স্বামী বাউলানন্দজীর পেরেন্টাপল্লীতে থাকাকালীন সময়ের কথা বলা হচ্ছিলো। ‘মুকোটি উৎসবে’_ স্বামীজী সহুকারকে(বণিক) যে অপমান করেছিলেন, বণিক তার যন্ত্রণার কথা ভুলতে পারছিল না, যদিও স্বামীজী সেসব কথা আর মনে রাখেননি।
এই ঘটনার পর অনেকদিন কেটে গেছে কাস্টমস কমিশনার পর্যায়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী এবং কখনও কখনও টার্নার এবং নবাব ইয়ার জাং-এর ন্যায় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলরগণ এবং তাদের সঙ্গে একদল করে জুনিয়র অফিসার পেরেন্টাপল্লী দেখতে এসেছিলেন। যে সমস্ত অফিসার গ্রাম দেখতে আসতেন, তারা অবশ্যই আশ্রমটাকেও দেখতে আসতেন ! রেড্ডিদের সম্বন্ধে তার উদ্বেগ এবং চিন্তা ভাবনার কথা এবং কিভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি করা যায়, সে সম্বন্ধে স্বামীজি তাদের প্রত্যেককে বলতেন! রেড্ডিদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা জরুরী প্রয়োজন __সে কথা তিনি তাদেরকে জানাতেন ! বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নির্যাতিত হওয়ার কথাও তিনি তাদের সামনে তুলে ধরতেন!
স্বামীজি অফিসারদের খুব চাপ দিলেন ! এই অবস্থায় প্রতিকার করা যে একান্ত প্রয়োজন সে বিষয়ে তারাও স্বামীজীর সঙ্গে একমত হোলেন। সহুকারও অফিসার এবং তাদের কর্মচারীদের মধ্যে স্বামীজীর নামে অপপ্রচার চালাতে লাগল । যে সমস্ত কর্মচারীরা সহুকারকে বিশ্বাস করতেন _তারাও পেরেন্টাপল্লী দেখতে আসতেন এবং এসে তারা আশ্রম দেখতেও আসতেন! স্বামীজীর সঙ্গে তারা কথা বলতেন এবং শেষে অভিভূত হয়ে স্বামীজীর শিষ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতেন ! কর্মচারীদের জন্য সবকিছু আয়োজন করতে সহুকার প্রচুর অর্থ ব্যয় কোরতো। কিন্তু আশ্রমে কি ঘটছে এবং কি কথাবার্তা চলছে _ তা সে জানতে পারতো না ! এই পরিস্থিতিতে সে ভীত হয়ে পড়তো এবং বিনিদ্র রজনী যাপন করতো!
নিজাম সরকারের প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের প্রধান(head) পেরেন্টাপল্লী দেখতে আসতেন এবং দুদিন করে সেখানেই থাকতেন ! যখনই তারা আসতেন তখনই সহুকার __অফিসার এবং তাদের অধস্তনদের ক্যাম্পের খরচ বাবদ প্রচুর টাকা ব্যয় করতো! এত পয়সা খরচ করেও ডিপার্টমেন্টের প্রধানের সাক্ষাৎকার সে কখনোই লাভ করতে পারতো না !
অপরদিকে ডিপার্টমেন্টের প্রধান আশ্রমে যেতেন ! বাইরে জুতো খুলে বিনীতভাবে স্বামীজীর নিকট যেতেন, স্বামীজীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন এবং মাটিতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করতেন । তাদের কি কথাবার্তা হতো তা কেউ জানতোনা সহুকার অনুভব করলো যে, স্বামীজীর কাছে তার টাকা এবং প্রভাব অতি তুচ্ছ ! সে স্বামীজীকে বুঝতে পারলো না!
অফিসের কর্মচারীরা এবং তার দ্বারা সরবরাহ করা খাদ্য সম্ভার ভোগ করে এমন বন্ধুরাও স্বামীজীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এমন কি শিষ্য হয়ে যাচ্ছে __তা সে বুঝতে পারলো না । সে অনুভব করল পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো তার পক্ষে অসম্ভব ! যাই ঘটুক না কেন, স্বামীজীকে যদি উচ্ছেদ না করা যায় এবং আশ্রম ধ্বংস না করা যায়, তাহলে তার অস্তিত্বের কোন সম্ভাবনাই নাই!
সহুকার ওয়াডিগুডেম গ্রামের লোক! সেখানকার মন্দিরের ঘটনা সে ভালোমতো জানে ! বর্তমানে ওই একই রকম কৌশলের কথা __তার মনে উদয় হোল । যেহেতু ওয়াডিগুডেম গ্রাম রাস্তার ধারে এবং মন্দিরটা গ্রামের নিকটে __সেইহেতু ঐদিন ভক্তদের সেখানে এসে বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল ! কিন্তু সুদূর পেরেন্টাপল্লী গ্রামে কোন্ দেবতা স্বামীজীকে উদ্ধার করতে আসে __তা সে দেখতে চায়!
এই ভাবেই সে স্বামীজীকে প্রাণে মারার একটা পরিকল্পনা করতে লাগলো।।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
………………………………………………………………..
জিজ্ঞাসা :– “ স্বামীজী, দায়িত্বশীল গৃহস্থও কখন কখন কখন যৌন বৃত্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, এতে কি তাদের শক্তি রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন ক্ষতি হয়?”
মীমাংসা(স্বামীজী) :– “ ক্ষতি ক্ষতিই — তা সে যেমন পরিস্থিতিতেই ঘটুক না কেন। যথাযথভাবে রূপান্তরের কাজ শক্তিশালী বা পুষ্ট হলে সূক্ষ্মচেতনা শক্তিশালী হয়। কিন্তু ব্যক্তি যদি স্বার্থপর হয়, তাহলে তার কার্যকলাপও স্বার্থযুক্ত হবে এবং তা ধ্বংসাত্মক হবে।
মনে কর, এখানে একটি ঘােড়া আছে। যদি এর ঠিক ঠিক পুষ্টি না হয় তাহলে শক্তির অভাবে সে চলতে পারবে না। সেই রকম মানবের ক্ষেত্রেও শক্তির অভাবে সমস্ত চেতনা সুপ্ত থাকে।
মনে কর, ঘােড়াটিকে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হল। ঘােড়াটি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আবার কখন কখন সে বিপথে চলবে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করলে ওকে সঠিক পথে চালিত করা সম্ভব হবে। সুতরাং মানুষের চেতনাকেও শক্তিশালী করা যায় পরিমাণগত শক্তির যােগান দ্বারা। মানবকেও নিয়ন্ত্রণ দ্বারা সঠিক পথে চালিত করা যায়।
সাধারণত যদি কোন ব্যক্তি তার কাণ্ডজ্ঞান দ্বারা কাজ করে তাহলে তার অহং এবং শারীরিক চেতনাও সমতানে কাজ করবে। এই ব্যক্তি ঠিক ঠিক কাজ করবে। তাকে নিয়ন্ত্রণ করার বা নির্দেশ দেওয়ার কোন প্রয়ােজন নেই।
গুণগত শক্তির উন্নতি হয়েছে এমন লােকের সংস্পর্শে যদি পরিমাণগত উন্নত শক্তি সম্পন্ন লােক আসে তাহলে ঐ গুণগত উন্নতশক্তি বিচ্ছুরিত হয়ে ঐ লােকটির মধ্যে প্রবেশ করবে । এখানে সংস্পর্শ বলতে শুধু নিকটে গেলেই হয় না, মানসিক সংস্পর্শও বুঝায়। মানসিক সংস্পর্শের দ্বারা চ্যানেল প্রস্তুত হয় এবং গুণগত দক্ষশক্তি ব্যক্তির মধ্যে প্রবাহিত হয়। প্রার্থনা, সঙ্গীত এই পর্যায়ে পড়ে ।
চেতনায় যখন যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি এবং গুণগত দক্ষ শক্তির সৃষ্টি হয় তখন এই শক্তি সূক্ষ্ম শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং সূক্ষ্ম চেতনাকে ক্রিয়াশীল করে। যখন সূক্ষ্ম চেতনা কাজ করতে শুরু করে তখন ব্যক্তির ঊর্ধ্বপ্রগতি শুরু হয় । তার হৃদয় প্রসারিত হয় এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি স্বার্থশূন্য হয়। সে তখন নিজ পরিবারের লােক এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পায় না।
এই ঘটনার পর অনেকদিন কেটে গেছে কাস্টমস কমিশনার পর্যায়ের কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মচারী এবং কখনও কখনও টার্নার এবং নবাব ইয়ার জাং-এর ন্যায় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলরগণ এবং তাদের সঙ্গে একদল করে জুনিয়র অফিসার পেরেন্টাপল্লী দেখতে এসেছিলেন। যে সমস্ত অফিসার গ্রাম দেখতে আসতেন, তারা অবশ্যই আশ্রমটাকেও দেখতে আসতেন ! রেড্ডিদের সম্বন্ধে তার উদ্বেগ এবং চিন্তা ভাবনার কথা এবং কিভাবে তাদের অবস্থার উন্নতি করা যায়, সে সম্বন্ধে স্বামীজি তাদের প্রত্যেককে বলতেন! রেড্ডিদের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি করা জরুরী প্রয়োজন __সে কথা তিনি তাদেরকে জানাতেন ! বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের নির্যাতিত হওয়ার কথাও তিনি তাদের সামনে তুলে ধরতেন!
স্বামীজি অফিসারদের খুব চাপ দিলেন ! এই অবস্থায় প্রতিকার করা যে একান্ত প্রয়োজন সে বিষয়ে তারাও স্বামীজীর সঙ্গে একমত হোলেন। সহুকারও অফিসার এবং তাদের কর্মচারীদের মধ্যে স্বামীজীর নামে অপপ্রচার চালাতে লাগল । যে সমস্ত কর্মচারীরা সহুকারকে বিশ্বাস করতেন _তারাও পেরেন্টাপল্লী দেখতে আসতেন এবং এসে তারা আশ্রম দেখতেও আসতেন! স্বামীজীর সঙ্গে তারা কথা বলতেন এবং শেষে অভিভূত হয়ে স্বামীজীর শিষ্য হয়ে বাড়ি ফিরে যেতেন ! কর্মচারীদের জন্য সবকিছু আয়োজন করতে সহুকার প্রচুর অর্থ ব্যয় কোরতো। কিন্তু আশ্রমে কি ঘটছে এবং কি কথাবার্তা চলছে _ তা সে জানতে পারতো না ! এই পরিস্থিতিতে সে ভীত হয়ে পড়তো এবং বিনিদ্র রজনী যাপন করতো!
নিজাম সরকারের প্রত্যেক ডিপার্টমেন্টের প্রধান(head) পেরেন্টাপল্লী দেখতে আসতেন এবং দুদিন করে সেখানেই থাকতেন ! যখনই তারা আসতেন তখনই সহুকার __অফিসার এবং তাদের অধস্তনদের ক্যাম্পের খরচ বাবদ প্রচুর টাকা ব্যয় করতো! এত পয়সা খরচ করেও ডিপার্টমেন্টের প্রধানের সাক্ষাৎকার সে কখনোই লাভ করতে পারতো না !
অপরদিকে ডিপার্টমেন্টের প্রধান আশ্রমে যেতেন ! বাইরে জুতো খুলে বিনীতভাবে স্বামীজীর নিকট যেতেন, স্বামীজীকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতেন এবং মাটিতে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সমস্ত বিষয়ে আলোচনা করতেন । তাদের কি কথাবার্তা হতো তা কেউ জানতোনা সহুকার অনুভব করলো যে, স্বামীজীর কাছে তার টাকা এবং প্রভাব অতি তুচ্ছ ! সে স্বামীজীকে বুঝতে পারলো না!
অফিসের কর্মচারীরা এবং তার দ্বারা সরবরাহ করা খাদ্য সম্ভার ভোগ করে এমন বন্ধুরাও স্বামীজীর ঘনিষ্ঠ বন্ধু এমন কি শিষ্য হয়ে যাচ্ছে __তা সে বুঝতে পারলো না । সে অনুভব করল পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো তার পক্ষে অসম্ভব ! যাই ঘটুক না কেন, স্বামীজীকে যদি উচ্ছেদ না করা যায় এবং আশ্রম ধ্বংস না করা যায়, তাহলে তার অস্তিত্বের কোন সম্ভাবনাই নাই!
সহুকার ওয়াডিগুডেম গ্রামের লোক! সেখানকার মন্দিরের ঘটনা সে ভালোমতো জানে ! বর্তমানে ওই একই রকম কৌশলের কথা __তার মনে উদয় হোল । যেহেতু ওয়াডিগুডেম গ্রাম রাস্তার ধারে এবং মন্দিরটা গ্রামের নিকটে __সেইহেতু ঐদিন ভক্তদের সেখানে এসে বাধা সৃষ্টি করা সম্ভব হয়েছিল ! কিন্তু সুদূর পেরেন্টাপল্লী গ্রামে কোন্ দেবতা স্বামীজীকে উদ্ধার করতে আসে __তা সে দেখতে চায়!
এই ভাবেই সে স্বামীজীকে প্রাণে মারার একটা পরিকল্পনা করতে লাগলো।।
*স্বামী বাউলানন্দজীর আধ্যাত্মিক আলোচনা*
………………………………………………………………..
জিজ্ঞাসা :– “ স্বামীজী, দায়িত্বশীল গৃহস্থও কখন কখন কখন যৌন বৃত্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, এতে কি তাদের শক্তি রূপান্তরের ক্ষেত্রে কোন ক্ষতি হয়?”
মীমাংসা(স্বামীজী) :– “ ক্ষতি ক্ষতিই — তা সে যেমন পরিস্থিতিতেই ঘটুক না কেন। যথাযথভাবে রূপান্তরের কাজ শক্তিশালী বা পুষ্ট হলে সূক্ষ্মচেতনা শক্তিশালী হয়। কিন্তু ব্যক্তি যদি স্বার্থপর হয়, তাহলে তার কার্যকলাপও স্বার্থযুক্ত হবে এবং তা ধ্বংসাত্মক হবে।
মনে কর, এখানে একটি ঘােড়া আছে। যদি এর ঠিক ঠিক পুষ্টি না হয় তাহলে শক্তির অভাবে সে চলতে পারবে না। সেই রকম মানবের ক্ষেত্রেও শক্তির অভাবে সমস্ত চেতনা সুপ্ত থাকে।
মনে কর, ঘােড়াটিকে যথেষ্ট পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হল। ঘােড়াটি শক্তিশালী হয়ে উঠবে। আবার কখন কখন সে বিপথে চলবে কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করলে ওকে সঠিক পথে চালিত করা সম্ভব হবে। সুতরাং মানুষের চেতনাকেও শক্তিশালী করা যায় পরিমাণগত শক্তির যােগান দ্বারা। মানবকেও নিয়ন্ত্রণ দ্বারা সঠিক পথে চালিত করা যায়।
সাধারণত যদি কোন ব্যক্তি তার কাণ্ডজ্ঞান দ্বারা কাজ করে তাহলে তার অহং এবং শারীরিক চেতনাও সমতানে কাজ করবে। এই ব্যক্তি ঠিক ঠিক কাজ করবে। তাকে নিয়ন্ত্রণ করার বা নির্দেশ দেওয়ার কোন প্রয়ােজন নেই।
গুণগত শক্তির উন্নতি হয়েছে এমন লােকের সংস্পর্শে যদি পরিমাণগত উন্নত শক্তি সম্পন্ন লােক আসে তাহলে ঐ গুণগত উন্নতশক্তি বিচ্ছুরিত হয়ে ঐ লােকটির মধ্যে প্রবেশ করবে । এখানে সংস্পর্শ বলতে শুধু নিকটে গেলেই হয় না, মানসিক সংস্পর্শও বুঝায়। মানসিক সংস্পর্শের দ্বারা চ্যানেল প্রস্তুত হয় এবং গুণগত দক্ষশক্তি ব্যক্তির মধ্যে প্রবাহিত হয়। প্রার্থনা, সঙ্গীত এই পর্যায়ে পড়ে ।
চেতনায় যখন যথেষ্ট পরিমাণে শক্তি এবং গুণগত দক্ষ শক্তির সৃষ্টি হয় তখন এই শক্তি সূক্ষ্ম শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং সূক্ষ্ম চেতনাকে ক্রিয়াশীল করে। যখন সূক্ষ্ম চেতনা কাজ করতে শুরু করে তখন ব্যক্তির ঊর্ধ্বপ্রগতি শুরু হয় । তার হৃদয় প্রসারিত হয় এবং তার দৃষ্টিভঙ্গি স্বার্থশূন্য হয়। সে তখন নিজ পরিবারের লােক এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখতে পায় না।
