গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দকে একজন জিজ্ঞাসা করেছিল – “জন্মান্তরবাদ কি সত্য?” – এর উত্তরে প্রথমেই গুরুমহারাজ বলেছিলেন – ” ‘জন্মান্তরবাদ’ নয় কথাটা হবে ‘জন্মান্তর বিজ্ঞান’।”
সেদিন যখন কথাটা গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – তখন সত্যি সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম ! মনে হয়েছিল – ‘এটা আবার কি কথা শুনলাম?’ “জন্মান্তর বিজ্ঞান”!! – জীবনবিজ্ঞান, ভৌতবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, ইত্যাদি জড়বিজ্ঞানের নাম অনেক শুনেছিলাম, কিন্তু গুরুমহারাজের কাছেই প্রথম শুনেছিলাম – মনোবিজ্ঞান, প্রাণবিজ্ঞান, আধ্যাত্মবিজ্ঞান – ইত্যাদি শব্দগুলি ! এই শব্দগুলিও যখন শুনতাম তখনও অবাক হতাম – কারণ এই শব্দগুলি আগে কখনো শুনিনি, এবং ভাবতাম গুরুমহারাজ মহাজ্ঞানী, মহাপুরুষ – উনি এইসব শব্দ ব্যবহার করেই হয়তো কথা বলেন ! জ্ঞানীদের ভাষা হয়তো আমাদের মতন সাধারণ মানুষের ভাষা থেকে আলাদা হয় !
কিন্তু যখন গুরুমহারাজ এই সমস্ত শব্দগুলি একটা একটা করে ব্যাখ্যার সাহায্যে বুঝিয়ে বলে দিতেন – তখন বুঝতে পারতাম যে, গুরুমহারাজ ওই যে শব্দগুলি ব্যবহার করছেন – ঐগুলিই তো সঠিক – সবারই উচিত এই শব্দগুলি ব্যবহার করা ! আমরা যখন স্কুলে পড়তাম (১৯৭৭/৭৮) তখনো ‘সাইকোলজি’র বাংলা করা হতো ‘মনোবিদ্যা’– পরে দেখেছি ‘মনোবিজ্ঞান’-ই বলা হয় ৷ যাইহোক, পরবর্তীতে গুরুমহারাজের কাছে শিখেছিলাম যে, বিশেষ জ্ঞান-ই বিজ্ঞান ! সেই অর্থে যে কোন বিষয়ের, যে কোন শাখার বিশেষ জ্ঞান-ই বিজ্ঞান । এইভাবেই যেমন বস্তু বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, তেমনই জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উৎপত্তি হয়েছে । গুরুমহারাজ বলেছিলেন যেকোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তিনটি স্তর রয়েছে – পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষা এবং সিদ্ধান্ত বা প্রয়োগ । ফলে এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে যেসব ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করে succesful হওয়া যায় – তাই বিজ্ঞান !
এইভাবে গুরুমহারাজ বলেছিলেন “আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান”! কারণ এরও তিনটি ধাপ রয়েছে এবং succesfully প্রয়োগ রয়েছে । আ
অধ্যাত্ম বিজ্ঞানের তিনটি ধাপ হলো – দর্শন(শাস্ত্রাদি), সাধন-ভজন-যোগ, তন্ত্র-নিঃস্বার্থ সেবাকর্ম-সৎসঙ্গ-প্রবচন !
এইসব কথা গুরুমহারাজের কাছে শুনে শুনে আমরা ব্যাপারটা বুঝে গিয়েছিলাম । কিন্তু যেদিন উনি ”জন্মান্তরবাদ নয় জন্মান্তর বিজ্ঞান”– এই কথাটা বলেছিলেন, সেদিন প্রকৃত অর্থেই চমকে উঠেছিলাম ! একে তো সহস্র সহস্র মানুষ “জন্মান্তর” ব্যাপারটাই বোঝে না – একমাত্র বৌদ্ধরা মানে আর সনাতনপন্থীদের কেউ কেউ মানে – বাকিরা তো মানেই না ! যারাও বা মানে – তারা ‘জন্মান্তরবাদ’ কথাটাই ব্যবহার করে, – সেখানে “জন্মান্তর বিজ্ঞান”!! হজম করতে একটু সময় লেগেছিল ! এরপর যখন গুরুমহারাজ বিভিন্ন angle থেকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলেছিলেন, তখনই তা হৃদয়ঙ্গম হয়েছিল । আর যেটুকু হয়েছিল সেইটুকুই আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করছি !
জন্মান্তরবিজ্ঞানের তিনটি পর্যায় ( যেকোনো বিজ্ঞানের তিনটি পর্যায় পরীক্ষা,নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্তের মতো) হলো ভারতীয় সনাতন শাস্ত্রাদি, মুনি-ঋষি-মহাত্মা-মহাপুরুষদের যোগ-সাধনা এবং সেই সব মহাপুরুষদের সাধনোত্তর জীবনচর্যা! ভারতীয় যে কোনো মহাত্মা মহাপুরুষের জীবন অর্থাৎ যে কোনো মহাজীবন পর্যালোচনা করলেই দেখা যায় যে, তিনি তাঁর নিজের পূর্ব পূর্ব জীবন সম্বন্ধে অথবা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত নিকটজনদের পূর্ব পূর্ব জীবন সম্বন্ধে কিছু না কিছু কথা বারবার উল্লেখ করেছেন । আমাদের শাস্ত্রেই রয়েছে – “মহাজন গতঃ স পন্থা শ্রেয়ঃ”!– অর্থাৎ মহাজনদের দেখানো পথই শ্রেষ্ঠ পথ, ফলে, তাঁরা যেসব কথা বলে গেছেন সেইগুলোই শ্রেষ্ঠ কথা ,সেইগুলোই “সদা সত্য”- কথা ! ভগবান বুদ্ধ তাঁর পূর্ব পূর্ব জীবন নিয়ে বহু কথা বলেছেন যা “জাতকের গল্প”- নামে প্রকাশিত হয়েছে । আচার্য শঙ্কর তাঁর প্রিয় শিষ্যদের পূর্ব পূর্ব জীবনের উল্লেখ করে – বর্তমান জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন ! ভগবান শ্রীচৈতন্য ভাবাবেশে তার পার্ষদদের- বৃন্দাবনের এক এক সখা বা সখী হিসাবে বা অন্যান্য চরিত্র হিসাবে বর্ণনা করতেন এবং তাদের সাথে মাঝে মাঝেই সেইরূপ লীলা করতেন ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তাঁর বিভিন্ন পার্ষদ সম্পর্কে পূর্ব পূর্ব জীবনের উল্লেখ করেছেন । নরেন্দ্রনাথকে সপ্তর্ষিমণ্ডলের ঋষি, স্বামী ব্রহ্মানন্দকে ব্রজের রাখাল, যোগীন্দ্রকে অর্জুন ইত্যাদি তো বলেছেনই – কথামৃতকার ‘শ্রীম’-কে,বলরাম বসুকে বলেছেন – ” তোমাদের চৈতন্যের দলে দেখেছিলুম!”
[এই প্রসঙ্গে আরও কথা হবে] … (ক্রমশঃ)
সেদিন যখন কথাটা গুরুমহারাজের কাছে শুনেছিলাম – তখন সত্যি সত্যিই অবাক হয়ে গিয়েছিলাম ! মনে হয়েছিল – ‘এটা আবার কি কথা শুনলাম?’ “জন্মান্তর বিজ্ঞান”!! – জীবনবিজ্ঞান, ভৌতবিজ্ঞান, রসায়নবিজ্ঞান, ইত্যাদি জড়বিজ্ঞানের নাম অনেক শুনেছিলাম, কিন্তু গুরুমহারাজের কাছেই প্রথম শুনেছিলাম – মনোবিজ্ঞান, প্রাণবিজ্ঞান, আধ্যাত্মবিজ্ঞান – ইত্যাদি শব্দগুলি ! এই শব্দগুলিও যখন শুনতাম তখনও অবাক হতাম – কারণ এই শব্দগুলি আগে কখনো শুনিনি, এবং ভাবতাম গুরুমহারাজ মহাজ্ঞানী, মহাপুরুষ – উনি এইসব শব্দ ব্যবহার করেই হয়তো কথা বলেন ! জ্ঞানীদের ভাষা হয়তো আমাদের মতন সাধারণ মানুষের ভাষা থেকে আলাদা হয় !
কিন্তু যখন গুরুমহারাজ এই সমস্ত শব্দগুলি একটা একটা করে ব্যাখ্যার সাহায্যে বুঝিয়ে বলে দিতেন – তখন বুঝতে পারতাম যে, গুরুমহারাজ ওই যে শব্দগুলি ব্যবহার করছেন – ঐগুলিই তো সঠিক – সবারই উচিত এই শব্দগুলি ব্যবহার করা ! আমরা যখন স্কুলে পড়তাম (১৯৭৭/৭৮) তখনো ‘সাইকোলজি’র বাংলা করা হতো ‘মনোবিদ্যা’– পরে দেখেছি ‘মনোবিজ্ঞান’-ই বলা হয় ৷ যাইহোক, পরবর্তীতে গুরুমহারাজের কাছে শিখেছিলাম যে, বিশেষ জ্ঞান-ই বিজ্ঞান ! সেই অর্থে যে কোন বিষয়ের, যে কোন শাখার বিশেষ জ্ঞান-ই বিজ্ঞান । এইভাবেই যেমন বস্তু বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা, তেমনই জীবন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার উৎপত্তি হয়েছে । গুরুমহারাজ বলেছিলেন যেকোন বৈজ্ঞানিক গবেষণার তিনটি স্তর রয়েছে – পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষা এবং সিদ্ধান্ত বা প্রয়োগ । ফলে এই তিনটি ধাপ সঠিকভাবে যেসব ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করে succesful হওয়া যায় – তাই বিজ্ঞান !
এইভাবে গুরুমহারাজ বলেছিলেন “আধ্যাত্মিক বিজ্ঞান”! কারণ এরও তিনটি ধাপ রয়েছে এবং succesfully প্রয়োগ রয়েছে । আ
অধ্যাত্ম বিজ্ঞানের তিনটি ধাপ হলো – দর্শন(শাস্ত্রাদি), সাধন-ভজন-যোগ, তন্ত্র-নিঃস্বার্থ সেবাকর্ম-সৎসঙ্গ-প্রবচন !
এইসব কথা গুরুমহারাজের কাছে শুনে শুনে আমরা ব্যাপারটা বুঝে গিয়েছিলাম । কিন্তু যেদিন উনি ”জন্মান্তরবাদ নয় জন্মান্তর বিজ্ঞান”– এই কথাটা বলেছিলেন, সেদিন প্রকৃত অর্থেই চমকে উঠেছিলাম ! একে তো সহস্র সহস্র মানুষ “জন্মান্তর” ব্যাপারটাই বোঝে না – একমাত্র বৌদ্ধরা মানে আর সনাতনপন্থীদের কেউ কেউ মানে – বাকিরা তো মানেই না ! যারাও বা মানে – তারা ‘জন্মান্তরবাদ’ কথাটাই ব্যবহার করে, – সেখানে “জন্মান্তর বিজ্ঞান”!! হজম করতে একটু সময় লেগেছিল ! এরপর যখন গুরুমহারাজ বিভিন্ন angle থেকে বুঝিয়ে বুঝিয়ে বলেছিলেন, তখনই তা হৃদয়ঙ্গম হয়েছিল । আর যেটুকু হয়েছিল সেইটুকুই আপনাদের সবার সাথে শেয়ার করার চেষ্টা করছি !
জন্মান্তরবিজ্ঞানের তিনটি পর্যায় ( যেকোনো বিজ্ঞানের তিনটি পর্যায় পরীক্ষা,নিরীক্ষা ও সিদ্ধান্তের মতো) হলো ভারতীয় সনাতন শাস্ত্রাদি, মুনি-ঋষি-মহাত্মা-মহাপুরুষদের যোগ-সাধনা এবং সেই সব মহাপুরুষদের সাধনোত্তর জীবনচর্যা! ভারতীয় যে কোনো মহাত্মা মহাপুরুষের জীবন অর্থাৎ যে কোনো মহাজীবন পর্যালোচনা করলেই দেখা যায় যে, তিনি তাঁর নিজের পূর্ব পূর্ব জীবন সম্বন্ধে অথবা তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত নিকটজনদের পূর্ব পূর্ব জীবন সম্বন্ধে কিছু না কিছু কথা বারবার উল্লেখ করেছেন । আমাদের শাস্ত্রেই রয়েছে – “মহাজন গতঃ স পন্থা শ্রেয়ঃ”!– অর্থাৎ মহাজনদের দেখানো পথই শ্রেষ্ঠ পথ, ফলে, তাঁরা যেসব কথা বলে গেছেন সেইগুলোই শ্রেষ্ঠ কথা ,সেইগুলোই “সদা সত্য”- কথা ! ভগবান বুদ্ধ তাঁর পূর্ব পূর্ব জীবন নিয়ে বহু কথা বলেছেন যা “জাতকের গল্প”- নামে প্রকাশিত হয়েছে । আচার্য শঙ্কর তাঁর প্রিয় শিষ্যদের পূর্ব পূর্ব জীবনের উল্লেখ করে – বর্তমান জীবনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করেছেন ! ভগবান শ্রীচৈতন্য ভাবাবেশে তার পার্ষদদের- বৃন্দাবনের এক এক সখা বা সখী হিসাবে বা অন্যান্য চরিত্র হিসাবে বর্ণনা করতেন এবং তাদের সাথে মাঝে মাঝেই সেইরূপ লীলা করতেন ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণও তাঁর বিভিন্ন পার্ষদ সম্পর্কে পূর্ব পূর্ব জীবনের উল্লেখ করেছেন । নরেন্দ্রনাথকে সপ্তর্ষিমণ্ডলের ঋষি, স্বামী ব্রহ্মানন্দকে ব্রজের রাখাল, যোগীন্দ্রকে অর্জুন ইত্যাদি তো বলেছেনই – কথামৃতকার ‘শ্রীম’-কে,বলরাম বসুকে বলেছেন – ” তোমাদের চৈতন্যের দলে দেখেছিলুম!”
[এই প্রসঙ্গে আরও কথা হবে] … (ক্রমশঃ)
