স্থান:– পরমানন্দ মিশন। সময়:– 1991,5-ই নভেম্বর (কালী পূজার পরের দিন)!
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:– বনগ্রামের মুখার্জি বাড়ির ছোট কাকা(গোলোকপ্রসাদ), সেজো কাকা(উমাপ্রসাদ), খোকন মহারাজ, উদয় মহারাজ প্রমূখ!
জিজ্ঞাসু:– নরলীলায় ভগবানকে চেনা যায় কিভাবে?
গুরু মহারাজ:–ভগবান কৃপা করে না জানালে কিছুই জানা যায় না, তাকে চেনা তো অনেক দূরের কথা ! ভগবানের নরলীলা ধরতে পারা খুবই শক্ত কাজ ! যখনই ভগবান মানুষের শরীর ধরে লীলা করতে আসেন, তখন তাঁর সাথে বেশকিছু লীলা সহচরেরাও আসেন । কিন্তু পৃথিবীতে শরীর গ্রহণের পর সেই লীলা সহচরেরাই ভগবানকে ভুলে যায় ! তাহলে সাধারণ মানুষ –যাদের ঈশ্বরের অবতার বা ভগবান সম্বন্ধে কোনো ধারনাই নাই, তারা তাঁকে কি করে চিনবে ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদদের মধ্যে যোগেন (পরবর্তীতে যোগানন্দ) প্রথম প্রথম দক্ষিণেশ্বরে আসা শুরু করার সময় একদিন দেখলো_ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরের ঘরটিতে বেদ-বেদান্ত, ত্যাগ বৈরাগ্য নিয়ে আলোচনা করতে করতে মাঝে মাঝেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন! কেবল বাইরের দিকে তাকাচ্ছেন ! তারপর হঠাৎ করে নিজেই আসন ছেড়ে উঠে বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে খাজাঞ্জিকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন–“কই হে বাপু, আমার বরাদ্দের প্রসাদ তো এখনো এসে পৌঁছালো না ? এতো বেলা হোল –আজকে আর দেবে না নাকি?” যোগেন পুরো ব্যাপারটায় নজর রাখছিলো, ফলে এতক্ষণে সে সব বুঝতে পারলো_ ঠাকুরের ঐরকম ঈশ্বরীয় কথা বলতে বলতে চঞ্চল হয়ে পড়ার কারন টা কি ! সদ্য যুবক যোগেন মনে মনে ভাবলো ঠাকুর মুখে যতই বেদান্তের কথা বলুক, ত্যাগ-বৈরাগ্যের কথা বলুক –আসলে তো চাল-কলা বাঁধা পুরোহিত বাড়ির ছেলে ! সুতরাং নজরটা তো ওইদিকে থাকবেই ! তবুও সে সুযোগ পেয়ে একসময় ঠাকুরকে কথাটা জিজ্ঞাসা করলো__” ওইভাবে চেয়ে চেয়ে বরাদ্দের প্রসাদ আদায় করার কারণটা কি ?” যোগেনের কথা শুনে ঠাকুর হাসতে হাসতে বলেছিলেন __”রানী রাসমণি বেঁচে থাকতেই ব্যবস্থা করেছিলেন যে আমি পূজা করি আর নাই করি __ ভোগ প্রসাদের একটা থালা রোজ এখানে আসবে ! সেই মতোই আসে, কিন্তু এখন দেখছি ওরা ঐ প্রসাদের থালাটা দিতে প্রায়ই ভুলে যায় ! তাই আমি সময় পেলেই চেয়ে নিই! আর আমি চেয়ে নিই কেন জানিস __রানী রাসমণি আমার দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়কে মন্দির প্রতিষ্ঠা করার সময় সংকল্প করেছিলেন __মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একাংশ থেকে যেন প্রতিদিন দেবসেবা এবং সাধুসেবা হয় ! নিত্য দেবসেবা এখানে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু রোজ রোজ মায়ের প্রসাদ দিয়ে সাধুসেবা হয়না ! এখন যারা পুরোহিত রয়েছে, ওদের মধ্যে কয়েকজনের স্বভাব-চরিত্র ভালো নয় ! এখানকার নৈবেদ্যের প্রসাদে সাধুসেবা হবে কি __ওদের হাত দিয়ে সেইসব প্রসাদ বেশ্যাবাড়িতে চলে যায় ! কিন্তু আমার জন্য নির্দিষ্ট প্রসাদের থালা যদি এখানে আসে __তাহলে তোদের মত শুদ্ধসত্ত্ব ভক্তরা সেই প্রসাদ খায় ! এতেই প্রকৃত সাধুসেবা হয় এবং তার ফলে রানীর সংকল্পও সিদ্ধ হয় ! তাই ওরা দিতে ভুলে গেলেও আমি ছদ্ম রাগ দেখাই, চেঁচামেচি করে চেয়ে নিই!”
তাহলেই বোঝো ভগবানের লীলা ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সেদিনের কথায় যোগেন লজ্জিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ঐ ঘটনার মাধ্যমে সকলেই শিক্ষালাভ করতে পেরেছিল ! এই ঘটনার পর যোগেন আর কখনোই কোনো ব্যপারেই সংশয় প্রকাশ করেনি!
কিন্তু দ্যাখো, যোগেনেরও দোষ দেওয়া যায় না ! আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা তো কোনো সাধুর বা কোনো মহাত্মার এই ধরনের আচরণ দেখলে ভুল বুঝবোই__ তাই নয় কি ? মহাপ্রভুর জীবনের একটা কথা বলছি শোন ! মহাপ্রভু তখন উড়িষ্যার পুরীধামে রয়েছেন। ওখানে তাঁর ভক্তদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন কাশীশ্বর মিশ্র। কাশীশ্বরের স্ত্রী ছিলেন খুবই ভক্তিমতী মহিলা ! তাঁর মনে খুব সাধ ছিল যে, তিনি অন্তত একবারের জন্য হোলেও মহাপ্রভুকে নিজের হাতে নানাবিধ রান্না করে খাওয়াবেন ! ভক্তবর কাশীশ্বর সেইমতো সব ব্যবস্থা করে _সপার্ষদ প্রভূকে নিজের বাড়িতে একদিন মধ্যাহ্নভোজনের নিয়ন্ত্রণ করে নিয়ে আসলেন । কাশীশ্বরের ভক্তিমতী স্ত্রী রাত ভোর থেকে নিজের হাতে সমস্ত রকম রান্না (52 ব্যঞ্জন পদ) করে মহাপ্রভুকে ঘরের মধ্যে আলাদা করে আসন পেতে খাবার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ! মহাপ্রভুর আগমন উপলক্ষে সেদিন কাশীশ্বরের মেয়ে মাধবী(ষাটি) এবং তার স্বামীও ওখানে উপস্থিত ছিল । মাধবী(ষাটি) ছোট থেকেই মহাপ্রভুকে দেখেছে, তাঁর আদর পেয়েছে __ফলে তার প্রভুর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার অভাব ছিল না ! কিন্তু ওই মেয়েটির স্বামী ছিল নিতান্ত সাধারণ মানুষ, তায় ঈশ্বরে অবিশ্বাসী ! ফলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ব্যাপারেও তার অতটা ভক্তি-শ্রদ্ধা ছিল না !
যাইহোক, কাশীশ্বরের ভক্তিমতি স্ত্রী তার অন্তরের সমস্ত ভক্তি দিয়ে যা যা রান্না করেছিলেন সেগুলি সবই কাঁসার একটা বড় বগিথালায় সাজিয়ে মহাপ্রভুকে পরিবেশন করেছেন ! তাছাড়া থালার চারিপাশে বিভিন্ন বাটিতে আরো নানাবিধ পদ দেওয়া হয়েছিল ! ভক্তিমতী মা টি প্রভুকে খাবারগুলি এগিয়ে এগিয়ে দিচ্ছেন, আর মহাপ্রভু সেই সমস্ত কিছুই খেয়ে নিচ্ছেন ! আসলে ভগবান কি আর খাদ্য খান __ভগবান যে শুধুই ভক্তের ভক্তি গ্রহণ করেন !!
কিন্তু কাশীশ্বরের জামাই বাইরে থেকে মহাপ্রভুর খাওয়ার এই বহর দেখে থাকতে না পেরে বলে উঠেছিল –“লোকটা ভগবান না ছাই! ও তো একটা রাক্ষস_ তাই ওই রকম করে খাচ্ছে!” এই কথাগুলো জামাই বাবাজি বেশ জোরে জোরেই বলেছিল ফলে সকলেই সে কথা শুনতে পেয়েছিল শুধু স্বয়ং মহাপ্রভু ছাড়া ! কারণ ভগবান যখন যেটা করেন তখন তাতেই একশভাগ মনোযোগ থাকে ! তাই তার কানে এসব কোনো কথাই যায়নি । তিনি আপন মনে আনন্দসহকারে শিশুর মত খেয়ে যেতে লাগলেন! কিন্তু কাশীশ্বরের ভক্তিমতী স্ত্রী তার জামাইয়ের এরূপ আচরণ সহ্য করতে পারলেন না ! বেরিয়ে এসে জামাইকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন_” আমার জামাই এমন ! ঐরকম জামাইয়ের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো!” অতি উচ্চ স্তরের সাধিকা ভক্তিমতী ঐ মা টির অন্তরের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা সেই আর্তি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মহাপ্রকৃতি accept করে নিয়েছিল ! ফলে ওনার কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই জামাইটির ভেদবমি শুরু হয়ে গিয়েছিল । আরো আশ্চর্যের বিষয় এই যে –অল্প সময়ের মধ্যেই জামাইটি ছটফট করতে করতে মারাও গিয়েছিল ! ইতিমধ্যে মহাপ্রভুর খাওয়া হয়ে গেছে –উনি ওই বাড়িতেই তখন তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামকক্ষে বিশ্রাম করছিলেন ! কাশীশ্বরের কন্যা মাধবী(ষাটি) ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমটা ঘাবড়ে গিয়েছিল। তারপর যখন ব্যাপারটার গুরুত্ব বুঝতে পারলো_ তখন কাঁদতে কাঁদতে একছুটে মহাপ্রভুর পায়ে গিয়ে পড়লো। বলল_” মায়ের কথা রেখেছো, এবার আমার কথা রাখো! আমার শাঁখা-সিঁদুরের মর্যাদা রাখো ! আমার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে দাও !”
ভগবান চৈতন্যদেব ব্যাপারটা যেন কিছুই জানেন না (তিনি অন্তর্যামী, ফলে সবই জানেন কিন্তু নরলীলায় মানুষের মতোই আচরণ করতে হয় ! ওই ঘটনাটা যেহেতু উনি নিজের চোখে দেখেননি তাই উনি জানেন না__ এমন ভাব নিয়ে মাধবীর(ষাটি) সব কথা শুনলেন । তারপর উঠে গিয়ে যেখানে জামাই পড়ে আছে সেখানে গেলেন এবং মৃত জামাই বাবাজির গায়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন __”জামাইয়ের কি হয়েছে ? কই কিছুই তো হয়নি !জামাই বাবাজি উঠে পড় !”
সকলকে অবাক করে দিয়ে জামাই বাবাজি চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসে পড়লো ! তারপর সবকিছু বুঝতে পেরে জামাইটি গায়ের ময়লা এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করে ফিরে এসে __মহাপ্রভুর পা দুটো চোখের জলে ধুইয়ে দিলো !!
তাহলে বুঝতে পারলে তো __এই ঘটনাগুলো কেন উল্লেখ করলাম ! ভগবানের লীলা বোঝার সাধ্য কজনের আছে ? তাঁর কোন্ আচরণে যে জীবের কি কি মঙ্গল নিহিত আছে __তা অজ্ঞানাচ্ছন্ন জীব কি করে বুঝবে ? তাছাড়া ভক্ত এবং ভগবানের লীলার মাধ্যমে মহিমাশক্তির প্রকাশ করাটাও প্রয়োজন ! কারণ এই ঘটনাগুলো পরবর্তী কালের ভক্তদের __ভগবানের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বিশ্বাস ভালোবাসা আনতে সাহায্য করবে !
তবে মহাপ্রভূর মাধ্যমে যে অলৌকিক কান্ড ঘটে গেল, তার পিছনে একটা সূক্ষ্ম বিজ্ঞান রয়েছে ! সেটা বলছি শোনো ! ওই যে মেয়েটি মাধবী(ষাটি) __সে ছোটবেলা থেকেই মহাপ্রভুকে দেখেছে, তাঁর প্রতি 100 ভাগ ভক্তি-ভালবাসা-শ্রদ্ধা নিয়েই বড় হয়েছে ! তখনকার সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী _ তার হয়তো ছোটো বয়সে বিবাহ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তার মন-প্রাণের সমস্তটা জুড়ে ছিল মহাপ্রভু ! সে হৃদয় থেকে বিশ্বাস করতো যে মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান এবং ভগবানই জন্ম-মৃত্যু সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী! এই পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়েই সে ভগবান শ্রীচৈতন্যের কাছে __তার স্বামীর প্রাণ ফেরানোর আর্জি জানিয়েছিল! তার মনে কোনো সংশয় ছিল না যে তার প্রার্থনা নামঞ্জুর হতেও পারে ! এই যে 100 ভাগ বিশ্বাস, এই যে পরিপূর্ণ নির্ভরতা __এটা কার্যকরী হবেই ! এই ঘটনা যে শুধু 500 কি সাড়ে 500 বছর পূর্বে একবারের জন্য ঘটেছিল তা নয় __এই ঘটনা আজও ঘটতে পারে ! আজও পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কোনো ভক্ত যদি 100 ভাগ ভক্তি-বিশ্বাস নিয়ে কোনো প্রার্থনা করে তা মঞ্জুর হবেই হবে!
আমার নিজের জীবনের ক্ষেত্রে যদি দ্যাখো –তাহলে আমি তো জীবনের কতগুলো বছর পথে-ঘাটে বনে-জঙ্গলে, পাহাড়ে-পর্বতে একা একাই ঘুরে বেরিয়েছি ! তখন কে আমার পাশে ছিল –এক মা জগদম্বা ছাড়া ? এখন এই বনগ্রামে আমি যখন থাকি, তখন কি আমি পারিনা দু বালতি জল টিউবয়েল থেকে তুলে এনে স্নান করতে অথবা নিজের জামা কাপড় গুলো কি নিজেই কেচে নিতে ? এগুলো তো আমাকে করতেই হয়_ বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সময় ! তবু যখন আশ্রমে থাকি তখন এই কাজগুলো এরা (তপিমা, স্বপন ব্রহ্মচারী বা আরো দুই-একজন) করে দেয় ! আমি allow করি বলেই ওরা এসব করার সুযোগ পায় ! রাজামশাই কি পারেনা তার জুতোজোড়া নিজে নিজে পড়তে ? তবু দুজন লোক থাকে, যারা এই কাজটা করে দেয় !
ভগবানের লীলা কেমন জানো__ দেশের প্রেসিডেন্টের কোনো একটা অখ্যাত গ্রামে visit করতে আসার মতো। এমনিতে গ্রামের কোনো সাধারন মানুষ যদি দেশের রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে চায়, তাহলে হয়তো তার বহু বছর সময় লেগে যাবে __তাও হয়তো দেখা করতেই পারবে না ! কিন্তু প্রেসিডেন্ট (রাষ্ট্রপতি) যদি নিজেই কোনো দিন কোনো গ্রামে ভিজিট করতে আসে _ তাহলে তাঁকে দেখার বা তাঁকে স্পর্শ করার, তাঁর কাছে কিছু নিবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় সাধারণ মানুষ !
যদিও সেই সময়ে তার চারিপাশে নানান প্রটোকল অফিসারেরা, বডিগার্ড, সেই জেলার ডিএম, পুলিশের বড় কর্তা ইত্যাদি আরও অনেকে থাকে । তবু যদি গ্রামবাসীদের কেউ সুযোগ বুঝে হঠাৎ করে ওই প্রেসিডেন্টের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে –তাহলে তার যাচ্ঞা পূর্ণ হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় চারপাশের লোকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে, সিকিউরিটিরা বিরক্তও হোতে পারে–তারা লোকটিকে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে সরাবার চেষ্টা করতেও পারে ! কিন্তু সেই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট হয়তো তার প্রটোকল অফিসারদেরকেই ধমকে উঠে বলেন_” থামো _থামো! হয়েছে !এতক্ষণ কোথায় ছিলে ? এখন ওকে ছাড়ো _আমাকে ওর কথা শুনতে দাও!” লোকটা আর কি বলবে ? হাতজোড় করে ছলছল চোখে প্রেসিডেন্টের মুখের দিকে চেয়ে হয়তো বলবে _”হুজুর ! আমি খুবই গরীব মানুষ, সংসার চালানোর মতো আমার তেমন কিছুই নাই! গোটাকয়েক ছাগল ছিল _সেগুলো হটাৎ রোগে মারা গেছে ! আপনি যদি আমাকে দশটা ছাগল কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন _তাহলে আমি সংসারটা ভাল করে চালাতে পারবো!” সেদিন তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনে সঙ্গে সঙ্গে তিনি D.M-কে অর্ডার দেবেন _”আপনারা ওর ব্যাপারটা একটু দেখবেন যেন ওর কোন অসুবিধা না হয়!”
সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ওই ব্যক্তিটির ছাগল কেনার ব্যবস্থা বা তার একটা ব্যাংক লোন sanction হয়ে যায় !
এতোক্ষন কী বললাম ব্যাপারটা কিছু বুঝতে পারলে? এতেও যদি বুঝতে না পারো, তাহলে বলতে হয় যে তোমাদের মাথায় ঝামা ভরা আছে ! আর কত ক্লিয়ার করে বলবো বলো?
উপস্থিত ব্যক্তিগণ:– বনগ্রামের মুখার্জি বাড়ির ছোট কাকা(গোলোকপ্রসাদ), সেজো কাকা(উমাপ্রসাদ), খোকন মহারাজ, উদয় মহারাজ প্রমূখ!
জিজ্ঞাসু:– নরলীলায় ভগবানকে চেনা যায় কিভাবে?
গুরু মহারাজ:–ভগবান কৃপা করে না জানালে কিছুই জানা যায় না, তাকে চেনা তো অনেক দূরের কথা ! ভগবানের নরলীলা ধরতে পারা খুবই শক্ত কাজ ! যখনই ভগবান মানুষের শরীর ধরে লীলা করতে আসেন, তখন তাঁর সাথে বেশকিছু লীলা সহচরেরাও আসেন । কিন্তু পৃথিবীতে শরীর গ্রহণের পর সেই লীলা সহচরেরাই ভগবানকে ভুলে যায় ! তাহলে সাধারণ মানুষ –যাদের ঈশ্বরের অবতার বা ভগবান সম্বন্ধে কোনো ধারনাই নাই, তারা তাঁকে কি করে চিনবে ? ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের পার্ষদদের মধ্যে যোগেন (পরবর্তীতে যোগানন্দ) প্রথম প্রথম দক্ষিণেশ্বরে আসা শুরু করার সময় একদিন দেখলো_ ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ দক্ষিণেশ্বরের ঘরটিতে বেদ-বেদান্ত, ত্যাগ বৈরাগ্য নিয়ে আলোচনা করতে করতে মাঝে মাঝেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন! কেবল বাইরের দিকে তাকাচ্ছেন ! তারপর হঠাৎ করে নিজেই আসন ছেড়ে উঠে বাইরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে চিৎকার চেঁচামেচি করে খাজাঞ্জিকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগলেন–“কই হে বাপু, আমার বরাদ্দের প্রসাদ তো এখনো এসে পৌঁছালো না ? এতো বেলা হোল –আজকে আর দেবে না নাকি?” যোগেন পুরো ব্যাপারটায় নজর রাখছিলো, ফলে এতক্ষণে সে সব বুঝতে পারলো_ ঠাকুরের ঐরকম ঈশ্বরীয় কথা বলতে বলতে চঞ্চল হয়ে পড়ার কারন টা কি ! সদ্য যুবক যোগেন মনে মনে ভাবলো ঠাকুর মুখে যতই বেদান্তের কথা বলুক, ত্যাগ-বৈরাগ্যের কথা বলুক –আসলে তো চাল-কলা বাঁধা পুরোহিত বাড়ির ছেলে ! সুতরাং নজরটা তো ওইদিকে থাকবেই ! তবুও সে সুযোগ পেয়ে একসময় ঠাকুরকে কথাটা জিজ্ঞাসা করলো__” ওইভাবে চেয়ে চেয়ে বরাদ্দের প্রসাদ আদায় করার কারণটা কি ?” যোগেনের কথা শুনে ঠাকুর হাসতে হাসতে বলেছিলেন __”রানী রাসমণি বেঁচে থাকতেই ব্যবস্থা করেছিলেন যে আমি পূজা করি আর নাই করি __ ভোগ প্রসাদের একটা থালা রোজ এখানে আসবে ! সেই মতোই আসে, কিন্তু এখন দেখছি ওরা ঐ প্রসাদের থালাটা দিতে প্রায়ই ভুলে যায় ! তাই আমি সময় পেলেই চেয়ে নিই! আর আমি চেয়ে নিই কেন জানিস __রানী রাসমণি আমার দাদা রামকুমার চট্টোপাধ্যায়কে মন্দির প্রতিষ্ঠা করার সময় সংকল্প করেছিলেন __মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একাংশ থেকে যেন প্রতিদিন দেবসেবা এবং সাধুসেবা হয় ! নিত্য দেবসেবা এখানে হচ্ছে ঠিকই কিন্তু রোজ রোজ মায়ের প্রসাদ দিয়ে সাধুসেবা হয়না ! এখন যারা পুরোহিত রয়েছে, ওদের মধ্যে কয়েকজনের স্বভাব-চরিত্র ভালো নয় ! এখানকার নৈবেদ্যের প্রসাদে সাধুসেবা হবে কি __ওদের হাত দিয়ে সেইসব প্রসাদ বেশ্যাবাড়িতে চলে যায় ! কিন্তু আমার জন্য নির্দিষ্ট প্রসাদের থালা যদি এখানে আসে __তাহলে তোদের মত শুদ্ধসত্ত্ব ভক্তরা সেই প্রসাদ খায় ! এতেই প্রকৃত সাধুসেবা হয় এবং তার ফলে রানীর সংকল্পও সিদ্ধ হয় ! তাই ওরা দিতে ভুলে গেলেও আমি ছদ্ম রাগ দেখাই, চেঁচামেচি করে চেয়ে নিই!”
তাহলেই বোঝো ভগবানের লীলা ! ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণের সেদিনের কথায় যোগেন লজ্জিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু ঐ ঘটনার মাধ্যমে সকলেই শিক্ষালাভ করতে পেরেছিল ! এই ঘটনার পর যোগেন আর কখনোই কোনো ব্যপারেই সংশয় প্রকাশ করেনি!
কিন্তু দ্যাখো, যোগেনেরও দোষ দেওয়া যায় না ! আমরা যারা সাধারন মানুষ, তারা তো কোনো সাধুর বা কোনো মহাত্মার এই ধরনের আচরণ দেখলে ভুল বুঝবোই__ তাই নয় কি ? মহাপ্রভুর জীবনের একটা কথা বলছি শোন ! মহাপ্রভু তখন উড়িষ্যার পুরীধামে রয়েছেন। ওখানে তাঁর ভক্তদের মধ্যে অন্যতম একজন ছিলেন কাশীশ্বর মিশ্র। কাশীশ্বরের স্ত্রী ছিলেন খুবই ভক্তিমতী মহিলা ! তাঁর মনে খুব সাধ ছিল যে, তিনি অন্তত একবারের জন্য হোলেও মহাপ্রভুকে নিজের হাতে নানাবিধ রান্না করে খাওয়াবেন ! ভক্তবর কাশীশ্বর সেইমতো সব ব্যবস্থা করে _সপার্ষদ প্রভূকে নিজের বাড়িতে একদিন মধ্যাহ্নভোজনের নিয়ন্ত্রণ করে নিয়ে আসলেন । কাশীশ্বরের ভক্তিমতী স্ত্রী রাত ভোর থেকে নিজের হাতে সমস্ত রকম রান্না (52 ব্যঞ্জন পদ) করে মহাপ্রভুকে ঘরের মধ্যে আলাদা করে আসন পেতে খাবার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন ! মহাপ্রভুর আগমন উপলক্ষে সেদিন কাশীশ্বরের মেয়ে মাধবী(ষাটি) এবং তার স্বামীও ওখানে উপস্থিত ছিল । মাধবী(ষাটি) ছোট থেকেই মহাপ্রভুকে দেখেছে, তাঁর আদর পেয়েছে __ফলে তার প্রভুর প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধার অভাব ছিল না ! কিন্তু ওই মেয়েটির স্বামী ছিল নিতান্ত সাধারণ মানুষ, তায় ঈশ্বরে অবিশ্বাসী ! ফলে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর ব্যাপারেও তার অতটা ভক্তি-শ্রদ্ধা ছিল না !
যাইহোক, কাশীশ্বরের ভক্তিমতি স্ত্রী তার অন্তরের সমস্ত ভক্তি দিয়ে যা যা রান্না করেছিলেন সেগুলি সবই কাঁসার একটা বড় বগিথালায় সাজিয়ে মহাপ্রভুকে পরিবেশন করেছেন ! তাছাড়া থালার চারিপাশে বিভিন্ন বাটিতে আরো নানাবিধ পদ দেওয়া হয়েছিল ! ভক্তিমতী মা টি প্রভুকে খাবারগুলি এগিয়ে এগিয়ে দিচ্ছেন, আর মহাপ্রভু সেই সমস্ত কিছুই খেয়ে নিচ্ছেন ! আসলে ভগবান কি আর খাদ্য খান __ভগবান যে শুধুই ভক্তের ভক্তি গ্রহণ করেন !!
কিন্তু কাশীশ্বরের জামাই বাইরে থেকে মহাপ্রভুর খাওয়ার এই বহর দেখে থাকতে না পেরে বলে উঠেছিল –“লোকটা ভগবান না ছাই! ও তো একটা রাক্ষস_ তাই ওই রকম করে খাচ্ছে!” এই কথাগুলো জামাই বাবাজি বেশ জোরে জোরেই বলেছিল ফলে সকলেই সে কথা শুনতে পেয়েছিল শুধু স্বয়ং মহাপ্রভু ছাড়া ! কারণ ভগবান যখন যেটা করেন তখন তাতেই একশভাগ মনোযোগ থাকে ! তাই তার কানে এসব কোনো কথাই যায়নি । তিনি আপন মনে আনন্দসহকারে শিশুর মত খেয়ে যেতে লাগলেন! কিন্তু কাশীশ্বরের ভক্তিমতী স্ত্রী তার জামাইয়ের এরূপ আচরণ সহ্য করতে পারলেন না ! বেরিয়ে এসে জামাইকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলেন_” আমার জামাই এমন ! ঐরকম জামাইয়ের বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভালো!” অতি উচ্চ স্তরের সাধিকা ভক্তিমতী ঐ মা টির অন্তরের গভীর থেকে বেরিয়ে আসা সেই আর্তি কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে মহাপ্রকৃতি accept করে নিয়েছিল ! ফলে ওনার কথা বলার কিছুক্ষণের মধ্যেই জামাইটির ভেদবমি শুরু হয়ে গিয়েছিল । আরো আশ্চর্যের বিষয় এই যে –অল্প সময়ের মধ্যেই জামাইটি ছটফট করতে করতে মারাও গিয়েছিল ! ইতিমধ্যে মহাপ্রভুর খাওয়া হয়ে গেছে –উনি ওই বাড়িতেই তখন তাঁর জন্য নির্দিষ্ট বিশ্রামকক্ষে বিশ্রাম করছিলেন ! কাশীশ্বরের কন্যা মাধবী(ষাটি) ঘটনার আকস্মিকতায় প্রথমটা ঘাবড়ে গিয়েছিল। তারপর যখন ব্যাপারটার গুরুত্ব বুঝতে পারলো_ তখন কাঁদতে কাঁদতে একছুটে মহাপ্রভুর পায়ে গিয়ে পড়লো। বলল_” মায়ের কথা রেখেছো, এবার আমার কথা রাখো! আমার শাঁখা-সিঁদুরের মর্যাদা রাখো ! আমার স্বামীর প্রাণ ফিরিয়ে দাও !”
ভগবান চৈতন্যদেব ব্যাপারটা যেন কিছুই জানেন না (তিনি অন্তর্যামী, ফলে সবই জানেন কিন্তু নরলীলায় মানুষের মতোই আচরণ করতে হয় ! ওই ঘটনাটা যেহেতু উনি নিজের চোখে দেখেননি তাই উনি জানেন না__ এমন ভাব নিয়ে মাধবীর(ষাটি) সব কথা শুনলেন । তারপর উঠে গিয়ে যেখানে জামাই পড়ে আছে সেখানে গেলেন এবং মৃত জামাই বাবাজির গায়ে মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বললেন __”জামাইয়ের কি হয়েছে ? কই কিছুই তো হয়নি !জামাই বাবাজি উঠে পড় !”
সকলকে অবাক করে দিয়ে জামাই বাবাজি চোখ কচলাতে কচলাতে উঠে বসে পড়লো ! তারপর সবকিছু বুঝতে পেরে জামাইটি গায়ের ময়লা এবং কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করে ফিরে এসে __মহাপ্রভুর পা দুটো চোখের জলে ধুইয়ে দিলো !!
তাহলে বুঝতে পারলে তো __এই ঘটনাগুলো কেন উল্লেখ করলাম ! ভগবানের লীলা বোঝার সাধ্য কজনের আছে ? তাঁর কোন্ আচরণে যে জীবের কি কি মঙ্গল নিহিত আছে __তা অজ্ঞানাচ্ছন্ন জীব কি করে বুঝবে ? তাছাড়া ভক্ত এবং ভগবানের লীলার মাধ্যমে মহিমাশক্তির প্রকাশ করাটাও প্রয়োজন ! কারণ এই ঘটনাগুলো পরবর্তী কালের ভক্তদের __ভগবানের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বিশ্বাস ভালোবাসা আনতে সাহায্য করবে !
তবে মহাপ্রভূর মাধ্যমে যে অলৌকিক কান্ড ঘটে গেল, তার পিছনে একটা সূক্ষ্ম বিজ্ঞান রয়েছে ! সেটা বলছি শোনো ! ওই যে মেয়েটি মাধবী(ষাটি) __সে ছোটবেলা থেকেই মহাপ্রভুকে দেখেছে, তাঁর প্রতি 100 ভাগ ভক্তি-ভালবাসা-শ্রদ্ধা নিয়েই বড় হয়েছে ! তখনকার সামাজিক নিয়ম অনুযায়ী _ তার হয়তো ছোটো বয়সে বিবাহ হয়ে গিয়েছিল কিন্তু তার মন-প্রাণের সমস্তটা জুড়ে ছিল মহাপ্রভু ! সে হৃদয় থেকে বিশ্বাস করতো যে মহাপ্রভু স্বয়ং ভগবান এবং ভগবানই জন্ম-মৃত্যু সবকিছুর নিয়ন্ত্রণকারী! এই পরিপূর্ণ বিশ্বাস নিয়েই সে ভগবান শ্রীচৈতন্যের কাছে __তার স্বামীর প্রাণ ফেরানোর আর্জি জানিয়েছিল! তার মনে কোনো সংশয় ছিল না যে তার প্রার্থনা নামঞ্জুর হতেও পারে ! এই যে 100 ভাগ বিশ্বাস, এই যে পরিপূর্ণ নির্ভরতা __এটা কার্যকরী হবেই ! এই ঘটনা যে শুধু 500 কি সাড়ে 500 বছর পূর্বে একবারের জন্য ঘটেছিল তা নয় __এই ঘটনা আজও ঘটতে পারে ! আজও পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কোনো ভক্ত যদি 100 ভাগ ভক্তি-বিশ্বাস নিয়ে কোনো প্রার্থনা করে তা মঞ্জুর হবেই হবে!
আমার নিজের জীবনের ক্ষেত্রে যদি দ্যাখো –তাহলে আমি তো জীবনের কতগুলো বছর পথে-ঘাটে বনে-জঙ্গলে, পাহাড়ে-পর্বতে একা একাই ঘুরে বেরিয়েছি ! তখন কে আমার পাশে ছিল –এক মা জগদম্বা ছাড়া ? এখন এই বনগ্রামে আমি যখন থাকি, তখন কি আমি পারিনা দু বালতি জল টিউবয়েল থেকে তুলে এনে স্নান করতে অথবা নিজের জামা কাপড় গুলো কি নিজেই কেচে নিতে ? এগুলো তো আমাকে করতেই হয়_ বাইরে ঘুরে বেড়ানোর সময় ! তবু যখন আশ্রমে থাকি তখন এই কাজগুলো এরা (তপিমা, স্বপন ব্রহ্মচারী বা আরো দুই-একজন) করে দেয় ! আমি allow করি বলেই ওরা এসব করার সুযোগ পায় ! রাজামশাই কি পারেনা তার জুতোজোড়া নিজে নিজে পড়তে ? তবু দুজন লোক থাকে, যারা এই কাজটা করে দেয় !
ভগবানের লীলা কেমন জানো__ দেশের প্রেসিডেন্টের কোনো একটা অখ্যাত গ্রামে visit করতে আসার মতো। এমনিতে গ্রামের কোনো সাধারন মানুষ যদি দেশের রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করতে চায়, তাহলে হয়তো তার বহু বছর সময় লেগে যাবে __তাও হয়তো দেখা করতেই পারবে না ! কিন্তু প্রেসিডেন্ট (রাষ্ট্রপতি) যদি নিজেই কোনো দিন কোনো গ্রামে ভিজিট করতে আসে _ তাহলে তাঁকে দেখার বা তাঁকে স্পর্শ করার, তাঁর কাছে কিছু নিবেদন করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়ে যায় সাধারণ মানুষ !
যদিও সেই সময়ে তার চারিপাশে নানান প্রটোকল অফিসারেরা, বডিগার্ড, সেই জেলার ডিএম, পুলিশের বড় কর্তা ইত্যাদি আরও অনেকে থাকে । তবু যদি গ্রামবাসীদের কেউ সুযোগ বুঝে হঠাৎ করে ওই প্রেসিডেন্টের পায়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে –তাহলে তার যাচ্ঞা পূর্ণ হয়। এই আকস্মিক ঘটনায় চারপাশের লোকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়ে, সিকিউরিটিরা বিরক্তও হোতে পারে–তারা লোকটিকে তাড়াতাড়ি ওখান থেকে সরাবার চেষ্টা করতেও পারে ! কিন্তু সেই মুহূর্তে প্রেসিডেন্ট হয়তো তার প্রটোকল অফিসারদেরকেই ধমকে উঠে বলেন_” থামো _থামো! হয়েছে !এতক্ষণ কোথায় ছিলে ? এখন ওকে ছাড়ো _আমাকে ওর কথা শুনতে দাও!” লোকটা আর কি বলবে ? হাতজোড় করে ছলছল চোখে প্রেসিডেন্টের মুখের দিকে চেয়ে হয়তো বলবে _”হুজুর ! আমি খুবই গরীব মানুষ, সংসার চালানোর মতো আমার তেমন কিছুই নাই! গোটাকয়েক ছাগল ছিল _সেগুলো হটাৎ রোগে মারা গেছে ! আপনি যদি আমাকে দশটা ছাগল কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন _তাহলে আমি সংসারটা ভাল করে চালাতে পারবো!” সেদিন তার কথাগুলো মন দিয়ে শুনে সঙ্গে সঙ্গে তিনি D.M-কে অর্ডার দেবেন _”আপনারা ওর ব্যাপারটা একটু দেখবেন যেন ওর কোন অসুবিধা না হয়!”
সঙ্গে সঙ্গে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে ওই ব্যক্তিটির ছাগল কেনার ব্যবস্থা বা তার একটা ব্যাংক লোন sanction হয়ে যায় !
এতোক্ষন কী বললাম ব্যাপারটা কিছু বুঝতে পারলে? এতেও যদি বুঝতে না পারো, তাহলে বলতে হয় যে তোমাদের মাথায় ঝামা ভরা আছে ! আর কত ক্লিয়ার করে বলবো বলো?
