গুরু মহারাজ স্বামী পরমানন্দ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনে বা অন্যত্র বিভিন্ন সিটিং-এ নানা ধরনের পৌরাণিক কাহিনীর যে বৈজ্ঞানিক, সামাজিক ও তাত্ত্বিক ব্যাখা দিতেন সেই গুলিই এখানে আলোচনা করা হচ্ছিলো।
এখন অগস্ত্য মুনির কিছু মানবকল্যাণ মুখী অসাধারণ কাজের সম্বন্ধে কথা হচ্ছিলো! পুরাণাদি শাশ্ত্রে এই কাহিনীগুলি এমনভাবে বর্ণনা করা আছে যে, যে কেউ সেগুলি পড়ে ভাববে __ঘটনাগুলি বোধয় আজগুবি! গুরু মহারাজ এইসব কাহিনীগুলির সঠিক ব্যাখা কি_তা বুঝিয়ে বলেছিলেন ! আমরা সেই কথাগুলির সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করছিলাম।
গুরু মহারাজ ইল্বল ও বাতাপি এই দুই অসুরের প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন যে,ওরা দুজন ছদ্মবেশী প্রতারক ছিল _যারা নিরীহ পথচারীদের সর্বস্ব লুট করতো এবং তাদেরকে মেরে ফেলতো। এরা জনপদ থেকে দূরে কোনো নির্জন স্থানে, এমন একটি স্থানে তাদের বাসা নির্মাণ করেছিল_যেদিকে পথিকেরা বেশি যাতায়াত কোরতো। পথশ্রমে ক্লান্ত পথিকেরা ঐ দুই প্রতারকের কাছে আহারের এবং বিশ্রামের ব্যবস্থার সন্ধান পেয়ে নিজেদেরকে কৃতার্থ বলে মনে কোরতো। কারণ নির্জন প্রান্তরে দীর্ঘ পথ অতিক্রমকারী কোনো পথিকের কাছে এই দুটির চাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য আর কি ই বা হোতে পারে! তারা ভাবতো _এরা নিশ্চয়ই কোনো মহান ব্যক্তি, যারা হয়তো মানবসেবার ব্রত অবলম্বন করেছে !
এবার এই কাহিনীর আজগুবি দিকটা নিয়ে আলোচনা করা যাক্__ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন ভালোমানুষ ব্রাহ্মন সেজে পথচারীদের আপ্যায়ন করে ডেকে আনতো _এই ব্যাপারটা ঠিকই আছে, কিন্তু অপর ভাইটি ছাগল হয়ে যেতো এবং তার মাংস রান্না করে অতিথিদেরকে খাওয়ানো হোত _ এই ব্যাপারটা গোলমেলে! গুরু মহারাজ বলেছিলেন এই লোকটির সম্ভবত ছাগলের খামার ছিল। লোকালয় থেকে বহুদূরে বাস করার দরুন তাদের মেষ বা ছাগল পোষাটা খুবই প্রয়োজনীয় এবং সুবিধাজনকও ছিল ! কারণ বছরের সবসময় তো পথচারীদের পাওয়া যায় না ! বিশেষত বর্ষার তিন চার মাস তাদেরকে অন্যভাবেই উদরপূর্তি বা পরিবারের বাকিদের ভরণপোষণ করতে হোতো। ওই স্থানে শুধু যে দুজন অসুর ছিল তা তো নয় ! নিশ্চয়ই তাদের ফ্যামিলিও ছিল ! আগেই বলা হয়েছে, ‘অসুর’ বলতে সেই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে বোঝানো হয়, যারা চিরাচরিত সমাজজীবন যাপন করে না, যারা বিশৃংখল জীবন-যাপন করে ! “অ-সুর” অর্থাৎ যাদের জীবনের সুর, কিছুই নাই, সবকিছুই disharmonised হয়ে গেছে !
যাইহোক, এইভাবেই ঐ দুজনের মধ্যে একজন, অতিথিবৎসল ভদ্রলোক সেজে পথচারীদের ডেকে নিয়ে আসতো এবং অন্য ব্যক্তি মেষ বা ছাগলের মাংস কেটে খাইয়ে অতিথিকে সন্তুষ্ট করার নামে মাংসে বিষ প্রয়োগ করে তাকে মেরে ফেলতো। এইবার ওই পথিকের সঙ্গে থাকা যাবতীয় সামগ্রী তারা ভাগাভাগি করে নিয়ে নিতো এবং মৃতদেহটি তাদের আবাসস্থল থেকে দূরে কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দিতো! অগস্ত্যমুনি কি করেছিলেন _ উনি এই রহস্যটি সকলের কাছে উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন ! স্থানীয় রাজার সাহায্য নিয়ে উনি এই দুই অসুরের নৃশংসভাবে মানুষ মারার কৌশল বন্ধ করে তাদেরকে শাস্তি দানের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ওই পথে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত করার একটা নিরাপদ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ।
অগস্ত মুনির আরেকটি অন্যতম সমাজকল্যাণ মূলক কাজ ছিলো দুর্লঙ্ঘ্য বিন্ধপর্বতকে তাঁর সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করা ! এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গুরু মহারাজ বলেছিলেন আজ থেকে মাত্র 10 হাজার বছর আগে পূর্বঘাট পর্বতমালা, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং বিন্ধ পর্বত এই তিনটি প্রায় সংলগ্ন ছিল! তাছাড়া দুর্ভেদ্য বনরাজি এবং হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ভর্তি ছিল ওই সব অঞ্চল! বিশাল বিশাল উঁচু উঁচু গাছ ছিল ওই সব জঙ্গলে ! ফলে, একে পাহাড়-পর্বতের উচ্চতা এবং তার উপরে সুউচ্চ বৃক্ষরাজির জন্য সত্যি সত্যিই তৎকালে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারতো না!
আর তাছাড়াও দাক্ষিণাত্যের সঙ্গে আর্যাবর্তের মধ্যিখানে দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল বিন্ধপর্বত এবং তার সংলগ্ণ দুটি পর্বতমালা ! কিন্তু আর্য সংস্কার বা আর্য সংস্কৃতি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন ঋষিরা ! তাঁরা বলেছিলেন _”কৃণ্বন্তু বিশ্বমার্যম্”!
অবশ্য তখন দাক্ষিণাত্যেও সভ্যতা এবং সংস্কৃতি ছিল ! সেটা ছিল দ্রাবিড় সংস্কৃতি ! যার সাথে আর্য সংস্কৃতির তেমন কোনো মিল ছিল না । আর্যদের ছিল বেদভিত্তিক সংস্কৃতি, আর দ্রাবিড়দের ছিল তন্ত্রভিত্তিক সংস্কৃতি । দুটোই প্রাচীন সংস্কৃতি _ কিন্তু পৃথক ! মহাদেব শিব বা শংকর প্রথম এই দুই সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়েছিলেন ! তারপর বহুদিন আর্যাবর্ত থেকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মহাপুরুষ বা দক্ষিণীদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো আচার্য__ উত্তর থেকে দক্ষিনে যাননি ! তার কারণ ছিল ওই বিন্ধপর্বত ও তার সংলগ্ন পর্বতমালার দুর্লঙ্ঘতা, গাছ-গাছালি ও জঙ্গলের প্রাচুর্য এবং হিংস্র জীব জন্তুর বাহুল্য ! এই সবের জন্য ভারতবর্ষের দুই প্রান্তের মধ্যে স্থুল যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একপ্রকার বন্ধ হোতে বসেছিল।
এমতাবস্থায় এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন অগস্ত্য মুনি! উনি তৎকালীন রাজন্যবর্গকে রাজি করিয়ে সেযুগের দুর্লঙ্ঘ্য, দুর্গম বিন্ধপর্বতের মধ্যে দিয়ে মনুষ্য চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছিলেন ! রাস্তা তৈরির প্রয়োজনে তিনি কোনো চূড়াকে হয়তো ভাঙতে বাধ্য হয়েছিলেন __এই ঘটনাটাই পরবর্তীতে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছিল যে অগস্ত্য মুনি বিন্ধপর্বতের অহংকার চূর্ণ করে তাকে তাঁর সামনে নত হতে বাধ্য করেছিলেন। তাছাড়া দুর্গম, বিপদসংকুল বিন্ধপর্বত অতিক্রম করার সাহস যেখানে কেউ দেখাতে পারতো না, সেখানে সবার চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করাটাকেও _পর্বতের মাথা হেঁট হওয়া হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
বাংলায় একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে “অগস্ত যাত্রা”! শেষ যাত্রা বা অন্তিম যাত্রা _বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয় ! বলা হয় যে, অগস্ত মুনি বিন্ধ্যাচল পেরিয়ে দক্ষিণ ভারত চলে যাবার পর আর কখনো উত্তরের দিকে ফিরে আসেননি ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন অগস্ত্য বাকি জীবনটা দক্ষিনের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্য-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেবার কাজই করেছিলেন ! এই ভাবেই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে আর্য ও দ্রাবিড় সংস্কৃতির মহামিলন ঘটানোর কাজ করেছিলেন অগস্ত্য! অগস্ত্যের তৈরি করা পথ ধরেই পরবর্তীকালে রামচন্দ্র উত্তর ভারত থেকে বিন্ধপর্বত পার হয়ে দক্ষিণ ভারতের কিস্কিন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন ! হয়তো অগস্ত্যের আরব্ধ কাজের সম্পূর্ণতা দান করেছিলেন ভগবান রামচন্দ্র! !(ক্রমশঃ)
এখন অগস্ত্য মুনির কিছু মানবকল্যাণ মুখী অসাধারণ কাজের সম্বন্ধে কথা হচ্ছিলো! পুরাণাদি শাশ্ত্রে এই কাহিনীগুলি এমনভাবে বর্ণনা করা আছে যে, যে কেউ সেগুলি পড়ে ভাববে __ঘটনাগুলি বোধয় আজগুবি! গুরু মহারাজ এইসব কাহিনীগুলির সঠিক ব্যাখা কি_তা বুঝিয়ে বলেছিলেন ! আমরা সেই কথাগুলির সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করছিলাম।
গুরু মহারাজ ইল্বল ও বাতাপি এই দুই অসুরের প্রসঙ্গ তুলে বলেছিলেন যে,ওরা দুজন ছদ্মবেশী প্রতারক ছিল _যারা নিরীহ পথচারীদের সর্বস্ব লুট করতো এবং তাদেরকে মেরে ফেলতো। এরা জনপদ থেকে দূরে কোনো নির্জন স্থানে, এমন একটি স্থানে তাদের বাসা নির্মাণ করেছিল_যেদিকে পথিকেরা বেশি যাতায়াত কোরতো। পথশ্রমে ক্লান্ত পথিকেরা ঐ দুই প্রতারকের কাছে আহারের এবং বিশ্রামের ব্যবস্থার সন্ধান পেয়ে নিজেদেরকে কৃতার্থ বলে মনে কোরতো। কারণ নির্জন প্রান্তরে দীর্ঘ পথ অতিক্রমকারী কোনো পথিকের কাছে এই দুটির চাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য আর কি ই বা হোতে পারে! তারা ভাবতো _এরা নিশ্চয়ই কোনো মহান ব্যক্তি, যারা হয়তো মানবসেবার ব্রত অবলম্বন করেছে !
এবার এই কাহিনীর আজগুবি দিকটা নিয়ে আলোচনা করা যাক্__ দুই ভাইয়ের মধ্যে একজন ভালোমানুষ ব্রাহ্মন সেজে পথচারীদের আপ্যায়ন করে ডেকে আনতো _এই ব্যাপারটা ঠিকই আছে, কিন্তু অপর ভাইটি ছাগল হয়ে যেতো এবং তার মাংস রান্না করে অতিথিদেরকে খাওয়ানো হোত _ এই ব্যাপারটা গোলমেলে! গুরু মহারাজ বলেছিলেন এই লোকটির সম্ভবত ছাগলের খামার ছিল। লোকালয় থেকে বহুদূরে বাস করার দরুন তাদের মেষ বা ছাগল পোষাটা খুবই প্রয়োজনীয় এবং সুবিধাজনকও ছিল ! কারণ বছরের সবসময় তো পথচারীদের পাওয়া যায় না ! বিশেষত বর্ষার তিন চার মাস তাদেরকে অন্যভাবেই উদরপূর্তি বা পরিবারের বাকিদের ভরণপোষণ করতে হোতো। ওই স্থানে শুধু যে দুজন অসুর ছিল তা তো নয় ! নিশ্চয়ই তাদের ফ্যামিলিও ছিল ! আগেই বলা হয়েছে, ‘অসুর’ বলতে সেই সমস্ত ব্যক্তিদেরকে বোঝানো হয়, যারা চিরাচরিত সমাজজীবন যাপন করে না, যারা বিশৃংখল জীবন-যাপন করে ! “অ-সুর” অর্থাৎ যাদের জীবনের সুর, কিছুই নাই, সবকিছুই disharmonised হয়ে গেছে !
যাইহোক, এইভাবেই ঐ দুজনের মধ্যে একজন, অতিথিবৎসল ভদ্রলোক সেজে পথচারীদের ডেকে নিয়ে আসতো এবং অন্য ব্যক্তি মেষ বা ছাগলের মাংস কেটে খাইয়ে অতিথিকে সন্তুষ্ট করার নামে মাংসে বিষ প্রয়োগ করে তাকে মেরে ফেলতো। এইবার ওই পথিকের সঙ্গে থাকা যাবতীয় সামগ্রী তারা ভাগাভাগি করে নিয়ে নিতো এবং মৃতদেহটি তাদের আবাসস্থল থেকে দূরে কোনো নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে পুঁতে দিতো! অগস্ত্যমুনি কি করেছিলেন _ উনি এই রহস্যটি সকলের কাছে উন্মোচিত করে দিয়েছিলেন ! স্থানীয় রাজার সাহায্য নিয়ে উনি এই দুই অসুরের নৃশংসভাবে মানুষ মারার কৌশল বন্ধ করে তাদেরকে শাস্তি দানের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং ওই পথে হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত করার একটা নিরাপদ ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ।
অগস্ত মুনির আরেকটি অন্যতম সমাজকল্যাণ মূলক কাজ ছিলো দুর্লঙ্ঘ্য বিন্ধপর্বতকে তাঁর সামনে মাথা নত করতে বাধ্য করা ! এই ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে গুরু মহারাজ বলেছিলেন আজ থেকে মাত্র 10 হাজার বছর আগে পূর্বঘাট পর্বতমালা, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং বিন্ধ পর্বত এই তিনটি প্রায় সংলগ্ন ছিল! তাছাড়া দুর্ভেদ্য বনরাজি এবং হিংস্র জন্তু জানোয়ারের ভর্তি ছিল ওই সব অঞ্চল! বিশাল বিশাল উঁচু উঁচু গাছ ছিল ওই সব জঙ্গলে ! ফলে, একে পাহাড়-পর্বতের উচ্চতা এবং তার উপরে সুউচ্চ বৃক্ষরাজির জন্য সত্যি সত্যিই তৎকালে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সূর্যালোক প্রবেশ করতে পারতো না!
আর তাছাড়াও দাক্ষিণাত্যের সঙ্গে আর্যাবর্তের মধ্যিখানে দুর্লঙ্ঘ্য প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে ছিল বিন্ধপর্বত এবং তার সংলগ্ণ দুটি পর্বতমালা ! কিন্তু আর্য সংস্কার বা আর্য সংস্কৃতি সমগ্র বিশ্বে ছড়িয়ে দেবার সংকল্প গ্রহণ করেছিলেন ঋষিরা ! তাঁরা বলেছিলেন _”কৃণ্বন্তু বিশ্বমার্যম্”!
অবশ্য তখন দাক্ষিণাত্যেও সভ্যতা এবং সংস্কৃতি ছিল ! সেটা ছিল দ্রাবিড় সংস্কৃতি ! যার সাথে আর্য সংস্কৃতির তেমন কোনো মিল ছিল না । আর্যদের ছিল বেদভিত্তিক সংস্কৃতি, আর দ্রাবিড়দের ছিল তন্ত্রভিত্তিক সংস্কৃতি । দুটোই প্রাচীন সংস্কৃতি _ কিন্তু পৃথক ! মহাদেব শিব বা শংকর প্রথম এই দুই সংস্কৃতির মিলন ঘটিয়েছিলেন ! তারপর বহুদিন আর্যাবর্ত থেকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য মহাপুরুষ বা দক্ষিণীদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো আচার্য__ উত্তর থেকে দক্ষিনে যাননি ! তার কারণ ছিল ওই বিন্ধপর্বত ও তার সংলগ্ন পর্বতমালার দুর্লঙ্ঘতা, গাছ-গাছালি ও জঙ্গলের প্রাচুর্য এবং হিংস্র জীব জন্তুর বাহুল্য ! এই সবের জন্য ভারতবর্ষের দুই প্রান্তের মধ্যে স্থুল যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক যোগাযোগ একপ্রকার বন্ধ হোতে বসেছিল।
এমতাবস্থায় এই বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছিলেন অগস্ত্য মুনি! উনি তৎকালীন রাজন্যবর্গকে রাজি করিয়ে সেযুগের দুর্লঙ্ঘ্য, দুর্গম বিন্ধপর্বতের মধ্যে দিয়ে মনুষ্য চলাচলের রাস্তা তৈরি করেছিলেন ! রাস্তা তৈরির প্রয়োজনে তিনি কোনো চূড়াকে হয়তো ভাঙতে বাধ্য হয়েছিলেন __এই ঘটনাটাই পরবর্তীতে মানুষের মুখে মুখে প্রচারিত হয়েছিল যে অগস্ত্য মুনি বিন্ধপর্বতের অহংকার চূর্ণ করে তাকে তাঁর সামনে নত হতে বাধ্য করেছিলেন। তাছাড়া দুর্গম, বিপদসংকুল বিন্ধপর্বত অতিক্রম করার সাহস যেখানে কেউ দেখাতে পারতো না, সেখানে সবার চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করাটাকেও _পর্বতের মাথা হেঁট হওয়া হিসাবে বর্ণনা করা হয়েছিল।
বাংলায় একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে “অগস্ত যাত্রা”! শেষ যাত্রা বা অন্তিম যাত্রা _বোঝাতে এটি ব্যবহৃত হয় ! বলা হয় যে, অগস্ত মুনি বিন্ধ্যাচল পেরিয়ে দক্ষিণ ভারত চলে যাবার পর আর কখনো উত্তরের দিকে ফিরে আসেননি ! গুরু মহারাজ বলেছিলেন অগস্ত্য বাকি জীবনটা দক্ষিনের বিভিন্ন অঞ্চলে আর্য-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেবার কাজই করেছিলেন ! এই ভাবেই নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে আর্য ও দ্রাবিড় সংস্কৃতির মহামিলন ঘটানোর কাজ করেছিলেন অগস্ত্য! অগস্ত্যের তৈরি করা পথ ধরেই পরবর্তীকালে রামচন্দ্র উত্তর ভারত থেকে বিন্ধপর্বত পার হয়ে দক্ষিণ ভারতের কিস্কিন্ধ্যায় গিয়ে পৌঁছেছিলেন ! হয়তো অগস্ত্যের আরব্ধ কাজের সম্পূর্ণতা দান করেছিলেন ভগবান রামচন্দ্র! !(ক্রমশঃ)
