গুরুমহারাজ স্বামী পরমানন্দ বিভিন্ন সিটিং-এ প্রাচীন ভারতবর্ষের গৌরবোজ্জ্বল দিকগুলি তুলে ধরতেন। উনি প্রাচীন শাস্ত্রাদির গৌরবের দিক, প্রাচীন ভারতের মুনি-ঋষিদের বা বিভিন্ন মহাত্মা-মহাপুরুষদের গৌরবের দিক এবং সেইসব শাস্ত্রাদির শিক্ষা ও মহাপুরুষদের শিক্ষার গৌরবের দিকগুলিও বারবার তাঁর আলোচনায় ফিরিয়ে আনতেন। গুরুমহারাজ যুক্তি-তথ্য ইত্যাদির সাহায্যে প্রমাণ দিয়ে উপস্থিত সকলকে ব্যাপারগুলি সহজেই বুঝিয়ে দিতেন। তাঁর এই অক্লান্ত প্রচেষ্টার এতোটুকু দামও যদি আমরা না দিতে পারি তাহলে সেটা আমাদেরই ব্যর্থতা – আমাদেরই আহাম্মকি ! অবশ্য এই কাজটাই আমরা বহুদিন ধরেই করে আসছি ! স্বামী বিবেকানন্দও তো পৃথিবীর অনেকটা অংশই ঘুরে ঘুরে এই কথাগুলোই বলেছিলেন, উনিও তো প্রাচীন ভারতবর্ষের গৌরবগাথাই প্রাশ্চাত্যের তৎকালীন উন্নত দেশগুলির শিক্ষায়-প্রযুক্তিতে-অর্থে-সমৃদ্ধিতে উন্নত মানুষগুলির কাছে তুলে ধরেছিলেন। এতে বহু প্রাশ্চাত্যের মানুষ আকৃষ্ট হয়েছিলেন – ভারতবর্ষের মানুষদেরও একটা অংশ স্বামীজীর কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন, কিন্তু এই দেশেরই শিক্ষিতদের একটা বিরাট অংশ, এই দেশেরই বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠনের মানুষজন স্বামীজীকে নিতে পারে নি — আজও নিতে পারে নি !
শুধুই সংকীর্ণতা, সংকীর্ণতা আর সংকীর্ণতা ! আমরা মানুষেরা আমাদের মনোজগতকে সংকুচিত করে একেবারে গুটিয়ে রাখতেই বোধয় বেশি ভালোবাসি, মোটেই চাই না আমাদের মনোজগৎ বিস্তারিত হোক — বিকশিত হোক ! আমি কিছু একটা বুঝেছি, পরিবারগতভাবে বা সংগঠনগতভাবে কোন মত, পথ বা আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছি – ব্যস্, আর চাই কি ? ওইটাকে ধরেই সারাজীবন কাটিয়ে দাও ! আমার মতটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আমার ভাইয়ের সঙ্গে–বন্ধুর সঙ্গে–সমাজের সকলের সঙ্গে ঝগড়া করো মারামারি করো, মারামারি করো, মেরেই ফেলো ! তবু আমি আমার মনোজগতের সংকীর্ণতা থেকে, কুঁকড়ে যাওয়া অবস্থা থেকে – মুক্তি চাই না – আমরা মোটেই চাই না সরীসৃপের ন্যায় কুণ্ডলীকৃত অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে রংবাহারি প্রজাপতির ন্যায় ডানা মেলে উদার আকাশে, মুক্ত বাতাসে উড়ে বেড়াতে ! সেখানে কত আলো, কত মুক্তির স্বাদ, কত বৈচিত্র – আরো কত কি !
এটাও এক ধরনের মানসিক ব্যাধি, মনোকুষ্ঠ ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সহজ-সরল কথাই বলেছিলেন – “আমার ঘড়িটাই ঠিক চলছে, বাকি সব ভুল – এইটা মাতুয়ার বুদ্ধি ! এটা ভালো নয় ! মাঝে মাঝে সূর্য্যঘড়ির সাথে নিজের ঘড়িকে মিলিয়ে নিতে হয় – তাহলেই সঠিক সময় বোঝা যায় !” আমরা কোথায় ভগবানের এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম ! আমরা এখনো তো সমানে আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধি দিয়ে যে যেটুকু বুঝছি – সেইটুকুকেই প্রতিপন্ন করার জন্য – গলার শিরা ফুলিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি ! এ যেন মাটির প্রদীপের আলো দিয়ে সূর্যের ভাস্বরোজ্জ্বলতার ব্যাখ্যা করার চেষ্টা !
কেন একথা বলা হল – এর ব্যাখ্যা গুরুমহারাজ করেছিলেন ! উনি বলেছিলেন একজন সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কের গুরুমস্তিষ্ক আকারে ছোট এবং লঘু মস্তিষ্কের আকার বড় ! যাইহোক, সবমিলিয়ে মস্তিষ্কের ওই অংশের ওজন প্রায় ১১০০ গ্রাম, এরমধ্যে সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ককোষগুলির কমবেশি ১৫০ গ্রামের মতো অংশ ক্রিয়াশীল ! এর সামান্য বেশি ক্রিয়াশীল যাদের __তারাই শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, নাট্যকার, শিক্ষক, উকিল, ডাক্তার, প্রযুক্তিবিদ ইত্যাদিরা ! আর ওই ওজন একটু কম যাদের – তারা আমজনতা ! নিউটন, আইনস্টাইনের মতো মহা মহা বিজ্ঞানীদের হয়তো আরো একটু বেশি মস্তিষ্ককোষ ক্রিয়াশীল ! কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের এই মস্তিষ্ককোষ ছিল একশভাগ ক্রিয়াশীল ! গুরুমহারাজ নিজের কথাও বলেছিলেন – “যদি আমার মস্তিষ্কের কোষকলা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করার সুযোগ পায় – তাহলে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।”
তাহলে বোঝাই গেল – আমরা সাধারন মানুষেরা – তাতে আমরা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, পন্ডিত, উচ্চবর্ণীয় ইত্যাদি যাই হই না কেন – আমাদের জীবনজ্ঞান, প্রকৃতিজ্ঞান, ঈশ্বরজ্ঞান খুবই অল্প – কারণ আমাদের ব্রেন ক্যাপাসিটি-ই কম ! যতদিন পর্যন্ত আমরা নিজেদের চেষ্টায় (সাধনার দ্বারা) নিজের নিজের brain-cellকে আরো বেশি বেশি ক্রিয়াশীল না করতে পারবো – ততদিন আমরা যথার্থ জ্ঞানী বা প্রকৃত অর্থে পন্ডিত কখনোই হোতে পারবো না। এইটাই জীবনের মূল রহস্য ! স্বামী পরমানন্দ, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ন্যায় অবতারদের(বা আরো অনেক মহাপুরুষদের) মস্তিস্ককোষ ১০০% ক্রিয়াশীল থাকে, এইজন্যেই তথাকথিত স্কুল-কলেজের লেখাপড়া না শিখেও পূর্ণজ্ঞানী হিসেবে এনারা চিরকাল ধরে মানবসমাজে পূজিত হয়ে থাকেন ৷৷(ক্রমশঃ)
শুধুই সংকীর্ণতা, সংকীর্ণতা আর সংকীর্ণতা ! আমরা মানুষেরা আমাদের মনোজগতকে সংকুচিত করে একেবারে গুটিয়ে রাখতেই বোধয় বেশি ভালোবাসি, মোটেই চাই না আমাদের মনোজগৎ বিস্তারিত হোক — বিকশিত হোক ! আমি কিছু একটা বুঝেছি, পরিবারগতভাবে বা সংগঠনগতভাবে কোন মত, পথ বা আদর্শকে আঁকড়ে ধরেছি – ব্যস্, আর চাই কি ? ওইটাকে ধরেই সারাজীবন কাটিয়ে দাও ! আমার মতটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, আমার ভাইয়ের সঙ্গে–বন্ধুর সঙ্গে–সমাজের সকলের সঙ্গে ঝগড়া করো মারামারি করো, মারামারি করো, মেরেই ফেলো ! তবু আমি আমার মনোজগতের সংকীর্ণতা থেকে, কুঁকড়ে যাওয়া অবস্থা থেকে – মুক্তি চাই না – আমরা মোটেই চাই না সরীসৃপের ন্যায় কুণ্ডলীকৃত অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে রংবাহারি প্রজাপতির ন্যায় ডানা মেলে উদার আকাশে, মুক্ত বাতাসে উড়ে বেড়াতে ! সেখানে কত আলো, কত মুক্তির স্বাদ, কত বৈচিত্র – আরো কত কি !
এটাও এক ধরনের মানসিক ব্যাধি, মনোকুষ্ঠ ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ সহজ-সরল কথাই বলেছিলেন – “আমার ঘড়িটাই ঠিক চলছে, বাকি সব ভুল – এইটা মাতুয়ার বুদ্ধি ! এটা ভালো নয় ! মাঝে মাঝে সূর্য্যঘড়ির সাথে নিজের ঘড়িকে মিলিয়ে নিতে হয় – তাহলেই সঠিক সময় বোঝা যায় !” আমরা কোথায় ভগবানের এই শিক্ষা গ্রহণ করলাম ! আমরা এখনো তো সমানে আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধি দিয়ে যে যেটুকু বুঝছি – সেইটুকুকেই প্রতিপন্ন করার জন্য – গলার শিরা ফুলিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছি ! এ যেন মাটির প্রদীপের আলো দিয়ে সূর্যের ভাস্বরোজ্জ্বলতার ব্যাখ্যা করার চেষ্টা !
কেন একথা বলা হল – এর ব্যাখ্যা গুরুমহারাজ করেছিলেন ! উনি বলেছিলেন একজন সাধারণ মানুষের মস্তিষ্কের গুরুমস্তিষ্ক আকারে ছোট এবং লঘু মস্তিষ্কের আকার বড় ! যাইহোক, সবমিলিয়ে মস্তিষ্কের ওই অংশের ওজন প্রায় ১১০০ গ্রাম, এরমধ্যে সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ককোষগুলির কমবেশি ১৫০ গ্রামের মতো অংশ ক্রিয়াশীল ! এর সামান্য বেশি ক্রিয়াশীল যাদের __তারাই শিল্পী, সাহিত্যিক, কবি, নাট্যকার, শিক্ষক, উকিল, ডাক্তার, প্রযুক্তিবিদ ইত্যাদিরা ! আর ওই ওজন একটু কম যাদের – তারা আমজনতা ! নিউটন, আইনস্টাইনের মতো মহা মহা বিজ্ঞানীদের হয়তো আরো একটু বেশি মস্তিষ্ককোষ ক্রিয়াশীল ! কিন্তু স্বামী বিবেকানন্দের মতো মহাপুরুষদের এই মস্তিষ্ককোষ ছিল একশভাগ ক্রিয়াশীল ! গুরুমহারাজ নিজের কথাও বলেছিলেন – “যদি আমার মস্তিষ্কের কোষকলা নিয়ে বিজ্ঞানীরা গবেষণা করার সুযোগ পায় – তাহলে জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটা নতুন দিগন্ত খুলে যাবে।”
তাহলে বোঝাই গেল – আমরা সাধারন মানুষেরা – তাতে আমরা শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, পন্ডিত, উচ্চবর্ণীয় ইত্যাদি যাই হই না কেন – আমাদের জীবনজ্ঞান, প্রকৃতিজ্ঞান, ঈশ্বরজ্ঞান খুবই অল্প – কারণ আমাদের ব্রেন ক্যাপাসিটি-ই কম ! যতদিন পর্যন্ত আমরা নিজেদের চেষ্টায় (সাধনার দ্বারা) নিজের নিজের brain-cellকে আরো বেশি বেশি ক্রিয়াশীল না করতে পারবো – ততদিন আমরা যথার্থ জ্ঞানী বা প্রকৃত অর্থে পন্ডিত কখনোই হোতে পারবো না। এইটাই জীবনের মূল রহস্য ! স্বামী পরমানন্দ, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের ন্যায় অবতারদের(বা আরো অনেক মহাপুরুষদের) মস্তিস্ককোষ ১০০% ক্রিয়াশীল থাকে, এইজন্যেই তথাকথিত স্কুল-কলেজের লেখাপড়া না শিখেও পূর্ণজ্ঞানী হিসেবে এনারা চিরকাল ধরে মানবসমাজে পূজিত হয়ে থাকেন ৷৷(ক্রমশঃ)
