘ্ন ঘটবে, স্থায়ী কিছু construction করা সম্ভব হবে না !
আগের দিনের আলোচনা থেকেই আমরা আরো জেনেছিলাম যে, যে কোনো স্থানের মাহাত্ম্যের সঙ্গে কাল বা time এবং ব্যক্তি বা পাত্র সংশ্লিষ্ট । বীরভূমের তারাপীঠ স্থানটি তো বহুকাল থেকেই বর্তমান ছিল – কিন্তু যেইমাত্র ওই স্থানে বামদের সাধন-ভজন করলেন, সিদ্ধ হলেন, সঙ্গে সঙ্গে স্থানটির মাহাত্ম্য চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো ৷ দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গার ধারে পঞ্চবটী বা মা ভবতারিণী মন্দিরের স্থানটিও বহুদিন ধরে – বহুরকমভাবে ব্যবহার হয়েছিল (কবরস্থান, গির্জা এবং আরও নানা কিছু)– পরে রানী রাসমণি মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন – কিন্তু যেইমাত্র গদাধর ঠাকুর ওখানে পৌঁছালেন এবং তীব্র সাধন-ভজনের বন্যা বইয়ে দিলেন – তখন থেকেই ওখানকার ভূমি পূণ্যভূমি হয়ে উঠলো, মা ভবতারিণী মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী হয়ে উঠলেন ! মহাভারতের আখ্যানে শ্রবনকুমারের ক্ষেত্রেও ঐ বিশেষ স্থানটি ক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছিল। ফলে ঐ মাটিতে পা দেওয়া মাত্রই বা ঐ স্থানের জল পান করা মাত্রই তার মনে বিপরীত ভাবনার উদয় হয়েছিল।
এইভাবেই সকল তীর্থ, তীর্থনাথ বা তীর্থপতি কোন না কোন উন্নত মহামানবের উপস্থিতিতে তার সাধন শক্তির প্রভাবেই সৃষ্টি হয়ে থাকে । সুতরাং প্রকৃত তীর্থ হচ্ছেন ওইসব মানুষেরা – যাঁরা সচল তীর্থ ! এইজন্যেই গুরুমহারাজ মানুষের তথা জীবনের জয়গান করতেন, উনি বলতেন – “বাউলেরা এঁদের বলে সোনার মানুষ সহজ মানুষ।” বাউল মতে, ‘মানুষের ভজনা-ই শ্রেষ্ঠ ভজনা’! বাউলের শিরোমনি, অন্যতম পথিকৃৎ চন্ডীদাস এইজন্যেই তো বলেছিলেন – “শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে ‘মানুষ’ সত্য – তাহার উপরে নাই ৷” কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা যেমন মানুষ, ‘সেই মানুষ’- ঠিক তেমনটা নয় – তাঁরা “সহজ মানুষ”। আমরা অসহজ মানুষ, জটিল মানুষ, কুটিল মানুষ ! আমরা বুদ্ধিমান হতে চাই – বিবেকবান হতে চাই না!, আমরা বহির্জগতের ঐশ্বর্য-সম্পদের প্রতি সদা আগ্রহী থাকি – আমাদের অন্তর্জগতের অতল-ঐশ্বর্যের দিকে তাকাই না, আমরা অপরের দর্শন, অন্যের বিদ্যার জন্য লালায়িত হয়ে আমাদের নিজস্বতা, আমাদের পরম্পরাকে শ্রদ্ধা করি না – সেগুলির মধ্যে থাকা অধ্যাত্ম-বিদ্যাকে অধিগত করতে চাই না !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “আজকের যে ভারতবর্ষ দেখছিস্, এটা Punishment period চলছে ! বাবাকে অগ্রাহ্য করে, অবহেলা-অপমান করে – মাতৃবন্দনা করা বা মায়ের সম্মান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে যাওয়াটা আহম্মকি ! ভারতের মানুষ যতদিন না বিদেশি দর্শনের চিন্তাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ভারতীয় দর্শন সমূহের এবং আধ্যাত্ম বিদ্যার পাঠ গ্রহণ না করবে – ততদিন মা জগদম্বা এই দেশটির উপর প্রসন্ন হবেন না ! যত তাড়াতাড়ি ভারতবর্ষের মানুষ তাঁর নিজস্ব পরম্পরা, নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির মর্যাদা দেবে, তাকে সাদরে বরণ করে নেবে – তত তাড়াতাড়িই এই দেশটির এবং এই দেশের অধিবাসীদের মঙ্গল সাধন হবে ৷” (ক্রমশঃ)
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – স্থান, কাল, পাত্র । এই পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট হয়েই রয়েছে । নির্দিষ্ট সময় (কাল) উপস্থিত হোলেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিরাও (পাত্র) সেই কাজ সম্পন্ন করে । আমরা সাধারণ মানুষেরা কালের গর্ভে থাকা সেই রহস্য পাঠ করতে পারি না বলেই কিছু জানতে পারি না – ঘটনা ঘটা পর্যন্ত অপেক্ষা করি – কিন্তু যাঁরা কালদ্রষ্টা-ঋষিস্বরূপ তাঁরা আগে থেকেই সব জানতে পারেন । হয়তো কোনো কোনো সময় তা প্রকাশ করেন, কোন কোন সময় তা করেন না ৷ কিন্তু তাঁরা সবাই জানেন আগামী দিনের তথা শুধু ১০০/২০০ বছর পরের ঘটনাই শুধু নয়, পরবর্ত্তী ১০০০ বা ২০০০ বছরের বা হয়ত এই কল্পের অন্ত পর্যন্ত অথবা আগামী কল্পের সমস্ত ঘটনাও তাঁরা জানেন বা বলে দিতে পারেন !
আমরা গুরুমহারাজকে এই ধরনের ইঙ্গিত দিতে দেখেছি ! তিনি এসব কথা বলেছেন এবং এটাও বলেছেন – “এসব কথা তোদেরকে বলেই বা কি লাভ বল্ ! মহামায়ার জগতে যা হবার তাই তো হবে – তার ব্যতিক্রম তো হবার নয় ! ফলে ভালো কিছুর কথা তোরা আগাম জানলে হয়তো আনন্দ করবি, কিন্তু খারাপ যেগুলো হবে – সেসব কথা শুনে তো অকারণ দুঃখ পাবি – তাই না?” নস্ত্রাদামুসের লেখা পুঁথি বা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎপুরাণ বা এই ধরণের আরো কিছু মহাপুরুষের বলে যাওয়া অনেক কথাই মিলে যায় – এই ব্যাপারে গুরুমহারাজকে জিজ্ঞাসা করলে উনি বলেছিলেন – “এটা এক প্রকার সিদ্ধি ! এই সিদ্ধির প্রয়োগ ঘটালে ওই সিদ্ধ ব্যক্তির সাধনার ফল নষ্ট হয়ে যায় – তাঁকে আবার নতুন করে সবকিছুই শুরু করতে হয় ।”
কি কথা বলতে গিয়ে কতসব কথা চলে এলো ! আমরা স্থান-কাল-পাত্রের কথা বলছিলাম ৷ গুরুমহারাজ বলেছিলেন – কুরুক্ষেত্রের কথা ! যখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেখলেন যে কুরু-পাণ্ডবের মধ্যে যুদ্ধ সুনিশ্চিত, তখন তিনি যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করতে চাইলেন । খুঁজতে খুঁজতে উনি পৌঁছেছিলেন কুরুক্ষেত্রে (বর্তমানে এটি হরিয়ানার মধ্যে পড়ে), সেখানে উনি দেখেছিলেন – পিতা সামান্য অপরাধে পুত্রকে মেরে ফেলছে, এই ধরনের আরও কিছু নিষ্ঠুর কাজ সাধিত হতে দেখে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ওই স্থানটিকেই কুরু-পাণ্ডবের যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন ৷ কারণ তিনি জানতেন ওই যুদ্ধে ভাই ভাইয়ের রক্তে হাত রঞ্জিত করবে, সন্তানেরা পিতৃস্থানীয় বা গুরুস্থানীয়দের হত্যা করবে বা উল্টোটা অর্থাৎ গুরুস্থানীয়রা তাদের সন্তানদের বা শিষ্যদের বিরুদ্ধে অস্ত্রাঘাত করবে ! এই ধরনের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ যে কোনো স্থানে ঘটতে পারে না – উপযুক্ত স্থান অর্থাৎ নিষ্ঠুরতম ঘটনা ঘটার জন্য নির্দিষ্ট স্থানেই ঘটবে ।
এই বাস্তুবিজ্ঞান ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ছাড়া আর কেই বা জানতে পারবে ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন – এই যে বনগ্রাম আশ্রমে ওনার কুটিয়াটির জন্য নির্দিষ্ট জায়গাটি দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত, আবর্জনাযুক্ত, ভাগাড় হিসাবে পড়ে ছিল ! এইভাবেই যেকোনো দেবস্থান, তীর্থস্থান বা মঠ-মিশন – এগুলির স্থান নির্দিষ্ট হয়েই থাকে ! সেইসব স্থানে অন্য কিছু হতেই পারে না । যদিও জোর করে কেউ কিছু করতেও চায় – তাহলে নানান বিঘ্ন ঘটবে, স্থায়ী কিছু construction করা সম্ভব হবে না !
আগের দিনের আলোচনা থেকেই আমরা আরো জেনেছিলাম যে, যে কোনো স্থানের মাহাত্ম্যের সঙ্গে কাল বা time এবং ব্যক্তি বা পাত্র সংশ্লিষ্ট । বীরভূমের তারাপীঠ স্থানটি তো বহুকাল থেকেই বর্তমান ছিল – কিন্তু যেইমাত্র ওই স্থানে বামদের সাধন-ভজন করলেন, সিদ্ধ হলেন, সঙ্গে সঙ্গে স্থানটির মাহাত্ম্য চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়লো ৷ দক্ষিণেশ্বরের গঙ্গার ধারে পঞ্চবটী বা মা ভবতারিণী মন্দিরের স্থানটিও বহুদিন ধরে – বহুরকমভাবে ব্যবহার হয়েছিল (কবরস্থান, গির্জা এবং আরও নানা কিছু)– পরে রানী রাসমণি মন্দির প্রতিষ্ঠা করলেন – কিন্তু যেইমাত্র গদাধর ঠাকুর ওখানে পৌঁছালেন এবং তীব্র সাধন-ভজনের বন্যা বইয়ে দিলেন – তখন থেকেই ওখানকার ভূমি পূণ্যভূমি হয়ে উঠলো, মা ভবতারিণী মৃন্ময়ী থেকে চিন্ময়ী হয়ে উঠলেন ! মহাভারতের আখ্যানে শ্রবনকুমারের ক্ষেত্রেও ঐ বিশেষ স্থানটি ক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছিল। ফলে ঐ মাটিতে পা দেওয়া মাত্রই বা ঐ স্থানের জল পান করা মাত্রই তার মনে বিপরীত ভাবনার উদয় হয়েছিল।
এইভাবেই সকল তীর্থ, তীর্থনাথ বা তীর্থপতি কোন না কোন উন্নত মহামানবের উপস্থিতিতে তার সাধন শক্তির প্রভাবেই সৃষ্টি হয়ে থাকে । সুতরাং প্রকৃত তীর্থ হচ্ছেন ওইসব মানুষেরা – যাঁরা সচল তীর্থ ! এইজন্যেই গুরুমহারাজ মানুষের তথা জীবনের জয়গান করতেন, উনি বলতেন – “বাউলেরা এঁদের বলে সোনার মানুষ সহজ মানুষ।” বাউল মতে, ‘মানুষের ভজনা-ই শ্রেষ্ঠ ভজনা’! বাউলের শিরোমনি, অন্যতম পথিকৃৎ চন্ডীদাস এইজন্যেই তো বলেছিলেন – “শুনহ মানুষ ভাই, সবার উপরে ‘মানুষ’ সত্য – তাহার উপরে নাই ৷” কিন্তু আমরা সাধারণ মানুষেরা যেমন মানুষ, ‘সেই মানুষ’- ঠিক তেমনটা নয় – তাঁরা “সহজ মানুষ”। আমরা অসহজ মানুষ, জটিল মানুষ, কুটিল মানুষ ! আমরা বুদ্ধিমান হতে চাই – বিবেকবান হতে চাই না!, আমরা বহির্জগতের ঐশ্বর্য-সম্পদের প্রতি সদা আগ্রহী থাকি – আমাদের অন্তর্জগতের অতল-ঐশ্বর্যের দিকে তাকাই না, আমরা অপরের দর্শন, অন্যের বিদ্যার জন্য লালায়িত হয়ে আমাদের নিজস্বতা, আমাদের পরম্পরাকে শ্রদ্ধা করি না – সেগুলির মধ্যে থাকা অধ্যাত্ম-বিদ্যাকে অধিগত করতে চাই না !
গুরুমহারাজ বলেছিলেন – “আজকের যে ভারতবর্ষ দেখছিস্, এটা Punishment period চলছে ! বাবাকে অগ্রাহ্য করে, অবহেলা-অপমান করে – মাতৃবন্দনা করা বা মায়ের সম্মান বৃদ্ধি করার চেষ্টা করতে যাওয়াটা আহম্মকি ! ভারতের মানুষ যতদিন না বিদেশি দর্শনের চিন্তাকে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে ভারতীয় দর্শন সমূহের এবং আধ্যাত্ম বিদ্যার পাঠ গ্রহণ না করবে – ততদিন মা জগদম্বা এই দেশটির উপর প্রসন্ন হবেন না ! যত তাড়াতাড়ি ভারতবর্ষের মানুষ তাঁর নিজস্ব পরম্পরা, নিজস্ব কৃষ্টি-সংস্কৃতির মর্যাদা দেবে, তাকে সাদরে বরণ করে নেবে – তত তাড়াতাড়িই এই দেশটির এবং এই দেশের অধিবাসীদের মঙ্গল সাধন হবে ৷” (ক্রমশঃ)
