[শ্রীকৃষ্ণ দর্শনের পরবর্তী অংশ]
…এই অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী নন্দের নন্দন এবং বৃন্দাবনের নায়ক তার সামনে নাচছেন। স্বামীজী তাঁর খুব নিকটে গেলেন। তাকে ছুঁই ছুঁই অবস্থা। ভগবান অন্যদিকে লাফিয়ে পড়লেন। স্বামীজীও এক ঝাঁপে সেখানে গেলেন । গোপালকে অন্য স্থানে দেখা গেল। কৃষ্ণ দৌড়াচ্ছেন। স্বামীজী তাঁর পিছু পিছু ছুটছেন। তাঁরা আশ্রমের চারদিকে ঘুরতে লাগলেন।
রাখাল বালক এবং বৃন্দাবনের গােবিন্দের মতো স্বামীজী এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চারদিকে দৌড়তে লাগলেন তারা কি লুকোচুরি খেলছিলেন ? স্বামীজী ক্লান্ত হয়ে উঠলেন। তিনি আর দৌড়তে পারলেন না। তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন “কৃষ্ণ থাম”! ছেলে দৌড়াদৌড়ি করলে মা যেমন থামিয়ে দেন সেইরকম ভক্তের কথায় শ্রীকৃষ্ণ থেমে গেলেন। কৃষ্ণ থামলেন এবং স্বামীজী নয়নভরে তাঁকে দেখলেন। সর্বেসর্বার জাগতিক শরীরের মোহিনীরূপ তিনি দর্শন করলেন। আনন্দের প্রতিমূর্তি, নন্দের বীর সন্তান, বৃন্দাবনের গোবিন্দের মধ্যে স্বামীজী কংসের নিধনকারী, দৈত্যদানব, রাক্ষসজয়ী, দুষ্টের দমনকারীকে দর্শন করলেন।
অনুপম সৌন্দর্যমণ্ডিত বদন, মনভোলানো স্মিত হাসি। ঐ কৃষ্ণের মধ্যেই তিনি দেখলেন—দানব জয়ের হিংস্রতা, যুদ্ধক্ষেত্রের পার্থসারথি । জগৎপিতাকে দেখে স্বামীজী বলে উঠলেন- “এখানে আর থাকতে পারছি না। তোমার সঙ্গে আমাকে নিয়ে চল।” “না, এখন নয়”- ভগবান উত্তর দিলেন। “তোমার অনেক কাজ আছে। সেগুলি তাড়াতাড়ি সমাধা কর। সক্রিয় হও এবং লক্ষ্যে পৌছাও।”
“মানুষের ইচ্ছার বশবর্তী না হয়ে এ জগতে কিছুই করার নাই। এই ধরণের সমৰ্পণ আমি পছন্দ করি না।”
“তোমার অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য তা তুমি উপেক্ষা করতে পার না। ধর্ম পুনঃস্থাপনের জন্য এবং তোমার লক্ষ্যে পৌঁছুবার জন্য তােমাকে কৌশলে মানুষের বশবর্তী হতে হবে।”
শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাব দেখে স্বামীজীর ভাব দৃঢ় হল। করজোড়ে এবং অবনত মস্তকে শ্রীকৃষ্ণকে তিনি প্রণাম জানালেন। শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্হিত হলেন। স্বামীজী কুটীরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন।
পরের দিন পূজার পর স্বামীজী যেখানে উপজাতিদের ইনজেকসন দেওয়া হচ্ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রোগীদের কিছুটা ভয় দেখিয়ে তাদেরকে ইনজেকসন নেওয়ার জন্য প্রবৃত্ত করছিলেন। এইভাবে সকল রোগীকে ইনজেকসন নেওয়া করালেন। স্বামীজী যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেথনে বিশ্বাসমের মেজ ছেলে এল। তাঁর চোখ লাল। তার খুব আনন্দ । সে বলে উঠল “স্বামী, গত রাত্রে আপনাকে কৃষ্ণের পিছনে পিছনে ছুটতে দেখেছি। আমি আপনাকে কথা বলতে শুনেছি।” এই বলে সে কাঁপতে লাগল । সকলে হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ নীরব রইল। স্বামীজী তার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করলেন।
উৎসবের সময় সহুকার আশ্রমে আসে নাই। ধাক্কা খেয়ে ঝর্ণার জলে পড়ার পর সে এবং তাঁর সহকারী কেউই আশ্রমে আসে নাই। সে নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য তখনও নানারকম চেষ্টা করে চলেছে। সে এই বলে গুজব ছড়াল যে, স্বামীজী একজন কমিউনিষ্ট বিপ্লবী এবং ভণ্ড সন্ন্যাসী। তিনি গল্পের পর গল্প নিয়েই চলেছেন। আর এই গল্পগুলাে ওয়াডিগুডেম থেকে ছড়ানো হচ্ছে। লােকে তাদের মনের মতন করে এই গল্প ছড়াচ্ছে। [ক্রমশঃ]
…এই অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারী নন্দের নন্দন এবং বৃন্দাবনের নায়ক তার সামনে নাচছেন। স্বামীজী তাঁর খুব নিকটে গেলেন। তাকে ছুঁই ছুঁই অবস্থা। ভগবান অন্যদিকে লাফিয়ে পড়লেন। স্বামীজীও এক ঝাঁপে সেখানে গেলেন । গোপালকে অন্য স্থানে দেখা গেল। কৃষ্ণ দৌড়াচ্ছেন। স্বামীজী তাঁর পিছু পিছু ছুটছেন। তাঁরা আশ্রমের চারদিকে ঘুরতে লাগলেন।
রাখাল বালক এবং বৃন্দাবনের গােবিন্দের মতো স্বামীজী এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চারদিকে দৌড়তে লাগলেন তারা কি লুকোচুরি খেলছিলেন ? স্বামীজী ক্লান্ত হয়ে উঠলেন। তিনি আর দৌড়তে পারলেন না। তিনি চিৎকার করে বলে উঠলেন “কৃষ্ণ থাম”! ছেলে দৌড়াদৌড়ি করলে মা যেমন থামিয়ে দেন সেইরকম ভক্তের কথায় শ্রীকৃষ্ণ থেমে গেলেন। কৃষ্ণ থামলেন এবং স্বামীজী নয়নভরে তাঁকে দেখলেন। সর্বেসর্বার জাগতিক শরীরের মোহিনীরূপ তিনি দর্শন করলেন। আনন্দের প্রতিমূর্তি, নন্দের বীর সন্তান, বৃন্দাবনের গোবিন্দের মধ্যে স্বামীজী কংসের নিধনকারী, দৈত্যদানব, রাক্ষসজয়ী, দুষ্টের দমনকারীকে দর্শন করলেন।
অনুপম সৌন্দর্যমণ্ডিত বদন, মনভোলানো স্মিত হাসি। ঐ কৃষ্ণের মধ্যেই তিনি দেখলেন—দানব জয়ের হিংস্রতা, যুদ্ধক্ষেত্রের পার্থসারথি । জগৎপিতাকে দেখে স্বামীজী বলে উঠলেন- “এখানে আর থাকতে পারছি না। তোমার সঙ্গে আমাকে নিয়ে চল।” “না, এখন নয়”- ভগবান উত্তর দিলেন। “তোমার অনেক কাজ আছে। সেগুলি তাড়াতাড়ি সমাধা কর। সক্রিয় হও এবং লক্ষ্যে পৌছাও।”
“মানুষের ইচ্ছার বশবর্তী না হয়ে এ জগতে কিছুই করার নাই। এই ধরণের সমৰ্পণ আমি পছন্দ করি না।”
“তোমার অভীষ্ট সিদ্ধির জন্য তা তুমি উপেক্ষা করতে পার না। ধর্ম পুনঃস্থাপনের জন্য এবং তোমার লক্ষ্যে পৌঁছুবার জন্য তােমাকে কৌশলে মানুষের বশবর্তী হতে হবে।”
শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাব দেখে স্বামীজীর ভাব দৃঢ় হল। করজোড়ে এবং অবনত মস্তকে শ্রীকৃষ্ণকে তিনি প্রণাম জানালেন। শ্রীকৃষ্ণ অন্তর্হিত হলেন। স্বামীজী কুটীরে গিয়ে শুয়ে পড়লেন।
পরের দিন পূজার পর স্বামীজী যেখানে উপজাতিদের ইনজেকসন দেওয়া হচ্ছিল সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। রোগীদের কিছুটা ভয় দেখিয়ে তাদেরকে ইনজেকসন নেওয়ার জন্য প্রবৃত্ত করছিলেন। এইভাবে সকল রোগীকে ইনজেকসন নেওয়া করালেন। স্বামীজী যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেথনে বিশ্বাসমের মেজ ছেলে এল। তাঁর চোখ লাল। তার খুব আনন্দ । সে বলে উঠল “স্বামী, গত রাত্রে আপনাকে কৃষ্ণের পিছনে পিছনে ছুটতে দেখেছি। আমি আপনাকে কথা বলতে শুনেছি।” এই বলে সে কাঁপতে লাগল । সকলে হতবাক হয়ে কিছুক্ষণ নীরব রইল। স্বামীজী তার মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করলেন।
উৎসবের সময় সহুকার আশ্রমে আসে নাই। ধাক্কা খেয়ে ঝর্ণার জলে পড়ার পর সে এবং তাঁর সহকারী কেউই আশ্রমে আসে নাই। সে নিজের প্রতিষ্ঠার জন্য তখনও নানারকম চেষ্টা করে চলেছে। সে এই বলে গুজব ছড়াল যে, স্বামীজী একজন কমিউনিষ্ট বিপ্লবী এবং ভণ্ড সন্ন্যাসী। তিনি গল্পের পর গল্প নিয়েই চলেছেন। আর এই গল্পগুলাে ওয়াডিগুডেম থেকে ছড়ানো হচ্ছে। লােকে তাদের মনের মতন করে এই গল্প ছড়াচ্ছে। [ক্রমশঃ]
