গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বনগ্রাম পরমানন্দ মিশনে বা অন্যত্র বিভিন্ন সিটিংয়ে পুনর্জন্ম, জন্মান্তর ইত্যাদি নিয়ে যেসব কথা বলতেন – সেইগুলোই এখানে আলোচনা করা হচ্ছিল। অবশ্যই আমি নিজে যেটুকু শুনেছি – তারমধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে এই আলোচনা। এর বাইরেও পরমপ্রভু পরমানন্দ আরও কত কী-ই যে বলেছেন – তা যারা পূণ্যবান, ধন্য শ্রোতারা তখন উপস্থিত থাকতো – তারা শুনে থাকবেন। আর তাদের মধ্যে যদি কেউ কেউ কিছু কোনদিন প্রকাশ করে থাকেন – তাহলে আপনারাও সেগুলি জানতে পারবেন !
তবে, ইতিমধ্যেই রমেন চক্রবর্তী, গঙ্গানারায়ণ ব্যানার্জি, স্বামী স্বরূপানন্দ, লিটল্ শান্তি, জয়দীপ, দিল্লির ডঃ সুধীর গৌড় – প্রমুখরা গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের বলা অনেক কথা পুস্তক আকারে প্রকাশ করেছেন। অতিসম্প্রতি খবর পেয়েছি নরওয়ের পরমানন্দ ভক্ত বেয়র্ণ পিটারসন্ স্বামী পরমানন্দকে নিয়ে প্রায় ৫৫০ পাতার একটা পুস্তক রচনা করে ফেলেছেন – তা শুধু এখন প্রকাশের অপেক্ষা ! বনগ্রাম আশ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সমস্ত গ্রন্থগুলি পাঠ করেও স্বামী পরমানন্দের বলা অনেক কথাই জানতে পারেন এবং সেখানে নিশ্চয়ই পুনর্জন্ম, পরজন্ম বা জন্মান্তর-বিজ্ঞান সংক্রান্ত অনেক আলোচনাই রয়েছে – তাই সেগুলোও জানতে পারবেন !
এখন আমরা আমাদের আলোচনাতেই ফিরে যাই। ভারতীয় প্রাচীন পরম্পরা বা প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে যে কোন ভারতীয়রই বিশ্বাস হওয়া উচিত ! কেন সে নিজের মা-কে অবহেলা করে অন্যের মা-কে সম্মান দেবে ? অন্যের মা-কেও শ্রদ্ধা করো, সম্মান করো – কিন্তু নিজের মা-কে আগে শ্রদ্ধা ও সম্মান করো, আগে তাঁকে মর্যাদার আসনে বসাও – তারপর তো বাইরে যাবে ! বিদেশী দর্শনেও রয়েছে – Charity begins at home, আর ভারতীয় শাস্ত্রে রয়েছে – “মাতৃদেবো ভবঃ, পিতৃদেবো ভবঃ, আচার্যদেবো ভবঃ, অতিথিদেবো ভবঃ”! দেখুন – এখানে আগে রয়েছে মাতা এবং পিতার কথা, তারপর আচার্য বা শিক্ষক বা অতিথির কথা – অর্থাৎ আগে ঘরের কথা – তারপর অপরের কথা ! আবার দেখুন – ভারতীয় শাস্ত্রে রয়েছে – “জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী”! সেখানে জননী এবং জন্মভূমিকে প্রায় একই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে ! তাহলে আমরা যারা ভারতীয় – তারা ভারতীয় ঋষি, মহাজন, মহাত্মা, মহাপুরুষদের কথাই তো আগে মেনে চলবো – তারপর অন্যান্য দেশের মনীষীদের কথা শুনবো। তারমধ্যে শ্রবণযোগ্য কিছু থাকলে অবশ্যই তা গ্রহণ করবো, নাহলে বর্জন করবো – এই তো পরিষ্কার কথা ! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ একবার আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন – ” যে বিদেশি দর্শনের প্রয়োগ ৭০ বছরের বেশি টিকলো না – আমাদের এখানকার কিছু তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তি – সেইটাকে এখনো আঁকড়ে ধরে বসে রয়েছে ! অথচ ভারতীয় ঋষিদের শিক্ষা, বেদ-উপনিষদ-গীতার শিক্ষা, মহাকাব্য-পুরাণাদির সামাজিক শিক্ষা – কত হাজার হাজার বছর ধরে সমাজে চলে আসছে এবং এই শিক্ষার যেখানেই প্রয়োগ হয়েছে সেখানেই individual-এর এবং সমাজের মঙ্গল হয়েছে, কিন্তু এই মানুষগুলো সেখান থেকে চোখ ফিরিয়ে রয়েছে ! এগুলো অজ্ঞতা নয় – এগুলো আহাম্মকি !”
হ্যাঁ, গুরুমহারাজ এই ধরনের মানুষদের উদ্দেশ্যে “আহাম্মক” কথাটাই ব্যবহার করতেন। জন্মান্তর, পুনর্জন্ম, পরজন্ম নিয়ে আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রগুলিতে প্রচুর উল্লেখ রয়েছে ৷ “রথযাত্রা” প্রসঙ্গে রয়েছে – ” রথে তু বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে !” যদিও গুরুমহারাজ এর ব্যাখ্যা করেছিলেন – ” ‘রথ’ বলতে এখানে মানবদেহকে বলা হয়েছে, আর ‘বামন’ বা ঈশ্বর বলতে স্বয়ং ‘দেহী’ বাবা ‘আত্মা’-কে বলা হয়েছে ! সাধনার দ্বারা যখন কোন সাধক আত্মতত্ত্বের বোধ করেন – তখন তাকে আর জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে ফিরে আসতে হয় না – এটাই যথার্থ ব্যাখ্যা ।”
উপনিষদ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা ইত্যাদি প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতেও পুনর্জন্মের উল্লেখ রয়েছে । সত্যযুগের ‘নর’ এবং ‘নারায়ণ’ নামক দুইজন ঋষিই দ্বাপরে অর্জুন এবং শ্রীকৃষ্ণরূপে শরীর ধারণ করেছেন – এইরূপ কথাও মহাভারতে লেখা রয়েছে । বহু এমন ঘটনা রয়েছে যেখানে অভিশাপগ্রস্ত হয়ে পুনরায় জন্মগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে । ত্রেতার সূর্পনখাই দ্বাপরের কুব্জা এবং তিনি পূর্বজন্মের চাওয়া মতো শ্রীকৃষ্ণ মহিষী হয়েছিলেন, বালিপুত্র অঙ্গদ জ্বরা ব্যাধরূপে শরীর ধারণ করে আড়াল থেকে তীর মেরে পিতৃহত্যার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া সম্পন্ন করে – ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্থূলশরীরের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন – এইসব উল্লেখও রয়েছে । সুতরাং প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি জানতে গেলে জন্মান্তর, পুনর্জন্ম বা পরজন্ম এগুলি মানতেই হবে ! [ক্রমশঃ]
তবে, ইতিমধ্যেই রমেন চক্রবর্তী, গঙ্গানারায়ণ ব্যানার্জি, স্বামী স্বরূপানন্দ, লিটল্ শান্তি, জয়দীপ, দিল্লির ডঃ সুধীর গৌড় – প্রমুখরা গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দের বলা অনেক কথা পুস্তক আকারে প্রকাশ করেছেন। অতিসম্প্রতি খবর পেয়েছি নরওয়ের পরমানন্দ ভক্ত বেয়র্ণ পিটারসন্ স্বামী পরমানন্দকে নিয়ে প্রায় ৫৫০ পাতার একটা পুস্তক রচনা করে ফেলেছেন – তা শুধু এখন প্রকাশের অপেক্ষা ! বনগ্রাম আশ্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এই সমস্ত গ্রন্থগুলি পাঠ করেও স্বামী পরমানন্দের বলা অনেক কথাই জানতে পারেন এবং সেখানে নিশ্চয়ই পুনর্জন্ম, পরজন্ম বা জন্মান্তর-বিজ্ঞান সংক্রান্ত অনেক আলোচনাই রয়েছে – তাই সেগুলোও জানতে পারবেন !
এখন আমরা আমাদের আলোচনাতেই ফিরে যাই। ভারতীয় প্রাচীন পরম্পরা বা প্রাচীন সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে যে কোন ভারতীয়রই বিশ্বাস হওয়া উচিত ! কেন সে নিজের মা-কে অবহেলা করে অন্যের মা-কে সম্মান দেবে ? অন্যের মা-কেও শ্রদ্ধা করো, সম্মান করো – কিন্তু নিজের মা-কে আগে শ্রদ্ধা ও সম্মান করো, আগে তাঁকে মর্যাদার আসনে বসাও – তারপর তো বাইরে যাবে ! বিদেশী দর্শনেও রয়েছে – Charity begins at home, আর ভারতীয় শাস্ত্রে রয়েছে – “মাতৃদেবো ভবঃ, পিতৃদেবো ভবঃ, আচার্যদেবো ভবঃ, অতিথিদেবো ভবঃ”! দেখুন – এখানে আগে রয়েছে মাতা এবং পিতার কথা, তারপর আচার্য বা শিক্ষক বা অতিথির কথা – অর্থাৎ আগে ঘরের কথা – তারপর অপরের কথা ! আবার দেখুন – ভারতীয় শাস্ত্রে রয়েছে – “জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী”! সেখানে জননী এবং জন্মভূমিকে প্রায় একই মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে ! তাহলে আমরা যারা ভারতীয় – তারা ভারতীয় ঋষি, মহাজন, মহাত্মা, মহাপুরুষদের কথাই তো আগে মেনে চলবো – তারপর অন্যান্য দেশের মনীষীদের কথা শুনবো। তারমধ্যে শ্রবণযোগ্য কিছু থাকলে অবশ্যই তা গ্রহণ করবো, নাহলে বর্জন করবো – এই তো পরিষ্কার কথা ! গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ একবার আক্ষেপের সুরে বলেছিলেন – ” যে বিদেশি দর্শনের প্রয়োগ ৭০ বছরের বেশি টিকলো না – আমাদের এখানকার কিছু তথাকথিত শিক্ষিত ব্যক্তি – সেইটাকে এখনো আঁকড়ে ধরে বসে রয়েছে ! অথচ ভারতীয় ঋষিদের শিক্ষা, বেদ-উপনিষদ-গীতার শিক্ষা, মহাকাব্য-পুরাণাদির সামাজিক শিক্ষা – কত হাজার হাজার বছর ধরে সমাজে চলে আসছে এবং এই শিক্ষার যেখানেই প্রয়োগ হয়েছে সেখানেই individual-এর এবং সমাজের মঙ্গল হয়েছে, কিন্তু এই মানুষগুলো সেখান থেকে চোখ ফিরিয়ে রয়েছে ! এগুলো অজ্ঞতা নয় – এগুলো আহাম্মকি !”
হ্যাঁ, গুরুমহারাজ এই ধরনের মানুষদের উদ্দেশ্যে “আহাম্মক” কথাটাই ব্যবহার করতেন। জন্মান্তর, পুনর্জন্ম, পরজন্ম নিয়ে আমাদের প্রাচীন শাস্ত্রগুলিতে প্রচুর উল্লেখ রয়েছে ৷ “রথযাত্রা” প্রসঙ্গে রয়েছে – ” রথে তু বামনং দৃষ্টা পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে !” যদিও গুরুমহারাজ এর ব্যাখ্যা করেছিলেন – ” ‘রথ’ বলতে এখানে মানবদেহকে বলা হয়েছে, আর ‘বামন’ বা ঈশ্বর বলতে স্বয়ং ‘দেহী’ বাবা ‘আত্মা’-কে বলা হয়েছে ! সাধনার দ্বারা যখন কোন সাধক আত্মতত্ত্বের বোধ করেন – তখন তাকে আর জন্ম-মৃত্যুর আবর্তে ফিরে আসতে হয় না – এটাই যথার্থ ব্যাখ্যা ।”
উপনিষদ, শ্রীমদ্ভগবদগীতা ইত্যাদি প্রাচীন ধর্মগ্রন্থগুলিতেও পুনর্জন্মের উল্লেখ রয়েছে । সত্যযুগের ‘নর’ এবং ‘নারায়ণ’ নামক দুইজন ঋষিই দ্বাপরে অর্জুন এবং শ্রীকৃষ্ণরূপে শরীর ধারণ করেছেন – এইরূপ কথাও মহাভারতে লেখা রয়েছে । বহু এমন ঘটনা রয়েছে যেখানে অভিশাপগ্রস্ত হয়ে পুনরায় জন্মগ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে । ত্রেতার সূর্পনখাই দ্বাপরের কুব্জা এবং তিনি পূর্বজন্মের চাওয়া মতো শ্রীকৃষ্ণ মহিষী হয়েছিলেন, বালিপুত্র অঙ্গদ জ্বরা ব্যাধরূপে শরীর ধারণ করে আড়াল থেকে তীর মেরে পিতৃহত্যার ঠিক বিপরীত ক্রিয়া সম্পন্ন করে – ভগবান শ্রীকৃষ্ণের স্থূলশরীরের মৃত্যুর কারণ হয়েছিলেন – এইসব উল্লেখও রয়েছে । সুতরাং প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতি জানতে গেলে জন্মান্তর, পুনর্জন্ম বা পরজন্ম এগুলি মানতেই হবে ! [ক্রমশঃ]
