রেড্ডিজাতির সমাজব্যবস্থা}
হেমনডরফের পুস্তকে উল্লেখ আছে বাউলানন্দজী গোপালা কানাইয়া রেড্ডির নামে বাঁশের যে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাতে কৃতকার্য হয়েছিলেন । তিনি আশানুরূপ আর্থিক উন্নতি সাধন করতে পেরেছিলেন । এই আর্থিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে রেড্ডিদের মানসিক উন্নতি হওয়ার ফলে তাদের জীবনে যে পরিবর্তন দেখা দিল, তা সত্যিই প্রশংসনীয় !
প্রথম বছরের শেষে তিনি শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে অবস্থান পর্যালোচনা করে বেশ সন্তুষ্টি লাভ করলেন। বহু তালুকে রেড্ডিদের সমস্যা ছিল । কিন্তু তাঁরা মাত্র দুটি গ্রামের আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারলেন । সুতরাং তাঁরা অন্যান্য এলাকায় এই ব্যবস্থা প্রচলন করার চেষ্টা করলেন । এই ব্যবসা কোনো ব্যক্তিবিশেষের নামে করার পরিবর্তে একটা সংগঠনের মাধ্যমে তিনি করতে চাইলেন । স্বামী বাউলানন্দ, যিনি সংগঠনের সংগঠক এবং সভাপতি, তাঁকে নিয়ে Poverty Relief Service স্থাপিত হলো । সুব্রহ্মণ্যম, সীতারাম, রাজু, বাসুদেব এবং অন্যান্য কয়েকজন প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করলেন ।
এই Poverty Relief Service শুরু হওয়ার বাঁশের ব্যবসায় জড়িত বণিকেরা খুশি হতে পারল না । এরা স্থান-কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারল না । তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে জেনেও তারা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল । নীলামে তারা প্রতিযোগিতা করল এবং বড় অঙ্কের টাকা ডাক দিতে লাগলো। Poverty Relief Service পিছু হটল না এই সংগঠন তাদের আবশ্যক মত দু’তিনটে coupe পেয়ে গেল ।
আর্থিক উন্নয়ন প্রকল্প চালু হওয়ার সাথে সাথে রেড্ডিদের চর্মরোগ উচ্ছেদের কাজ চলতে লাগলো । কয়েকজন মহিলা যেমন সীতাম্মা, রামকৃষ্ণনন্দনম, অন্নপূর্ণা মা এবং রমনা মা আশ্রমে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে লাগলেন । কয়েক জন পুরুষও আশ্রমে রইলেন। এইভাবে আশ্রমের কাজ বিভিন্ন দিক দিয়ে বিস্তৃত হতে লাগলো।
এই সমস্ত কাজের ফলে আশ্রমের শান্তি বিঘ্নিত হয় নাই । যারা এই কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন তারা প্রয়োজন মাফিক সবকিছু আশ্রমকে সরবরাহ করতে লাগলেন।
একদিন সন্ধ্যাবেলায় স্বামীজী যখন স্নানে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ করছিলেন, তখন তিনি এক দেববাণী শুনতে পেলেন । এই দেববাণী তাঁকে নদীর ধারে দণ্ডায়মান বালিকার নিকট গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিল এবং আদেশ দিল মেয়েটির সমস্যার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে চিরতরে ঐ অবিচার বন্ধ করতে হবে । স্বামীজী নদীর ধারে গিয়ে দেখলেন একটি মেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দ্রুতবেগে সেখানে গেলেন। গিয়ে দেখলেন একটি মেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চাইছিল। কিন্তু মৃত্যুকে ভয় করছিল। বাঁচার ইচ্ছা তার ছিল না। হতবুদ্ধি অবস্থায় সে দাঁড়িয়ে ছিল। কি করবে_তা সে ঠিক করতে পারছিলো না_ কেবল কাঁদছিল ! স্বামীজী তাঁর নিকট গিয়ে কথা বললেন । এতে মেয়েটি আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। [ক্রমশঃ]
হেমনডরফের পুস্তকে উল্লেখ আছে বাউলানন্দজী গোপালা কানাইয়া রেড্ডির নামে বাঁশের যে ব্যবসা শুরু করেছিলেন তাতে কৃতকার্য হয়েছিলেন । তিনি আশানুরূপ আর্থিক উন্নতি সাধন করতে পেরেছিলেন । এই আর্থিক উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে রেড্ডিদের মানসিক উন্নতি হওয়ার ফলে তাদের জীবনে যে পরিবর্তন দেখা দিল, তা সত্যিই প্রশংসনীয় !
প্রথম বছরের শেষে তিনি শিষ্যদের সঙ্গে নিয়ে অবস্থান পর্যালোচনা করে বেশ সন্তুষ্টি লাভ করলেন। বহু তালুকে রেড্ডিদের সমস্যা ছিল । কিন্তু তাঁরা মাত্র দুটি গ্রামের আর্থিক সমস্যার সমাধান করতে পারলেন । সুতরাং তাঁরা অন্যান্য এলাকায় এই ব্যবস্থা প্রচলন করার চেষ্টা করলেন । এই ব্যবসা কোনো ব্যক্তিবিশেষের নামে করার পরিবর্তে একটা সংগঠনের মাধ্যমে তিনি করতে চাইলেন । স্বামী বাউলানন্দ, যিনি সংগঠনের সংগঠক এবং সভাপতি, তাঁকে নিয়ে Poverty Relief Service স্থাপিত হলো । সুব্রহ্মণ্যম, সীতারাম, রাজু, বাসুদেব এবং অন্যান্য কয়েকজন প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করলেন ।
এই Poverty Relief Service শুরু হওয়ার বাঁশের ব্যবসায় জড়িত বণিকেরা খুশি হতে পারল না । এরা স্থান-কালের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের পরিবর্তন করতে পারল না । তাদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে জেনেও তারা এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াল । নীলামে তারা প্রতিযোগিতা করল এবং বড় অঙ্কের টাকা ডাক দিতে লাগলো। Poverty Relief Service পিছু হটল না এই সংগঠন তাদের আবশ্যক মত দু’তিনটে coupe পেয়ে গেল ।
আর্থিক উন্নয়ন প্রকল্প চালু হওয়ার সাথে সাথে রেড্ডিদের চর্মরোগ উচ্ছেদের কাজ চলতে লাগলো । কয়েকজন মহিলা যেমন সীতাম্মা, রামকৃষ্ণনন্দনম, অন্নপূর্ণা মা এবং রমনা মা আশ্রমে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে লাগলেন । কয়েক জন পুরুষও আশ্রমে রইলেন। এইভাবে আশ্রমের কাজ বিভিন্ন দিক দিয়ে বিস্তৃত হতে লাগলো।
এই সমস্ত কাজের ফলে আশ্রমের শান্তি বিঘ্নিত হয় নাই । যারা এই কাজের জন্য অর্থ সংগ্রহ করছিলেন তারা প্রয়োজন মাফিক সবকিছু আশ্রমকে সরবরাহ করতে লাগলেন।
একদিন সন্ধ্যাবেলায় স্বামীজী যখন স্নানে যাওয়ার জন্য উদ্যোগ করছিলেন, তখন তিনি এক দেববাণী শুনতে পেলেন । এই দেববাণী তাঁকে নদীর ধারে দণ্ডায়মান বালিকার নিকট গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করার নির্দেশ দিল এবং আদেশ দিল মেয়েটির সমস্যার ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে চিরতরে ঐ অবিচার বন্ধ করতে হবে । স্বামীজী নদীর ধারে গিয়ে দেখলেন একটি মেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দ্রুতবেগে সেখানে গেলেন। গিয়ে দেখলেন একটি মেয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কাঁদছে।সে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করতে চাইছিল। কিন্তু মৃত্যুকে ভয় করছিল। বাঁচার ইচ্ছা তার ছিল না। হতবুদ্ধি অবস্থায় সে দাঁড়িয়ে ছিল। কি করবে_তা সে ঠিক করতে পারছিলো না_ কেবল কাঁদছিল ! স্বামীজী তাঁর নিকট গিয়ে কথা বললেন । এতে মেয়েটি আরো জোরে জোরে কাঁদতে লাগলো। [ক্রমশঃ]
